Full width home advertisement

Featured Actors

Popular Biographies

Post Page Advertisement [Top]

শ্রেয়া ঘোষাল: ভারতীয় সঙ্গীতের এক অসাধারণ কণ্ঠস্বর

ভারতীয় সঙ্গীত জগতের এক উজ্জ্বলতম নক্ষত্র শ্রেয়া ঘোষাল, যিনি তার মোহময়ী কণ্ঠস্বর আর অসাধারণ গায়কী দিয়ে কোটি কোটি শ্রোতার হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে নিয়েছেন। তার কণ্ঠের মাধুর্য, সুরের গভীরতা এবং বৈচিত্র্যময় পরিবেশনার ক্ষমতা তাকে সমসাময়িক ভারতীয় সঙ্গীতের অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। হিন্দি, বাংলা, তামিল, তেলুগু, মালয়ালম, কন্নড় সহ প্রায় ২০টিরও বেশি ভাষায় গান গেয়ে তিনি তার বহুমুখী প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশে তার বাংলা গানগুলো অসম্ভব জনপ্রিয়তা লাভ করেছে, যা তাকে দুই বাংলার এক প্রিয় শিল্পী হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে। অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত শ্রেয়া ঘোষাল কেবল একজন গায়িকাই নন, তিনি সঙ্গীতের এক জীবন্ত কিংবদন্তী, যার প্রতিটি গানই যেন এক একটি সুরের গল্প।

Shreya Ghoshal

Photo: Wikimedia Commons
View Source

তথ্যসারণি

তথ্যবিবরণ
নামশ্রেয়া ঘোষাল
পেশাসঙ্গীতশিল্পী, প্লেব্যাক গায়িকা
জন্ম১২ মার্চ, ১৯৮৪
জন্মস্থানবহরমপুর, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
জাতীয়তাভারতীয়
উল্লেখযোগ্য কাজ'দেবদাস' (ডোলা রে ডোলা), 'জিসম' (যাদু হ্যায় নশা হ্যায়), 'গুরু' (বারসো রে), 'জব উই মেট' (ইশক কিউঁ কিয়া), 'পদ্মাবত' (ঘুমর) ইত্যাদি চলচ্চিত্রের গান।
পুরস্কার৫টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ৭টি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার, ১০টি ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডস সাউথ সহ অসংখ্য পুরস্কার।
স্বামীশিলাদিত্য মুখোপাধ্যায়
সন্তানদেবয়ান মুখোপাধ্যায়

পরিচিতি

শ্রেয়া ঘোষাল, ভারতীয় সঙ্গীতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যিনি তার সুরেলা কণ্ঠের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। ১৯৮৪ সালের ১২ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুরে জন্মগ্রহণকারী এই শিল্পী খুব অল্প বয়সেই সঙ্গীতের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা প্রকাশ করেন। তার কণ্ঠের বহুমুখিতা এবং যেকোনো ধরনের গানকে নিজের করে নেওয়ার ক্ষমতা তাকে হিন্দি, বাংলা, তামিল, তেলুগু, মালয়ালম, কন্নড়, মারাঠি সহ বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় একজন সফল প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তার গাওয়া গানগুলো প্রায়শই চার্টবাস্টার হয়েছে এবং তিনি অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন, যা তাকে আধুনিক ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী গায়িকায় পরিণত করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের শ্রোতাদের কাছে তার বাংলা গানগুলো অত্যন্ত জনপ্রিয়।

প্রারম্ভিক জীবন

শ্রেয়া ঘোষালের জন্ম পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুরে হলেও, তার শৈশব কেটেছে রাজস্থানের রাওয়াতভাটা শহরে, যেখানে তার বাবা বিশ্বজিৎ ঘোষাল ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টারে কাজ করতেন। তার মা শর্মিষ্ঠা ঘোষাল একজন সাহিত্যিক এবং তিনি নিজেও একজন দক্ষ গায়িকা ছিলেন। মাত্র চার বছর বয়সেই শ্রেয়া তার মায়ের কাছে সঙ্গীতের প্রাথমিক পাঠ নেওয়া শুরু করেন। এই সময় থেকেই তার পরিবারের সদস্যরা, বিশেষ করে তার মা, তার সঙ্গীত প্রতিভাকে চিনতে পারেন এবং তাকে উৎসাহিত করতে থাকেন। বাবার চাকরির সুবাদে একটি সাংস্কৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা শ্রেয়া খুব অল্প বয়সেই সঙ্গীতের প্রতি এক গভীর অনুরাগ অনুভব করেন। তার বাড়িতে নিয়মিত সঙ্গীতের চর্চা হতো, যা তাকে শৈশব থেকেই সুর ও তালের সঙ্গে পরিচিত করে তোলে।

শিক্ষাজীবন

শ্রেয়া ঘোষাল তার প্রাথমিক শিক্ষা রাওয়াতভাটার অ্যাটমিক এনার্জি এডুকেশন সেন্টার থেকে সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি মুম্বাইয়ে স্থানান্তরিত হন এবং অ্যাটমিক এনার্জি জুনিয়র কলেজে পড়াশোনা করেন। একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি সঙ্গীতের প্রতি তার নিষ্ঠা ছিল প্রশ্নাতীত। মাত্র ছয় বছর বয়স থেকেই তিনি ওস্তাদ নিহাল সিংয়ের কাছে হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করেন। এই শাস্ত্রীয় প্রশিক্ষণ তার কণ্ঠের ভিত্তি তৈরি করে, যা তাকে পরবর্তীতে যেকোনো ধরনের গান, তা আধুনিক পপ হোক বা জটিল শাস্ত্রীয় রাগ, সাবলীলভাবে পরিবেশন করার ক্ষমতা দেয়। পরবর্তীতে তিনি প্রখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ কল্যাণজি ভাইয়ের কাছ থেকেও সঙ্গীত শিক্ষা গ্রহণ করেন, যা তার গায়কী শৈলীতে আরও গভীরতা যোগ করে। তার এই দীর্ঘদিনের কঠোর প্রশিক্ষণই তাকে আজকের এই বহুমুখী শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলেছে।

ক্যারিয়ার

শ্রেয়া ঘোষালের সঙ্গীত ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয় ১৯৯৫ সালে জি টিভির জনপ্রিয় সঙ্গীত প্রতিযোগিতা 'সা রে গা মা পা'তে তার অংশগ্রহণ। কিশোরী শ্রেয়ার অসাধারণ গায়কী বিচারকদের মুগ্ধ করে এবং তিনি বিজয়ী হন। এই প্রতিযোগিতায় তার পারফরম্যান্স পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনসালীর নজরে আসে, যিনি তাকে তার মহাকাব্যিক চলচ্চিত্র 'দেবদাস'-এ প্লেব্যাক করার সুযোগ দেন। ২০০২ সালে 'দেবদাস' মুক্তি পায় এবং শ্রেয়া ঘোষাল 'বৈরি পিয়া', 'ডোলা রে ডোলা', 'সিলসিলা ইয়ে চাহাত কা' এবং 'মোরে পিয়া'র মতো গান গেয়ে রাতারাতি জাতীয় তারকা বনে যান। 'বৈরি পিয়া' গানটির জন্য তিনি তার প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ফিল্মফেয়ার পুরস্কার অর্জন করেন, যা তার ক্যারিয়ারের এক ঐতিহাসিক সূচনা।

এরপর থেকে শ্রেয়া ঘোষাল আর পেছনে ফিরে তাকাননি। তিনি একের পর এক হিট গান উপহার দিয়েছেন, যার মধ্যে 'জিসম' চলচ্চিত্রের 'যাদু হ্যায় নশা হ্যায়', 'গুরু' চলচ্চিত্রের 'বারসো রে', 'জব উই মেট' চলচ্চিত্রের 'ইশক কিউঁ কিয়া', 'ভুল ভুলাইয়া'র 'মেরে ঢোলনা', 'তেরে নাম' এর 'ওড়নি', 'বাজিরাও মাস্তানি'র 'দিওয়ানি মাস্তানি' এবং 'পদ্মাবত' চলচ্চিত্রের 'ঘুমর' বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তার কণ্ঠের মাধুর্য, আবেগপূর্ণ পরিবেশনা এবং সুরের প্রতি তার গভীর উপলব্ধি তাকে প্রতিটি গানে এক অনন্য মাত্রা যোগ করতে সাহায্য করে।

শ্রেয়া ঘোষাল শুধু হিন্দি চলচ্চিত্রেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। বাংলা সঙ্গীত জগতেও তার অবদান অপরিসীম। 'একলা চলো রে', 'যাও পাখি বলো তারে', 'ভালবাসি তোমায়', 'বোঝেনা সে বোঝেনা' এবং 'তুমি রবে নীরবে'র মতো অসংখ্য বাংলা গান গেয়ে তিনি বাংলাদেশের শ্রোতাদের কাছে এক বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন। তিনি নিয়মিতভাবে বাংলা চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেন এবং বিভিন্ন বাংলা সঙ্গীতানুষ্ঠানে অংশ নেন। তার গান শুধু ভারত বা বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী ভারতীয় ও বাঙালি প্রবাসীদের কাছেও অত্যন্ত প্রিয়। তিনি বিশ্বজুড়ে অসংখ্য লাইভ কনসার্টে অংশ নিয়েছেন, যেখানে তার পরিবেশনা শ্রোতাদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে। তার দীর্ঘ এবং সফল ক্যারিয়ার প্রমাণ করে যে তিনি কেবল একজন গায়িকাই নন, তিনি সঙ্গীতের এক সত্যিকারের শিল্পী, যিনি তার কণ্ঠের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন।

উল্লেখযোগ্য অর্জন

শ্রেয়া ঘোষাল তার বর্ণাঢ্য সঙ্গীত জীবনে অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন, যা তার ব্যতিক্রমী প্রতিভার প্রমাণ। তার উল্লেখযোগ্য অর্জনের মধ্যে রয়েছে:

  • জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার: তিনি মোট ৫টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছেন। এর মধ্যে 'দেবদাস' (বৈরি পিয়া), 'জিসম' (যাদু হ্যায় নশা হ্যায়), 'গুরু' (বারসো রে), 'জব উই মেট' (ইশক কিউঁ কিয়া) এবং 'পদ্মাবত' (ঘুমর) এর মতো চলচ্চিত্রের গানের জন্য তিনি এই সম্মাননা লাভ করেন। এই পুরস্কারগুলি ভারতীয় চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ সম্মাননাগুলির মধ্যে অন্যতম।
  • ফিল্মফেয়ার পুরস্কার: তিনি মোট ৭টি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পেয়েছেন। এর মধ্যে ৪টি সেরা মহিলা প্লেব্যাক গায়িকার জন্য এবং ৩টি ফিল্মফেয়ার আর.ডি. বর্মণ নিউ মিউজিক ট্যালেন্ট অ্যাওয়ার্ড। 'ডোলা রে ডোলা' (দেবদাস) এবং 'তেরে নাম' (তেরে নাম) এর মতো গান তাকে এই পুরস্কার এনে দিয়েছে।
  • ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডস সাউথ: দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে তার অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি ১০টি ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডস সাউথ জিতেছেন, যা বিভিন্ন দক্ষিণ ভারতীয় ভাষায় তার জনপ্রিয়তার প্রমাণ।
  • কেরালা স্টেট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস: ৪টি পুরস্কার।
  • তামিলনাড়ু স্টেট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস: ২টি পুরস্কার।
  • আইফা অ্যাওয়ার্ডস (IIFA Awards): তিনি মোট ১০টি আইফা পুরস্কার জিতেছেন, যা আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার স্বীকৃতি তুলে ধরে।
  • জি সিনে অ্যাওয়ার্ডস (Zee Cine Awards): ৬টি পুরস্কার।

এছাড়াও, তিনি অসংখ্য অন্যান্য পুরস্কার এবং সম্মাননা লাভ করেছেন, যার মধ্যে স্টারডাস্ট অ্যাওয়ার্ডস, অপ্সরা অ্যাওয়ার্ডস, গ্লোবাল ইন্ডিয়ান মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস (GIMA) এবং মির্চি মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস উল্লেখযোগ্য। এই পুরস্কারগুলি কেবল তার গানের গুণগত মানই নয়, বরং সঙ্গীত শিল্পে তার সামগ্রিক প্রভাব এবং অবদানকেও তুলে ধরে।

ব্যক্তিগত জীবন

শ্রেয়া ঘোষাল তার পেশাগত জীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনকেও অত্যন্ত সুন্দরভাবে সামলে চলেছেন। ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তিনি তার দীর্ঘদিনের প্রেমিক এবং শৈশবের বন্ধু শিলাদিত্য মুখোপাধ্যায়ের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। শিলাদিত্য একজন সফল সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এবং তাদের সম্পর্ক বহু বছরের পুরনো। তাদের বিবাহ অনুষ্ঠান ছিল অত্যন্ত ব্যক্তিগত এবং বাঙালি রীতি অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছিল, যেখানে শুধুমাত্র ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ২০২১ সালের ২২ মে এই দম্পতি তাদের প্রথম সন্তান, দেবয়ান মুখোপাধ্যায়কে স্বাগত জানান। শ্রেয়া প্রায়শই তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত জীবনের ঝলক, তার পরিবারের সাথে কাটানো সুন্দর মুহূর্তের ছবি এবং ভিডিও শেয়ার করেন। তিনি তার পরিবারকে তার সাফল্যের অন্যতম স্তম্ভ এবং অনুপ্রেরণার উৎস মনে করেন। কর্মজীবনের ব্যস্ততার মাঝেও তিনি তার পরিবারকে যথেষ্ট সময় দেন এবং একজন মা ও স্ত্রী হিসেবেও তিনি তার দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করেন।

মজার তথ্য

  • শ্রেয়া ঘোষাল মাত্র চার বছর বয়সে গান গাওয়া শুরু করেন এবং ছয় বছর বয়স থেকেই হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করেন।
  • তিনি প্রথমবার জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করেন যখন তিনি মাত্র ১৬ বছর বয়সে 'সা রে গা মা পা' প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন এবং বিজয়ী হন।
  • 'দেবদাস' চলচ্চিত্রে তার ডেবিউ হয় যখন তিনি মাত্র ১৮ বছর বয়সী ছিলেন। পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনসালী তাকে এই প্রতিযোগিতায় দেখে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে তিনি তাকে তার এই বিশাল প্রকল্পে সুযোগ দেন।
  • শ্রেয়া ঘোষাল একজন দক্ষ পিয়ানোবাদকও, যা তার সঙ্গীতজ্ঞানের গভীরতা প্রমাণ করে।
  • তিনি কেবল গানই গান না, বিভিন্ন জনপ্রিয় রিয়েলিটি শোতে বিচারক হিসেবেও কাজ করেছেন, যেমন 'ইন্ডিয়ান আইডল জুনিয়র' এবং 'ভয়েস অফ ইন্ডিয়া', যেখানে তিনি নতুন প্রতিভাদের উৎসাহিত করেন এবং তাদের সঠিক পথ দেখান।
  • তার নামে একটি মোমবাতির মূর্তি রয়েছে দিল্লির মাদাম তুসো জাদুঘরে, যা তার আন্তর্জাতিক জনপ্রিয়তা এবং ভারতীয় সঙ্গীত শিল্পে তার অসামান্য অবদানের এক স্বীকৃতি।
  • শ্রেয়া তার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল পরিচালনা করেন, যেখানে তিনি তার ভক্তদের জন্য নতুন গান, কভার এবং ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও শেয়ার করেন, যার মাধ্যমে তিনি তার ভক্তদের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকেন।
  • তিনি তার গানে বিভিন্ন আঞ্চলিক উপভাষা এবং উচ্চারণকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য পরিচিত, যা তার বহুমুখী প্রতিভার আরেকটি দিক।

উপসংহার

শ্রেয়া ঘোষাল ভারতীয় সঙ্গীত শিল্পের এক জীবন্ত কিংবদন্তী, যার কণ্ঠের জাদু, বহুমুখী প্রতিভা এবং নিরন্তর সৃজনশীলতা তাকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শ্রোতাদের হৃদয়ে অমর করে রাখবে। তিনি কেবল একজন গায়িকাই নন, তিনি লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা। তার সঙ্গীতময় যাত্রা নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যেখানে কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা এবং প্রতিভার সমন্বয় কিভাবে একজন শিল্পীকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিতে পারে তা দেখানো হয়েছে। তার গানগুলো শুধু বিনোদনই দেয় না, বরং শ্রোতাদের মনে গভীর আবেগ এবং প্রভাব ফেলে। প্রতিটি গানে তিনি নিজের আত্মার একটি অংশ ঢেলে দেন, যা তার পরিবেশনাকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। ভবিষ্যতে তিনি আরও অনেক কালজয়ী গান উপহার দেবেন, এই প্রত্যাশা নিয়েই তার সঙ্গীতযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। ভারতীয় সঙ্গীতকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দিতে তার অবদান অনস্বীকার্য এবং তার উত্তরাধিকার চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন: শ্রেয়া ঘোষাল কবে এবং কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?

উত্তর: শ্রেয়া ঘোষাল ১৯৮৪ সালের ১২ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার শৈশবের বেশিরভাগ সময় কেটেছে রাজস্থানের রাওয়াতভাটা শহরে।

প্রশ্ন: শ্রেয়া ঘোষাল কোন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করেন?

উত্তর: ১৯৯৫ সালে তিনি জনপ্রিয় টেলিভিশন সঙ্গীত প্রতিযোগিতা 'সা রে গা মা পা'তে অংশগ্রহণ করেন এবং বিজয়ী হন। এটিই তার সঙ্গীত জীবনের টার্নিং পয়েন্ট ছিল।

প্রশ্ন: শ্রেয়া ঘোষালের বলিউডে অভিষেক হয় কোন চলচ্চিত্রের মাধ্যমে?

উত্তর: ২০০২ সালে সঞ্জয় লীলা বনসালী পরিচালিত 'দেবদাস' চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি বলিউডে প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এই ছবিতে তার গাওয়া গানগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।

প্রশ্ন: শ্রেয়া ঘোষাল কতটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন?

উত্তর: শ্রেয়া ঘোষাল তার সঙ্গীত জীবনে মোট ৫টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছেন, যা ভারতীয় চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত সম্মানজনক অর্জন।

প্রশ্ন: শ্রেয়া ঘোষাল কি শুধু হিন্দি গান গেয়েছেন?

উত্তর: না, শ্রেয়া ঘোষাল হিন্দি ছাড়াও বাংলা, তামিল, তেলুগু, মালয়ালম, কন্নড়, মারাঠি সহ প্রায় ২০টিরও বেশি ভারতীয় ভাষায় গান গেয়েছেন। তার বহুমুখী প্রতিভা তাকে বিভিন্ন ভাষার শ্রোতাদের কাছে প্রিয় করে তুলেছে।

প্রশ্ন: শ্রেয়া ঘোষালের স্বামীর নাম কি এবং তাদের কতজন সন্তান আছে?

উত্তর: শ্রেয়া ঘোষালের স্বামীর নাম শিলাদিত্য মুখোপাধ্যায়। তারা ২০১৫ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং ২০২১ সালে তাদের প্রথম সন্তান দেবয়ান মুখোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করে।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে শ্রেয়া ঘোষালের জনপ্রিয়তা কেমন?

উত্তর: বাংলাদেশে শ্রেয়া ঘোষালের জনপ্রিয়তা অত্যন্ত বেশি। তার বাংলা গানগুলো বাংলাদেশের শ্রোতাদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত এবং তিনি নিয়মিতভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এবং চলচ্চিত্রে গান গেয়ে থাকেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Bottom Ad [Post Page]