Full width home advertisement

Featured Actors

Popular Biographies

Post Page Advertisement [Top]

তথ্যসারণি
পূর্ণ নামশি জিনপিং
জন্ম১৫ জুন ১৯৫৩ (৭০ বছর)
জন্মস্থানবেইজিং, চীন
জাতীয়তাচীনা
পেশারাজনীতিবিদ, বিশ্বনেতা
রাজনৈতিক দলচীনা কমিউনিস্ট পার্টি
পদ
  • চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক (২০১২-বর্তমান)
  • চীনের রাষ্ট্রপতি (২০১৩-বর্তমান)
  • কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের চেয়ারম্যান (২০১২-বর্তমান)
স্ত্রীপেং লিয়ুয়ান
সন্তানশি মিংজি
শিক্ষাসিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় (কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, মার্কসবাদী তত্ত্ব ও আদর্শগত শিক্ষা)
পরিচিতিচীনের সর্বোচ্চ নেতা, আধুনিক চীনের রূপকার

পরিচিতি

শি জিনপিং (Xi Jinping) আধুনিক চীনের অন্যতম প্রভাবশালী এবং বিতর্কিত বিশ্বনেতা। তিনি ২০১২ সাল থেকে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১৩ সাল থেকে চীনের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সাথে তিনি কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে চীনের সশস্ত্র বাহিনীরও প্রধান। তাঁর নেতৃত্বে চীন অর্থনৈতিক, সামরিক এবং ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে বিশ্ব মঞ্চে এক নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। শি জিনপিংকে প্রায়শই মাও সেতুং-এর পর চীনের সবচেয়ে শক্তিশালী নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যিনি চীনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উভয় ক্ষেত্রেই গভীর প্রভাব বিস্তার করেছেন।

Xi Jinping

Photo: Wikimedia Commons
View Source

তাঁর শাসনকালে চীন একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী সংস্কার ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছে, যার মধ্যে রয়েছে ব্যাপক দুর্নীতিবিরোধী অভিযান, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের মতো মেগা-প্রকল্প, এবং পিপলস লিবারেশন আর্মিকে আধুনিকীকরণ। শি জিনপিং 'চীনা স্বপ্ন' (Chinese Dream) ধারণার প্রবক্তা, যা চীনের জাতীয় পুনরুজ্জীবন এবং বৈশ্বিক পরাশক্তি হিসেবে উত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করে। তাঁর নেতৃত্বে চীন বিশ্বজুড়ে তার প্রভাব বিস্তারে আরও বেশি সক্রিয় হয়েছে, যা অনেক সময় পশ্চিমা দেশগুলির সাথে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

প্রারম্ভিক জীবন

শি জিনপিং ১৯৫৩ সালের ১৫ জুন চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা শি ঝংজুন ছিলেন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির একজন প্রখ্যাত বিপ্লবী নেতা এবং মাও সেতুং-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। বাবার রাজনৈতিক পটভূমি শি জিনপিংয়ের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। চীনের বিপ্লবী অভিজাত শ্রেণীর সদস্য হিসেবে তাঁর শৈশব তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক ছিল, কিন্তু সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় তাঁর পরিবারের ওপর নেমে আসে চরম দুর্ভোগ।

১৯৬২ সালে শি ঝংজুনকে মাও সেতুং-এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয় এবং তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এর ফলে শি জিনপিংয়ের পরিবার রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়। সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময়, শি জিনপিংসহ লক্ষ লক্ষ তরুণকে ‘পুনঃশিক্ষার’ জন্য দেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে পাঠানো হয়। মাত্র ১৫ বছর বয়সে, শি জিনপিংকে শানশি প্রদেশের লিয়াংজিয়াহে গ্রামে পাঠানো হয়, যেখানে তিনি সাত বছর কাটিয়েছিলেন। এই সময়টা তাঁর জীবনের এক কঠিন অধ্যায় ছিল। তিনি কৃষকদের সাথে কঠোর পরিশ্রম করতেন, গুহায় থাকতেন এবং চরম দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছিলেন। এই অভিজ্ঞতাগুলি তাঁকে কঠোর পরিশ্রমী, বাস্তববাদী এবং সহনশীল হতে শিখিয়েছিল বলে মনে করা হয়। লিয়াংজিয়াহেতে থাকাকালীন তিনি চীনা কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদানের জন্য বারবার আবেদন করেন এবং অবশেষে ১৯৭৪ সালে তাঁকে সদস্যপদ দেওয়া হয়। এই অভিজ্ঞতাগুলি তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক জীবন এবং চীনের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

শিক্ষাজীবন

লিয়াংজিয়াহে থেকে ফিরে আসার পর, শি জিনপিং ১৯৭৫ সালে বেইজিংয়ের বিখ্যাত সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখানে তিনি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা করেন এবং ১৯৭৯ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। যদিও তাঁর মূল পড়াশোনার বিষয় ছিল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, তবে তাঁর রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা বরাবরই স্পষ্ট ছিল। পরবর্তীতে, তিনি ১৯৯৮ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবতাবাদী ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে মার্কসবাদী তত্ত্ব ও আদর্শগত শিক্ষা বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। এই উচ্চশিক্ষা তাঁকে শুধু প্রযুক্তিগত জ্ঞানই দেয়নি, বরং মার্কসবাদী দর্শন এবং চীনা সমাজতন্ত্রের গভীরে প্রবেশ করতেও সাহায্য করেছিল, যা তাঁর রাজনৈতিক চিন্তাধারায় প্রতিফলিত হয়েছে।

ক্যারিয়ার

শি জিনপিংয়ের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু হয় স্থানীয় পর্যায়ে। সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হওয়ার পর, তিনি কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের তৎকালীন সেক্রেটারি-জেনারেল গেং বিয়াও-এর সচিব হিসেবে কাজ করেন। এটি তাঁকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের রাজনীতি এবং সামরিক বিষয়ে প্রাথমিক জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করে। এরপর তিনি ১৯৮২ সালে হেবেই প্রদেশের জেংডিং কাউন্টির ডেপুটি পার্টি সেক্রেটারি হিসেবে স্থানীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।

১৯৮৫ সালে তিনি ফুজিয়ান প্রদেশের জিয়ামেন শহরের ডেপুটি মেয়র হিসেবে নিযুক্ত হন। ফুজিয়ানে তাঁর প্রায় ১৭ বছরের কর্মজীবনে তিনি জিয়ামেনের মেয়র, ফুঝৌয়ের পার্টি চিফ এবং ফুজিয়ান প্রদেশের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়কালে তিনি প্রদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং তাইওয়ানের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করার দিকে মনোযোগ দেন।

২০০২ সালে শি জিনপিং ঝেজিয়াং প্রদেশের গভর্নর এবং পরে পার্টি চিফ হিসেবে নিযুক্ত হন। ঝেজিয়াংয়ে তাঁর মেয়াদকালে তিনি প্রদেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার জন্য কাজ করেন এবং দুর্নীতি দমনের ক্ষেত্রেও কঠোর পদক্ষেপ নেন। ২০০৭ সালে তিনি স্বল্প সময়ের জন্য সাংহাইয়ের পার্টি চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যখন আগের পার্টি চিফকে দুর্নীতির অভিযোগে অপসারণ করা হয়েছিল।

শি জিনপিংয়ের জাতীয় রাজনীতিতে উত্থান ঘটে ২০০৭ সালে, যখন তাঁকে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরো স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। এটি চীনের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর সংস্থা। ২০০৮ সালে তিনি চীনের উপ-রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিযুক্ত হন এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে চীনের প্রতিনিধিত্ব করতে শুরু করেন। এই সময়কালে তাঁকে পরবর্তী প্রজন্মের নেতা হিসেবে প্রস্তুত করা হয়।

২০১২ সালে শি জিনপিং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হন, যা তাঁকে চীনের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এরপর ২০১৩ সালে তিনি চীনের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই তিনি চীনের রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা করেন, যা তাঁর ব্যক্তিগত ক্ষমতাকে সুসংহত করার পাশাপাশি চীনের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতিতে আমূল পরিবর্তন এনেছে।

উল্লেখযোগ্য অর্জন

শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে চীন বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন এবং নীতিগত পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করেছে:

  • দুর্নীতিবিরোধী অভিযান: ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই শি জিনপিং একটি ব্যাপক দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু করেন, যা 'টাইগারস অ্যান্ড ফ্লাইস' (উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থেকে নিম্নপদস্থ কর্মচারী পর্যন্ত) দমনের স্লোগানে পরিচিতি লাভ করে। এই অভিযান হাজার হাজার কর্মকর্তাকে শাস্তি দিয়েছে এবং শি জিনপিংয়ের ক্ষমতাকে সুসংহত করতে সাহায্য করেছে।
  • বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI): ২০১৪ সালে তিনি এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী বৈশ্বিক অবকাঠামো প্রকল্প ঘোষণা করেন, যা প্রাচীন সিল্ক রুটের পুনরুজ্জীবন ঘটিয়ে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের দেশগুলোকে সড়ক, রেল, সমুদ্রপথ ও পাইপলাইনের মাধ্যমে সংযুক্ত করার লক্ষ্য রাখে। BRI চীনের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারের একটি প্রধান হাতিয়ার।
  • দারিদ্র্য বিমোচন: শি জিনপিংয়ের শাসনামলে চীন চরম দারিদ্র্য দূরীকরণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তাঁর সরকার ঘোষণা করেছে যে, ২০২০ সালের মধ্যে চীনের সকল গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে চরম দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করা হয়েছে, যা একটি বিশাল অর্জন।
  • সামরিক আধুনিকীকরণ: তিনি পিপলস লিবারেশন আর্মিকে একটি আধুনিক, প্রযুক্তি-নির্ভর এবং শক্তিশালী বাহিনীতে রূপান্তরিত করার জন্য ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। এর ফলে চীনের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
  • 'চীনা স্বপ্ন' (Chinese Dream): শি জিনপিং 'চীনা স্বপ্ন' ধারণাটি জনপ্রিয় করেছেন, যা চীনের জাতীয় পুনরুজ্জীবন, সমৃদ্ধি, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং বৈশ্বিক সম্মানের আকাঙ্ক্ষাকে তুলে ধরে।
  • পরিবেশ সুরক্ষা: চীনের ক্রমবর্ধমান পরিবেশ দূষণ মোকাবিলায় তাঁর সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে কয়লা নির্ভরতা কমানো এবং নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ।
  • 'কমন প্রসপারিটি' (Common Prosperity): সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তিনি 'কমন প্রসপারিটি' ধারণার ওপর জোর দিয়েছেন, যার লক্ষ্য হল ধনী-গরিবের বৈষম্য কমানো এবং সমাজের সকল স্তরে সম্পদ ও সুযোগের সুষম বন্টন নিশ্চিত করা।

ব্যক্তিগত জীবন

শি জিনপিংয়ের ব্যক্তিগত জীবন তুলনামূলকভাবে নিভৃত হলেও, তাঁর পরিবারের কিছু তথ্য জনসমক্ষে পরিচিত। তাঁর বাবা শি ঝংজুন ছিলেন একজন বিপ্লবী নেতা, যিনি চীনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। শি জিনপিং দুবার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁর প্রথম স্ত্রী ছিলেন কে লিংলিং, কিন্তু তাঁদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে।

তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী হলেন পেং লিয়ুয়ান, যিনি চীনের একজন বিখ্যাত লোকসংগীত শিল্পী এবং পিপলস লিবারেশন আর্মির একজন জেনারেল। পেং লিয়ুয়ান চীনের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন ব্যক্তিত্ব এবং তাঁর স্ত্রীর পরিচয়ে শি জিনপিংয়ের জনসমক্ষে ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হয়েছে। তাঁদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে, যার নাম শি মিংজি। শি মিংজি যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন এবং গণমাধ্যম থেকে দূরে একটি নিভৃত জীবনযাপন করেন। শি জিনপিং পরিবার এবং ব্যক্তিগত জীবনকে জনসমক্ষে আনতে খুব একটা আগ্রহী নন, যা চীনা নেতাদের মধ্যে একটি সাধারণ প্রবণতা।

মজার তথ্য

  • সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় শি জিনপিংকে শানশি প্রদেশের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে 'পুনঃশিক্ষার' জন্য পাঠানো হয়েছিল। সেখানে তিনি সাত বছর ধরে কৃষকদের সাথে কঠোর শ্রমিকের কাজ করেছেন এবং গুহায় বসবাস করেছেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
  • শি জিনপিংয়ের স্ত্রী পেং লিয়ুয়ান চীনের একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় লোকসংগীত শিল্পী। তিনি চীনের সামরিক বাহিনীর একজন জেনারেলও বটে। শি জিনপিংয়ের ক্ষমতা গ্রহণের আগে তাঁর স্ত্রীর জনপ্রিয়তা তাঁর নিজের চেয়েও বেশি ছিল।
  • শি জিনপিং ব্যক্তিগতভাবে ফুটবল ভালোবাসেন এবং তিনি চীনের ফুটবলকে বিশ্বমানের করে তোলার স্বপ্ন দেখেন।
  • তিনি মার্কিন টিভি সিরিজ 'দ্য সিম্পসনস' এবং হলিউড চলচ্চিত্র পছন্দ করেন বলে জানা যায়।
  • ২০১৮ সালে চীনের সংবিধানে রাষ্ট্রপতির মেয়াদ সীমা বাতিল করা হয়, যা শি জিনপিংকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্ষমতায় থাকার সুযোগ করে দেয়। এটি চীনের আধুনিক ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন।
  • 'শি জিনপিং থট অন সোশ্যালিজম উইথ চাইনিজ ক্যারেক্টারিস্টিকস ফর আ নিউ এরা' (Xi Jinping Thought on Socialism with Chinese Characteristics for a New Era) তাঁর রাজনৈতিক দর্শন, যা চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং স্কুল পাঠ্যক্রমেও পড়ানো হয়।

উপসংহার

শি জিনপিং আধুনিক চীনের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়ের রচয়িতা। তাঁর নেতৃত্বে চীন অর্থনৈতিক, সামরিক এবং রাজনৈতিকভাবে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা বিশ্ব মঞ্চে দেশটির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। দুর্নীতি দমন, দারিদ্র্য বিমোচন, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের মতো মেগা-প্রকল্প এবং সামরিক আধুনিকীকরণের মাধ্যমে তিনি চীনের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছেন।

একদিকে যেমন তিনি চীনের জাতীয়তাবাদী চেতনাকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন এবং দেশকে 'চীনা স্বপ্ন'-এর দিকে চালিত করছেন, অন্যদিকে তাঁর ক্ষমতা কেন্দ্রীকরণ এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগও রয়েছে। শি জিনপিংয়ের শাসনকাল চীনের জন্য এক নতুন যুগের সূচনা করেছে, যা বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং পশ্চিমা বিশ্বের সাথে তার জটিল সম্পর্ক দ্বারা চিহ্নিত। তাঁর উত্তরাধিকার কেবল চীনের ভবিষ্যতই নয়, ২১ শতকের বৈশ্বিক ব্যবস্থাকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করবে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন: শি জিনপিং কে?

উত্তর: শি জিনপিং হলেন চীনের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা। তিনি চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক, চীনের রাষ্ট্রপতি এবং কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আধুনিক চীনের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব।

প্রশ্ন: শি জিনপিং কবে চীনের রাষ্ট্রপতি হন?

উত্তর: শি জিনপিং ২০১৩ সালের মার্চ মাসে চীনের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে, ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে তিনি চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।

প্রশ্ন: বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ কী?

উত্তর: বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI) হলো শি জিনপিংয়ের একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী বৈশ্বিক অবকাঠামো উন্নয়ন কৌশল। এর লক্ষ্য হলো প্রাচীন সিল্ক রুটের আদলে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের দেশগুলোকে সড়ক, রেল, সমুদ্রপথ ও পাইপলাইনের মাধ্যমে সংযুক্ত করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা।

প্রশ্ন: শি জিনপিং এর স্ত্রীর নাম কি?

উত্তর: শি জিনপিংয়ের স্ত্রীর নাম পেং লিয়ুয়ান। তিনি চীনের একজন বিখ্যাত লোকসংগীত শিল্পী এবং পিপলস লিবারেশন আর্মির একজন জেনারেল। তাঁর সাংস্কৃতিক জনপ্রিয়তা চীনের অভ্যন্তরীণ মহলে সুপরিচিত।

প্রশ্ন: "চীনা স্বপ্ন" বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: "চীনা স্বপ্ন" হলো শি জিনপিংয়ের দ্বারা জনপ্রিয় করা একটি ধারণা, যা চীনের জাতীয় পুনরুজ্জীবন, সমৃদ্ধি, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং বৈশ্বিক সম্মানের আকাঙ্ক্ষাকে তুলে ধরে। এটি চীনের শক্তিশালীকরণ, জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশটির প্রভাব বৃদ্ধির একটি সম্মিলিত লক্ষ্য।

প্রশ্ন: শি জিনপিং কোন রাজনৈতিক দলের নেতা?

উত্তর: শি জিনপিং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) সর্বোচ্চ নেতা। তিনি এই দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলের সকল নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের প্রধান দায়িত্বে রয়েছেন।

প্রশ্ন: শি জিনপিংয়ের দুর্নীতিবিরোধী অভিযান কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল?

উত্তর: শি জিনপিংয়ের দুর্নীতিবিরোধী অভিযান তাঁর ক্ষমতাকে সুসংহত করতে এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই অভিযান 'টাইগারস অ্যান্ড ফ্লাইস' (উচ্চপদস্থ ও নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা) উভয়কেই লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছিল এবং হাজার হাজার কর্মকর্তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল, যা তাঁর শাসনকালের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Bottom Ad [Post Page]