Full width home advertisement

Featured Actors

Popular Biographies

Post Page Advertisement [Top]

পূর্ণ নামহোসেন মুহাম্মদ এরশাদ
জন্ম১ ফেব্রুয়ারি ১৯৩০
মৃত্যু১৪ জুলাই ২০১৯
পেশারাজনীতিবিদ, সামরিক কর্মকর্তা
জাতীয়তাবাংলাদেশী
স্ত্রীরওশন এরশাদ, বিদিশা এরশাদ
সন্তানসাদ এরশাদ, জেবিন এরশাদ, এরিক এরশাদ
রাজনৈতিক দলজাতীয় পার্টি (প্রতিষ্ঠাতা)
পরিচিতিবাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা

পরিচিতি

হোসেন মুহাম্মদ এরশাদ (১ ফেব্রুয়ারি ১৯৩০ – ১৪ জুলাই ২০১৯) ছিলেন বাংলাদেশের একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী সামরিক শাসক এবং পরবর্তীতে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি। তিনি ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন। তার দীর্ঘ সামরিক জীবন তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধানের পদে নিয়ে আসে এবং পরবর্তীতে তিনি রাজনীতির ময়দানে প্রবেশ করে জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। এরশাদের শাসনকাল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত, যেখানে তিনি প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নের জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন। একই সাথে, তার ক্ষমতা গ্রহণ এবং শাসন পদ্ধতি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনাও ছিল। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার দীর্ঘ উপস্থিতি, উত্থান-পতন এবং শেষ জীবন পর্যন্ত সক্রিয়তা তাকে এক অনন্য চরিত্রে পরিণত করেছে।

Hussain Muhammad Ershad

Photo: Wikimedia Commons
View Source

প্রারম্ভিক জীবন

হোসেন মুহাম্মদ এরশাদ ১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত ভারতের কোচবিহার জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস ছিল বাংলাদেশের রংপুর জেলার দিনহাটা গ্রামে। তার পিতা মকবুল হোসেন এবং মাতা মজিদা খাতুন। শৈশবে তিনি কোচবিহারেই তার প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন এবং একটি সুশৃঙ্খল পারিবারিক পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর তার পরিবার তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) চলে আসে এবং রংপুরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। এই স্থানান্তরের অভিজ্ঞতা তার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল এবং তাকে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে শিখিয়েছিল। তার পারিবারিক পটভূমি তাকে প্রথাগত শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি সামরিক জীবনের প্রতি আকৃষ্ট করে তোলে, যা তার ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি স্থাপন করে।

শিক্ষাজীবন

প্রাথমিক শিক্ষা কোচবিহারে শেষ করার পর, হোসেন মুহাম্মদ এরশাদ রংপুরের কারমাইকেল কলেজে অধ্যয়ন করেন, যা ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তিনি ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। শিক্ষাজীবন শেষ করার পরপরই তিনি সামরিক বাহিনীতে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন, যা তার জীবনের গতিপথ পুরোপুরি বদলে দেয়। সামরিক প্রশিক্ষণে তিনি নিজেকে একজন দক্ষ ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কর্মকর্তা হিসেবে প্রমাণ করেন। এই প্রশিক্ষণ তাকে কঠোর শৃঙ্খলা, কৌশলগত চিন্তাভাবনা এবং নেতৃত্বের গুণাবলী অর্জনে সহায়তা করে, যা পরবর্তীতে তার সামরিক ও রাজনৈতিক উভয় জীবনেই অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছিল।

ক্যারিয়ার

সামরিক ক্যারিয়ার

হোসেন মুহাম্মদ এরশাদ ১৯৫২ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন এবং একজন তরুণ কর্মকর্তা হিসেবে তার সামরিক জীবন শুরু করেন। তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড ও স্টাফ পদে দায়িত্ব পালন করেন এবং তার দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণে দ্রুত পদোন্নতি লাভ করেন। তার সামরিক প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে তিনি ভারত, পাকিস্তান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক প্রতিষ্ঠানে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি পশ্চিম পাকিস্তানে কর্মরত ছিলেন। যুদ্ধ শেষে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। নবগঠিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে তিনি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় তিনি সেনাবাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং এর পেশাদারিত্ব বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৮ সালে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব আর্মি স্টাফ হিসেবে নিযুক্ত হন। এই পদে থাকাকালীন তিনি সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণ এবং এর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ মনোযোগ দেন, যা তাকে সামরিক বাহিনীর মধ্যে এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত করে।

রাজনৈতিক ক্যারিয়ার

ক্ষমতা গ্রহণ ও রাষ্ট্রপতি পদ

১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করে হোসেন মুহাম্মদ এরশাদ সামরিক আইন জারি করেন এবং প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। এই ক্ষমতা গ্রহণ ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিতর্কিত অধ্যায়। সামরিক শাসন জারি করার পর তিনি বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। ১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর তিনি নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন এবং সামরিক শাসন প্রত্যাহার করে একটি বেসামরিক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেন। তার শাসনামলে তিনি দেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় উপজেলা পদ্ধতির প্রবর্তন, যা প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের এক সাহসী ও কার্যকর পদক্ষেপ ছিল। এর মাধ্যমে ক্ষমতা ও উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুকে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি অর্থনীতিতে উদারীকরণ নীতি গ্রহণ করেন এবং বেসরকারীকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নে গতি আনার চেষ্টা করেন।

জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা ও নির্বাচন

ক্ষমতা গ্রহণের পর এরশাদ একটি বেসামরিক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেন এবং ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। একই বছর তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে নির্বাচিত হন। তার এই নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী দলগুলো ব্যাপক সমালোচনা করে এবং নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলে। এরশাদের শাসনামলে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে তার সরকার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে, যা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে তার শাসনকাল সামরিক শাসন থেকে গণতন্ত্রে উত্তরণের প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কিত ছিল এবং বিরোধী দলগুলো তার সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন এবং পেশাজীবী সংগঠনের সম্মিলিত আন্দোলনের মুখে তার সরকার ব্যাপক চাপের সম্মুখীন হয়।

ক্ষমতাচ্যুতি ও পরবর্তী জীবন

১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর গণআন্দোলনের মুখে হোসেন মুহাম্মদ এরশাদ ক্ষমতা থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপর তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর কারাভোগ করতে হয়। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়। কারাবন্দী থাকা অবস্থাতেই তিনি ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করেন, যা তার রাজনৈতিক প্রভাব এবং জনসমর্থনের একটি প্রমাণ। ১৯৯৬ সালে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন এবং এরপর থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে থাকেন। তিনি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে দলের নেতৃত্ব দেন এবং বিভিন্ন সময়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার দল কখনো ক্ষমতাসীন জোটের অংশীদার, আবার কখনো বিরোধী দলে থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিল। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তার দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের অংশীদার হয় এবং তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই তিনি ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটায়।

উল্লেখযোগ্য অর্জন

  • উপজেলা পদ্ধতির প্রবর্তন: হোসেন মুহাম্মদ এরশাদের শাসনামলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জনগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে উপজেলা ব্যবস্থার প্রবর্তন। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসন ও উন্নয়নের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, যা তৃণমূলের মানুষের কাছে সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে সহায়ক হয়।
  • অর্থনৈতিক সংস্কার ও উন্নয়ন: তিনি মুক্তবাজার অর্থনীতি এবং বেসরকারীকরণ নীতি গ্রহণ করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গতি আনার চেষ্টা করেন। তার সময়ে অনেক রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান বেসরকারীকরণ করা হয় এবং বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
  • অবকাঠামোগত উন্নয়ন: সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হাসপাতাল এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়নে তার সরকার ব্যাপক বিনিয়োগ করে। এর ফলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হয় এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
  • ধর্মীয় ও সামাজিক নীতি: এরশাদ সরকার ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষণা করে এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচী গ্রহণ করে। তিনি ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন।
  • আন্তর্জাতিক সম্পর্ক: জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন (NAM), ইসলামী সম্মেলন সংস্থা (OIC) এবং সার্ক (SAARC) সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সচেষ্ট ছিলেন। তার সময়ে বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক জোরদার করে।

ব্যক্তিগত জীবন

হোসেন মুহাম্মদ এরশাদ তার ব্যক্তিগত জীবনে দুইবার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তার প্রথম স্ত্রী ছিলেন রওশন এরশাদ, যিনি পরবর্তীতে জাতীয় পার্টির একজন গুরুত্বপূর্ণ নেত্রী এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রওশন এরশাদের সাথে তার এক পুত্র সন্তান রয়েছে, যার নাম সাদ এরশাদ। তাদের দাম্পত্য জীবন দীর্ঘস্থায়ী ছিল এবং রওশন এরশাদ সবসময় তার রাজনৈতিক জীবনে পাশে ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বিদিশা এরশাদকে বিয়ে করেন এবং তাদের এক পুত্র সন্তান এরিক এরশাদ। এরশাদের ব্যক্তিগত জীবন, বিশেষ করে তার দ্বিতীয় বিবাহ এবং বিবাহবিচ্ছেদকে কেন্দ্র করে প্রায়শই গণমাধ্যমের শিরোনামে এসেছে এবং জনমনে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। তার মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি ও উত্তরাধিকার নিয়েও বিভিন্ন আইনি জটিলতা দেখা দেয়, যা তার পারিবারিক জীবনের একটি আলোচিত দিক ছিল।

মজার তথ্য

  • হোসেন মুহাম্মদ এরশাদ একজন সুবক্তা এবং কবি হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। তার লেখা বেশ কিছু কবিতা ও বই প্রকাশিত হয়েছে, যা তার সাহিত্যিক প্রতিভার পরিচয় বহন করে।
  • তিনি গান শুনতে এবং ছবি আঁকতে পছন্দ করতেন। তার বাসভবনে তার আঁকা কিছু ছবিও ছিল, যা তার শিল্পানুরাগের প্রমাণ।
  • তার শাসনামলে তিনি প্রায়শই বিভিন্ন জনসভায় কবিতা আবৃত্তি করতেন, যা তাকে 'কবি রাষ্ট্রপতি' হিসেবে পরিচিতি দিয়েছিল এবং জনগণের কাছে তার একটি ভিন্ন ভাবমূর্তি তৈরি করেছিল।
  • তিনি তার সামরিক পোশাকের প্রতি বিশেষ দুর্বলতা রাখতেন এবং প্রায়শই জনসম্মুখে সামরিক পোশাকে উপস্থিত হতেন, যা তার সামরিক পটভূমি এবং শৃঙ্খলাপরায়ণ ব্যক্তিত্বের প্রতীক ছিল।
  • এরশাদ ছিলেন একজন ক্রীড়ানুরাগী। তিনি খেলাধুলাকে উৎসাহিত করতেন এবং বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে পৃষ্ঠপোষকতা করতেন।

উপসংহার

হোসেন মুহাম্মদ এরশাদ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিতর্কিত অথচ অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। সামরিক শাসক হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করলেও তিনি পরবর্তীতে একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন এবং নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেশ পরিচালনা করেন। তার শাসনামলে গৃহীত প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, বিশেষ করে উপজেলা পদ্ধতি প্রবর্তন, এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নমূলক কাজগুলি দেশের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তবে তার ক্ষমতা গ্রহণ পদ্ধতি এবং গণতন্ত্রের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সমালোচনাও কম ছিল না। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার দীর্ঘ উপস্থিতি, সামরিক পটভূমি এবং রাজনৈতিক উত্থান-পতন তাকে এক জটিল এবং বহুমুখী চরিত্রে পরিণত করেছে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং তার প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টি আজও বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে বিদ্যমান। তার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটায়, কিন্তু তার রেখে যাওয়া রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং তার কর্মের প্রভাব বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে অনস্বীকার্য।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন: হোসেন মুহাম্মদ এরশাদ কে ছিলেন?

উত্তর: হোসেন মুহাম্মদ এরশাদ ছিলেন বাংলাদেশের একজন সামরিক শাসক ও পরবর্তীতে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি। তিনি ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন এবং জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে সুপরিচিত।

প্রশ্ন: হোসেন মুহাম্মদ এরশাদ কখন ক্ষমতা গ্রহণ করেন?

উত্তর: হোসেন মুহাম্মদ এরশাদ ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ একটি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালে তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন।

প্রশ্ন: এরশাদের শাসনামলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অর্জন কী?

উত্তর: তার শাসনামলের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অর্জন ছিল প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে উপজেলা ব্যবস্থার প্রবর্তন। এটি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে এবং তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন পৌঁছে দিতে সহায়ক হয়।

প্রশ্ন: জাতীয় পার্টি কে প্রতিষ্ঠা করেন?

উত্তর: জাতীয় পার্টি ১৯৮৬ সালে হোসেন মুহাম্মদ এরশাদ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত এবং এরশাদের রাজনৈতিক আদর্শ বহন করে।

প্রশ্ন: হোসেন মুহাম্মদ এরশাদ কখন মারা যান?

উত্তর: হোসেন মুহাম্মদ এরশাদ ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন।

প্রশ্ন: এরশাদের স্ত্রীর নাম কী?

উত্তর: হোসেন মুহাম্মদ এরশাদের প্রথম স্ত্রী ছিলেন রওশন এরশাদ এবং দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন বিদিশা এরশাদ। রওশন এরশাদ জাতীয় পার্টির একজন সিনিয়র নেত্রী।

প্রশ্ন: এরশাদের সন্তানদের নাম কী?

উত্তর: হোসেন মুহাম্মদ এরশাদের পুত্র সন্তানরা হলেন সাদ এরশাদ (রওশন এরশাদের পুত্র) এবং এরিক এরশাদ (বিদিশা এরশাদের পুত্র)। তার এক কন্যা সন্তানও রয়েছে, জেবিন এরশাদ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Bottom Ad [Post Page]