তথ্যসারণি
| নাম | ভলোদিমির ওলেকসান্দ্রোভিচ জেলেনস্কি |
|---|---|
| জন্ম | ২৫ জানুয়ারি ১৯৭৮ |
| জন্মস্থান | ক্রিভি রিহ, ইউক্রেনীয় এসএসআর, সোভিয়েত ইউনিয়ন |
| জাতীয়তা | ইউক্রেনীয় |
| পেশা | রাজনীতিবিদ, বিশ্বনেতা, প্রাক্তন কৌতুক অভিনেতা |
| পরিচিতি | ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি, যুদ্ধকালীন নেতা |
| স্ত্রী | ওলেনা জেলেনস্কা |
| সন্তান | ওলেক্সান্দ্রা জেলেনস্কা, কিরিলো জেলেনস্কি |
| রাজনৈতিক দল | সার্ভেন্ট অফ দ্য পিপল |
পরিচিতি
ভলোদিমির ওলেকসান্দ্রোভিচ জেলেনস্কি, একজন প্রাক্তন কৌতুক অভিনেতা এবং টেলিভিশন তারকা, যিনি ২০১৯ সাল থেকে ইউক্রেনের ষষ্ঠ রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার জীবন এক অসাধারণ রূপান্তরের গল্প – বিনোদন জগতের একজন জনপ্রিয় মুখ থেকে এক কঠিন সময়ে জাতির কর্ণধার হিসেবে আবির্ভূত হওয়া। বিশেষ করে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণ মাত্রার আগ্রাসনের পর থেকে তার নেতৃত্ব বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তার দৃঢ়তা, সাহস এবং দেশের প্রতি অবিচল অঙ্গীকার তাকে কেবল ইউক্রেনের জনগণের কাছেই নয়, সারা বিশ্বের কাছে প্রতিরোধের এক প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছে। জেলেনস্কি তার দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষায় যে অবিচল মনোভাব দেখিয়েছেন, তা আধুনিক বিশ্বনেতাদের মধ্যে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
Photo: Wikimedia Commons
View Source
প্রারম্ভিক জীবন
ভলোদিমির জেলেনস্কি ১৯৭৮ সালের ২৫ জানুয়ারি তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের ইউক্রেনীয় এসএসআর-এর ক্রিভি রিহ শহরে একটি ইহুদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ওলেক্সান্ডার জেলেনস্কি একজন অধ্যাপক এবং কম্পিউটার বিজ্ঞানী ছিলেন, যিনি ক্রিভি রিহ স্টেট ইকোনমিক অ্যান্ড টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির সাইবারনেটিক্স ও কম্পিউটিং হার্ডওয়্যার বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন। তার মা রিম্মা জেলেনস্কা একজন প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করতেন। জেলেনস্কির শৈশব বেশিরভাগই ক্রিভি রিহ-তে কেটেছে, যদিও তার পরিবার চার বছর মঙ্গোলিয়ার এরদেনেত শহরে বাস করেছিল, যেখানে তার বাবা কাজ করতেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি রুশ ভাষায় কথা বলতে অভ্যস্ত ছিলেন, যা ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে প্রচলিত। তার সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত পটভূমি তার পরবর্তী জীবন ও ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
শিক্ষাজীবন
ভলোদিমির জেলেনস্কি তার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা ক্রিভি রিহ শহরে সম্পন্ন করেন। স্কুল জীবন শেষ করার পর তিনি আইন নিয়ে পড়াশোনা করার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৯৫ সালে তিনি ক্রিভি রিহ ইকোনমিক ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন, যা বর্তমানে কিয়েভ ন্যাশনাল ইকোনমিক ইউনিভার্সিটির একটি অংশ। ২০০১ সালে তিনি আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। যদিও তিনি আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছিলেন, তবে তিনি কখনও আইনি পেশায় অনুশীলন করেননি। তার আগ্রহ শুরু থেকেই বিনোদন জগতে নিবদ্ধ ছিল, যা তাকে ভিন্ন পথে পরিচালিত করে।
ক্যারিয়ার
বিনোদন জগৎ
জেলেনস্কির ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল কৌতুক অভিনেতা হিসেবে। ১৯৯৭ সালে তিনি জনপ্রিয় কৌতুক প্রতিযোগিতা ‘কেভিএন’ (KVN)-এ অংশ নেন এবং তার দল ‘কোয়ার্টাল ৯৫’ (Kvartal 95) দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে। ২০০৩ সালে তিনি কোয়ার্টাল ৯৫ স্টুডিও নামে একটি প্রযোজনা সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন, যা টেলিভিশন অনুষ্ঠান, চলচ্চিত্র এবং অ্যানিমেশন তৈরি করত। এই সময়ে তিনি একজন সফল প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার এবং অভিনেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
তার অভিনয় জীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ ছিল ‘সার্ভেন্ট অফ দ্য পিপল’ (Servant of the People) নামক টেলিভিশন সিরিজ, যা ২০১৫ সালে সম্প্রচারিত হয়। এই সিরিজে তিনি একজন স্কুল শিক্ষকের ভূমিকায় অভিনয় করেন, যিনি ঘটনাক্রমে ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করেন। এই সিরিজটি ইউক্রেনের জনগণের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং জেলেনস্কিকে একজন জাতীয় আইকনে পরিণত করে। এই চরিত্রটিই পরবর্তীতে তার বাস্তব জীবনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের পথ খুলে দেয়।
রাজনৈতিক জীবন
২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর, নববর্ষের প্রাক্কালে, ভলোদিমির জেলেনস্কি ঘোষণা করেন যে তিনি ২০১৯ সালের ইউক্রেনীয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তার রাজনৈতিক দলটির নাম ছিল তার জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজের নামে – ‘সার্ভেন্ট অফ দ্য পিপল’। তার প্রচারণার মূল বিষয় ছিল দুর্নীতি দমন, সাধারণ মানুষের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ইউক্রেনীয় রাজনীতিতে নতুন মুখ নিয়ে আসা। তার প্রচারণার কৌশল ছিল অপ্রচলিত; তিনি টেলিভিশন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেন, যেখানে তিনি সরাসরি জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন।
নির্বাচনে তিনি অপ্রত্যাশিতভাবে ব্যাপক জনসমর্থন পান। প্রথম রাউন্ডে তিনি সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে উত্তীর্ণ হন এবং ২১ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় রাউন্ডে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি পেত্রো পোরোশেঙ্কোকে ৭৩.২২% ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে পরাজিত করেন। এটি ইউক্রেনের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নির্বাচনী বিজয়গুলোর মধ্যে একটি ছিল। রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর, তিনি ইউক্রেনের রাজনীতিতে সংস্কার আনার প্রতিশ্রুতি দেন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন।
যুদ্ধকালীন নেতৃত্ব
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণ মাত্রায় আগ্রাসন শুরু করলে ভলোদিমির জেলেনস্কির নেতৃত্ব এক নতুন মাত্রা লাভ করে। অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক এবং পশ্চিমা দেশগুলো তাকে কিয়েভ ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিলেও, তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। এই কঠিন মুহূর্তে তিনি কিয়েভেই অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নেন এবং তার বিখ্যাত উক্তি “আমার গোলাবারুদ দরকার, পালানোর জন্য নয়” বিশ্বজুড়ে তার দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক হয়ে ওঠে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে জেলেনস্কি তার সামরিক পোশাক পরিহিত অবস্থায় নিয়মিত ভিডিও বার্তা এবং জনসমাবেশে অংশ নিয়েছেন, যা তার দেশের জনগণের মনোবল চাঙ্গা রাখতে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ইউক্রেনের পরিস্থিতি তুলে ধরতে অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। তার আবেগপূর্ণ বক্তৃতা এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে ইউক্রেনের পক্ষে সমর্থনের আবেদন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সহানুভূতি ও সমর্থন আদায় করেছে। তার নেতৃত্বে ইউক্রেনীয় সেনারা রাশিয়ার আগ্রাসন প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবিচল রয়েছে। এই সময়কালে, ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের মতে, জেলেনস্কি রাশিয়ান বা রুশপন্থী এজেন্টদের দ্বারা অসংখ্য হত্যা ও অপহরণের চেষ্টা থেকে বেঁচে গেছেন, যার মধ্যে অন্তত তিনটি ইউক্রেনীয় নিরাপত্তা পরিষেবা দ্বারা ব্যর্থ করা হয়েছে। এই ঘটনাগুলো তার জীবনের ঝুঁকি এবং তার নেতৃত্বের দৃঢ়তার প্রমাণ। তিনি ইউক্রেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের জন্য আবেদন করেছেন এবং পশ্চিমা দেশগুলির কাছ থেকে সামরিক ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
উল্লেখযোগ্য অর্জন
- ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (২০১৯): একজন রাজনৈতিক নবীন হিসেবে বিপুল ভোটে ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া তার সবচেয়ে বড় অর্জন।
- যুদ্ধকালীন নেতৃত্ব: ২০২২ সালের রাশিয়ার আগ্রাসনের মুখে ইউক্রেনের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে তার ভূমিকা অবিস্মরণীয়। তার দৃঢ়তা ও সাহস বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে।
- আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইউক্রেনের প্রতিনিধিত্ব: তিনি আন্তর্জাতিক ফোরামে ইউক্রেনের কণ্ঠস্বরকে জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন এবং বিশ্ব নেতাদের কাছ থেকে সামরিক ও মানবিক সহায়তার জন্য সফলভাবে আবেদন করেছেন।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতীক: কঠিন পরিস্থিতিতেও গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার পক্ষে তার অবস্থান তাকে বিশ্বব্যাপী গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকে পরিণত করেছে।
ব্যক্তিগত জীবন
ভলোদিমির জেলেনস্কি ২০০৩ সালে তার দীর্ঘদিনের বান্ধবী ওলেনা কিয়াশকোকে (বর্তমানে ওলেনা জেলেনস্কা) বিয়ে করেন। ওলেনা জেলেনস্কা একজন স্থপতি এবং চিত্রনাট্যকার হিসেবে পরিচিত। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে – ২০০৪ সালে জন্মগ্রহণকারী মেয়ে ওলেক্সান্দ্রা এবং ২০১৩ সালে জন্মগ্রহণকারী ছেলে কিরিলো। রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার দায়িত্ব গ্রহণের পর ওলেনা জেলেনস্কা ইউক্রেনের ফার্স্ট লেডি হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, জেলেনস্কির পরিবারও তার সাথে দেশের কঠিন পরিস্থিতিতে পাশে দাঁড়িয়েছে, যা তাদের ব্যক্তিগত জীবনের দৃঢ়তার প্রতিফলন। জেলেনস্কি তার পরিবারকে তার শক্তির উৎস হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তার অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয়।
মজার তথ্য
- ভলোদিমির জেলেনস্কি রাজনীতিতে আসার আগে একজন অত্যন্ত সফল কৌতুক অভিনেতা এবং টেলিভিশন প্রযোজক ছিলেন।
- তার রাজনৈতিক দল ‘সার্ভেন্ট অফ দ্য পিপল’ (Слуга народу) তার অভিনীত একটি জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজের নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছিল, যেখানে তিনি একজন কাল্পনিক রাষ্ট্রপতি চরিত্রে অভিনয় করেন।
- রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার আগে তার কোনো পূর্ব রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ছিল না।
- তিনি ইউক্রেনীয়, রুশ এবং ইংরেজি ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলতে পারেন।
- যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তার সামরিক পোশাক এবং দাড়ি-গোঁফ তার যুদ্ধকালীন নেতৃত্বের প্রতীক হয়ে উঠেছে, যা বিশ্বজুড়ে তার পরিচিতি বাড়িয়েছে।
উপসংহার
ভলোদিমির জেলেনস্কির জীবন এক অসাধারণ যাত্রার প্রতিচ্ছবি – একজন জনপ্রিয় বিনোদন তারকা থেকে এক কঠিন সময়ে জাতির কর্ণধার। তার নেতৃত্ব ইউক্রেনকে এক অপ্রত্যাশিত যুদ্ধের মুখে ঐক্যবদ্ধ রেখেছে এবং বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার পক্ষে এক শক্তিশালী কণ্ঠস্বর তৈরি করেছে। তার দৃঢ় সংকল্প, সাহস এবং দেশের প্রতি নিঃস্বার্থ অঙ্গীকার তাকে শুধু ইউক্রেনের ইতিহাসে নয়, বিশ্ব ইতিহাসের পাতায়ও এক বিশেষ স্থান করে দিয়েছে। জেলেনস্কি প্রমাণ করেছেন যে, সত্যিকারের নেতৃত্ব কেবল ক্ষমতা বা অভিজ্ঞতা দিয়ে নয়, বরং সাহস, সহানুভূতি এবং জনগণের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা দিয়েও নির্ধারিত হয়। তার গল্প ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা যোগাবে যে, কঠিন সময়েও একজন ব্যক্তি তার জাতির জন্য কতটা কিছু করতে পারে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন: ভলোদিমির জেলেনস্কি কে?
উত্তর: ভলোদিমির জেলেনস্কি হলেন ইউক্রেনের বর্তমান রাষ্ট্রপতি। তিনি ২০১৯ সালে এই পদে নির্বাচিত হন এবং পূর্বে একজন সফল কৌতুক অভিনেতা ও টেলিভিশন প্রযোজক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০২২ সালের রাশিয়ান আগ্রাসনের পর তার যুদ্ধকালীন নেতৃত্ব বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।
প্রশ্ন: জেলেনস্কি কখন ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি হন?
উত্তর: ভলোদিমির জেলেনস্কি ২০১৯ সালের ২১ এপ্রিল ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়লাভ করেন এবং ২০ মে ২০১৯ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তিনি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি পেত্রো পোরোশেঙ্কোকে বিপুল ব্যবধানে পরাজিত করেন।
প্রশ্ন: জেলেনস্কির রাজনৈতিক দলের নাম কী?
উত্তর: ভলোদিমির জেলেনস্কির রাজনৈতিক দলের নাম হলো ‘সার্ভেন্ট অফ দ্য পিপল’ (Слуга народу)। এটি তার অভিনীত জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজের নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছিল, যেখানে তিনি একজন কাল্পনিক ইউক্রেনীয় রাষ্ট্রপতির ভূমিকায় অভিনয় করেন।
প্রশ্ন: যুদ্ধ শুরুর আগে জেলেনস্কির পেশা কী ছিল?
উত্তর: যুদ্ধ শুরুর আগে ভলোদিমির জেলেনস্কি মূলত একজন কৌতুক অভিনেতা, টেলিভিশন প্রযোজক এবং অভিনেতা হিসেবে কাজ করতেন। তিনি ‘কোয়ার্টাল ৯৫’ নামক একটি প্রযোজনা সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এবং ‘সার্ভেন্ট অফ দ্য পিপল’ সহ বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় টেলিভিশন শো ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।
প্রশ্ন: জেলেনস্কি কেন এত জনপ্রিয়?
উত্তর: জেলেনস্কি তার অ-রাজনৈতিক পটভূমি, দুর্নীতিবিরোধী বার্তা এবং বিশেষ করে ২০২২ সালের রাশিয়ান আগ্রাসনের সময় তার দৃঢ় ও সাহসী নেতৃত্বের জন্য জনপ্রিয়। তিনি কিয়েভ ছেড়ে যেতে অস্বীকার করে তার দেশের জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে সফল হয়েছেন।
প্রশ্ন: জেলেনস্কির স্ত্রী ও সন্তানের নাম কী?
উত্তর: ভলোদিমির জেলেনস্কির স্ত্রীর নাম ওলেনা জেলেনস্কা। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে; মেয়ের নাম ওলেক্সান্দ্রা জেলেনস্কা (জন্ম ২০০৪) এবং ছেলের নাম কিরিলো জেলেনস্কি (জন্ম ২০১৩)।
প্রশ্ন: জেলেনস্কির শিক্ষাগত যোগ্যতা কী?
উত্তর: ভলোদিমির জেলেনস্কি আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি ক্রিভি রিহ ইকোনমিক ইনস্টিটিউট থেকে ২০০১ সালে আইন বিষয়ে স্নাতক হন, যা বর্তমানে কিয়েভ ন্যাশনাল ইকোনমিক ইউনিভার্সিটির একটি অংশ। যদিও তিনি কখনও আইনি পেশায় অনুশীলন করেননি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন