তথ্যসারণি
| পূর্ণ নাম | রবিন রিহানা ফেনটি (Robyn Rihanna Fenty) |
|---|---|
| পরিচিত নাম | রিহানা |
| পেশা | গায়িকা, গীতিকার, অভিনেত্রী, ব্যবসায়ী |
| জাতীয়তা | বার্বাডিয়ান |
| জন্মস্থান | সেন্ট মাইকেল, বার্বাডোজ |
| জন্ম তারিখ | ২০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৮ |
| উল্লেখযোগ্য | বিশ্ব পপ ও ফ্যাশন আইকন, সর্বকালের সেরা বিক্রেতা সঙ্গীতশিল্পীদের একজন |
পরিচিতি
রবিন রিহানা ফেনটি, যিনি বিশ্বজুড়ে কেবল রিহানা নামেই পরিচিত, একজন বার্বাডিয়ান সঙ্গীতশিল্পী, গীতিকার, অভিনেত্রী এবং অত্যন্ত সফল ব্যবসায়ী। জনপ্রিয় সংস্কৃতির এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি তার বহুমুখী কর্মজীবন, শৈল্পিক পুনর্গঠন এবং স্বতন্ত্র ফ্যাশন শৈলীর জন্য বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত। তার সঙ্গীত কেবল চার্ট-টপার নয়, বরং সাংস্কৃতিক ধারাকেও প্রভাবিত করেছে। রিহানা তার শক্তিশালী কণ্ঠ এবং উদ্ভাবনী মিউজিক ভিডিওর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি শ্রোতার মন জয় করেছেন।
Photo: Wikimedia Commons
View Source
মাত্র ১৬ বছর বয়সে বার্বাডোজ থেকে আমেরিকায় পাড়ি জমানো এই তরুণীটি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্ব সঙ্গীত অঙ্গনে নিজের এক দৃঢ় অবস্থান তৈরি করে নেন। পপ, আরএন্ডবি, রেগে এবং ডান্সহলের মতো বিভিন্ন ঘরানার সঙ্গীতে তার অনায়াস বিচরণ তাকে একজন বহুমুখী শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সঙ্গীতের পাশাপাশি ফ্যাশন এবং বিউটি শিল্পেও রিহানা তার অসাধারণ ব্যবসায়িক দূরদর্শিতার প্রমাণ দিয়েছেন। 'ফেনটি বিউটি' এবং 'স্যাভেজ এক্স ফেনটি'-এর মতো ব্র্যান্ডগুলোর মাধ্যমে তিনি সৌন্দর্য শিল্পে অন্তর্ভুক্তির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। তার এই উদ্যোগগুলো শুধু অর্থনৈতিক সাফল্যই বয়ে আনেনি, বরং ফ্যাশন ও বিউটি জগতে বৈচিত্র্য এবং প্রতিনিধিত্বের গুরুত্বকেও তুলে ধরেছে। প্রায় ২৫০ মিলিয়নেরও বেশি রেকর্ড বিক্রির মাধ্যমে রিহানা সর্বকালের সেরা বিক্রেতা সঙ্গীতশিল্পীদের একজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার প্রভাব কেবল সঙ্গীত বা ব্যবসার জগতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তিনি একজন আধুনিক আইকন হিসেবে তরুণ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস।
প্রারম্ভিক জীবন
১৯৮৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি বার্বাডোজের সেন্ট মাইকেলে রবিন রিহানা ফেনটি জন্মগ্রহণ করেন। তার মা মনিকা ব্রেথওয়েট একজন হিসাবরক্ষক ছিলেন এবং বাবা রোনাল্ড ফেনটি একটি গুদামের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করতেন। রিহানার শৈশব কেটেছে বার্বাডোজের রাজধানী ব্রিজটাউনে। তার দুই ছোট ভাই রোরি এবং রাজাদ ছাড়াও বাবার দিক থেকে তার আরও তিন সৎ ভাইবোন রয়েছে। রিহানার শৈশব খুব একটা সহজ ছিল না; তার বাবা-মা মাদকাসক্তি এবং আর্থিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছিলেন, যার ফলে তাদের সম্পর্ক প্রায়শই উত্তাল থাকত। শেষ পর্যন্ত, রিহানার বয়স যখন ১৪ বছর, তখন তার বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে।
ছোটবেলা থেকেই রিহানা তার বাবার সাথে রাস্তার পাশে কাপড় বিক্রি করে পরিবারের আর্থিক সংস্থানে সাহায্য করতেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে জীবনের কঠিন বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত করে তোলে। শৈশব থেকেই সঙ্গীতের প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল। তিনি প্রায়শই তার বন্ধুদের সাথে গান গাইতেন এবং স্থানীয় অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতেন। সেন্ট মাইকেলে বেড়ে ওঠার সময়, রিহানা বার্বাডোজের সংস্কৃতি, রেগে এবং ডান্সহলের সুরের সাথে পরিচিত হন, যা পরবর্তীতে তার সঙ্গীত জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। তার সঙ্গীত প্রতিভা প্রথম ধরা পড়ে ২০০৩ সালে, যখন তিনি তার দুই সহপাঠীর সাথে একটি সঙ্গীত দল গঠন করেন এবং আমেরিকান রেকর্ড প্রযোজক ইভান রজার্সের সাথে পরিচিত হন। রজার্স তার কণ্ঠস্বর শুনে মুগ্ধ হন এবং তাকে আমেরিকায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন, যা তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
শিক্ষাজীবন
রিহানা বার্বাডোজের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্কুল কম্বারমিয়ার স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। যদিও তিনি সঙ্গীতকে তার প্রধান আগ্রহ হিসেবে দেখতেন, তবুও তিনি তার শিক্ষাজীবনকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। স্কুলের দিনগুলিতে তিনি একটি সামরিক ক্যাডেট প্রোগ্রামেও অংশ নিয়েছিলেন, যেখানে তিনি শৃঙ্খলা এবং নেতৃত্ব গুণের প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। তার সঙ্গীত জীবনের শুরুটাও এই স্কুলেই। তিনি তার দুই সহপাঠীর সাথে একটি মেয়েদের সঙ্গীত দল গঠন করেন এবং বিভিন্ন স্কুল ফাংশনে পারফর্ম করা শুরু করেন। এই দলটির মাধ্যমেই ২০০৩ সালে তিনি আমেরিকান রেকর্ড প্রযোজক ইভান রজার্সের নজরে আসেন, যিনি বার্বাডোজে ছুটি কাটাতে এসেছিলেন। রজার্স রিহানার অডিশন নিয়ে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে তিনি তাকে তার সঙ্গীত ক্যারিয়ার গড়ে তোলার জন্য আমেরিকায় নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রিহানা তার মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ না করেই সঙ্গীতের স্বপ্ন পূরণের জন্য আমেরিকায় পাড়ি জমান।
ক্যারিয়ার
সঙ্গীত জগতে উত্থান (২০০৫-২০০৬)
২০০৫ সালে রিহানা ডেফ জ্যাম রেকর্ডিংসের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন, যেখানে কিংবদন্তী র্যাপার জে-জেড তখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন। জে-জেড রিহানার প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষর করান। একই বছর তার প্রথম অ্যালবাম Music of the Sun মুক্তি পায়। এই অ্যালবামের প্রধান একক গান "Pon de Replay" আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে এবং বিলবোর্ড হট ১০০ চার্টে দ্বিতীয় স্থানে পৌঁছায়। এই গানটি রিহানাকে রাতারাতি তারকা খ্যাতি এনে দেয়। ২০০৬ সালে তার দ্বিতীয় অ্যালবাম A Girl Like Me মুক্তি পায়, যা আরও বড় বাণিজ্যিক সাফল্য লাভ করে। এই অ্যালবামের "SOS" গানটি বিলবোর্ড হট ১০০ চার্টে তার প্রথম #১ হিট হয়। এছাড়াও, "Unfaithful" এবং "Break It Off" (শন পলের সাথে) এর মতো গানগুলোও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়, যা একজন উদীয়মান তারকা হিসেবে রিহানার অবস্থানকে আরও সুসংহত করে।
বিশ্বব্যাপী তারকা খ্যাতি ও শৈল্পিক পুনর্গঠন (২০০৭-২০১২)
২০০৭ সালে রিহানা তার তৃতীয় অ্যালবাম Good Girl Gone Bad প্রকাশ করেন, যা তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এই অ্যালবামটি তাকে বিশ্বব্যাপী পপ আইকনে পরিণত করে এবং তার সঙ্গীত শৈলীতে এক নতুন মাত্রা যোগ করে। "Umbrella" গানটি (জে-জেডকে নিয়ে) বিশ্বজুড়ে চার্টের শীর্ষে উঠে আসে এবং তাকে একটি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড এনে দেয়। এই অ্যালবামের অন্যান্য হিট গানগুলোর মধ্যে ছিল "Don't Stop the Music", "Disturbia" এবং "Hate That I Love You"। এই সময় থেকে রিহানা তার ইমেজ এবং সঙ্গীত শৈলীতে সাহসী পরিবর্তন আনতে শুরু করেন, যা তাকে একজন ফ্যাশন ও পপ আইকন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
২০০৯ সালে তার চতুর্থ অ্যালবাম Rated R মুক্তি পায়, যা তার ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময়ের প্রতিফলন ছিল। এই অ্যালবামের গানগুলো ছিল আরও গাঢ় এবং আত্মবিশ্লেষণমূলক। এরপর ২০১০ সালে মুক্তি পায় Loud, যা ছিল তার আগের অ্যালবামের চেয়ে অনেক বেশি উজ্জ্বল ও আশাবাদী। "Only Girl (In the World)", "S&M" এবং "What's My Name?" (ড্রেকের সাথে) এর মতো গানগুলো বিশ্বজুড়ে চার্ট শাসন করে। ২০১১ সালে Talk That Talk এবং ২০১২ সালে Unapologetic অ্যালবামগুলো প্রকাশ পায়। Talk That Talk অ্যালবামের "We Found Love" (ক্যালভিন হ্যারিসের সাথে) গানটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সফল গান হয়ে ওঠে। Unapologetic অ্যালবামের "Diamonds" গানটিও ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং এই অ্যালবামটি তাকে সেরা আরএন্ডবি অ্যালবাম বিভাগে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড এনে দেয়।
ব্যবসা উদ্যোগ ও সঙ্গীত থেকে বিরতি (২০১৩-বর্তমান)
২০১৩ সালে রিহানা তার অষ্টম স্টুডিও অ্যালবাম Anti প্রকাশ করেন, যা সমালোচকদের দ্বারা প্রশংসিত হয় এবং বাণিজ্যিক সাফল্য অর্জন করে। এই অ্যালবামের "Work" (ড্রেকের সাথে) গানটি বিলবোর্ড হট ১০০ চার্টে শীর্ষে পৌঁছায়। Anti প্রকাশের পর থেকে রিহানা সঙ্গীত থেকে দীর্ঘ বিরতি নেন এবং তার মনোযোগ ব্যবসা উদ্যোগে সরিয়ে নেন।
২০১৭ সালে তিনি তার নিজস্ব কসমেটিকস ব্র্যান্ড ফেনটি বিউটি (Fenty Beauty) চালু করেন। এই ব্র্যান্ডটি তার অন্তর্ভুক্তিমূলক পণ্য পরিসরের জন্য বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা লাভ করে, বিশেষ করে এর ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন শেডের জন্য যা বিভিন্ন ত্বকের রঙের মানুষের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। ফেনটি বিউটি রাতারাতি সফল হয় এবং রিহানাকে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এর পরপরই, ২০১৮ সালে তিনি তার নিজস্ব অন্তর্বাসের ব্র্যান্ড স্যাভেজ এক্স ফেনটি (Savage X Fenty) চালু করেন, যা ফ্যাশন শিল্পে বৈচিত্র্য এবং অন্তর্ভুক্তির ধারণাকে আরও প্রসারিত করে।
রিহানা একজন অভিনেত্রী হিসেবেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন। তিনি Battleship (২০১২), Ocean's 8 (২০১৮) এবং Valerian and the City of a Thousand Planets (২০১৭) এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। যদিও তিনি সঙ্গীত থেকে দীর্ঘ বিরতিতে আছেন, তবে ২০২৩ সালের সুপার বোল LVII হাফটাইম শোতে তার পারফরম্যান্স বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলেছিল, যা তার মঞ্চে ফেরার ইঙ্গিত দেয়। তার ভক্তরা অধীর আগ্রহে তার নতুন সঙ্গীতের জন্য অপেক্ষা করছেন।
উল্লেখযোগ্য অর্জন
- সঙ্গীতের রেকর্ড: রিহানা সর্বকালের সেরা বিক্রেতা সঙ্গীতশিল্পীদের একজন, যার বিশ্বব্যাপী ২৫০ মিলিয়নেরও বেশি রেকর্ড বিক্রি হয়েছে।
- গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস: তিনি ৯টি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড, ১৩টি আমেরিকান মিউজিক অ্যাওয়ার্ড এবং ১২টি বিলবোর্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ড সহ অসংখ্য পুরস্কার জিতেছেন।
- বিলবোর্ড হট ১০০: তার ১৪টি গান বিলবোর্ড হট ১০০ চার্টের শীর্ষে পৌঁছেছে, যা তাকে এই তালিকায় চতুর্থ সর্বোচ্চ সংখ্যক #১ হিট গানের শিল্পীতে পরিণত করেছে।
- ব্যবসায়িক সাফল্য: তিনি প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী যিনি LVMH-এর অধীনে একটি বিলাসবহুল ফ্যাশন হাউস (Fenty) প্রতিষ্ঠা করেন।
- বিলিয়নিয়ার: সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে তিনি বিশ্বের কনিষ্ঠতম স্ব-নির্মিত নারী বিলিয়নিয়ার। তার ফেনটি বিউটি ব্র্যান্ডের মূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার।
- ফ্যাশন আইকন: তিনি ফ্যাশন জগতে তার সাহসী এবং উদ্ভাবনী শৈলীর জন্য পরিচিত। ২০১৪ সালে তাকে সিএফডিএ (CFDA) ফ্যাশন আইকন অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করা হয়।
- জাতীয় দূত: ২০১৮ সালে তাকে তার জন্মভূমি বার্বাডোজের পূর্ণ ক্ষমতাপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।
ব্যক্তিগত জীবন
রিহানার ব্যক্তিগত জীবন সবসময়ই গণমাধ্যমের আগ্রহের কেন্দ্রে ছিল। তার সবচেয়ে আলোচিত সম্পর্কগুলোর মধ্যে একটি ছিল শিল্পী ক্রিস ব্রাউনের সাথে। ২০০৯ সালে ক্রিস ব্রাউন কর্তৃক শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর এই সম্পর্কটি শেষ হয়, যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এরপর তিনি কানাডিয়ান র্যাপার ড্রেকের সাথে অন-অফ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন, যা তাদের একাধিক সঙ্গীত সহযোগিতায়ও প্রতিফলিত হয়েছে।
২০২০ সাল থেকে রিহানা আমেরিকান র্যাপার এএসএপি রকি (A$AP Rocky) এর সাথে সম্পর্কে রয়েছেন। ২০২২ সালের মে মাসে এই দম্পতির প্রথম পুত্রসন্তান আরজেডএ এথেলস্টন মেয়ার্স (RZA Athelston Mayers) জন্মগ্রহণ করে। ২০২৩ সালের আগস্টে তারা তাদের দ্বিতীয় পুত্রসন্তান রায়ট রোজ মেয়ার্সকে (Riot Rose Mayers) স্বাগত জানান। মা হিসেবে রিহানা তার নতুন ভূমিকাকে দারুণভাবে উপভোগ করছেন এবং তার পরিবারকে নিয়ে সুখী জীবন কাটাচ্ছেন।
সঙ্গীত ও ব্যবসার বাইরে রিহানা একজন সক্রিয় সমাজসেবক। ২০০৬ সালে তিনি ক্লারা লিওনেল ফাউন্ডেশন (Clara Lionel Foundation) প্রতিষ্ঠা করেন, যা তার দাদা-দাদির নামে নামকরণ করা হয়েছে। এই ফাউন্ডেশন বিশ্বব্যাপী শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া কর্মসূচিতে সহায়তা প্রদান করে। তার মানবিক কাজের জন্য তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন।
মজার তথ্য
- রিহানার পূর্ণ নাম রবিন রিহানা ফেনটি। তিনি তার মধ্যনাম 'রিহানা' ব্যবহার করে পরিচিতি লাভ করেছেন।
- ছোটবেলায় তিনি বার্বাডোজের একটি সামরিক ক্যাডেট প্রোগ্রামের অংশ ছিলেন।
- তার প্রথম হিট গান "Pon de Replay" মূলত অন্য একজন শিল্পীর জন্য লেখা হয়েছিল, কিন্তু রিহানা অডিশনে গানটি গেয়ে প্রযোজকদের মুগ্ধ করেন।
- রিহানা তার পা এক মিলিয়ন ডলারের জন্য বীমা করিয়েছিলেন।
- তার শরীরে অসংখ্য ট্যাটু রয়েছে, যার মধ্যে একটি মিসরীয় দেবী আইসিসের ট্যাটু বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- তিনি একজন স্বঘোষিত রিয়েলিটি টিভি শো ভক্ত।
উপসংহার
বার্বাডোজের এক সাধারণ মেয়ে থেকে বিশ্ব পপ ও ফ্যাশন আইকনে পরিণত হওয়া রিহানার জীবন যেন এক অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা। তার সঙ্গীত ক্যারিয়ার, যা অসংখ্য চার্ট-টপার এবং গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডে সমৃদ্ধ, তাকে সর্বকালের সেরা সঙ্গীতশিল্পীদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তবে তার প্রভাব কেবল সঙ্গীতের জগতেই সীমাবদ্ধ নয়। ফেনটি বিউটি এবং স্যাভেজ এক্স ফেনটির মতো ব্র্যান্ডগুলোর মাধ্যমে তিনি সৌন্দর্য ও ফ্যাশন শিল্পে অন্তর্ভুক্তির এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছেন, যা তাকে একজন দূরদর্শী ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিতি দিয়েছে।
রিহানা কেবল একজন শিল্পী নন, তিনি একজন সংস্কৃতি নির্মাতা, একজন ফ্যাশন অগ্রদূত এবং একজন সমাজসেবক। তার সাহসী শৈলী, অকপট ব্যক্তিত্ব এবং নিরলস উদ্ভাবনী ক্ষমতা তাকে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের কাছে এক আইকনে পরিণত করেছে। সঙ্গীত থেকে সাময়িক বিরতি নিলেও, তার প্রভাব আজও অটুট। রিহানা প্রমাণ করেছেন যে কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং নিজস্বতাকে আঁকড়ে ধরে থাকলে যেকোনো স্বপ্নই অর্জন করা সম্ভব। তার উত্তরাধিকার কেবল তার গানের মধ্যে নয়, বরং তার প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড এবং তিনি যে সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছেন তার মধ্যেও চিরকাল বেঁচে থাকবে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন: রিহানার পূর্ণ নাম কী?
উত্তর: রিহানার পূর্ণ নাম হলো রবিন রিহানা ফেনটি (Robyn Rihanna Fenty)। তিনি তার মধ্যনাম 'রিহানা' ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করেছেন।
প্রশ্ন: রিহানা কোন দেশের নাগরিক?
উত্তর: রিহানা বার্বাডোজের নাগরিক। তিনি তার জন্মভূমি বার্বাডোজের একজন সম্মানিত রাষ্ট্রদূতও বটে।
প্রশ্ন: রিহানার সবচেয়ে জনপ্রিয় গান কোনটি?
উত্তর: রিহানার অনেক জনপ্রিয় গান রয়েছে, তবে "Umbrella", "Diamonds", "We Found Love" এবং "Work" তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সফল এবং বিশ্বব্যাপী পরিচিত গানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
প্রশ্ন: রিহানার ব্যবসায়িক উদ্যোগগুলো কী কী?
উত্তর: রিহানা মূলত দুটি সফল ব্যবসায়িক উদ্যোগের জন্য পরিচিত: কসমেটিকস ব্র্যান্ড 'ফেনটি বিউটি' (Fenty Beauty) এবং অন্তর্বাসের ব্র্যান্ড 'স্যাভেজ এক্স ফেনটি' (Savage X Fenty)।
প্রশ্ন: রিহানার কতগুলো গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড আছে?
উত্তর: রিহানা তার সঙ্গীত ক্যারিয়ারে এ পর্যন্ত ৯টি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন, যা তাকে অন্যতম সম্মানিত শিল্পীতে পরিণত করেছে।
প্রশ্ন: রিহানার স্বামী কে?
উত্তর: রিহানা এখনো বিবাহ করেননি, তবে তিনি আমেরিকান র্যাপার এএসএপি রকি (A$AP Rocky) এর সাথে সম্পর্কে রয়েছেন এবং তাদের দুটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
প্রশ্ন: রিহানা কি এখনও গান করছেন?
উত্তর: রিহানা বর্তমানে সঙ্গীত থেকে দীর্ঘ বিরতিতে আছেন এবং তার ব্যবসায়িক উদ্যোগ ও পারিবারিক জীবনে মনোযোগ দিচ্ছেন। তবে ২০২৩ সালের সুপার বোল হাফটাইম শোতে তার পারফরম্যান্স ভক্তদের মধ্যে নতুন সঙ্গীতের প্রত্যাশা জাগিয়েছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন