তথ্যসারণি
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ব্যান্ডের নাম | শূন্য |
| প্রতিষ্ঠা | ২০০৭ |
| প্রতিষ্ঠাতা | ইমরুল করিম এমিল, শাকের রাজা |
| জাতীয়তা | বাংলাদেশী |
| ধরণ | অল্টারনেটিভ রক, পপ রক, পপ, সফট রক |
| সক্রিয় বছর | ২০০৭-বর্তমান |
| উল্লেখযোগ্য অর্জন | মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার (২০০৮), সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস (২০০৯, ২০১১) |
| পরিচিতি | বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ড, জয় বাংলা কনসার্টে নিয়মিত পরিবেশনা |
পরিচিতি
বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতে শূন্য একটি অত্যন্ত সুপরিচিত নাম। ২০০৭ সালে ঢাকা শহরে প্রতিষ্ঠিত এই অল্টারনেটিভ রক ব্যান্ডটি খুব দ্রুতই নিজেদের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করে নেয়। ইমরুল করিম এমিল এবং শাকের রাজার হাত ধরে যাত্রা শুরু করা শূন্য, তাদের ভিন্নধর্মী সুর, গভীর গীতিকবিতা এবং প্রাণবন্ত মঞ্চ পরিবেশনার জন্য শ্রোতামহলে ব্যাপক সমাদৃত। অল্টারনেটিভ রক, পপ রক, পপ এবং সফট রকের এক দারুণ মিশেল তাদের সঙ্গীতকে দিয়েছে এক নতুন মাত্রা, যা দেশের তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে সব বয়সী শ্রোতাদের কাছেই প্রিয়।

Photo: Wikimedia Commons
View Source
বাংলাদেশের ব্যান্ড সঙ্গীতের ইতিহাসে শূন্য শুধু একটি নাম নয়, এটি তারুণ্য, প্রতিবাদ এবং ভালোবাসার এক প্রতিচ্ছবি। তাদের গানগুলো প্রায়শই সামাজিক বার্তা, ব্যক্তিগত অনুভূতি এবং জীবনের নানা দিক নিয়ে কথা বলে, যা শ্রোতাদের সাথে এক গভীর সংযোগ স্থাপন করে। মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার এবং সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসের মতো সম্মাননা প্রাপ্তি তাদের জনপ্রিয়তা ও সাফল্যেরই প্রমাণ। বিশেষ করে, দেশের অন্যতম বৃহৎ সঙ্গীত উৎসব জয় বাংলা কনসার্টে তাদের নিয়মিত পরিবেশনা তাদের জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে দিয়েছে এবং বাংলাদেশের সঙ্গীতপ্রেমীদের হৃদয়ে একটি স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।
প্রারম্ভিক জীবন
শূন্য ব্যান্ডের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৭ সালে ঢাকার বুকে, একদল স্বপ্নবাজ তরুণের হাত ধরে। ইমরুল করিম এমিল (ভোকাল ও গিটার) এবং শাকের রাজা (গিটার) এই ব্যান্ডের মূল ভিত্তি স্থাপন করেন। তাদের মনে ছিল এমন এক সঙ্গীত সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা, যা প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে নতুন কিছু উপহার দেবে। প্রাথমিকভাবে, তারা নিজেদের মতো করে গান তৈরি করা শুরু করেন এবং বিভিন্ন ছোটখাটো অনুষ্ঠানে পরিবেশনা করতে থাকেন। এই সময়টায় তাদের সঙ্গে যুক্ত হন মাইকেল (বেজ গিটার) এবং লাবিব (ড্রামস), যা ব্যান্ডের লাইনআপকে পূর্ণতা দেয়।
ব্যান্ড গঠনের প্রথম দিকের দিনগুলো ছিল চ্যালেঞ্জে ভরা। নতুন একটি ব্যান্ড হিসেবে নিজেদের পরিচিতি তৈরি করা, শ্রোতাদের কাছে পৌঁছানো এবং একটি স্বতন্ত্র সঙ্গীতশৈলী গড়ে তোলা সহজ ছিল না। দিনের পর দিন স্টুডিওতে অনুশীলন, নতুন সুর ও কথা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং নিজেদের সঙ্গীতকে আরও পরিশীলিত করার নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন তারা। তাদের লক্ষ্য ছিল এমন গান তৈরি করা যা কেবল শ্রুতিমধুরই নয়, বরং গভীর অর্থবহও হবে। এই প্রারম্ভিক সংগ্রাম এবং কঠোর পরিশ্রমই পরবর্তীকালে শূন্যকে বাংলাদেশের অন্যতম সফল ব্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করে। তাদের প্রথম অ্যালবাম ‘নতুন শূন্যতা’ প্রকাশের মাধ্যমে সেই স্বপ্নের বীজ অঙ্কুরিত হয়, যা পরবর্তীতে মহীরুহে পরিণত হয়।
ক্যারিয়ার
শূন্য ব্যান্ডের ক্যারিয়ার অত্যন্ত উজ্জ্বল এবং সফলতায় ভরপুর। ২০০৭ সালে আত্মপ্রকাশের পর থেকেই তারা একের পর এক হিট গান এবং অ্যালবাম উপহার দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছেন।
প্রথম দশক: প্রতিষ্ঠা ও জনপ্রিয়তার শিখরে আরোহণ (২০০৭-২০১৬)
ব্যান্ড গঠনের এক বছরের মধ্যেই, ২০০৮ সালে শূন্য তাদের প্রথম অ্যালবাম ‘নতুন শূন্যতা’ প্রকাশ করে। এই অ্যালবামটি প্রকাশের পরপরই ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং ব্যান্ডটিকে রাতারাতি জনপ্রিয় করে তোলে। অ্যালবামের গানগুলো তরুণদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং তারা ২০০৮ সালেই মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারে ‘সেরা ব্যান্ড’ এর সম্মান অর্জন করে। এটি ছিল তাদের ক্যারিয়ারের এক বিশাল টার্নিং পয়েন্ট।
পরবর্তীতে, ২০০৯ সালে তারা তাদের দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘গোধূলীর পরে’ প্রকাশ করে, যা তাদের জনপ্রিয়তাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। একই বছর তারা সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসেও সম্মানিত হয়। ২০১১ সালে প্রকাশিত হয় তাদের তৃতীয় অ্যালবাম ‘ভ্রমণ’, যা তাদের সঙ্গীতকে আরও পরিণত করে তোলে। এই অ্যালবামের জন্য তারা আবারও সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস অর্জন করে। এই সময়কালে ‘শোনো মহাজন’, ‘বেঁচে থাকার গান’, ‘আমার আপন গান’ এর মতো গানগুলো শ্রোতাদের মুখে মুখে ফেরে।
২০১৪ সালে ‘শত আশা’ এবং ২০১৬ সালে ‘লটারি’ অ্যালবাম প্রকাশের মাধ্যমে শূন্য তাদের ধারাবাহিক সাফল্য বজায় রাখে। ‘লটারি’ অ্যালবামটি তাদের অন্যতম সফল অ্যালবাম হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এর টাইটেল ট্র্যাকটি সহ আরও বেশ কিছু গান ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। এই অ্যালবামগুলো শূন্যকে কেবল একটি ব্যান্ড হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের সঙ্গীত সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
দ্বিতীয় দশক: ধারাবাহিকতা ও নতুন দিগন্ত (২০১৭-বর্তমান)
২০১৭ সালের পর থেকে শূন্য তাদের জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে এবং নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছেও নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা প্রমাণ করেছে। তাদের সঙ্গীতযাত্রায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো জয় বাংলা কনসার্ট-এ নিয়মিত পরিবেশনা। এই বৃহৎ মঞ্চে তাদের energetic পারফরম্যান্স এবং দেশাত্মবোধক গানগুলো শ্রোতাদের মধ্যে এক ভিন্ন উন্মাদনা তৈরি করে। ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে তাদের পরিবেশনাগুলো সবসময়ই শ্রোতাদের মন ছুঁয়ে যায়।
২০১৯ সালে তারা তাদের সর্বশেষ অ্যালবাম ‘তারার মেলা’ প্রকাশ করে। এই অ্যালবামের গানগুলোতেও শূন্য তাদের নিজস্বতা বজায় রেখেছে এবং সমসাময়িক সুরের সাথে তাদের চিরাচরিত গীতিকবিতার সংমিশ্রণ ঘটিয়েছে। ‘এক পায়ে নূপুর’, ‘মিথ্যা’, ‘জীবনের গল্প’ এর মতো গানগুলো তাদের ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। শূন্য ব্যান্ড শুধুমাত্র অ্যালবাম প্রকাশেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তারা অসংখ্য সিঙ্গেল ট্র্যাক, মিউজিক ভিডিও এবং কনসার্টের মাধ্যমেও শ্রোতাদের সাথে নিজেদের সম্পর্ক গভীর করেছে। তাদের সঙ্গীত কেবল বিনোদনই দেয় না, বরং শ্রোতাদের মনে আবেগ, চিন্তা এবং অনুপ্রেরণার জন্ম দেয়। বাংলাদেশের আধুনিক ব্যান্ড সঙ্গীতে শূন্যের অবদান অবিস্মরণীয় এবং তাদের সঙ্গীত যাত্রা আজও সমান গতিতে এগিয়ে চলেছে।
উল্লেখযোগ্য অর্জন
শূন্য ব্যান্ডের সঙ্গীত জীবনে উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলো তাদের কঠোর পরিশ্রম, মেধা এবং শ্রোতাদের ভালোবাসারই প্রতিচ্ছবি। বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতে তারা নিজেদের এক বিশেষ স্থান তৈরি করে নিয়েছেন বেশ কিছু সম্মাননা ও মাইলফলকের মাধ্যমে।
- মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার (২০০৮): ব্যান্ড গঠনের মাত্র এক বছরের মধ্যেই, তাদের প্রথম অ্যালবাম ‘নতুন শূন্যতা’ এর অসাধারণ সাফল্যের জন্য শূন্য ব্যান্ড ‘সেরা ব্যান্ড’ ক্যাটাগরিতে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার লাভ করে। এটি তাদের সঙ্গীত জীবনের এক বিশাল স্বীকৃতি ছিল।
- সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস (২০০৯): দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘গোধূলীর পরে’ এর সাফল্যের পর তারা এই পুরস্কারে ভূষিত হয়, যা তাদের জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে।
- সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস (২০১১): তৃতীয় অ্যালবাম ‘ভ্রমণ’ এর জন্য তারা আবারও এই পুরস্কার অর্জন করে, যা তাদের সঙ্গীতের মান এবং শ্রোতাদের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা তুলে ধরে।
- জয় বাংলা কনসার্টে নিয়মিত পরিবেশনা: দেশের সর্ববৃহৎ এবং অন্যতম জনপ্রিয় সঙ্গীত উৎসব জয় বাংলা কনসার্ট-এ শূন্য ব্যান্ডের নিয়মিত পরিবেশনা তাদের ক্যারিয়ারের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই মঞ্চে তাদের উপস্থিতি এবং দেশাত্মবোধক গানগুলো পরিবেশন করার সুযোগ তাদের জাতীয় পর্যায়ে আরও বেশি পরিচিতি এনে দিয়েছে।
- দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তা: এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতে নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা এবং জনপ্রিয়তা ধরে রাখা শূন্য ব্যান্ডের একটি বড় অর্জন। তারা সময়ের সাথে সাথে নিজেদের সঙ্গীতকে বিকশিত করেছেন এবং নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছেও নিজেদের গ্রহণযোগ্য রেখেছেন।
- অসংখ্য হিট গান: ‘শোনো মহাজন’, ‘বেঁচে থাকার গান’, ‘আমার আপন গান’, ‘লটারি’, ‘এক পায়ে নূপুর’, ‘মিথ্যা’ এবং ‘জীবনের গল্প’ এর মতো অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়ে তারা শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে তুলেছেন।
ব্যক্তিগত জীবন
শূন্য ব্যান্ডের সদস্যরা তাদের ব্যক্তিগত জীবনকে পেশাদার সঙ্গীত জীবনের পাশাপাশি অত্যন্ত সুচারুভাবে পরিচালনা করেন। ব্যান্ডের মূল সদস্যরা হলেন ইমরুল করিম এমিল (ভোকাল ও গিটার), মাইকেল (বেজ গিটার), লাবিব (ড্রামস) এবং বর্তমান গিটারিস্ট সেথ (ইশমামুল ফারহাদ সেথ)। যদিও তারা জনসমক্ষে তাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব বেশি আলোচনা করেন না, তবে তাদের মধ্যেকার পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং বন্ধুত্বের বন্ধন অত্যন্ত দৃঢ়। এই গভীর সম্পর্কই তাদের দীর্ঘস্থায়ী সাফল্যের অন্যতম কারণ।
ব্যান্ডের প্রতিটি সদস্যই সঙ্গীতের প্রতি গভীর আবেগ এবং নিষ্ঠা নিয়ে কাজ করেন। তাদের পরিবার এবং বন্ধুদের সমর্থন তাদের সঙ্গীত যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। স্টুডিওতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিশ্রম, দেশজুড়ে বিভিন্ন কনসার্টে অংশ নেওয়া এবং নতুন গান তৈরি করার পেছনে তাদের ব্যক্তিগত ত্যাগ ও নিষ্ঠা অনস্বীকার্য। ব্যক্তিজীবনে তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফল এবং তাদের ব্যক্তিগত মূল্যবোধ ও আদর্শ তাদের সঙ্গীতের মাধ্যমেও প্রতিফলিত হয়। তারা নিজেদেরকে শুধুমাত্র একজন সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে নয়, বরং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ একজন মানুষ হিসেবেও দেখেন, যার প্রতিফলন তাদের বিভিন্ন সামাজিক বার্তা সম্বলিত গানে দেখা যায়।
মজার তথ্য
- ব্যান্ডের নামের উৎস: ‘শূন্য’ নামটি ব্যান্ডের সদস্যদের কাছে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এটি একটি নতুন শুরু, অসীম সম্ভাবনা এবং সবকিছুর উৎসকে নির্দেশ করে। এই নামেই তারা নিজেদের সঙ্গীতকে নতুনভাবে উপস্থাপন করতে চেয়েছিলেন।
- প্রথম কনসার্টের অভিজ্ঞতা: ব্যান্ডের প্রথম দিকের কনসার্টগুলো ছিল ছোট পরিসরে, কিন্তু প্রতিটি পরিবেশনাই ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। তারা প্রায়শই নিজেদের প্রথম দিকের মঞ্চ পরিবেশনার কথা স্মরণ করে হাসাহাসি করেন, যখন তারা দর্শকদের মন জয় করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেন।
- সদস্যদের মধ্যে রসায়ন: শূন্য ব্যান্ডের সদস্যদের মধ্যেকার রসায়ন অত্যন্ত শক্তিশালী। তারা শুধুমাত্র সহকর্মীই নন, বরং একে অপরের ভালো বন্ধুও। তাদের মধ্যে প্রায়শই মজার আড্ডা, খুনসুটি এবং একে অপরের প্রতি সমর্থন দেখা যায়, যা তাদের সঙ্গীতকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
- গান লেখার প্রক্রিয়া: তাদের গান লেখার প্রক্রিয়া বেশ আকর্ষণীয়। প্রায়শই এমিল একটি সুর বা গানের একটি অংশ নিয়ে আসেন, এবং বাকি সদস্যরা মিলে সেটিকে পূর্ণতা দেন। অনেক সময় তারা একসাথে বসে জ্যামিং করতে করতে নতুন সুর বা গানের কথা পেয়ে যান।
- অনুপ্রেরণা: শূন্য ব্যান্ডের সদস্যরা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্যান্ড এবং শিল্পীদের দ্বারা অনুপ্রাণিত। তবে তারা সবসময় চেষ্টা করেন নিজেদের একটি স্বতন্ত্র সঙ্গীতশৈলী তৈরি করতে, যা অন্য কারো দ্বারা প্রভাবিত নয়।
- ভক্তদের সাথে সম্পর্ক: শূন্য তাদের ভক্তদের সাথে এক দারুণ সম্পর্ক বজায় রাখে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা নিয়মিত ভক্তদের সাথে যোগাযোগ করেন এবং তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেন। ভক্তদের ভালোবাসা এবং সমর্থন তাদের অনুপ্রেরণার অন্যতম উৎস।
উপসংহার
বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতে শূন্য ব্যান্ড একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে। ২০০৭ সালে যাত্রা শুরু করে তারা তাদের ভিন্নধর্মী সঙ্গীতশৈলী, গভীর গীতিকবিতা এবং প্রাণবন্ত মঞ্চ পরিবেশনার মাধ্যমে অসংখ্য শ্রোতার মন জয় করে নিয়েছে। অল্টারনেটিভ রক, পপ রক, পপ এবং সফট রকের এক দারুণ মিশ্রণ তাদের সঙ্গীতকে দিয়েছে এক নতুন মাত্রা, যা বাংলাদেশের ব্যান্ড সঙ্গীতের ধারাকে সমৃদ্ধ করেছে।
মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার এবং সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসের মতো সম্মাননা প্রাপ্তি তাদের মেধা ও সাফল্যেরই প্রমাণ। বিশেষ করে, জয় বাংলা কনসার্টে তাদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং দেশাত্মবোধক গানগুলো পরিবেশন করার ক্ষমতা তাদের জাতীয় পর্যায়ে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ‘শোনো মহাজন’, ‘বেঁচে থাকার গান’, ‘লটারি’ এর মতো জনপ্রিয় গানগুলো তাদের সঙ্গীত যাত্রার মাইলফলক। শূন্য ব্যান্ড কেবল গানই তৈরি করে না, তারা শ্রোতাদের মনে আবেগ, চিন্তা এবং অনুপ্রেরণার জন্ম দেয়। বাংলাদেশের আধুনিক ব্যান্ড সঙ্গীতে শূন্যের অবদান অবিস্মরণীয় এবং তাদের সঙ্গীত যাত্রা আগামী দিনেও সমান উজ্জ্বল থাকবে বলে আশা করা যায়।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন: শূন্য ব্যান্ড কবে গঠিত হয়?
উত্তর: শূন্য ব্যান্ড ২০০৭ সালে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় গঠিত হয়। ইমরুল করিম এমিল এবং শাকের রাজা এই ব্যান্ডটি প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রশ্ন: শূন্য ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা কারা?
উত্তর: শূন্য ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা হলেন ইমরুল করিম এমিল (ভোকাল ও গিটার) এবং শাকের রাজা (গিটার)। তারা দুজনই ব্যান্ডের প্রাথমিক ভিত্তি স্থাপন করেন।
প্রশ্ন: শূন্য ব্যান্ডের জনপ্রিয় গানগুলো কী কী?
উত্তর: শূন্য ব্যান্ডের অসংখ্য জনপ্রিয় গান রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘শোনো মহাজন’, ‘বেঁচে থাকার গান’, ‘আমার আপন গান’, ‘লটারি’, ‘এক পায়ে নূপুর’, ‘মিথ্যা’ এবং ‘জীবনের গল্প’ ইত্যাদি।
প্রশ্ন: শূন্য ব্যান্ড কী ধরনের সঙ্গীত পরিবেশন করে?
উত্তর: শূন্য ব্যান্ড মূলত অল্টারনেটিভ রক, পপ রক, পপ এবং সফট রকের সমন্বয়ে সঙ্গীত পরিবেশন করে। তাদের গানে ভিন্নধর্মী সুর এবং গভীর গীতিকবিতার মিশ্রণ দেখা যায়।
প্রশ্ন: শূন্য ব্যান্ড কী কী পুরস্কার জিতেছে?
উত্তর: শূন্য ব্যান্ড ২০০৮ সালে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারে ‘সেরা ব্যান্ড’ হিসেবে ভূষিত হয়। এছাড়াও, তারা ২০০৯ এবং ২০১১ সালে সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস অর্জন করেছে।
প্রশ্ন: জয় বাংলা কনসার্টের সাথে শূন্য ব্যান্ডের সম্পর্ক কী?
উত্তর: শূন্য ব্যান্ড জয় বাংলা কনসার্টের একজন নিয়মিত এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় পরিবেশনকারী। এই বৃহৎ মঞ্চে তাদের energetic পারফরম্যান্স এবং দেশাত্মবোধক গানগুলো শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা সৃষ্টি করে।
প্রশ্ন: শূন্য ব্যান্ডের বর্তমান সদস্য কারা?
উত্তর: শূন্য ব্যান্ডের বর্তমান মূল সদস্যরা হলেন ইমরুল করিম এমিল (ভোকাল ও গিটার), মাইকেল (বেজ গিটার), লাবিব (ড্রামস) এবং সেথ (ইশমামুল ফারহাদ সেথ, গিটার)।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন