আইয়ুব বাচ্চু (Ayub Bachchu) বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতের এক কিংবদন্তী নাম, যিনি তাঁর অসাধারণ গিটার বাজানো, সুরের জাদুকরী স্পর্শ এবং হৃদয়গ্রাহী কণ্ঠ দিয়ে কোটি শ্রোতার মনে চিরস্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। তিনি কেবল একজন সঙ্গীতশিল্পীই ছিলেন না, ছিলেন একজন স্বপ্নদ্রষ্টা যিনি বাংলাদেশের ব্যান্ড সঙ্গীতকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিলেন। তাঁর হাত ধরে জন্ম নিয়েছিল বাংলাদেশের অন্যতম সফল ব্যান্ড 'লাভ রানস ব্লাইন্ড' (LRB), যা আজও সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছে এক আবেগের নাম।

Photo: Wikimedia Commons
View Source
তথ্যসারণি
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | আইয়ুব বাচ্চু |
| জন্ম | ১৬ আগস্ট ১৯৬২ |
| জন্মস্থান | পটিয়া, চট্টগ্রাম, পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) |
| মৃত্যু | ১৮ অক্টোবর ২০১৮ (৫৬ বছর বয়সে) |
| মৃত্যুস্থান | ঢাকা, বাংলাদেশ |
| জাতীয়তা | বাংলাদেশী |
| পেশা | সঙ্গীতশিল্পী, গিটারিস্ট, সুরকার, গীতিকার |
| পরিচিতি | কিংবদন্তী রক গিটারিস্ট, এলআরবি (LRB) ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা |
| উল্লেখযোগ্য ব্যান্ড | সোলস (১৯৮০-১৯৯১), এলআরবি (১৯৯১-২০১৮) |
| উল্লেখযোগ্য একক অ্যালবাম | রক্তগোলাপ (১৯৮৬), ময়না (১৯৮৮), কষ্ট (১৯৯৫), প্রেম তুমি কি (১৯৯৬), দুটি মন (১৯৯৮) |
| উল্লেখযোগ্য ব্যান্ড অ্যালবাম | এলআরবি (১৯৯২), সুখ (১৯৯৩), তবুও (১৯৯৪), ঘুমন্ত শহরে (১৯৯৫) |
| স্ত্রী | ফেরদৌস আইয়ুব চন্দনা |
| সন্তান | এক পুত্র (আহনাফ তাজোয়ার আইয়ুব), এক কন্যা (ফাইরুজ সাফরা আইয়ুব) |
পরিচিতি
আইয়ুব বাচ্চু, সংক্ষেপে এবি, বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি ছিলেন একাধারে একজন প্রখ্যাত রক গিটারিস্ট, সুরকার, গীতিকার এবং কণ্ঠশিল্পী। তাঁর গিটারের জাদুকরী সুর, শক্তিশালী কণ্ঠ এবং মঞ্চে তাঁর অসাধারণ উপস্থিতি তাঁকে এনে দিয়েছিল "গিটার জাদুকর" উপাধি। নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশের ব্যান্ড সঙ্গীত যখন নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছিল, তখন আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন তার অন্যতম প্রধান কারিগর। তিনি তাঁর নিজের ব্যান্ড এলআরবি (Love Runs Blind) এর মাধ্যমে অসংখ্য শ্রোতার হৃদয়ে স্থান করে নেন এবং বাংলাদেশের রক সঙ্গীতকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিচিত করে তোলেন। তাঁর গানগুলি তারুণ্যের প্রতীক হয়ে ওঠে এবং আজও সমানভাবে জনপ্রিয়।
প্রারম্ভিক জীবন
আইয়ুব বাচ্চু ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম ছিল আইয়ুব বাচ্চু। ছোটবেলা থেকেই সঙ্গীতের প্রতি তাঁর ছিল এক গভীর টান। কৈশোরেই তিনি গিটারের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং নিজেই গিটার বাজানো শিখতে শুরু করেন। তাঁর পরিবারে সঙ্গীতের তেমন প্রচলন না থাকলেও, বাচ্চুর অদম্য ইচ্ছা এবং প্রতিভার কারণে তিনি খুব দ্রুত গিটার বাজানোতে পারদর্শী হয়ে ওঠেন। চট্টগ্রামের স্থানীয় ব্যান্ডগুলোতে বাজানোর মধ্য দিয়ে তাঁর সঙ্গীত জীবনের হাতেখড়ি হয়। সে সময় তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিটার বাজিয়ে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করতে থাকেন এবং পরিচিতি লাভ করেন।
শিক্ষাজীবন
আইয়ুব বাচ্চু চট্টগ্রামের মুসলিম হাই স্কুল থেকে এসএসসি এবং চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। প্রথাগত শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি তিনি সঙ্গীতের প্রতিই বেশি মনোযোগী ছিলেন। তাঁর শিক্ষাজীবনে সঙ্গীতই ছিল তাঁর প্রধান অনুপ্রেরণা। তিনি গিটার বাজানো এবং গানের সুর নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে ভালোবাসতেন। যদিও তিনি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সঙ্গীতের কোনো প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেননি, তাঁর স্বশিক্ষিত দক্ষতা এবং সহজাত প্রতিভা তাঁকে একজন অসাধারণ শিল্পী হিসেবে গড়ে তোলে।
ক্যারিয়ার
আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গীত ক্যারিয়ার শুরু হয় ১৯৭০-এর দশকের শেষের দিকে। তাঁর প্রথম ব্যান্ড ছিল 'ফিলিংস'। এরপর তিনি ১৯৮০ সালে যোগ দেন বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ড 'সোলস'-এ। সোলস-এর সাথে প্রায় এক দশক কাজ করার সময় তিনি অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দেন এবং একজন গিটারিস্ট ও সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। 'সোলস' এর সাথে তাঁর কাজ তাঁকে দেশের সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছে পরিচিত করে তোলে।
১৯৯১ সালে আইয়ুব বাচ্চু 'সোলস' ছেড়ে নিজের ব্যান্ড 'লাভ রানস ব্লাইন্ড' (LRB) গঠন করেন। এটি ছিল তাঁর সঙ্গীত জীবনের এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। এলআরবি গঠনের পর থেকেই ব্যান্ডটি একের পর এক সফল অ্যালবাম উপহার দিতে থাকে। ১৯৯২ সালে প্রকাশিত হয় এলআরবির প্রথম ডাবল অ্যালবাম 'এলআরবি ১' এবং 'এলআরবি ২'। এই অ্যালবামগুলো বাংলাদেশের ব্যান্ড সঙ্গীতের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। এরপর 'সুখ' (১৯৯৩), 'তবুও' (১৯৯৪), 'ঘুমন্ত শহরে' (১৯৯৫) এর মতো অ্যালবামগুলো এলআরবিকে সাফল্যের শিখরে নিয়ে যায়। 'রূপালী গিটার', 'সেই তুমি', 'কষ্ট', 'ফেরারী মন', 'চলো বদলে যাই', 'হাসতে দেখো গাইতে দেখো', 'ঘুমন্ত শহরে' সহ অসংখ্য গান আইয়ুব বাচ্চু এবং এলআরবিকে কিংবদন্তীর মর্যাদা এনে দেয়।
ব্যান্ড সঙ্গীতের পাশাপাশি আইয়ুব বাচ্চু একক ক্যারিয়ারেও সমানভাবে সফল ছিলেন। তাঁর প্রথম একক অ্যালবাম 'রক্তগোলাপ' প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালে। এরপর 'ময়না' (১৯৮৮), 'কষ্ট' (১৯৯৫), 'প্রেম তুমি কি' (১৯৯৬), 'দুটি মন' (১৯৯৮) এর মতো একক অ্যালবামগুলো তাঁর জনপ্রিয়তাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। 'কষ্ট' অ্যালবামের টাইটেল ট্র্যাকটি বাংলাদেশের সঙ্গীত ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় একটি গান। তিনি অসংখ্য চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেছেন এবং অন্যান্য শিল্পীদের জন্য সুর ও সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন।
আইয়ুব বাচ্চুর গিটার বাজানোর ধরন ছিল অনন্য। তাঁর গিটার সলো এবং রিফগুলো ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী ও আবেগপূর্ণ। তিনি দেশের তরুণ গিটারিস্টদের জন্য এক অনুপ্রেরণা ছিলেন। তাঁর গিটার বাজানোর স্টাইল অনেককে গিটার হাতে নিতে উৎসাহিত করেছে। তিনি প্রায়শই মঞ্চে লাইভ গিটার সলো বাজিয়ে শ্রোতাদের মুগ্ধ করে রাখতেন। তাঁর গিটারের সুর যেন কথা বলতো, যা শ্রোতাদের হৃদয়ে গভীর দাগ কাটতো।
উল্লেখযোগ্য অর্জন
- বাংলাদেশের ব্যান্ড সঙ্গীতকে একটি নতুন মাত্রা দেওয়া এবং রক সঙ্গীতকে জনপ্রিয় করে তোলা।
- 'লাভ রানস ব্লাইন্ড' (LRB) এর মতো একটি সফল এবং জনপ্রিয় ব্যান্ড প্রতিষ্ঠা করা।
- 'রূপালী গিটার', 'সেই তুমি', 'কষ্ট', 'ফেরারী মন' এর মতো কালজয়ী গান উপহার দেওয়া।
- একজন কিংবদন্তী গিটারিস্ট হিসেবে দেশের সঙ্গীত জগতে পরিচিতি লাভ করা।
- তাঁর সঙ্গীতকর্মের জন্য অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করা।
- দেশের বাইরেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের সঙ্গীতকে প্রতিনিধিত্ব করা।
ব্যক্তিগত জীবন
আইয়ুব বাচ্চু তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে খুবই বিনয়ী এবং প্রচারবিমুখ ছিলেন। তিনি ফেরদৌস আইয়ুব চন্দনাকে বিয়ে করেন এবং তাঁদের এক পুত্র (আহনাফ তাজোয়ার আইয়ুব) ও এক কন্যা (ফাইরুজ সাফরা আইয়ুব) রয়েছে। পরিবারের প্রতি তিনি ছিলেন অত্যন্ত যত্নশীল। সঙ্গীত তাঁর জীবন হলেও, তিনি পরিবারকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দিতেন। তাঁর বন্ধুমহল এবং সহকর্মীদের কাছে তিনি একজন সহজ-সরল এবং হাস্যোজ্জ্বল মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি প্রায়শই বলতেন, "আমি সঙ্গীত নিয়েই বাঁচি, সঙ্গীত নিয়েই মরতে চাই।" তাঁর এই উক্তিটি তাঁর সঙ্গীতপ্রেমের গভীরতা প্রকাশ করে।
মজার তথ্য
- আইয়ুব বাচ্চু তাঁর গিটারকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসতেন এবং গিটারকে তিনি 'রূপালী গিটার' নামে ডাকতেন, যা তাঁর জনপ্রিয় গানের শিরোনামও বটে।
- তিনি মঞ্চে ওঠার আগে প্রায়শই তাঁর গিটারকে চুমু খেতেন, যা তাঁর গিটারের প্রতি ভালোবাসার এক অনন্য প্রকাশ ছিল।
- আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন একজন খাদ্যপ্রেমী এবং বিশেষ করে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানের খাবারের প্রতি তাঁর বিশেষ দুর্বলতা ছিল।
- তিনি নতুন প্রতিভাদের সবসময় উৎসাহিত করতেন এবং তাদের জন্য প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে সচেষ্ট ছিলেন।
- তাঁর প্রথম গিটার ছিল একটি ক্লাসিক্যাল গিটার, যা তিনি নিজেই কিনেছিলেন।
উপসংহার
আইয়ুব বাচ্চু ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর অগণিত ভক্তকে কাঁদিয়ে ৫৬ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণ বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করে। তবে তিনি তাঁর সঙ্গীতকর্মের মাধ্যমে চিরকাল বেঁচে থাকবেন। তাঁর গানগুলি আজও শ্রোতাদের মুখে মুখে ফেরে, তাঁর গিটারের সুর আজও তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে। আইয়ুব বাচ্চু শুধু একজন শিল্পী ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান, একটি বিপ্লব, যা বাংলাদেশের ব্যান্ড সঙ্গীতকে নতুন পথ দেখিয়েছিল। তাঁর অবদান বাংলাদেশের সঙ্গীত ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি ছিলেন সত্যিকার অর্থেই 'রূপালী গিটার' এর এক জাদুকর।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন: আইয়ুব বাচ্চু কে ছিলেন?
উত্তর: আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তী রক গিটারিস্ট, সুরকার, গীতিকার এবং কণ্ঠশিল্পী। তিনি 'লাভ রানস ব্লাইন্ড' (LRB) ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা এবং বাংলাদেশের ব্যান্ড সঙ্গীতের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত।
প্রশ্ন: আইয়ুব বাচ্চুর জনপ্রিয় কিছু গান কী কী?
উত্তর: তাঁর জনপ্রিয় গানগুলির মধ্যে রয়েছে 'রূপালী গিটার', 'সেই তুমি', 'কষ্ট', 'ফেরারী মন', 'চলো বদলে যাই', 'হাসতে দেখো গাইতে দেখো', 'ঘুমন্ত শহরে' ইত্যাদি। এই গানগুলো আজও শ্রোতাদের কাছে সমান জনপ্রিয়।
প্রশ্ন: আইয়ুব বাচ্চু কোন ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন?
উত্তর: আইয়ুব বাচ্চু ১৯৯১ সালে 'লাভ রানস ব্লাইন্ড' (LRB) ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। এর আগে তিনি 'সোলস' ব্যান্ডের সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন।
প্রশ্ন: আইয়ুব বাচ্চুর গিটার বাজানোর ধরন কেমন ছিল?
উত্তর: আইয়ুব বাচ্চুর গিটার বাজানোর ধরন ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী, আবেগপূর্ণ এবং স্বতন্ত্র। তাঁর গিটার সলো এবং রিফগুলো ছিল অনন্য, যা তাঁকে 'গিটার জাদুকর' উপাধি এনে দিয়েছিল এবং অসংখ্য তরুণ গিটারিস্টকে অনুপ্রাণিত করেছিল।
প্রশ্ন: আইয়ুব বাচ্চু কত সালে মারা যান?
উত্তর: আইয়ুব বাচ্চু ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর ৫৬ বছর বয়সে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ঢাকায় মারা যান। তাঁর মৃত্যু বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতে এক গভীর শোকের ছায়া ফেলেছিল।
প্রশ্ন: আইয়ুব বাচ্চুর ডাক নাম কী ছিল?
উত্তর: আইয়ুব বাচ্চু তাঁর ভক্ত ও সহকর্মীদের কাছে সংক্ষেপে 'এবি' নামে পরিচিত ছিলেন। এই ডাক নামটি তাঁর জনপ্রিয়তারই একটি অংশ ছিল।
প্রশ্ন: আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম একক অ্যালবাম কোনটি?
উত্তর: আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম একক অ্যালবাম ছিল 'রক্তগোলাপ', যা ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর তিনি আরও অনেক সফল একক অ্যালবাম প্রকাশ করেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন