Full width home advertisement

Featured Actors

Popular Biographies

Post Page Advertisement [Top]

তথ্যসারণি
পূর্ণ নাম ডোনাল্ড জন ট্রাম্প
জন্ম ১৪ জুন, ১৯৪৬
জন্মস্থান কুইন্স, নিউইয়র্ক সিটি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
জাতীয়তা মার্কিন
পেশা রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব
রাজনৈতিক দল রিপাবলিকান পার্টি
স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প (বর্তমান)
সন্তান ৫ জন
উল্লেখযোগ্য পদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম ও ৪৭তম প্রেসিডেন্ট

পরিচিতি

ডোনাল্ড জন ট্রাম্প একজন প্রভাবশালী মার্কিন রাজনীতিবিদ, সফল ব্যবসায়ী এবং পরিচিত মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, যিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়লাভ করে ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। নিউইয়র্কের একজন রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার হিসেবে তার কর্মজীবনের শুরু হয়, যেখানে তিনি তার পিতার ব্যবসা সম্প্রসারণ করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন। তার ক্যারিশম্যাটিক এবং প্রায়শই বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব তাকে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি এনে দিয়েছে। রাজনীতিতে প্রবেশের আগে তিনি টেলিভিশন তারকা হিসেবেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে উত্থান এবং পরবর্তীতে জয়লাভ আধুনিক মার্কিন রাজনীতির এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। তার প্রশাসন কর সংস্কার, বিচারিক নিয়োগ এবং অভিবাসন নীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন এনেছে।

Donald Trump

Photo: Wikimedia Commons
View Source

প্রারম্ভিক জীবন

ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৯৪৬ সালের ১৪ জুন নিউইয়র্কের কুইন্স বরোর জ্যামাইকা হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ফ্রেড ট্রাম্প ছিলেন একজন সফল রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার এবং মা মেরি অ্যান ম্যাকলিওড ছিলেন স্কটল্যান্ডের অভিবাসী। ডোনাল্ড তার বাবা-মায়ের পাঁচ সন্তানের মধ্যে চতুর্থ। ছোটবেলা থেকেই তিনি তার বাবার ব্যবসায়িক উদ্যোগের সাথে পরিচিত হন এবং রিয়েল এস্টেট জগতে তার আগ্রহ জন্মে। তার বাবা তাকে কঠোর পরিশ্রম এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপনের শিক্ষা দিয়েছিলেন, যা তার পরবর্তী জীবনে প্রতিফলিত হয়। ট্রাম্পের শৈশব এবং কৈশোর কাটে নিউইয়র্কের সমৃদ্ধশালী এলাকায়। তার পরিবার তাকে একটি স্থিতিশীল এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিবেশে বড় করে তোলে, যা তার ভবিষ্যৎ সাফল্যের ভিত্তি স্থাপন করে।

শিক্ষাজীবন

প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৩ বছর বয়সে নিউইয়র্ক মিলিটারি একাডেমিতে ভর্তি হন। এটি ছিল একটি বেসরকারী বোর্ডিং স্কুল, যেখানে কঠোর সামরিক শৃঙ্খলা অনুসরণ করা হতো। এই প্রতিষ্ঠানে তার সময়কাল তাকে নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস এবং শৃঙ্খলার গুরুত্ব শিখিয়েছিল। সামরিক একাডেমি থেকে স্নাতক হওয়ার পর, তিনি ফোর্ডহ্যাম ইউনিভার্সিটিতে দুই বছর পড়াশোনা করেন। এরপর তিনি পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিখ্যাত হোয়ার্টন স্কুল অফ ফিনান্স অ্যান্ড কমার্সে স্থানান্তরিত হন। হোয়ার্টন স্কুল ছিল দেশের অন্যতম সেরা বিজনেস স্কুল, যেখানে তিনি রিয়েল এস্টেট নিয়ে পড়াশোনা করেন। ১৯৬৮ সালে তিনি অর্থনীতিতে বি.এস. ডিগ্রি নিয়ে হোয়ার্টন থেকে স্নাতক হন। তার শিক্ষাজীবন তাকে ব্যবসায়ের জটিল দিকগুলো বুঝতে এবং রিয়েল এস্টেট শিল্পে সফল হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে।

ক্যারিয়ার

ব্যবসায়িক জীবন

শিক্ষাজীবন শেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বাবার রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতে যোগ দেন, যা তখন "এলিজাবেথ ট্রাম্প অ্যান্ড সন" নামে পরিচিত ছিল। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ নেন এবং এর নাম পরিবর্তন করে "দ্য ট্রাম্প অর্গানাইজেশন" রাখেন। তার বাবার ব্যবসা প্রধানত মধ্যবিত্তের জন্য আবাসন নির্মাণে সীমাবদ্ধ থাকলেও, ডোনাল্ড বিলাসবহুল প্রকল্প এবং ম্যানহাটনের উচ্চ-প্রোফাইল নির্মাণে মনোযোগ দেন। ১৯৭০-এর দশকে তিনি ম্যানহাটনে গ্র্যান্ড হায়াত হোটেল এবং ট্রাম্প টাওয়ারের মতো আইকনিক প্রকল্পগুলো নির্মাণ করেন, যা তাকে নিউইয়র্কের রিয়েল এস্টেট জগতের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত করে।

ট্রাম্পের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য কেবল রিয়েল এস্টেটেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি ক্যাসিনো, হোটেল, গল্ফ কোর্স, বিনোদন এবং মিডিয়া জগতেও বিনিয়োগ করেন। আটলান্টিক সিটিতে তার ট্রাম্প তাজমহল এবং ট্রাম্প প্লাজা ক্যাসিনোগুলো বেশ পরিচিতি লাভ করে। তবে, তার কিছু ক্যাসিনো ব্যবসা পরবর্তীতে দেউলিয়া হয়ে যায়, যা তার ব্যবসায়িক ক্যারিয়ারে কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। ২০০০-এর দশকে তিনি টেলিভিশন জগতে প্রবেশ করেন এবং এনবিসি চ্যানেলের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো "দ্য অ্যাপ্রেন্টিস"-এর হোস্ট হিসেবে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন। এই শোতে তার বিখ্যাত উক্তি "ইউ আর ফায়ার্ড!" তাকে বিশ্বজুড়ে একটি পরিচিত মুখ করে তোলে এবং তার ব্র্যান্ডকে আরও শক্তিশালী করে।

রাজনৈতিক জীবন

ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা দীর্ঘদিনের হলেও, মূলধারার রাজনীতিতে তার প্রবেশ ঘটে ২১ শতকে। ২০০০ সালে তিনি রিফর্ম পার্টির হয়ে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চেষ্টা করেন, কিন্তু সফল হননি। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন সময়ে রিপাবলিকান পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচিত হতে থাকেন। অবশেষে, ২০১৫ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হিসেবে তার প্রার্থিতা ঘোষণা করেন।

তার প্রচারণার মূল স্লোগান ছিল "মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন" (Make America Great Again)। তিনি অভিবাসন, বাণিজ্য এবং পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে তার বিতর্কিত কিন্তু সরাসরি অবস্থানের মাধ্যমে ভোটারদের একটি বড় অংশকে আকৃষ্ট করেন। তার জনসভাগুলোতে বিপুল জনসমাগম হতো এবং তিনি প্রচলিত রাজনৈতিক ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে নিজের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তোলেন। ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর তিনি ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে পরাজিত করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তার বিজয় ছিল আধুনিক মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম চমকপ্রদ রাজনৈতিক ঘটনা।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার মেয়াদে (২০১৭-২০২১) ট্রাম্প প্রশাসন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নীতি গ্রহণ করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল কর সংস্কার বিল, যা কর্পোরেট এবং ব্যক্তিগত করের হার কমিয়েছিল। তিনি সুপ্রিম কোর্টে তিনজন রক্ষণশীল বিচারপতি নিয়োগ করেন (নিল গোরসাচ, ব্রেট কাভানাহ, অ্যামি কোনি ব্যারেট), যা বিচারিক ব্যবস্থার উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলে। পররাষ্ট্রনীতিতে তিনি "আমেরিকা ফার্স্ট" (America First) নীতি অনুসরণ করেন, যার ফলে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি এবং ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে আসে। তিনি মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং কঠোর অভিবাসন নীতি গ্রহণ করেন।

২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে পরাজিত হন। তবে, তিনি নির্বাচনের ফলাফলে কারচুপির অভিযোগ তোলেন এবং তার সমর্থকরা ৬ জানুয়ারি, ২০২১ তারিখে ক্যাপিটল ভবনে হামলা চালায়, যা মার্কিন গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।

২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং জয়লাভ করে ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন। এই বিজয় মার্কিন রাজনীতিতে তার অদম্য প্রভাব এবং জনপ্রিয়তার আরেকটি প্রমাণ।

উল্লেখযোগ্য অর্জন

  1. অর্থনৈতিক সংস্কার: তার প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অর্জন ছিল ২০১৭ সালের কর সংস্কার আইন, যা কর্পোরেট এবং ব্যক্তিগত করের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছিল। এর ফলে অর্থনীতিতে উদ্দীপনা আসে এবং বেকারত্বের হার কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছায়।
  2. বিচারিক নিয়োগ: ট্রাম্প তার মেয়াদে সুপ্রিম কোর্টে তিনজন রক্ষণশীল বিচারপতি নিয়োগ করেন – নিল গোরসাচ, ব্রেট কাভানাহ এবং অ্যামি কোনি ব্যারেট। এছাড়াও, তিনি ফেডারেল আপিল এবং জেলা আদালতগুলোতে রেকর্ড সংখ্যক রক্ষণশীল বিচারক নিয়োগ করেন, যা মার্কিন বিচার ব্যবস্থার উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।
  3. নিয়ন্ত্রণহীনতা হ্রাস: তিনি বিভিন্ন সরকারি সংস্থার উপর থেকে পরিবেশগত এবং অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণমূলক আইন শিথিল করেন, যা ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে সহজ করে তোলে বলে তার সমর্থকরা মনে করেন।
  4. প্রথম ধাপের অপরাধ সংস্কার আইন: ২০১৯ সালে তিনি 'ফার্স্ট স্টেপ অ্যাক্ট' স্বাক্ষর করেন, যা ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় সংস্কার এনেছিল এবং ফেডারেল কারাবন্দীদের জন্য পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করেছিল।
  5. আব্রাহাম চুক্তি: মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি স্থাপনে তার প্রশাসন ঐতিহাসিক 'আব্রাহাম চুক্তি'তে মধ্যস্থতা করে, যার ফলে ইসরায়েল এবং বেশ কয়েকটি আরব রাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। এটি ছিল দীর্ঘদিনের মধ্যপ্রাচ্য নীতির একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।
  6. ইউনাইটেড স্টেটস স্পেস ফোর্স প্রতিষ্ঠা: তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীর ষষ্ঠ শাখা হিসেবে ইউনাইটেড স্টেটস স্পেস ফোর্স প্রতিষ্ঠা করেন, যা মহাকাশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে গঠিত হয়।

ব্যক্তিগত জীবন

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই জনসমক্ষে আলোচিত হয়েছে। তিনি তিনবার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন এবং তার পাঁচ সন্তান রয়েছে। তার প্রথম স্ত্রী ছিলেন ইভানা জেলনিকোভা, একজন চেক মডেল ও ব্যবসায়ী। ১৯৭৭ সালে তাদের বিয়ে হয় এবং তাদের তিন সন্তান – ডোনাল্ড জুনিয়র, ইভাঙ্কা এবং এরিক। ১৯৯২ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর ১৯৯৩ সালে তিনি অভিনেত্রী মারলা ম্যাপলসকে বিয়ে করেন এবং তাদের একটি কন্যা সন্তান – টিফানি ট্রাম্প। ১৯৯৯ সালে এই বিবাহেরও ইতি ঘটে। অবশেষে, ২০০৫ সালে তিনি স্লোভেনীয় মডেল মেলানিয়া নাউসকে বিয়ে করেন, যিনি পরে মেলানিয়া ট্রাম্প নামে পরিচিত হন। তাদের একমাত্র সন্তান ব্যারন ট্রাম্প। মেলানিয়া ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন ফার্স্ট লেডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ট্রাম্প তার সন্তানদের নিয়ে গর্বিত এবং তার বড় সন্তানরা তার ব্যবসায়িক এবং রাজনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। তার ব্যক্তিগত জীবনে বিলাসবহুল জীবনযাপন, গল্ফ এবং রিয়েল এস্টেটের প্রতি তার ভালোবাসা স্পষ্ট।

মজার তথ্য

  • টেলিভিশন তারকা: রাজনীতিতে আসার আগে তিনি এনবিসি'র জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো "দ্য অ্যাপ্রেন্টিস" এর হোস্ট হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। এই শোতে তার বিখ্যাত উক্তি "ইউ আর ফায়ার্ড!" বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পায়।
  • নিজের নামে ব্র্যান্ড: তার নামে অসংখ্য পণ্য এবং পরিষেবা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ট্রাম্প টাওয়ার, ট্রাম্প ক্যাসিনো, ট্রাম্প এয়ারলাইনস এবং ট্রাম্প স্টেকস।
  • গল্ফ প্রেমী: তিনি একজন উৎসাহী গল্ফ খেলোয়াড় এবং বিশ্বজুড়ে অসংখ্য গল্ফ কোর্স তার মালিকানাধীন।
  • সাদা বাড়িতে টিভি দেখার অভ্যাস: প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন তিনি প্রতিদিন বেশ কয়েক ঘণ্টা টেলিভিশন দেখতেন বলে জানা যায়, বিশেষ করে সংবাদ চ্যানেলগুলো।
  • ডায়েট কোক: তিনি ডায়েট কোকের একজন বড় ভক্ত ছিলেন এবং তার ডেস্কে একটি বিশেষ বোতাম ছিল যা চাপলে একজন কর্মচারী তাকে ডায়েট কোক এনে দিত।
  • হাতের লেখা: তার স্বাক্ষরের স্টাইল বেশ স্বতন্ত্র এবং বড় আকারের।

উপসংহার

ডোনাল্ড ট্রাম্প একজন ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব যিনি ব্যবসা, মিডিয়া এবং রাজনীতি – এই তিন জগতেই নিজের প্রভাব বিস্তার করেছেন। তার উত্থান আধুনিক মার্কিন ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ বাঁক। একজন ব্যবসায়ী হিসেবে তার সাফল্য, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব হিসেবে তার জনপ্রিয়তা এবং পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার মেয়াদ তাকে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে রেখেছে। তার প্রশাসন কর সংস্কার, বিচারিক নিয়োগ এবং পররাষ্ট্রনীতিতে "আমেরিকা ফার্স্ট" নীতির মতো সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বিতর্ক, জনসমর্থন এবং সমালোচনার এক মিশ্রণ। তিনি তার সমর্থকদের কাছে একজন শক্তিশালী নেতা হিসেবে বিবেচিত, যিনি প্রচলিত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কথা বলতে পিছপা হন না। অন্যদিকে, তার সমালোচকরা তার বিভাজনমূলক রাজনীতি এবং গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি তার অবজ্ঞার জন্য তাকে দায়ী করেন। ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার দ্বিতীয় মেয়াদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্ব রাজনীতিতে কী নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে, তা সময়ই বলবে। তবে, ডোনাল্ড ট্রাম্প নিঃসন্দেহে এমন একজন ব্যক্তি যার প্রভাব আগামী বহু বছর ধরে মার্কিন রাজনীতি এবং সমাজে অনুভূত হবে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন: ডোনাল্ড ট্রাম্প কে?

উত্তর: ডোনাল্ড ট্রাম্প একজন মার্কিন রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়লাভ করে ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

প্রশ্ন: ডোনাল্ড ট্রাম্প কততম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছিলেন/হবেন?

উত্তর: ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভের পর তিনি ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

প্রশ্ন: ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক দল কী?

উত্তর: ডোনাল্ড ট্রাম্প রিপাবলিকান পার্টির একজন সদস্য। তিনি এই দলের হয়েই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং জয়লাভ করেন।

প্রশ্ন: ডোনাল্ড ট্রাম্পের মূল পেশা কী?

উত্তর: রাজনীতিতে প্রবেশের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প একজন সফল রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার এবং ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার ট্রাম্প অর্গানাইজেশন বহু বছর ধরে রিয়েল এস্টেট, হোটেল ও ক্যাসিনো শিল্পে সক্রিয় ছিল।

প্রশ্ন: ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্ম কোথায়?

উত্তর: ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৯৪৬ সালের ১৪ জুন নিউইয়র্কের কুইন্স বরোর জ্যামাইকা হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মস্থান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি।

প্রশ্ন: ডোনাল্ড ট্রাম্পের উল্লেখযোগ্য অর্জন কী কী?

উত্তর: তার উল্লেখযোগ্য অর্জনের মধ্যে রয়েছে ২০১৭ সালের কর সংস্কার আইন, সুপ্রিম কোর্টে তিনজন রক্ষণশীল বিচারপতি নিয়োগ, আব্রাহাম চুক্তি এবং ইউনাইটেড স্টেটস স্পেস ফোর্স প্রতিষ্ঠা।

প্রশ্ন: ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্ত্রী কে?

উত্তর: ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান স্ত্রী হলেন মেলানিয়া ট্রাম্প, যিনি তার প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন ফার্স্ট লেডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ইভানা ট্রাম্প এবং মারলা ম্যাপলসকে বিয়ে করেছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Bottom Ad [Post Page]