| তথ্যসারণি | |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | রায়ান রডনি রেনল্ডস |
| জন্ম | ২৩ অক্টোবর ১৯৭৬ |
| জন্মস্থান | ভ্যাঙ্কুভার, ব্রিটিশ কলাম্বিয়া, কানাডা |
| জাতীয়তা | কানাডিয়ান, আমেরিকান |
| পেশা | অভিনেতা, প্রযোজক, ব্যবসায়ী |
| স্ত্রী | স্কারলেট জোহানসন (২০০৮-২০১১), ব্লেক লাইভলি (২০১২-বর্তমান) |
| সন্তান | ৪ জন কন্যা |
| উল্লেখযোগ্য কাজ | ডেডপুল, দ্য প্রপোজাল, ভ্যান ওয়াইল্ডার, ফ্রি গাই |
পরিচিতি
রায়ান রডনি রেনল্ডস, যিনি বিশ্বজুড়ে রায়ান রেনল্ডস নামেই অধিক পরিচিত, একজন কানাডিয়ান-আমেরিকান অভিনেতা, চলচ্চিত্র প্রযোজক এবং সফল ব্যবসায়ী। তার সাবলীল অভিনয়, হাস্যরসাত্মক চরিত্রায়ন এবং সুপারহিরো চলচ্চিত্রে অনবদ্য ভূমিকার জন্য তিনি বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেছেন। বিশেষ করে তার অভিনীত "ডেডপুল" ফ্র্যাঞ্চাইজি তাকে এক ভিন্ন মাত্রার জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে। রেনল্ডস কেবল একজন অভিনেতা নন, তিনি একজন দূরদর্শী উদ্যোক্তাও, যার ব্যবসায়িক উদ্যোগগুলোও বেশ সফল। ফোর্বস ম্যাগাজিনের মতে, তিনি ২০২০ এবং ২০২৪ সালে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক প্রাপ্ত অভিনেতা ছিলেন, যা তার তারকাখ্যাতি এবং বক্স অফিস সাফল্যের প্রমাণ বহন করে।

Photo: Wikimedia Commons
View Source
তার দীর্ঘ এবং বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন, যার মধ্যে দুটি প্রাইমটাইম এমি অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনয়ন, দুটি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনয়ন এবং একটি গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনয়ন উল্লেখযোগ্য। তার অভিনীত চলচ্চিত্রগুলো বিশ্বব্যাপী ৬.৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে, যা তাকে হলিউডের অন্যতম সফল এবং প্রভাবশালী তারকাদের কাতারে স্থান দিয়েছে। রায়ান রেনল্ডস তার ক্যারিশম্যাটিক ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিদীপ্ত হাস্যরস এবং বহুমুখী প্রতিভার জন্য পরিচিত, যা তাকে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় করে তুলেছে।
প্রারম্ভিক জীবন
রায়ান রেনল্ডস ১৯৭৬ সালের ২৩ অক্টোবর কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ভ্যাঙ্কুভারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা জেমস চেস্টার রেনল্ডস ছিলেন একজন ফুড হোলসেলার এবং মা ট্যামি রেনল্ডস ছিলেন একজন খুচরা বিক্রেতা। রায়ান চার ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট। তার পরিবার আইরিশ বংশোদ্ভূত এবং রোমান ক্যাথলিক ঐতিহ্যের অনুসারী ছিল। ভ্যাঙ্কুভারের কিতসিলানো এলাকায় বেড়ে ওঠেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই রায়ান ছিলেন বেশ চঞ্চল এবং কৌতুকপ্রিয়। তার পরিবারের সদস্যরা প্রায়শই তার রসিকতা এবং বুদ্ধিদীপ্ত মন্তব্যে মুগ্ধ হতেন।
শৈশবে রায়ান অভিনয় বা বিনোদন জগতে আসার কথা খুব বেশি ভাবেননি। তবে তার মধ্যে শিল্পীসত্তা লুকায়িত ছিল। তার বড় ভাইয়েরা প্রায়শই তাকে বিভিন্ন বিষয়ে উৎসাহিত করতেন। এই পারিবারিক পরিবেশ তাকে পরবর্তীতে একজন আত্মবিশ্বাসী এবং স্বতঃস্ফূর্ত অভিনেতা হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে। তার প্রারম্ভিক জীবন ছিল সাধারণ কানাডিয়ান পরিবারের মতো, যেখানে কঠোর পরিশ্রম এবং পারিবারিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়া হতো।
শিক্ষাজীবন
রায়ান রেনল্ডস ভ্যাঙ্কুভারের কিতসিলানো সেকেন্ডারি স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। স্কুল জীবনে তিনি তার হাস্যরস এবং সামাজিকতার জন্য বেশ পরিচিত ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন স্কুল নাটকেও অংশগ্রহণ করতেন, যা তার অভিনয় প্রতিভাকে বিকশিত করতে সাহায্য করে। স্কুল শেষ করার পর, তিনি কুইন্সল্যান্ডের কওয়ান্টলান পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন, কিন্তু মাত্র কয়েক মাস পড়াশোনা করার পর তিনি অভিনয়কে পেশা হিসেবে গ্রহণ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দেন।
এই সিদ্ধান্ত ছিল তার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। যদিও তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন দীর্ঘ ছিল না, তবে তিনি তার কর্মজীবনের মাধ্যমে নিজেকে একজন স্বশিক্ষিত এবং অভিজ্ঞ শিল্পী হিসেবে প্রমাণ করেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং কাজের মাধ্যমেই একজন শিল্পী তার সেরাটা দিতে পারে, এবং তার ক্যারিয়ার এই ধারণারই প্রতিফলন।
ক্যারিয়ার
রায়ান রেনল্ডসের অভিনয় জীবন শুরু হয়েছিল ১৯৯১ সালে কানাডিয়ান কিশোর সোপ অপেরা "হিলসাইড" (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে "ফিফটিন" নামে পরিচিত) দিয়ে। এই সিরিজে তিনি বিলি সিম্পসন চরিত্রে অভিনয় করেন। এরপর তিনি বেশ কয়েকটি ছোটখাটো টেলিভিশন শো এবং চলচ্চিত্রে কাজ করেন। ১৯৯৮ সালে তিনি আমেরিকান সিটকম "টু গাইজ অ্যান্ড আ গার্ল" এ মাইকেল "বার্গ" বার্গেন চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। এই শো তাকে তরুণ দর্শকদের কাছে প্রিয় করে তোলে এবং তার কমেডি প্রতিভা তুলে ধরে।
তার প্রথম বড় ব্রেক আসে ২০০২ সালের কমেডি চলচ্চিত্র "ভ্যান ওয়াইল্ডার" এর মাধ্যমে, যেখানে তিনি প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। এই চলচ্চিত্রটি তাকে হলিউডে একজন রোমান্টিক কমেডি তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এরপর তিনি "ব্লেড: ট্রিনিটি" (২০০৪) ছবিতে হ্যানিবল কিং চরিত্রে অভিনয় করে অ্যাকশন ঘরানায় তার দক্ষতা প্রমাণ করেন। ২০০৯ সালে তিনি সান্ড্রা বুলকের বিপরীতে "দ্য প্রপোজাল" ছবিতে অভিনয় করেন, যা একটি বিশাল বাণিজ্যিক সাফল্য লাভ করে এবং তাকে একজন ব্যাংকযোগ্য লিড অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
২০১১ সালে রায়ান রেনল্ডস ডিসি কমিকসের সুপারহিরো "গ্রিন ল্যান্টার্ন" চরিত্রে অভিনয় করেন। যদিও ছবিটি বক্স অফিসে খুব একটা সফল হয়নি এবং সমালোচকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছিল, তবে এটি তাকে সুপারহিরো ঘরানার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। এই অভিজ্ঞতাই পরবর্তীতে তাকে "ডেডপুল" এর মতো একটি আইকনিক চরিত্র তৈরিতে উৎসাহিত করে।
২০১৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত "ডেডপুল" রায়ান রেনল্ডসের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এই ছবিতে তিনি ডেডপুল চরিত্রে অভিনয় করেন এবং এর সহ-প্রযোজনাও করেন। ডেডপুল ছিল একটি আর-রেটেড সুপারহিরো কমেডি, যা প্রচলিত সুপারহিরো চলচ্চিত্রের ধারা ভেঙে নতুন এক দিগন্ত উন্মোচন করে। ছবিটি অভাবনীয় সাফল্য লাভ করে এবং বিশ্বব্যাপী ব্লকবাস্টার হিট হয়। রেনল্ডসের ডেডপুল চরিত্রায়ন এতটাই জনপ্রিয়তা পায় যে তাকে এই চরিত্রের সমার্থক হিসেবে দেখা হয়। ২০১৮ সালে "ডেডপুল ২" মুক্তি পায়, যা প্রথম ছবির মতোই সফল হয়।
ডেডপুলের সাফল্যের পর রায়ান রেনল্ডস আরও বেশ কয়েকটি সফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন, যার মধ্যে "ফ্রি গাই" (২০২১), "রেড নোটিস" (২০২১) এবং "দ্য অ্যাডাম প্রজেক্ট" (২০২২) উল্লেখযোগ্য। এই চলচ্চিত্রগুলো তাকে শুধুমাত্র একজন অভিনেতা হিসেবে নয়, একজন প্রযোজক এবং একজন সৃজনশীল শক্তি হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করে।
অভিনয়ের পাশাপাশি রায়ান রেনল্ডস একজন সফল ব্যবসায়ীও। তিনি মিন্ট মোবাইল (Mint Mobile) নামক একটি মোবাইল অপারেটর কোম্পানির সহ-মালিক ছিলেন, যা ২০২৩ সালে টি-মোবাইলের কাছে বিক্রি হয়। এছাড়াও তিনি এভিয়েশন জিন (Aviation Gin) নামক একটি প্রিমিয়াম জিনের ব্র্যান্ডের মালিক, যা তিনি পরবর্তীতে ডিয়াজিও (Diageo) এর কাছে বিক্রি করেন। তার এই উদ্যোগগুলো তাকে বিনোদন জগতের বাইরেও একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি এনে দিয়েছে।
উল্লেখযোগ্য অর্জন
- ব্লকবাস্টার সাফল্য: রায়ান রেনল্ডসের অভিনীত চলচ্চিত্রগুলো বিশ্বব্যাপী ৬.৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে, যা তাকে সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়কারী অভিনেতাদের একজন করে তুলেছে।
- সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক প্রাপ্ত অভিনেতা: ফোর্বসের তালিকা অনুযায়ী, তিনি ২০২০ এবং ২০২৪ সালে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক প্রাপ্ত অভিনেতা ছিলেন।
- "ডেডপুল" ফ্র্যাঞ্চাইজির সাফল্য: "ডেডপুল" এবং "ডেডপুল ২" উভয়ই বক্স অফিসে বিশাল সাফল্য লাভ করে এবং সমালোচকদের দ্বারা প্রশংসিত হয়, যা প্রচলিত সুপারহিরো ঘরানার বাইরে গিয়ে নতুন ধারা তৈরি করে।
- পুরস্কার ও মনোনয়ন:
- দুটি প্রাইমটাইম এমি অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনয়ন (প্রযোজক হিসেবে)।
- দুটি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনয়ন (সাউন্ডট্র্যাক এবং স্পোকেন ওয়ার্ড অ্যালবামের জন্য)।
- একটি গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনয়ন (ডেডপুল ছবির জন্য সেরা অভিনেতা - মিউজিক্যাল বা কমেডি)।
- ক্রিটিকস চয়েস মুভি অ্যাওয়ার্ডস: সেরা অভিনেতা ইন আ কমেডি (ডেডপুল)।
- পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ডস: ফেভারিট মুভি অ্যাক্টর, ফেভারিট অ্যাকশন মুভি অ্যাক্টর।
- হলিউড ওয়াক অফ ফেম: ২০১৬ সালে হলিউড ওয়াক অফ ফেমে তার নামে একটি তারকা যুক্ত করা হয়, যা তার দীর্ঘ এবং সফল ক্যারিয়ারের স্বীকৃতি।
- ব্যবসায়িক সাফল্য: মিন্ট মোবাইল এবং এভিয়েশন জিনের মতো সফল ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবন
রায়ান রেনল্ডসের ব্যক্তিগত জীবনও প্রায়শই গণমাধ্যমের আলোচনায় এসেছে। ২০০৮ সালে তিনি অভিনেত্রী স্কারলেট জোহানসনকে বিয়ে করেন। এই দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদ হয় ২০১১ সালে। এরপর ২০১২ সালে তিনি অভিনেত্রী ব্লেক লাইভলিকে বিয়ে করেন। ব্লেক লাইভলি এবং রায়ান রেনল্ডস হলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় দম্পতি হিসেবে পরিচিত। তাদের চারটি কন্যা সন্তান রয়েছে, যাদের নাম জেমস, ইনেজ, বেটি এবং চতুর্থ সন্তানের নাম এখনও জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি।
রায়ান এবং ব্লেক তাদের সন্তানদের ব্যক্তিগত জীবনকে গণমাধ্যম থেকে দূরে রাখতে পছন্দ করেন এবং প্রায়শই তাদের পারিবারিক মুহূর্তগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মজার ছলে ভাগ করে নেন। রেনল্ডস তার বুদ্ধিদীপ্ত হাস্যরস এবং আত্ম-অবমাননামূলক কৌতুকের জন্য পরিচিত, যা তিনি তার ব্যক্তিগত জীবনেও প্রয়োগ করেন। তিনি তার পরিবারের প্রতি অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ এবং প্রায়শই তার স্ত্রী ও সন্তানদের প্রতি তার ভালোবাসার কথা প্রকাশ করেন।
অভিনয় এবং ব্যবসার বাইরে রায়ান রেনল্ডস বিভিন্ন দাতব্য ও সামাজিক কার্যক্রমে জড়িত। তিনি মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং পরিবেশ সুরক্ষার মতো বিষয়গুলোতে সক্রিয়ভাবে সমর্থন করেন। তার জনহিতকর কাজগুলো তাকে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবেও পরিচিতি দিয়েছে।
মজার তথ্য
- রায়ান রেনল্ডস তার "ডেডপুল" চরিত্রটিকে এত ভালোবাসতেন যে তিনি চলচ্চিত্রটি তৈরির জন্য প্রায় এক দশক ধরে চেষ্টা করেছিলেন।
- তার উচ্চতা ৬ ফুট ২ ইঞ্চি (১৮৮ সেমি)।
- তিনি একজন কানাডিয়ান এবং আমেরিকান উভয় দেশের নাগরিক।
- রায়ান রেনল্ডস তার কমেডি টাইমিং এবং উইটের জন্য পরিচিত, যা তাকে স্ক্রিনে এবং স্ক্রিনের বাইরে উভয় স্থানেই জনপ্রিয় করে তুলেছে।
- তিনি একজন মার্ভেল কমিকস ফ্যান এবং ডেডপুলের পাশাপাশি গ্রিন ল্যান্টার্ন চরিত্রেও অভিনয় করেছেন, যা তাকে ডিসি এবং মার্ভেল উভয় ইউনিভার্সের অংশ করেছে।
- তার প্রিয় খেলা রাগবি।
- তিনি তার স্ত্রী ব্লেক লাইভলির সাথে প্রায়শই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মজার ছলে একে অপরের সাথে কৌতুক করেন, যা তাদের ভক্তদের কাছে বেশ উপভোগ্য।
উপসংহার
রায়ান রেনল্ডস কেবল একজন সফল অভিনেতা নন, তিনি একজন সংস্কৃতি আইকন যিনি তার হাস্যরস, বহুমুখী অভিনয় এবং ব্যবসায়িক দূরদর্শিতার মাধ্যমে হলিউডে নিজের একটি স্বতন্ত্র স্থান তৈরি করেছেন। "ডেডপুল" এর মতো চরিত্রকে প্রাণবন্ত করে তোলার মাধ্যমে তিনি সুপারহিরো ঘরানার সংজ্ঞা পরিবর্তন করেছেন এবং দর্শকদের কাছে নিজেকে একজন সাহসী এবং উদ্ভাবনী শিল্পী হিসেবে প্রমাণ করেছেন। তার ক্যারিয়ার প্রমাণ করে যে কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং নিজের প্রতি বিশ্বাস থাকলে যেকোনো স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব। অভিনয়, প্রযোজনা এবং ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে রায়ান রেনল্ডস বিনোদন জগতে তার প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন এবং ভবিষ্যতের জন্য তার পথচলা নিঃসন্দেহে আরও উজ্জ্বল হবে। তিনি কেবল একজন তারকা নন, তিনি একজন অনুপ্রেরণা, যিনি দেখিয়েছেন কিভাবে প্রতিভা, বুদ্ধি এবং হাস্যরসের সঠিক মিশ্রণ একজন ব্যক্তিকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিতে পারে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন: রায়ান রেনল্ডসের জন্ম তারিখ কবে?
উত্তর: রায়ান রেনল্ডস ১৯৭৬ সালের ২৩ অক্টোবর কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ভ্যাঙ্কুভারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বর্তমান বয়স ৪৭ বছর (২০২৪ সাল অনুযায়ী)।
প্রশ্ন: রায়ান রেনল্ডস কোন চরিত্রের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত?
উত্তর: রায়ান রেনল্ডস মার্ভেল কমিকসের চরিত্র "ডেডপুল" এর জন্য বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি পরিচিত। তার এই চরিত্রায়ন ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এবং বক্স অফিসে বিশাল সাফল্য এনে দিয়েছে।
প্রশ্ন: রায়ান রেনল্ডসের স্ত্রী কে?
উত্তর: রায়ান রেনল্ডসের বর্তমান স্ত্রী হলেন অভিনেত্রী ব্লেক লাইভলি। তারা ২০১২ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং তাদের চারটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
প্রশ্ন: রায়ান রেনল্ডস কি শুধু অভিনেতা নাকি অন্য কোনো পেশার সাথেও জড়িত?
উত্তর: রায়ান রেনল্ডস একজন সফল অভিনেতা হওয়ার পাশাপাশি একজন চলচ্চিত্র প্রযোজক এবং দূরদর্শী ব্যবসায়ীও। তিনি মিন্ট মোবাইল এবং এভিয়েশন জিনের মতো সফল ব্র্যান্ডের সাথে জড়িত ছিলেন।
প্রশ্ন: রায়ান রেনল্ডস কি কোনো পুরস্কার জিতেছেন?
উত্তর: হ্যাঁ, রায়ান রেনল্ডস তার কর্মজীবনে বেশ কিছু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। এর মধ্যে গোল্ডেন গ্লোব এবং প্রাইমটাইম এমি অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়ন, ক্রিটিকস চয়েস মুভি অ্যাওয়ার্ড এবং পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ড অন্যতম।
প্রশ্ন: রায়ান রেনল্ডসের মোট কতগুলো সন্তান আছে?
উত্তর: রায়ান রেনল্ডস এবং ব্লেক লাইভলির চারটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তাদের নাম জেমস, ইনেজ, বেটি এবং চতুর্থ সন্তানের নাম এখনো জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি।
No comments:
Post a Comment