Full width home advertisement

Featured Actors

Popular Biographies

Post Page Advertisement [Top]

তথ্যসারণি

পূর্ণ নামবারাক হুসেইন ওবামা দ্বিতীয়
জন্ম৪ আগস্ট, ১৯৬১
জন্মস্থানহনলুলু, হাওয়াই, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
জাতীয়তাআমেরিকান
পেশারাজনীতিবিদ, আইনজীবী, লেখক
রাজনৈতিক দলডেমোক্রেটিক পার্টি
উল্লেখযোগ্য পদমার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪তম প্রেসিডেন্ট (২০০৯-২০১৭), ইলিনয় থেকে মার্কিন সিনেটর (২০০৫-২০০৮)
স্ত্রীমিশেল ওবামা
সন্তানমালিয়া অ্যান ওবামা, নাতাশা (সাশা) ওবামা

পরিচিতি

বারাক হুসেইন ওবামা দ্বিতীয়, যিনি বিশ্বজুড়ে বারাক ওবামা নামেই পরিচিত, একজন প্রভাবশালী আমেরিকান রাজনীতিবিদ যিনি ২০০৯ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান প্রেসিডেন্ট, যা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের একটি মাইলফলক। তাঁর নেতৃত্ব, বাগ্মিতা এবং প্রগতিশীল নীতি তাকে কেবল নিজ দেশেই নয়, বিশ্বজুড়ে একজন অনুপ্রেরণামূলক ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। ওবামার প্রেসিডেন্সি এমন এক সময়ে এসেছিল যখন যুক্তরাষ্ট্র গভীর অর্থনৈতিক মন্দা এবং দুটি চলমান যুদ্ধের মুখোমুখি ছিল, এবং তিনি এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় দৃঢ় নেতৃত্ব প্রদান করেন। তার প্রশাসনের সময় অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট (ওবামাকেয়ার) এবং ওসামা বিন লাদেনের হত্যার মতো ঘটনা ছিল উল্লেখযোগ্য।

Barack Obama

Photo: Wikimedia Commons
View Source

প্রারম্ভিক জীবন

বারাক ওবামা ১৯৬১ সালের ৪ আগস্ট হাওয়াইয়ের হনলুলু শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা বারাক ওবামা সিনিয়র ছিলেন কেনিয়ার একজন অর্থনীতিবিদ এবং তাঁর মা অ্যান ডানহাম ছিলেন একজন আমেরিকান নৃতত্ত্ববিদ। তাঁর বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ ঘটে যখন তিনি খুব ছোট ছিলেন। এরপর তাঁর মা ইন্দোনেশীয় নাগরিক লোলো সুতোরোকে বিয়ে করেন এবং বারাক তাঁর শৈশবের কিছু অংশ ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় কাটান। এই সময়ে তিনি বিভিন্ন সংস্কৃতি ও জীবনধারার সঙ্গে পরিচিত হন, যা তাঁর বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। দশ বছর বয়সে তিনি আবার হাওয়াই ফিরে আসেন এবং তাঁর নানা-নানির কাছে বেড়ে ওঠেন। হনলুলুর পুনাহো স্কুলে তাঁর উচ্চবিদ্যালয়ের পড়াশোনা সম্পন্ন হয়, যেখানে তিনি শিক্ষাগত ও ক্রীড়া উভয় ক্ষেত্রেই দক্ষতা দেখান। এই বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা বারাক ওবামাকে একজন সহানুভূতিশীল এবং বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে।

শিক্ষাজীবন

বারাক ওবামার শিক্ষাজীবন ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যপূর্ণ। পুনাহো স্কুল থেকে স্নাতক হওয়ার পর তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসের অক্সসিডেন্টাল কলেজে ভর্তি হন, যেখানে তিনি দুই বছর পড়াশোনা করেন। এরপর তিনি নিউ ইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তরিত হন এবং ১৯৮৩ সালে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে ওবামা শিকাগোতে একজন কমিউনিটি অর্গানাইজার হিসেবে কাজ করেন, যেখানে তিনি দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে সামাজিক ন্যায়বিচার এবং নাগরিক অধিকারের প্রতি গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। পরবর্তীতে, তিনি হার্ভার্ড ল স্কুলে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৯১ সালে তিনি হার্ভার্ড ল স্কুল থেকে জুরি ডক্টর (জে.ডি.) ডিগ্রি অর্জন করেন। হার্ভার্ডে থাকাকালীন তিনি হার্ভার্ড ল রিভিউ-এর প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস তৈরি করেন, যা তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলীর প্রমাণ ছিল।

ক্যারিয়ার

শিক্ষাজীবন শেষ করে বারাক ওবামা শিকাগোতে একজন নাগরিক অধিকার আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। একই সময়ে, তিনি ১৯৯২ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় ল স্কুলে সাংবিধানিক আইন পড়াতেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শুরু হয় ১৯৯৭ সালে, যখন তিনি ইলিনয় স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হন। স্টেট সিনেটর হিসেবে তিনি ভোক্তা সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে কাজ করেন। ২০০৪ সালে তিনি ইলিনয় থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নির্বাচিত হন। এই সময়ে, ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কনভেনশনে তাঁর মূল বক্তব্য তাকে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি এনে দেয়, যেখানে তিনি "এক আমেরিকা"র স্বপ্ন নিয়ে কথা বলেন।

২০০৮ সালে বারাক ওবামা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেন এবং "আশা ও পরিবর্তন" (Hope and Change) স্লোগান নিয়ে এক ঐতিহাসিক প্রচারাভিযান পরিচালনা করেন। তিনি এই নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইতিহাস তৈরি করেন। তাঁর প্রথম মেয়াদে (২০০৯-২০১৩) তিনি অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলায় স্টিমুলাস প্যাকেজ, অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট (ওবামাকেয়ার) প্রবর্তন, ইরাক যুদ্ধ শেষ করা এবং ওসামা বিন লাদেনকে খুঁজে বের করে হত্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেন। ২০১২ সালে তিনি পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে (২০১৩-২০১৭) তিনি ইরান পারমাণবিক চুক্তি, কিউবার সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ এবং প্যারিস জলবায়ু চুক্তির মতো আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর প্রেসিডেন্সি কেবল অভ্যন্তরীণ নীতিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং বিশ্বজুড়ে আমেরিকান কূটনীতি ও প্রভাব বিস্তারেও তিনি উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন।

উল্লেখযোগ্য অর্জন

  • ঐতিহাসিক প্রেসিডেন্সি: বারাক ওবামা ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান প্রেসিডেন্ট, যা জাতিগত সমতার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী অর্জন।
  • নোবেল শান্তি পুরস্কার: ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক কূটনীতি জোরদার এবং জনগণের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রচেষ্টার জন্য তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
  • অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট (ওবামাকেয়ার): এই আইনটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ লক্ষ নাগরিকের জন্য স্বাস্থ্য বীমা সহজলভ্য করেছে, যা তার প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অভ্যন্তরীণ নীতিগত সাফল্য।
  • অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার: ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা থেকে দেশকে পুনরুদ্ধারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, যার মধ্যে ছিল স্টিমুলাস প্যাকেজ এবং অটোমোবাইল শিল্পের পুনর্গঠন।
  • ওসামা বিন লাদেনের হত্যা: ২০১১ সালে আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে খুঁজে বের করে হত্যার নির্দেশ দেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে একটি বড় সাফল্য ছিল।
  • প্যারিস জলবায়ু চুক্তি: জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দিতে তিনি প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
  • ইরান পারমাণবিক চুক্তি: ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
  • কিউবার সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ: বহু দশকের শীতলতার পর কিউবার সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।

ব্যক্তিগত জীবন

বারাক ওবামার ব্যক্তিগত জীবনও তাঁর রাজনৈতিক জীবনের মতোই অনুপ্রেরণামূলক। ১৯৯২ সালে তিনি মিশেল রবিনসনকে বিয়ে করেন, যিনি পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। মিশেল ওবামা একজন আইনজীবী এবং লেখক হিসেবেও সুপরিচিত। তাঁদের দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে – মালিয়া অ্যান ওবামা এবং নাতাশা ওবামা, যিনি সাশা নামে পরিচিত। ওবামা পরিবার সবসময়ই তাদের পারিবারিক মূল্যবোধ এবং সন্তানদের স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট থাকাকালীনও তিনি তার পরিবারের সাথে সময় কাটানোর চেষ্টা করতেন এবং তাদের পড়াশোনা ও বেড়ে ওঠার প্রতি মনোযোগী ছিলেন। ক্ষমতা ছাড়ার পর, ওবামা এবং মিশেল তাঁদের ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে জনসেবামূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, যা নতুন প্রজন্মের নেতাদের অনুপ্রাণিত করতে এবং নাগরিক অংশগ্রহণ বাড়াতে কাজ করে। বারাক ওবামা একাধিক আত্মজীবনীমূলক বই লিখেছেন, যার মধ্যে "ড্রিমস ফ্রম মাই ফাদার" এবং "দ্য অডাসিটি অফ হোপ" বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর সাম্প্রতিক স্মৃতিকথা "এ প্রমিজড ল্যান্ড" ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা লাভ করেছে।

মজার তথ্য

  • বারাক ওবামা একজন বামহাতি ব্যক্তি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিহাসে তিনি ছিলেন ষষ্ঠ বামহাতি প্রেসিডেন্ট।
  • তিনি কমিক বইয়ের একজন বড় ভক্ত, বিশেষ করে স্পাইডার-ম্যান এবং কনার দ্য বারবারিয়ান তাঁর পছন্দের চরিত্র।
  • ছোটবেলায় তাঁর ইন্দোনেশিয়ার বন্ধুরা এবং পরিবারের সদস্যরা তাকে "ববি" নামে ডাকত।
  • নিজের লেখা দুটি অডিওবুক – "ড্রিমস ফ্রম মাই ফাদার" এবং "দ্য অডাসিটি অফ হোপ" – এর জন্য তিনি গ্র্যামি পুরস্কার জিতেছেন।
  • প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন তিনি নিরাপত্তার কারণে ব্যক্তিগত ইমেইল ব্যবহার করতেন না, তবে ব্ল্যাকবেরি ফোন ব্যবহার করার জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন।
  • তিনি বাস্কেটবল খেলতে খুব ভালোবাসতেন এবং হোয়াইট হাউসেও একটি বাস্কেটবল কোর্ট তৈরি করিয়েছিলেন।
  • হোয়াইট হাউসে তাঁর পোষা কুকুর ছিল, বো এবং সানি, যা ছিল পর্তুগিজ ওয়াটার ডগ।

উপসংহার

বারাক ওবামা কেবল একজন প্রেসিডেন্ট ছিলেন না, তিনি ছিলেন আশা, পরিবর্তন এবং অগ্রগতির এক জীবন্ত প্রতীক। তাঁর আট বছরের প্রেসিডেন্সি এমন এক সময়ে এসেছিল যখন যুক্তরাষ্ট্রকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রে অসংখ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছিল। অর্থনৈতিক মন্দা থেকে শুরু করে দুটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং স্বাস্থ্যসেবা সংকট – প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়েছেন। প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর নির্বাচন ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যা জাতিগত বিভেদ ঘুচিয়ে এক নতুন ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিয়েছিল। ক্ষমতা ছাড়ার পরও বারাক ওবামা বিশ্বজুড়ে একজন প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে রয়ে গেছেন, যা গণতন্ত্র, সুশাসন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে কথা বলে। তাঁর উত্তরাধিকার কেবল নীতিগত সিদ্ধান্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তিনি অসংখ্য মানুষকে স্বপ্ন দেখতে এবং উন্নত বিশ্বের জন্য কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেছেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন: বারাক ওবামা কে ছিলেন?

উত্তর: বারাক হুসেইন ওবামা দ্বিতীয় ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪তম প্রেসিডেন্ট, যিনি ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান প্রেসিডেন্ট এবং একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ, আইনজীবী ও লেখক।

প্রশ্ন: বারাক ওবামা কবে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন?

উত্তর: বারাক ওবামা ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক কূটনীতি জোরদার এবং জনগণের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রচেষ্টার জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। এটি তার প্রথম প্রেসিডেন্ট মেয়াদের শুরুতেই তাকে সম্মানিত করে।

প্রশ্ন: ওবামাকেয়ার কী?

উত্তর: ওবামাকেয়ার, বা অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট, বারাক ওবামার স্বাক্ষর করা একটি যুগান্তকারী স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার আইন যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ লক্ষ নাগরিকের জন্য স্বাস্থ্য বীমা সহজলভ্য করার লক্ষ্য নিয়েছিল। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার প্রসার ও খরচ কমানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।

প্রশ্ন: বারাক ওবামা কত বছর প্রেসিডেন্ট ছিলেন?

উত্তর: বারাক ওবামা দুই মেয়াদে মোট আট বছর (২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০১২ সালে পুনর্নির্বাচিত হন।

প্রশ্ন: বারাক ওবামার স্ত্রী ও সন্তানদের নাম কী?

উত্তর: বারাক ওবামার স্ত্রীর নাম মিশেল ওবামা। তাঁদের দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে, যাদের নাম মালিয়া অ্যান ওবামা এবং নাতাশা ওবামা (যিনি সাশা নামে পরিচিত)।

প্রশ্ন: ওবামা প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে কী করতেন?

উত্তর: প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে বারাক ওবামা একজন কমিউনিটি অর্গানাইজার, নাগরিক অধিকার আইনজীবী এবং শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় ল-স্কুলে সাংবিধানিক আইনের অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি ইলিনয় স্টেট সিনেটর এবং পরে মার্কিন সিনেটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

প্রশ্ন: বারাক ওবামার উল্লেখযোগ্য বই কি কি?

উত্তর: বারাক ওবামার উল্লেখযোগ্য বইগুলির মধ্যে রয়েছে তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ "ড্রিমস ফ্রম মাই ফাদার: এ স্টোরি অফ রেস অ্যান্ড ইনহেরিটেন্স", "দ্য অডাসিটি অফ হোপ: থটস অন রিক্লেইমিং দ্য আমেরিকান ড্রিম" এবং তাঁর প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন স্মৃতিকথা "এ প্রমিজড ল্যান্ড"।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Bottom Ad [Post Page]