| পূর্ণ নাম | টমাস ক্রুজ ম্যাপোথার চতুর্থ |
|---|---|
| জন্ম | ৩ জুলাই, ১৯৬২ |
| জন্মস্থান | সিরাকিউজ, নিউ ইয়র্ক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র |
| পেশা | অভিনেতা, চলচ্চিত্র প্রযোজক |
| জাতীয়তা | মার্কিন |
| পরিচিতি | হলিউডের অ্যাকশন তারকা, মিশন ইম্পসিবল সিরিজ |
| উল্লেখযোগ্য পুরস্কার | ৩টি গোল্ডেন গ্লোব, সম্মানসূচক পাম ডি'অর, একাডেমি সম্মানসূচক পুরস্কার |
| উচ্চতা | প্রায় ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি (১.৭০ মি) |
| স্ত্রী/সঙ্গী | (পূর্বের) মিমি রজার্স, নিকোল কিডম্যান, কেটি হোমস |
| সন্তান | সুরি ক্রুজ (কন্যা), ইসাবেলা জেন (দত্তক), কনর অ্যান্টনি (দত্তক) |
পরিচিতি
হলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী এবং জনপ্রিয় তারকাদের মধ্যে টম ক্রুজ একটি কিংবদন্তী নাম। তার পুরো নাম টমাস ক্রুজ ম্যাপোথার চতুর্থ। ১৯৬২ সালের ৩ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের সিরাকিউজে জন্মগ্রহণকারী এই অভিনেতা তার অসাধারণ ক্যারিশমা, ব্যতিক্রমী অভিনয় প্রতিভা এবং বিপজ্জনক স্টান্ট নিজেই করার জন্য বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছেন। অ্যাকশন ঘরানার চলচ্চিত্রে তার অসামান্য অবদান তাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে, বিশেষ করে "মিশন ইম্পসিবল" সিরিজের ইথান হান্ট চরিত্রে তার অভিনয় তাকে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি এনে দিয়েছে। শুধুমাত্র একজন অভিনেতা হিসেবেই নয়, একজন সফল চলচ্চিত্র প্রযোজক হিসেবেও টম ক্রুজ হলিউডে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন। তার চলচ্চিত্রগুলো বিশ্বজুড়ে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করেছে, যা তাকে সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়কারী অভিনেতাদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

Photo: Wikimedia Commons
View Source
প্রারম্ভিক জীবন
টম ক্রুজের শৈশব ছিল সংগ্রাম ও অনিশ্চয়তায় ভরা। তার বাবা, টমাস ক্রুজ ম্যাপোথার তৃতীয়, ছিলেন একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এবং মা মেরি লি ছিল একজন শিক্ষিকা। ক্রুজের বাবা ছিলেন একজন অস্থির প্রকৃতির মানুষ, যিনি প্রায়শই চাকরি পরিবর্তন করতেন এবং পরিবারের সাথে খারাপ ব্যবহার করতেন। এই কারণে, ক্রুজের পরিবারকে প্রায়শই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত হতে হয়েছে। মাত্র ১৪ বছর বয়সে তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয় এবং তিনি তার মা ও তিন বোনের সাথে দারিদ্র্যের মধ্যে জীবনযাপন শুরু করেন। এই কঠিন সময়ে তিনি বিভিন্ন ছোটখাটো কাজ করে পরিবারকে সাহায্য করতেন। তার বাবার সাথে তার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত জটিল; ক্রুজ পরবর্তীতে তার বাবাকে একজন "বুলি" এবং "কাপুরুষ" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিই সম্ভবত তাকে পরবর্তী জীবনে আরও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং পরিশ্রমী হতে অনুপ্রাণিত করেছিল।
শিক্ষাজীবন
পরিবারের ঘন ঘন স্থানান্তরের কারণে টম ক্রুজকে ১৪টি ভিন্ন স্কুলে পড়াশোনা করতে হয়েছে। তিনি পড়াশোনায় খুব একটা ভালো ছিলেন না এবং ডিসলেক্সিয়ায় ভুগছিলেন, যা তার শিক্ষাজীবনকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছিল। প্রাথমিকভাবে, তিনি একজন ক্যাথলিক পুরোহিত হওয়ার কথা ভেবেছিলেন এবং এক বছরের জন্য সিনসিনাটির সেন্ট ফ্রান্সিস সেমিনারিতে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে তিনি নাটক ক্লাসে অংশ নিয়ে অভিনয়ের প্রতি আকৃষ্ট হন। হাইস্কুলে থাকাকালীন তিনি একটি স্কুল নাটকে অংশ নেন এবং সেখানেই তিনি অভিনয়ের প্রতি তার প্রকৃত আবেগ খুঁজে পান। এই আবিষ্কার তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং তিনি অভিনয়ের জগতে পা রাখার সিদ্ধান্ত নেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি নিউ ইয়র্ক সিটিতে চলে আসেন অভিনয়ে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন নিয়ে।
ক্যারিয়ার
শুরুর দিনগুলি ও তারকাখ্যাতি
টম ক্রুজের অভিনয় জীবনের শুরুটা হয়েছিল ১৯৮১ সালে "এন্ডলেস লাভ" চলচ্চিত্রে একটি ছোট ভূমিকার মাধ্যমে। একই বছর তিনি "ট্যাপস" ছবিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তবে, তার প্রথম বড় সাফল্য আসে ১৯৮৩ সালে "রিস্কি বিজনেস" চলচ্চিত্রের মাধ্যমে, যেখানে তার অভিনয় তাকে একজন উঠতি তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এই চলচ্চিত্রের আইকনিক দৃশ্যে তিনি শুধুমাত্র একটি শার্ট এবং মোজা পরে লিপ-সিঙ্কিং করেন, যা আজও জনপ্রিয়।
১৯৮৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত "টপ গান" চলচ্চিত্রটি টম ক্রুজকে আন্তর্জাতিক তারকাখ্যাতি এনে দেয়। এই ছবিতে তিনি নৌবাহিনীর ফাইটার পাইলট পিট 'ম্যাভেরিক' মিচেল চরিত্রে অভিনয় করেন, যা তাকে অ্যাকশন হিরো হিসেবে পরিচিত করে তোলে। চলচ্চিত্রটি বক্স অফিসে ব্যাপক সাফল্য লাভ করে এবং তাকে হলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র ও মাইলফলক
- রেইন ম্যান (Rain Man, ১৯৮৮): ডাস্টিন হফম্যানের সাথে এই ছবিতে অভিনয় করে তিনি সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ান। চলচ্চিত্রটি সেরা চলচ্চিত্রের জন্য একাডেমি পুরস্কার জেতে।
- বর্ন অন দ্য ফোর্থ অফ জুলাই (Born on the Fourth of July, ১৯৮৯): অলিভার স্টোনের এই যুদ্ধবিরোধী নাটকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের অভিজ্ঞ সৈনিক রন কোভিকের চরিত্রে তার অভিনয় তাকে প্রথম গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার এবং সেরা অভিনেতার জন্য একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন এনে দেয়।
- ডেজ অফ থান্ডার (Days of Thunder, ১৯৯০): এই ছবিতে অভিনয় করার সময় তিনি অভিনেত্রী নিকোল কিডম্যানের সাথে পরিচিত হন, যিনি পরবর্তীতে তার স্ত্রী হন।
- এ ফিউ গুড মেন (A Few Good Men, ১৯৯২): জ্যাক নিকলসন এবং ডেমি মুরের সাথে এই কোর্টরুম ড্রামায় তার অভিনয় অত্যন্ত প্রশংসিত হয়।
- জেরি ম্যাগুইয়ার (Jerry Maguire, ১৯৯৬): এই রোমান্টিক কমেডি-ড্রামায় স্পোর্টস এজেন্টের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দ্বিতীয় গোল্ডেন গ্লোব এবং দ্বিতীয় একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন। এই ছবির "শো মি দ্য মানি!" সংলাপটি অত্যন্ত জনপ্রিয়।
- মিশন ইম্পসিবল সিরিজ (Mission: Impossible Series, ১৯৯৬-বর্তমান): এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি টম ক্রুজের ক্যারিয়ারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইথান হান্ট চরিত্রে তার অভিনয়, বিশেষ করে বিপজ্জনক এবং বাস্তবসম্মত স্টান্টগুলি নিজেই করার জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এই সিরিজটি বক্স অফিসে অভূতপূর্ব সাফল্য লাভ করেছে এবং তাকে অ্যাকশন ঘরানার একজন মাস্টার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
- ম্যাগনোলিয়া (Magnolia, ১৯৯৯): এই এনসেম্বল ড্রামায় তার পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় তাকে তৃতীয় গোল্ডেন গ্লোব এবং তৃতীয় একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন এনে দেয়।
- মাইনরিটি রিপোর্ট (Minority Report, ২০০২): স্টিভেন স্পিলবার্গের পরিচালনায় এই সাই-ফাই থ্রিলারটিও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায়।
- দ্য লাস্ট সামুরাই (The Last Samurai, ২০০৩): এই ঐতিহাসিক নাটকে তার অভিনয় তাকে চতুর্থ একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন এনে দেয়।
- ওয়ার অফ দ্য ওয়ার্ল্ডস (War of the Worlds, ২০০৫): স্টিভেন স্পিলবার্গের সাথে তার দ্বিতীয় সহযোগিতা, যা বক্স অফিসে ব্যাপক সাফল্য পায়।
- ভ্যালকিরি (Valkyrie, ২০০৮):
প্রযোজনা
অভিনয়ের পাশাপাশি টম ক্রুজ একজন সফল চলচ্চিত্র প্রযোজকও। ১৯৯২ সালে তিনি তার তৎকালীন এজেন্ট পলা ওয়াগনারের সাথে ক্রুজ/ওয়াগনার প্রোডাকশনস (Cruise/Wagner Productions) প্রতিষ্ঠা করেন। এই প্রযোজনা সংস্থার অধীনে "মিশন ইম্পসিবল" সিরিজের প্রায় সব চলচ্চিত্রই নির্মিত হয়েছে, যা তাকে সৃজনশীল নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক সাফল্যের একটি বড় অংশীদারিত্ব দিয়েছে। তার প্রযোজনা সংস্থা অনেক সফল চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছে, যা তাকে হলিউডের অন্যতম ক্ষমতাধর ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।
উল্লেখযোগ্য অর্জন
টম ক্রুজ তার দীর্ঘ এবং বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন। তিনি তিনটি গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারের বিজয়ী এবং চারটি প্রতিযোগিতামূলক একাডেমি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। ২০১৯ সালে তিনি কান চলচ্চিত্র উৎসবে সম্মানসূচক পাম ডি'অর (Palme d'Or) লাভ করেন, যা তার চলচ্চিত্রের প্রতি আজীবন অবদানকে স্বীকৃতি দেয়। ২০২৪ সালে তিনি একাডেমি সম্মানসূচক পুরস্কারে ভূষিত হন। তার চলচ্চিত্রগুলো বিশ্বব্যাপী $১৩.৩ বিলিয়নের বেশি আয় করেছে, যা তাকে সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়কারী অভিনেতাদের একজন করে তুলেছে।
ক্রুজ তার চলচ্চিত্রের জন্য অবিশ্বাস্য শারীরিক প্রস্তুতির জন্য পরিচিত। তিনি প্রায়শই তার নিজস্ব স্টান্টগুলি নিজেই করেন, যার মধ্যে রয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু ভবন বুর্জ খলিফার বাইরে ঝুলন্ত দৃশ্য, উচ্চ উচ্চতা থেকে লাফ দেওয়া (HALO জাম্প) এবং দ্রুত গতিতে উড়ন্ত বিমানের সাথে সংযুক্ত থাকা। তার এই নিবেদন এবং ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা তাকে দর্শকদের কাছে আরও বেশি প্রিয় করে তুলেছে এবং তার চলচ্চিত্রগুলোকে এক ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। তিনি হলিউডের অল্প কয়েকজন তারকার মধ্যে একজন, যিনি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে শীর্ষস্থানীয় বক্স অফিস আকর্ষণ ধরে রেখেছেন।
ব্যক্তিগত জীবন
টম ক্রুজের ব্যক্তিগত জীবন প্রায়শই গণমাধ্যমের আলোচনার বিষয় হয়েছে। তিনি তিনবার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। তার প্রথম স্ত্রী ছিলেন অভিনেত্রী মিমি রজার্স (১৯৮৭-১৯৯০)। এরপর তিনি ১৯৯০ সালে অস্ট্রেলিয়ান অভিনেত্রী নিকোল কিডম্যানকে বিয়ে করেন। এই দম্পতি হলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি হিসেবে পরিচিত ছিল এবং তাদের দুটি দত্তক সন্তান রয়েছে - ইসাবেলা জেন এবং কনর অ্যান্টনি। ২০০১ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর ২০০৬ সালে তিনি অভিনেত্রী কেটি হোমসকে বিয়ে করেন এবং তাদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে, যার নাম সুরি ক্রুজ। ২০১২ সালে কেটি হোমসের সাথে তার বিচ্ছেদ হয়।
টম ক্রুজ সায়েন্টোলজি ধর্মের একজন কট্টর অনুসারী। এই ধর্মীয় বিশ্বাস তার ব্যক্তিগত জীবন এবং পাবলিক ইমেজে একটি উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে এবং এটি প্রায়শই বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার এই ধর্মীয় সংশ্লিষ্টতা নিয়ে গণমাধ্যমে অনেক জল্পনা-কল্পনা রয়েছে। তবে, তার পেশাদারিত্ব এবং কাজের প্রতি নিষ্ঠা নিয়ে খুব কমই প্রশ্ন উঠেছে।
মজার তথ্য
- টম ক্রুজ ছোটবেলায় ডিসলেক্সিয়ায় ভুগতেন, যা তার পড়াশোনায় প্রভাব ফেলেছিল। তিনি তার এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন।
- তিনি একজন দক্ষ পাইলট এবং "টপ গান: ম্যাভেরিক" চলচ্চিত্রের জন্য তিনি নিজেই একাধিক জেট বিমান চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।
- ক্রুজ তার চলচ্চিত্রে প্রায়শই দৌড়ানোর দৃশ্যের জন্য পরিচিত। এটি তার ট্রেডমার্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
- তিনি তার বিখ্যাত হাসি এবং ক্যারিশমাটিক ব্যক্তিত্বের জন্য পরিচিত, যা তাকে বিশ্বজুড়ে অগণিত ভক্ত এনে দিয়েছে।
- টম ক্রুজ তার ক্যারিয়ারে অনেকবার সেরা অভিনেতার জন্য একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন পেলেও, তিনি এখনও পর্যন্ত কোনো প্রতিযোগিতামূলক অস্কার জেতেননি।
- তার প্রথম চলচ্চিত্র "এন্ডলেস লাভ"-এ তার মাত্র দুটি সংলাপ ছিল।
- তিনি তার ফিটনেস এবং তারুণ্য ধরে রাখার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেন এবং এর জন্য তিনি সুপরিচিত।
উপসংহার
টম ক্রুজ নিঃসন্দেহে হলিউডের ইতিহাসে একজন ব্যতিক্রমী এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। তার ক্যারিশমা, অভিনয় দক্ষতা, এবং বিশেষ করে তার নিজের বিপজ্জনক স্টান্টগুলি করার অতুলনীয় সাহস তাকে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি দর্শকের হৃদয়ে স্থান করে দিয়েছে। "মিশন ইম্পসিবল" সিরিজের মাধ্যমে তিনি অ্যাকশন ঘরানার সংজ্ঞা নতুন করে লিখেছেন এবং প্রমাণ করেছেন যে বয়স কেবল একটি সংখ্যা মাত্র। তার পেশাদারিত্ব, কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং সিনেমার প্রতি তার অদম্য ভালোবাসা তাকে কেবল একজন অভিনেতা হিসেবে নয়, একজন সত্যিকারের চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে। বক্স অফিস সাফল্য, সমালোচকদের প্রশংসা এবং দীর্ঘস্থায়ী তারকাখ্যাতি - সব মিলিয়ে টম ক্রুজ একজন জীবন্ত কিংবদন্তী, যিনি আগামী প্রজন্মের অভিনেতাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন: টম ক্রুজের পুরো নাম কী?
উত্তর: টম ক্রুজের পুরো নাম হলো টমাস ক্রুজ ম্যাপোথার চতুর্থ। তিনি ১৯৬২ সালের ৩ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের সিরাকিউজে জন্মগ্রহণ করেন।
প্রশ্ন: টম ক্রুজ কোন সিনেমার জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত?
উত্তর: টম ক্রুজ "মিশন ইম্পসিবল" চলচ্চিত্র সিরিজের জন্য বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি পরিচিত। এই সিরিজে তিনি ইথান হান্ট চরিত্রে অভিনয় করেন এবং তার বিপজ্জনক স্টান্টগুলির জন্য খ্যাতি লাভ করেন।
প্রশ্ন: টম ক্রুজ কি তার নিজের স্টান্ট করেন?
উত্তর: হ্যাঁ, টম ক্রুজ তার বেশিরভাগ বিপজ্জনক স্টান্ট নিজেই করতে পছন্দ করেন। এটি তার কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং চলচ্চিত্রকে বাস্তবসম্মত করার প্রতি তার অঙ্গীকারের একটি বড় অংশ।
প্রশ্ন: টম ক্রুজ কতগুলি গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার জিতেছেন?
উত্তর: টম ক্রুজ তার ক্যারিয়ারে তিনটি গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার জিতেছেন। এর মধ্যে "বর্ন অন দ্য ফোর্থ অফ জুলাই", "জেরি ম্যাগুইয়ার" এবং "ম্যাগনোলিয়া" চলচ্চিত্রের জন্য পুরস্কার অন্তর্ভুক্ত।
প্রশ্ন: টম ক্রুজের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে কিছু বলুন।
উত্তর: টম ক্রুজ তিনবার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন: মিমি রজার্স, নিকোল কিডম্যান এবং কেটি হোমস। তার কেটি হোমসের সাথে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে, যার নাম সুরি ক্রুজ। তিনি সায়েন্টোলজি ধর্মের একজন অনুসারী।
প্রশ্ন: টম ক্রুজের সর্বশেষ উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র কোনটি?
উত্তর: টম ক্রুজের সর্বশেষ অত্যন্ত সফল চলচ্চিত্র হলো "টপ গান: ম্যাভেরিক" (২০২২)। এটি সমালোচকদের প্রশংসা এবং বক্স অফিসে বিশাল সাফল্য অর্জন করে, যা তার তারকাখ্যাতিকে আরও সুসংহত করে।
প্রশ্ন: টম ক্রুজ কি কোনো অস্কার জিতেছেন?
উত্তর: টম ক্রুজ প্রতিযোগিতামূলক কোনো একাডেমি পুরস্কার (অস্কার) জেতেননি, যদিও তিনি চারটি মনোনয়ন পেয়েছেন। তবে, তিনি একটি সম্মানসূচক পাম ডি'অর এবং একটি একাডেমি সম্মানসূচক পুরস্কার পেয়েছেন।
No comments:
Post a Comment