| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| পুরো নাম | ঘট্টমানেনি মহেশ বাবু |
| জন্ম | ৯ আগস্ট ১৯৭৫ |
| জন্মস্থান | চেন্নাই, তামিলনাড়ু, ভারত |
| পেশা | অভিনেতা, প্রযোজক, জনহিতৈষী |
| জাতীয়তা | ভারতীয় |
| বাবা | কৃষ্ণ ঘট্টমানেনি |
| মা | ইন্দিরা দেবী |
| স্ত্রী | নম্রতা শিরোদকর |
| সন্তান | গৌতম ঘট্টমানেনি, সিতারা ঘট্টমানেনি |
| পরিচিতি | টলিউড সুপারস্টার, তেলুগু সিনেমা |
| উল্লেখযোগ্য পুরস্কার | ৯টি নন্দী অ্যাওয়ার্ড, ৫টি ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড সাউথ, ৪টি সিমা অ্যাওয়ার্ড |
পরিচিতি
ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র, যিনি 'সুপারস্টার' মহেশ বাবু নামেই পরিচিত। টলিউডের এই কিংবদন্তী অভিনেতা কেবল তাঁর অনবদ্য অভিনয় দক্ষতার জন্যই নন, বরং তাঁর ব্যক্তিত্ব, জনহিতকর কাজ এবং বাণিজ্যিক সাফল্যের জন্যও সমানভাবে প্রশংসিত। তেলুগু সিনেমার এই প্রাণবন্ত তারকা তাঁর ক্যারিয়ারে ৩০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এবং ভারতীয় সিনেমার সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেতাদের মধ্যে অন্যতম। ফোর্বস ইন্ডিয়ার সেলিব্রিটি ১০০ তালিকায় ২০১২ সাল থেকে নিয়মিত তাঁর নাম উঠে এসেছে, যা তাঁর জনপ্রিয়তা ও প্রভাবের পরিচায়ক। মহেশ বাবু শুধু একজন অভিনেতা নন, তিনি একজন প্রযোজক এবং একজন নিবেদিতপ্রাণ জনহিতৈষীও বটে।

Photo: Wikimedia Commons
View Source
তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্রগুলি প্রায়শই বক্স অফিসে রেকর্ড গড়ে এবং সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায়। তাঁর পর্দায় উপস্থিতি, শক্তিশালী সংলাপ ডেলিভারি এবং আবেগপূর্ণ অভিনয় তাঁকে দর্শকদের হৃদয়ে এক বিশেষ স্থান করে দিয়েছে। মহেশ বাবু তাঁর সামাজিক দায়বদ্ধতার জন্যও পরিচিত; তিনি বিভিন্ন দাতব্য কাজের সাথে জড়িত এবং সমাজের উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছেন। তাঁর ক্যারিয়ার জুড়ে তিনি অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে ৯টি নন্দী অ্যাওয়ার্ড, ৫টি ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড সাউথ এবং ৪টি সিমা অ্যাওয়ার্ড।
প্রারম্ভিক জীবন
১৯৭৫ সালের ৯ আগস্ট ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের চেন্নাই শহরে মহেশ বাবু জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম ঘট্টমানেনি মহেশ বাবু। তিনি তেলুগু সিনেমার কিংবদন্তী অভিনেতা কৃষ্ণ ঘট্টমানেনি এবং ইন্দিরা দেবীর চতুর্থ সন্তান। মহেশ বাবুর শৈশব কেটেছে মূলত চেন্নাইতেই, যেখানে তিনি তাঁর পরিবারের সাথে থাকতেন। বাবার অভিনয় জগতের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকার কারণে খুব অল্প বয়স থেকেই সিনেমার পরিবেশের সাথে তাঁর পরিচয় ঘটে। এই পরিবেশই পরবর্তীতে তাঁকে অভিনয়ের প্রতি আগ্রহী করে তোলে।
ছোটবেলা থেকেই মহেশ বাবু ক্যামেরার সামনে স্বচ্ছন্দ ছিলেন। চার বছর বয়সে তিনি তাঁর বাবার ছবি 'নীদা' (১৯৭৯) তে শিশুশিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর তিনি আরও বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেন, যার মধ্যে 'বাজার রাউডি' (১৯৮৮), 'মুগ্গুরু কোডুকুলু' (১৯৮৯), এবং 'গুডুচারি ১১৭' (১৯৮৯) উল্লেখযোগ্য। তাঁর বাবা কৃষ্ণ চেয়েছিলেন মহেশ বাবু আগে তাঁর পড়াশোনা শেষ করুক, তাই নব্বইয়ের দশকে তিনি অভিনয় থেকে বিরতি নেন।
শিক্ষাজীবন
মহেশ বাবুর শিক্ষাজীবন চেন্নাইতেই সম্পন্ন হয়। তিনি সেন্ট বেডের অ্যাংলো ইন্ডিয়ান হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে পড়াশোনা করেন। স্কুল জীবন থেকেই তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা এবং অন্যান্য সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি চেন্নাইয়ের বিখ্যাত লয়োলা কলেজে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে কমার্সে ব্যাচেলর ডিগ্রি (বি.কম) অর্জন করেন।
পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি মুম্বাইতে খ্যাতিমান অভিনেতা সতীশ কৌশিকের কাছে অভিনয় প্রশিক্ষণে অংশ নেন। এই প্রশিক্ষণ তাঁকে অভিনয়ের বিভিন্ন কৌশল আয়ত্ত করতে এবং একজন পূর্ণাঙ্গ অভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করতে সাহায্য করে। তাঁর বাবা কৃষ্ণ সবসময়ই চেয়েছিলেন যে মহেশ বাবু অভিনয়ে আসার আগে যেন ভালোভাবে পড়াশোনা শেষ করেন এবং জীবনের অন্যান্য দিক সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেন।
ক্যারিয়ার
মহেশ বাবুর ক্যারিয়ারকে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়: শিশুশিল্পী হিসেবে এবং প্রধান অভিনেতা হিসেবে। শিশুশিল্পী হিসেবে বেশ কয়েকটি ছবিতে কাজ করার পর, পড়াশোনা শেষ করে ১৯৯৯ সালে 'রাজাকুমারুডু' ছবির মাধ্যমে তিনি প্রধান অভিনেতা হিসেবে তেলুগু সিনেমায় পা রাখেন। এই ছবিতে তাঁর বিপরীতে ছিলেন প্রীতি জিনতা। ছবিটি বক্স অফিসে সাফল্য লাভ করে এবং মহেশ বাবু শ্রেষ্ঠ নবাগত অভিনেতা হিসেবে নন্দী অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন।
প্রাথমিক সাফল্যের পর, মহেশ বাবু বেশ কয়েকটি রোমান্টিক এবং অ্যাকশন ছবিতে অভিনয় করেন। তবে তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয় ২০০৩ সালের ব্লকবাস্টার হিট 'ওক্কাদু'। এই ছবিটি তাঁকে তেলুগু সিনেমার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এরপর 'আথাডু' (২০০৫) এবং 'পোকিরি' (২০০৬) ছবি দুটি তাঁকে সুপারস্টার হিসেবে পরিচিতি এনে দেয়। বিশেষ করে পুরী জগন্নাধ পরিচালিত 'পোকিরি' সেই সময়ের তেলুগু সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ আয়কারী ছবিতে পরিণত হয়।
২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তাঁর কয়েকটি ছবি বক্স অফিসে তেমন সফল না হলেও, ২০১০ সালের পর থেকে মহেশ বাবু আবার সাফল্যের চূড়ায় আরোহণ করেন। শ্রীণু ভাইটলা পরিচালিত 'ডুকুডু' (২০১১) এবং পুরী জগন্নাধ পরিচালিত 'বিজনেস ম্যান' (২০১২) তাঁকে আরও জনপ্রিয় করে তোলে। এরপর 'সীথাম্মা ভাকিতলো সিরিমাল্লে চেট্টু' (২০১৩), '১: নেনোক্কাডিন' (২০১৪), 'আগাডু' (২০১৪) এবং 'শ্রীমন্তুদু' (২০১৫) তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করে। 'শ্রীমন্তুদু' ছবিতে তাঁর 'গ্রাম দত্তক' নেওয়ার ধারণাটি সমাজে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।
পরবর্তীতে 'ভারত আনে নেনু' (২০১৮) ছবিতে একজন সৎ মুখ্যমন্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করে তিনি সমালোচক ও দর্শকদের প্রশংসা কুড়ান। 'মহর্ষি' (২০১৯) এবং 'সারিলেরু নিকেভভারু' (২০২০) ছবি দুটিও বক্স অফিসে দারুণ সফল হয়। তাঁর সর্বশেষ ছবি 'সরকারু ভারি পাটা' (২০২২) ও ব্যবসাসফল হয়। মহেশ বাবু কেবল একজন অভিনেতা হিসেবেই নন, তাঁর প্রযোজনা সংস্থা 'জি মহেশ বাবু এন্টারটেইনমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড' এর মাধ্যমে তিনি বেশ কয়েকটি সফল ছবিও প্রযোজনা করেছেন। তাঁর চলচ্চিত্র নির্বাচন, চিত্রনাট্যের প্রতি মনোযোগ এবং প্রতিটি চরিত্রে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সঁপে দেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে ভারতীয় সিনেমার একজন আইকন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
উল্লেখযোগ্য অর্জন
মহেশ বাবুর ক্যারিয়ার অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় সমৃদ্ধ। তিনি তেলুগু সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম সম্মানিত অভিনেতা। তাঁর উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলির মধ্যে রয়েছে:
- নন্দী অ্যাওয়ার্ড: তিনি ৯টি নন্দী অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন, যা তেলুগু সিনেমার জন্য রাজ্য সরকারের সর্বোচ্চ সম্মান। এর মধ্যে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে ৪টি পুরস্কার উল্লেখযোগ্য।
- ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড সাউথ: মহেশ বাবু ৫টি ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড সাউথ জিতেছেন, যার মধ্যে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে ৪টি পুরস্কার রয়েছে।
- সিমা অ্যাওয়ার্ড: তিনি ৪টি সিমা অ্যাওয়ার্ড লাভ করেছেন, যা দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মাননা।
- ফোর্বস ইন্ডিয়ার সেলিব্রিটি ১০০: ২০১২ সাল থেকে নিয়মিতভাবে তিনি এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন, যা ভারতীয় সেলিব্রিটিদের মধ্যে তাঁর উচ্চ আয় এবং জনপ্রিয়তার প্রমাণ।
- টলিউডের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেতা: তিনি ভারতীয় সিনেমার সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেতাদের মধ্যে একজন।
- জনহিতকর কাজ: মহেশ বাবু তাঁর দাতব্য কাজের জন্য সুপরিচিত। তিনি 'হিলিং লিটল হার্টস' ফাউন্ডেশনের অ্যাম্বাসেডর এবং অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানার দুটি গ্রাম দত্তক নিয়েছেন, যেখানে তিনি স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করছেন।
এই অর্জনগুলি মহেশ বাবুর বহুমুখী প্রতিভা, তাঁর কঠোর পরিশ্রম এবং তেলুগু সিনেমার প্রতি তাঁর অসামান্য অবদানের সাক্ষ্য বহন করে।
ব্যক্তিগত জীবন
মহেশ বাবুর ব্যক্তিগত জীবন তাঁর পেশাদার জীবনের মতোই সরল এবং সংযত। ২০০৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি সাবেক মিস ইন্ডিয়া এবং বলিউড অভিনেত্রী নম্রতা শিরোদকরকে বিয়ে করেন। তাঁদের প্রথম দেখা হয়েছিল 'ভামসি' (২০০০) ছবির সেটে। প্রায় পাঁচ বছর প্রেমের পর তাঁরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির দুটি সন্তান রয়েছে: পুত্র গৌতম ঘট্টমানেনি (জন্ম ২০০৬) এবং কন্যা সিতারা ঘট্টমানেনি (জন্ম ২০১২)।
মহেশ বাবু একজন পারিবারিক মানুষ হিসেবে পরিচিত। তিনি তাঁর সন্তানদের সাথে সময় কাটাতে ভালোবাসেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়শই তাঁদের ছবি শেয়ার করেন। তাঁর স্ত্রী নম্রতা তাঁর পেশাদার জীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও তাঁর একজন শক্তিশালী সমর্থন। নম্রতা মহেশ বাবুর প্রযোজনা সংস্থার কাজও দেখাশোনা করেন।
২০২২ সাল মহেশ বাবুর ব্যক্তিগত জীবনে বেশ কঠিন সময় নিয়ে এসেছিল। তিনি অল্প সময়ের ব্যবধানে তাঁর বড় ভাই রমেশ বাবু, তাঁর মা ইন্দিরা দেবী এবং তাঁর বাবা, কিংবদন্তী অভিনেতা কৃষ্ণ ঘট্টমানেনিকে হারান। এই কঠিন সময়েও তিনি তাঁর পরিবারের পাশে ছিলেন এবং তাঁর অনুরাগীরা তাঁর প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন। মহেশ বাবু তাঁর ব্যক্তিগত জীবনকে ক্যামেরার আড়ালে রাখতে পছন্দ করেন এবং বিতর্ক থেকে দূরে থাকেন।
মজার তথ্য
- লজ্জা ও লাজুক স্বভাব: পর্দার বাইরে মহেশ বাবু অত্যন্ত লাজুক এবং অন্তর্মুখী স্বভাবের মানুষ। তিনি পার্টি এবং জনসমাগম এড়িয়ে চলেন।
- ইংরেজি ও তেলুগু মিশ্রিত কথোপকথন: মহেশ বাবু প্রায়শই তাঁর সাক্ষাৎকারগুলিতে ইংরেজি এবং তেলুগু মিশিয়ে কথা বলেন।
- পরিবারের প্রতি ভালোবাসা: তিনি তাঁর পরিবারকে, বিশেষ করে স্ত্রী নম্রতা এবং সন্তানদেরকে তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করেন।
- কম বাণিজ্যিক ছবিতে অভিনয়: মহেশ বাবু খুব বেছে বেছে ছবি করেন। তিনি বছরে এক থেকে দুটি ছবিতে অভিনয় করতে পছন্দ করেন, যাতে প্রতিটি ছবিতে তিনি সর্বোচ্চ মনোযোগ দিতে পারেন।
- ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর: তিনি ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের মুখ হিসেবে তাঁকে দেখা যায়।
- চোখের পাওয়ার: মহেশ বাবু নিয়মিত চশমা পরেন, যদিও পর্দায় তাঁকে খুব কমই চশমা পরতে দেখা যায়।
- শরীরচর্চায় মনোযোগী: ফিটনেস ধরে রাখার জন্য তিনি কঠোর শরীরচর্চা করেন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন মেনে চলেন।
উপসংহার
মহেশ বাবু কেবল একজন অভিনেতা নন, তিনি একটি প্রতিষ্ঠান। তেলুগু সিনেমার ইতিহাসে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। শিশুশিল্পী হিসেবে শুরু করে, নিজেকে একজন সুপারস্টার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং তারপরও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা - তাঁর এই যাত্রাপথ অসংখ্য মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা। তাঁর অভিনয় দক্ষতা, চারিত্রিক দৃঢ়তা এবং জনহিতকর কাজ তাঁকে কেবল একজন সফল শিল্পী হিসেবেই নয়, একজন আদর্শ মানুষ হিসেবেও পরিচিতি দিয়েছে।
বক্স অফিসে তাঁর ধারাবাহিক সাফল্য, সমালোচকদের প্রশংসা এবং অগণিত ভক্তদের ভালোবাসা মহেশ বাবুকে ভারতীয় সিনেমার একজন স্থায়ী আইকন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আগামী দিনেও তিনি তাঁর অভিনয় এবং সামাজিক কাজের মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করে যাবেন, এই প্রত্যাশা সকলের।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন: মহেশ বাবু কে?
উত্তর: মহেশ বাবু একজন ভারতীয় অভিনেতা, প্রযোজক এবং জনহিতৈষী, যিনি মূলত তেলুগু সিনেমায় কাজ করেন। তাঁকে টলিউডের 'সুপারস্টার' হিসেবে অভিহিত করা হয় এবং তিনি ভারতীয় সিনেমার অন্যতম সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেতাদের মধ্যে একজন।
প্রশ্ন: মহেশ বাবুর স্ত্রীর নাম কী?
উত্তর: মহেশ বাবুর স্ত্রীর নাম নম্রতা শিরোদকর। তিনি একজন সাবেক মিস ইন্ডিয়া এবং বলিউড অভিনেত্রী ছিলেন। ২০০৫ সালে তাঁরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
প্রশ্ন: মহেশ বাবুর কয়টি সন্তান?
উত্তর: মহেশ বাবুর দুটি সন্তান রয়েছে। তাঁর ছেলের নাম গৌতম ঘট্টমানেনি এবং মেয়ের নাম সিতারা ঘট্টমানেনি।
প্রশ্ন: মহেশ বাবুর প্রথম চলচ্চিত্র কোনটি?
উত্তর: মহেশ বাবু শিশুশিল্পী হিসেবে ১৯৭৯ সালের 'নীদা' ছবিতে প্রথম অভিনয় করেন। প্রধান অভিনেতা হিসেবে তাঁর প্রথম চলচ্চিত্র হলো ১৯৯৯ সালের 'রাজাকুমারুডু'।
প্রশ্ন: মহেশ বাবু কেন এত জনপ্রিয়?
উত্তর: মহেশ বাবু তাঁর অনবদ্য অভিনয় দক্ষতা, আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব, শক্তিশালী সংলাপ ডেলিভারি এবং বক্স অফিসে ধারাবাহিক সাফল্যের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়। এছাড়াও, তাঁর জনহিতকর কাজ এবং ব্যক্তিগত জীবনের সংযত ভাবমূর্তি তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে।
প্রশ্ন: মহেশ বাবু কি জনহিতকর কাজ করেন?
উত্তর: হ্যাঁ, মহেশ বাবু একজন সক্রিয় জনহিতৈষী। তিনি 'হিলিং লিটল হার্টস' ফাউন্ডেশনের অ্যাম্বাসেডর এবং অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানার দুটি গ্রাম দত্তক নিয়েছেন, যেখানে তিনি স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করছেন।
প্রশ্ন: মহেশ বাবু কতগুলি পুরস্কার জিতেছেন?
উত্তর: মহেশ বাবু তাঁর ক্যারিয়ারে অসংখ্য পুরস্কার জিতেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ৯টি নন্দী অ্যাওয়ার্ড, ৫টি ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড সাউথ এবং ৪টি সিমা অ্যাওয়ার্ড।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন