Full width home advertisement

Featured Actors

Popular Biographies

Post Page Advertisement [Top]

তথ্যবিবরণ
পূর্ণ নামআইয়ুব বাচ্চু
জন্ম১৬ আগস্ট, ১৯৬২
জন্মস্থানচট্টগ্রাম, পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ)
মৃত্যু১৮ অক্টোবর, ২০১৮
মৃত্যুস্থানঢাকা, বাংলাদেশ
পেশাসঙ্গীতশিল্পী, গীতিকার, সুরকার, গিটারিস্ট, ব্যান্ড লিডার
জাতীয়তাবাংলাদেশী
উল্লেখযোগ্য ব্যান্ডএলআরবি (Love Runs Blind), সোলস (Souls), ফিলিংস (Feelings)
উল্লেখযোগ্য অ্যালবামফেরারী মন, সুখ, কষ্ট, সময়, আমাদের বিস্ময়
পরিচিতিবাংলাদেশের রক সঙ্গীতের কিংবদন্তি, গিটার জাদুকর

পরিচিতি

আইয়ুব বাচ্চু (১৬ আগস্ট ১৯৬২ – ১৮ অক্টোবর ২০১৮) ছিলেন বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যিনি তার অসাধারণ গিটার বাজানো এবং হৃদয়গ্রাহী গানের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। তিনি ছিলেন একাধারে একজন কিংবদন্তি রক সঙ্গীতশিল্পী, গীতিকার, সুরকার এবং গিটারিস্ট। বাংলাদেশের রক সঙ্গীতের অগ্রদূত হিসেবে পরিচিত আইয়ুব বাচ্চু তার নিজস্ব ব্যান্ড ‘লাভ রানস ব্লাইন্ড’ (এলআরবি)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান ভোকালিস্ট ছিলেন। তার সুর ও গায়কী বাংলা সঙ্গীতকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছিল এবং তিনি বাংলাদেশের পপ ও রক সংস্কৃতির এক অবিসংবাদিত আইকন হিসেবে বিবেচিত হন।

Ayub Bachchu

Photo: Wikimedia Commons
View Source

প্রারম্ভিক জীবন

আইয়ুব বাচ্চু ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের চট্টগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পুরো নাম আইয়ুব বাচ্চু হলেও সঙ্গীত জগতে তিনি ‘এবি’ নামেই অধিক পরিচিত ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই সঙ্গীতের প্রতি তার ছিল অদম্য আগ্রহ। বিশেষ করে গিটারের প্রতি তার আকর্ষণ ছিল প্রগাঢ়। কৈশোর থেকেই তিনি গিটার বাজানো শুরু করেন এবং পশ্চিমা রক সঙ্গীতের প্রতি আকৃষ্ট হন। চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠা আইয়ুব বাচ্চু খুব অল্প বয়সেই স্থানীয় বিভিন্ন ব্যান্ডে বাজানো শুরু করেন, যা তাকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করে তোলে।

শিক্ষাজীবন

আইয়ুব বাচ্চুর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য খুব বেশি পাওয়া যায় না, কারণ তার পুরো মনোযোগই ছিল সঙ্গীতের দিকে। তিনি চট্টগ্রামের মুসলিম হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। তবে, তার প্রকৃত শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল গিটারের তারে এবং সুরের ভুবনে। তিনি নিজে নিজেই গিটার বাজানো শেখেন এবং বিভিন্ন দেশি-বিদেশি শিল্পীর গান শুনে নিজের সঙ্গীত জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করেন। তার সঙ্গীত সাধনাই ছিল তার জীবনের মূল শিক্ষা।

ক্যারিয়ার

আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গীত ক্যারিয়ার শুরু হয় ১৯৭০-এর দশকের শেষের দিকে। তার প্রথম দিকের ব্যান্ডগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল 'ফিলিংস' (Feelings), যেখানে তিনি জেমসের সাথে কাজ করেছিলেন। এরপর তিনি ১৯৮০ সালে যোগ দেন জনপ্রিয় ব্যান্ড 'সোলস'-এ। 'সোলস'-এর সাথে প্রায় দশ বছর কাজ করার সময় তিনি অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দেন এবং নিজেকে একজন দক্ষ গিটারিস্ট ও সুরকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। 'সোলস' ছাড়ার পর, ১৯৯১ সালে আইয়ুব বাচ্চু তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু করেন। তিনি গঠন করেন নিজের স্বপ্নের ব্যান্ড 'লাভ রানস ব্লাইন্ড' (এলআরবি)।

এলআরবি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ব্যান্ডটি বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করে। ১৯৯২ সালে তাদের প্রথম ডাবল অ্যালবাম 'এলআরবি ১' এবং 'এলআরবি ২' প্রকাশিত হয়, যা ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। এরপর একে একে 'সুখ' (১৯৯৩), 'ফেরারী মন' (১৯৯৬), 'ঘুমন্ত শহরে' (১৯৯৭), 'আমাদের বিস্ময়' (১৯৯৮), 'মন চাইলে মন পাবে' (২০০১), 'অচেনা জীবন' (২০০৩) সহ আরও অনেক সফল অ্যালবাম প্রকাশ করে এলআরবি। 'সেই তুমি', 'হাসতে দেখো গাইতে দেখো', 'চলো বদলে যাই', 'কষ্ট কাকে বলে', 'এক আকাশের তারা'—এরকম অসংখ্য কালজয়ী গান আইয়ুব বাচ্চুর হাত ধরে এসেছে, যা আজও শ্রোতাদের মুখে মুখে ফেরে।

ব্যান্ডের পাশাপাশি আইয়ুব বাচ্চু একক ক্যারিয়ারেও সমানভাবে সফল ছিলেন। তার একক অ্যালবামগুলোর মধ্যে 'রক্তগোলাপ' (১৯৮৬), 'ময়না' (১৯৮৮), 'কষ্ট' (১৯৯৫), 'সময়' (১৯৯৮), 'একা' (১৯৯৯) এবং 'পথের গান' (২০০৪) উল্লেখযোগ্য। তার একক গানগুলোও শ্রোতাদের কাছে দারুণ সমাদৃত হয়। আইয়ুব বাচ্চু শুধু একজন শিল্পীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন গুণী সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালকও। তিনি অসংখ্য শিল্পীর গানে সুর দিয়েছেন এবং সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন। তার গিটার বাজানোর ধরন ছিল অনন্য। ব্লুজ, হার্ড রক এবং ক্লাসিক্যাল রক ফিউশন তার গিটার বাজানোতে এক বিশেষ মাত্রা যোগ করত। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গীতের অন্যতম সেরা গিটারিস্ট হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন এবং 'গিটার জাদুকর' উপাধিতে ভূষিত হন।

আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন একজন অসাধারণ মঞ্চ পরিবেশক। তার লাইভ কনসার্টগুলো ছিল প্রাণবন্ত এবং দর্শক-শ্রোতাদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখত। দেশের বাইরেও তিনি অসংখ্য কনসার্টে অংশ নিয়েছেন এবং বাংলাদেশের রক সঙ্গীতকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করেছেন। নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য তিনি ছিলেন এক অনুপ্রেরণার উৎস। অনেক তরুণ শিল্পী তার কাছ থেকে দীক্ষা নিয়েছেন এবং তার দেখানো পথে হেঁটেছেন।

উল্লেখযোগ্য অর্জন

  • বাংলাদেশের রক সঙ্গীতকে নতুন দিগন্তে নিয়ে যাওয়া।
  • 'এলআরবি' ব্যান্ড প্রতিষ্ঠা এবং ব্যান্ডটিকে দেশের অন্যতম সফল ব্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।
  • অসংখ্য কালজয়ী গান রচনা, সুরারোপ এবং পরিবেশন।
  • বাংলাদেশের অন্যতম সেরা গিটারিস্ট হিসেবে 'গিটার জাদুকর' উপাধি লাভ।
  • সঙ্গীতে অসামান্য অবদানের জন্য বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ।
  • তরুণ প্রজন্মের সঙ্গীতশিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনা প্রদান।
  • দেশের বাইরেও বাংলাদেশের সঙ্গীতকে তুলে ধরা।

ব্যক্তিগত জীবন

আইয়ুব বাচ্চু ব্যক্তিগত জীবনে ফেরদৌস আইয়ুব চন্দনার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। তাদের সংসারে আহনাফ তাজোয়ার আইয়ুব এবং ফাইরুজ সাফরা আইয়ুব নামে দুই সন্তান রয়েছে। সঙ্গীতই ছিল তার ধ্যানজ্ঞান। তিনি তার পরিবারকে যেমন ভালোবাসতেন, তেমনি সঙ্গীতের প্রতিও তার ছিল গভীর ভালোবাসা ও নিষ্ঠা। তিনি তার ব্যক্তিগত জীবনকে সবসময় প্রচারের আড়ালে রাখতে পছন্দ করতেন এবং তার ভক্তদের কাছে তার সঙ্গীতই ছিল প্রধান পরিচয়।

মজার তথ্য

  • আইয়ুব বাচ্চুর গিটারের প্রতি ভালোবাসা ছিল কিংবদন্তীতুল্য। তার একটি বিশাল গিটার সংগ্রহ ছিল, যেখানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দুষ্প্রাপ্য গিটারও ছিল।
  • তিনি মঞ্চে ওঠার আগে সবসময় একটি বিশেষ প্রার্থনা করতেন এবং তার গিটারকে পরম যত্নে স্পর্শ করতেন।
  • আইয়ুব বাচ্চু তার প্রতিটি কনসার্টে গিটার সলোর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন, যা দর্শকদের মুগ্ধ করত।
  • তিনি একবার বলেছিলেন, “আমার কাছে গিটার মানেই জীবন। গিটার ছাড়া আমি অচল।”
  • তার বিখ্যাত গান 'চলো বদলে যাই' মূলত একটি ইংরেজি গানের সুর থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি হয়েছিল।

উপসংহার

আইয়ুব বাচ্চু কেবল একজন শিল্পী ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান। তার সঙ্গীত, তার সুর, তার গিটারের জাদুকরী স্পর্শ বাংলা সঙ্গীতকে দিয়েছে এক নতুন প্রাণ। ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর তার আকস্মিক মৃত্যু বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করে। শারীরিক ভাবে তিনি না থাকলেও তার গানগুলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বেঁচে থাকবে। আইয়ুব বাচ্চু তার কর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গীত প্রেমীদের হৃদয়ে চিরকাল অমর হয়ে থাকবেন। তার সঙ্গীত সাধনা এবং অবদান বাংলাদেশের সংস্কৃতির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন: আইয়ুব বাচ্চুর পুরো নাম কী?

উত্তর: আইয়ুব বাচ্চুর পুরো নাম আইয়ুব বাচ্চু। তবে তিনি সঙ্গীত জগতে 'এবি' নামেও পরিচিত ছিলেন, যা তার ভক্তদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল।

প্রশ্ন: আইয়ুব বাচ্চু কোন ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন?

উত্তর: আইয়ুব বাচ্চু বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় রক ব্যান্ড 'লাভ রানস ব্লাইন্ড' (এলআরবি)-এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তিনি এই ব্যান্ডের প্রধান ভোকালিস্ট ও লিড গিটারিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন।

প্রশ্ন: আইয়ুব বাচ্চুর জনপ্রিয় কিছু গান কী কী?

উত্তর: আইয়ুব বাচ্চুর জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে 'সেই তুমি', 'হাসতে দেখো গাইতে দেখো', 'চলো বদলে যাই', 'কষ্ট কাকে বলে', 'এক আকাশের তারা' এবং 'ঘুমন্ত শহরে'। এই গানগুলো আজও শ্রোতাদের মাঝে সমানভাবে জনপ্রিয়।

প্রশ্ন: আইয়ুব বাচ্চু কত সালে মারা যান?

উত্তর: আইয়ুব বাচ্চু ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যু বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতে এক গভীর শোকের ছায়া ফেলেছিল।

প্রশ্ন: আইয়ুব বাচ্চুকে কেন 'গিটার জাদুকর' বলা হয়?

উত্তর: আইয়ুব বাচ্চু তার অসাধারণ গিটার বাজানোর দক্ষতার জন্য 'গিটার জাদুকর' উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন। তার গিটার সলো এবং ব্লুজ ও হার্ড রকের ফিউশন তাকে অনন্য করে তুলেছিল।

প্রশ্ন: আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম দিকের ব্যান্ড কোনটি ছিল?

উত্তর: আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম দিকের ব্যান্ডগুলোর মধ্যে 'ফিলিংস' (Feelings) অন্যতম ছিল। এরপর তিনি জনপ্রিয় ব্যান্ড 'সোলস'-এ যোগ দেন এবং সেখানে প্রায় দশ বছর কাজ করেন।

প্রশ্ন: আইয়ুব বাচ্চুর জন্মস্থান কোথায়?

উত্তর: আইয়ুব বাচ্চুর জন্মস্থান ছিল বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলায়। তিনি সেখানেই বেড়ে উঠেছিলেন এবং তার সঙ্গীত জীবনের সূচনাও হয়েছিল এই শহরেই।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Bottom Ad [Post Page]