Full width home advertisement

Featured Actors

Popular Biographies

Post Page Advertisement [Top]

তথ্য বিবরণ
পূর্ণ নাম শ্রী আম্মা ইয়াঙ্গার আয়াপ্পান
নাম শ্রীদেবী
জন্ম ১৩ আগস্ট, ১৯৬৩
জন্মস্থান শিবকাশী, মাদ্রাজ রাজ্য (বর্তমান তামিলনাড়ু), ভারত
মৃত্যু ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ (বয়স ৫৪)
মৃত্যুস্থান দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত
পেশা অভিনেত্রী
জাতীয়তা ভারতীয়
পরিচিতি ভারতীয় সিনেমার প্রথম নারী সুপারস্টার
স্বামী বনি কাপুর (বিবাহ ১৯৯৬)
সন্তান জাহ্নবী কাপুর, খুশি কাপুর
উল্লেখযোগ্য পুরস্কার পদ্মশ্রী, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ৭টি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার

পরিচিতি

ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যাঁর দ্যুতি আজও অমলিন, তিনি হলেন কিংবদন্তী অভিনেত্রী শ্রীদেবী। প্রায় পাঁচ দশকের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মালয়ালম এবং কন্নড়—এই পাঁচটি ভাষায় ৩০০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শক ও সমালোচক উভয়কেই মুগ্ধ করেছেন। তাঁকে ভারতীয় সিনেমার 'প্রথম নারী সুপারস্টার' হিসেবে অভিহিত করা হয়, যা তাঁর অসামান্য প্রতিভা, বক্স-অফিস প্রভাব এবং ব্যতিক্রমী অভিনয় ক্ষমতার স্বীকৃতি। শ্রীদেবী কেবল একজন অভিনেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক সাংস্কৃতিক আইকন, যাঁর প্রতিটি চরিত্রই যেন জীবন্ত হয়ে উঠত পর্দায়। তাঁর হাসি, কান্না, নাচ এবং গভীর অভিব্যক্তি দিয়ে তিনি কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছিলেন। ভারত সরকার তাঁকে ২০১৩ সালে দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রীতে ভূষিত করে তাঁর শিল্পক্ষেত্রে অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।

Sridevi

Photo: Wikimedia Commons
View Source

প্রারম্ভিক জীবন

শ্রী আম্মা ইয়াঙ্গার আয়াপ্পান, যিনি পরবর্তীতে শ্রীদেবী নামে বিশ্বজোড়া খ্যাতি লাভ করেন, ১৯৬৩ সালের ১৩ আগস্ট ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের শিবকাশীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা আয়াপ্পান ছিলেন একজন আইনজীবী এবং মা রাজেশ্বরী। শৈশব থেকেই তাঁর মধ্যে অভিনয়ের এক সহজাত প্রতিভা পরিলক্ষিত হয়। মাত্র চার বছর বয়সে তিনি ১৯৬৭ সালের তামিল চলচ্চিত্র 'কান্ধান কারুনাই'-এর মাধ্যমে শিশুশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন। এরপর থেকে তাঁকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। শৈশবের স্বাভাবিক খেলাধুলা এবং স্কুলের পড়াশোনার বদলে তাঁর দিন কাটতে শুরু করে সিনেমার সেটে। এই অল্প বয়সেই তিনি দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের বিভিন্ন ভাষার ছবিতে কাজ করে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেন, যা তাঁর ভবিষ্যতের বিশাল ক্যারিয়ারের ভিত গড়ে তোলে।

শিক্ষাজীবন

শ্রীদেবীর শিক্ষাজীবন তাঁর বর্ণাঢ্য অভিনয় জীবনের মতোই ব্যতিক্রমী ছিল। যেহেতু তিনি মাত্র চার বছর বয়স থেকে অভিনয় শুরু করেন, তাই প্রথাগত বিদ্যালয়ের শিক্ষা তাঁর ভাগ্যে জোটেনি বললেই চলে। সিনেমার সেটই হয়ে উঠেছিল তাঁর পাঠশালা। তিনি ব্যক্তিগত শিক্ষক এবং টিউটরদের মাধ্যমে পড়াশোনা করতেন, যার ফলে স্কুল-কলেজের সাধারণ অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বঞ্চিত হন। তবে, তাঁর এই অদম্য কর্মপ্রচেষ্টা এবং শেখার আগ্রহ তাঁকে বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে সাহায্য করে, যা তাঁর অভিনয়কে আরও সমৃদ্ধ করেছিল। জীবনের এই অপ্রথাগত শিক্ষাই তাঁকে একজন বহুভাষী এবং বহুমুখী শিল্পী হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে।

ক্যারিয়ার

দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে অভিষেক ও তারকাখ্যাতি

শিশুশিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর শ্রীদেবী দ্রুতই দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠেন। ১৯৭৬ সালে তামিল চলচ্চিত্র 'মুন্দ্রু মুদিচু'-তে তিনি প্রথম প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন, যখন তাঁর বয়স মাত্র তেরো বছর। এই ছবিতে তিনি কিংবদন্তী অভিনেতা কমল হাসান এবং রজনীকান্তের সঙ্গে কাজ করেন। এরপর তিনি তামিল, তেলুগু, মালয়ালম এবং কন্নড় ভাষার অসংখ্য সফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। তেলুগু সিনেমায় তিনি পরিচালক কে. রাঘবেন্দ্র রাও-এর সঙ্গে জুটি বেঁধে একের পর এক ব্লকবাস্টার উপহার দেন, যার মধ্যে 'আদিভি রামুদু', 'ভেটাগাডু', 'ক্ষণা ক্ষণম' উল্লেখযোগ্য। তাঁর অনবদ্য অভিনয় এবং নৃত্যের দক্ষতা তাঁকে দক্ষিণ ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

বলিউডে উত্থান ও 'প্রথম নারী সুপারস্টার'

১৯৭৯ সালে 'সোলভা সাওয়ান' চলচ্চিত্রের মাধ্যমে শ্রীদেবী বলিউডে পা রাখেন। তবে তাঁর প্রকৃত সাফল্য আসে ১৯৮৩ সালে জিতেন্দ্রর বিপরীতে 'হিম্মতওয়ালা' ছবির মাধ্যমে। এই ছবিটি তাঁকে রাতারাতি বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিতি এনে দেয়। এরপর আর তাঁকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। আশির দশকে তিনি একের পর এক হিট ছবি উপহার দেন, যার মধ্যে 'নগিনা' (১৯৮৬), 'মিস্টার ইন্ডিয়া' (১৯৮৭), 'চালবাজ' (১৯৮৯), 'চাঁদনী' (১৯৮৯) এবং 'লমহে' (১৯৯১) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

  • 'নগিনা': এই ছবিতে একজন ইচ্ছাধারী নাগিনীর চরিত্রে তাঁর অভিনয় এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, এটি তাঁকে এক ভিন্ন মাত্রায় পৌঁছে দেয়।
  • 'মিস্টার ইন্ডিয়া': এই কাল্ট ক্লাসিক ছবিতে 'হাওয়া হাওয়াই' গান এবং অদৃশ্য মিস্টার ইন্ডিয়ার সঙ্গে তাঁর রোমান্স আজও দর্শকপ্রিয়। তাঁর কমেডি টাইমিং এবং গ্ল্যামারাস উপস্থিতি ছিল এই ছবির অন্যতম আকর্ষণ।
  • 'চালবাজ': এই ছবিতে দ্বৈত চরিত্রে (অঞ্জু ও মঞ্জু) তাঁর অভিনয় দক্ষতা ছিল চোখে পড়ার মতো, যা তাঁকে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার এনে দেয়।
  • 'চাঁদনী': যশ চোপড়ার এই রোমান্টিক ছবিতে তাঁর সৌন্দর্য, নাচ এবং আবেগপ্রবণ অভিনয় তাঁকে 'চাঁদনী' নামে পরিচিতি এনে দেয়।
  • 'লমহে': এই ছবিতে তাঁর দ্বৈত চরিত্র এবং সময়ের ব্যবধানে প্রেমের জটিল গল্পে তাঁর অভিনয় সমালোচকদের দ্বারা উচ্চ প্রশংসিত হয়।

নব্বইয়ের দশকেও তিনি 'খুদা গাওয়া' (১৯৯২) এবং 'জুডাই' (১৯৯৭)-এর মতো সফল ছবিতে কাজ করেন। তাঁর বহুমুখী অভিনয় ক্ষমতা, কমেডি থেকে শুরু করে ড্রামা, রোমান্স থেকে অ্যাকশন—সব ধরনের চরিত্রে সাবলীলভাবে মানিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা তাঁকে ভারতীয় সিনেমার 'প্রথম নারী সুপারস্টার'-এর তকমা এনে দেয়। তিনি ছিলেন সেই বিরল অভিনেত্রীদের মধ্যে একজন, যাঁর উপস্থিতিই একটি ছবিকে সফল করতে যথেষ্ট ছিল।

দীর্ঘ বিরতি ও সফল প্রত্যাবর্তন

১৯৯৭ সালে 'জুডাই' ছবির পর শ্রীদেবী পারিবারিক জীবনে মনোনিবেশ করার জন্য অভিনয় থেকে দীর্ঘ ১৫ বছরের বিরতি নেন। এই সময়ে তিনি তাঁর দুই মেয়ে জাহ্নবী ও খুশিকে বড় করে তোলার দিকে মনোযোগ দেন। ২০১২ সালে তিনি 'ইংলিশ ভিংলিশ' ছবির মাধ্যমে রূপালী পর্দায় প্রত্যাবর্তন করেন। এই ছবিটি তাঁর ক্যারিয়ারের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। একজন গৃহবধূর ইংরেজি শেখার সংগ্রাম নিয়ে তৈরি এই ছবিটি দর্শক ও সমালোচক উভয় মহলে ব্যাপক প্রশংসা লাভ করে এবং শ্রীদেবীর অভিনয় ক্ষমতার আরেকটি প্রমাণ দেয়। ২০১৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত 'মম' ছিল তাঁর শেষ চলচ্চিত্র, যেখানে তিনি একজন মায়ের প্রতিশোধের গল্পে অভিনয় করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

উল্লেখযোগ্য অর্জন

শ্রীদেবীর ক্যারিয়ার ছিল অসংখ্য অর্জন এবং সম্মানে ভরপুর। তাঁর কিছু উল্লেখযোগ্য অর্জন নিচে দেওয়া হলো:

  • 'প্রথম নারী সুপারস্টার': ভারতীয় চলচ্চিত্রে তিনিই প্রথম অভিনেত্রী যিনি পুরুষ অভিনেতাদের সমকক্ষ বা তার চেয়েও বেশি পারিশ্রমিক দাবি করতে পারতেন এবং যাঁর নামে ছবি বক্স অফিসে চলত।
  • পদ্মশ্রী পুরস্কার: ২০১৩ সালে ভারত সরকার তাঁকে দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রীতে ভূষিত করে।
  • জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার: ২০১৭ সালের ছবি 'মম'-এর জন্য তিনি মরণোত্তর শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।
  • ফিল্মফেয়ার পুরস্কার: তিনি মোট সাতটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতেছেন, যার মধ্যে চারটি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে ('নগিনা', 'চালবাজ', 'লমহে', 'ইংলিশ ভিংলিশ') এবং একটি লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড।
  • তামিলনাড়ু স্টেট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস: শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জন্য একাধিকবার এই পুরস্কার লাভ করেন।
  • কেরালা স্টেট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড: শিশুশিল্পী হিসেবে এই পুরস্কার অর্জন করেন।
  • নন্দী অ্যাওয়ার্ড: তেলুগু চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য একাধিকবার এই পুরস্কার পান।
  • বহুভাষী শিল্পী: হিন্দি ছাড়াও তামিল, তেলুগু, মালয়ালম এবং কন্নড় ভাষায় তাঁর সাবলীল অভিনয় ক্ষমতা তাঁকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।
  • স্টাইল আইকন: তাঁর ফ্যাশন সেন্স এবং স্ক্রিন প্রেজেন্স তাঁকে আশির ও নব্বইয়ের দশকে এক স্টাইল আইকন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

ব্যক্তিগত জীবন

শ্রীদেবীর ব্যক্তিগত জীবন তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের মতোই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। ১৯৯৬ সালে তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজক বনি কাপুরকে বিয়ে করেন। এই বিবাহটি সেই সময় বেশ বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল, কারণ বনি কাপুর তখন বিবাহিত ছিলেন। তবে, শ্রীদেবী এবং বনি কাপুর তাঁদের সম্পর্ককে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে নিয়ে যান। তাঁদের দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে – জাহ্নবী কাপুর এবং খুশি কাপুর। জাহ্নবী কাপুর বর্তমানে বলিউডের একজন প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী।

পর্দার বাইরে শ্রীদেবী ছিলেন অত্যন্ত লাজুক এবং অন্তর্মুখী স্বভাবের। জনসমক্ষে তিনি খুব কম কথা বলতেন এবং নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে আড়ালে রাখতেই পছন্দ করতেন। তবে, ক্যামেরার সামনে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ব্যক্তিতে রূপান্তরিত হতেন – আত্মবিশ্বাসী, প্রাণবন্ত এবং শক্তিশালী। তাঁর এই দ্বৈত ব্যক্তিত্বই তাঁকে আরও রহস্যময় এবং আকর্ষণীয় করে তুলেছিল।

২০১৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি, শ্রীদেবী দুবাইয়ে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে পুরো ভারত স্তম্ভিত হয়ে যায়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে 'আকস্মিক ডুবে যাওয়া' (accidental drowning) উল্লেখ করা হয়। শ্রীদেবীর অকাল প্রয়াণ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি করে।

মজার তথ্য

  • শ্রীদেবী তাঁর ক্যারিয়ারে ৩০০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন, যা তাঁকে ভারতীয় সিনেমার অন্যতম কর্মঠ অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
  • তিনি প্রথমদিকে তাঁর হিন্দি ছবিতে নিজের ডাবিং করতেন না, কারণ তাঁর হিন্দি উচ্চারণ ততটা সাবলীল ছিল না। পরে তিনি হিন্দিতে দক্ষতা অর্জন করেন এবং 'চাঁদনী' ছবিতে প্রথম নিজের ডাবিং করেন।
  • 'মিস্টার ইন্ডিয়া' ছবির 'হাওয়া হাওয়াই' গানটি তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম আইকনিক পারফরম্যান্স। এই গানটি আজও তাঁর নামের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
  • শ্রীদেবী অভিনয়ের পাশাপাশি একজন প্রতিভাবান চিত্রশিল্পীও ছিলেন। তাঁর আঁকা ছবিগুলো বিভিন্ন প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছিল।
  • তাঁর চোখ ছিল তাঁর অভিনয়ের অন্যতম শক্তিশালী দিক। শুধুমাত্র চোখের অভিব্যক্তি দিয়েই তিনি অনেক জটিল অনুভূতি প্রকাশ করতে পারতেন।
  • তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন, যা চলচ্চিত্র ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা।

উপসংহার

শ্রীদেবী কেবল একজন অভিনেত্রী ছিলেন না; তিনি ছিলেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক জীবন্ত কিংবদন্তী, যিনি তাঁর প্রতিভা, সৌন্দর্য এবং কঠোর পরিশ্রম দিয়ে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী স্থান করে নিয়েছেন। তাঁর অকাল প্রয়াণ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি হলেও, তাঁর কাজ এবং তাঁর স্মৃতি চিরকাল আমাদের মাঝে অমলিন থাকবে। শ্রীদেবী দেখিয়ে গেছেন যে, একজন নারীও তাঁর মেধা এবং পরিশ্রমের জোরে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নিজের জন্য একটি স্বতন্ত্র স্থান তৈরি করতে পারেন এবং 'সুপারস্টার' তকমা অর্জন করতে পারেন। তাঁর চলচ্চিত্রগুলো আগামী প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে শ্রীদেবীর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, এক এমন শিল্পী হিসেবে যিনি শুধু অভিনয় করেননি, বরং প্রতিটি চরিত্রকে প্রাণবন্ত করে তুলেছিলেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন: শ্রীদেবীর আসল নাম কী ছিল?

উত্তর: শ্রীদেবীর আসল নাম ছিল শ্রী আম্মা ইয়াঙ্গার আয়াপ্পান। চলচ্চিত্র জগতে তিনি 'শ্রীদেবী' নামেই পরিচিতি লাভ করেন এবং এই নামেই তিনি ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।

প্রশ্ন: শ্রীদেবী কত সালে পদ্মশ্রী পুরস্কার লাভ করেন?

উত্তর: শ্রীদেবী ২০১৩ সালে ভারত সরকার কর্তৃক দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রী পুরস্কার লাভ করেন। ভারতীয় চলচ্চিত্রে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই সম্মানে ভূষিত করা হয়।

প্রশ্ন: শ্রীদেবী অভিনীত জনপ্রিয় হিন্দি চলচ্চিত্রগুলি কী কী?

উত্তর: শ্রীদেবী অভিনীত জনপ্রিয় হিন্দি চলচ্চিত্রগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো 'মিস্টার ইন্ডিয়া', 'চাঁদনী', 'চালবাজ', 'নগিনা', 'লমহে' এবং 'ইংলিশ ভিংলিশ'। এই ছবিগুলিতে তাঁর বৈচিত্র্যময় অভিনয় তাঁকে তারকাখ্যাতি এনে দেয়।

প্রশ্ন: শ্রীদেবীর স্বামী কে ছিলেন এবং তাঁর কতজন সন্তান?

উত্তর: শ্রীদেবীর স্বামী ছিলেন চলচ্চিত্র প্রযোজক বনি কাপুর। তাঁদের দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে – জাহ্নবী কাপুর এবং খুশি কাপুর। জাহ্নবী কাপুর বর্তমানে বলিউডের একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী।

প্রশ্ন: শ্রীদেবীর মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল?

উত্তর: শ্রীদেবী ২০১৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি দুবাইয়ে আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে 'আকস্মিক ডুবে যাওয়া' (accidental drowning) উল্লেখ করা হয়, যা সারা দেশে শোকের ছায়া ফেলেছিল।

প্রশ্ন: শ্রীদেবীকে কেন 'প্রথম নারী সুপারস্টার' বলা হয়?

উত্তর: শ্রীদেবীকে 'প্রথম নারী সুপারস্টার' বলা হয় কারণ তিনি ছিলেন প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী যিনি পুরুষ অভিনেতাদের মতো বা তার চেয়েও বেশি বক্স-অফিস আকর্ষণ এবং পারিশ্রমিক দাবি করতে পারতেন। তাঁর নামে এককভাবে ছবি সফল হতো, যা আগে কেবল পুরুষ অভিনেতাদের ক্ষেত্রেই দেখা যেত।

প্রশ্ন: শ্রীদেবী কতগুলি ভাষায় অভিনয় করেছেন?

উত্তর: শ্রীদেবী মোট পাঁচটি ভাষায় অভিনয় করেছেন – হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মালয়ালম এবং কন্নড়। এই বহুমুখী প্রতিভা তাঁকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক অনন্য শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Bottom Ad [Post Page]