Full width home advertisement

Politicians

Celebrities

Post Page Advertisement [Top]

মাইকেল জ্যাকসন হলেন একজন কিংবদন্তি আমেরিকান সংগীতশিল্পী, গীতিকার এবং সর্বকালের অন্যতম সেরা নৃত্যশিল্পী, যাঁকে বিশ্বজুড়ে 'পপ সম্রাট' (King of Pop) হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। তাঁর অনবদ্য সুর, যুগান্তকারী নৃত্যশৈলী এবং 'থ্রিলার' (Thriller)-এর মতো সর্বকালের সর্বাধিক বিক্রীত অ্যালবামের মাধ্যমে তিনি বিশ্ব সংগীত ও বিনোদন জগতে যে অবিস্মরণীয় বিপ্লব ঘটিয়েছেন, তা মানব ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল। যারা সংগীতের ইতিহাস, বিশ্বায়নের যুগে পপ কালচার এবং একজন অসাধারণ প্রতিভাবান মানুষের উত্থান-পতনের গল্প জানতে আগ্রহী, তাদের জন্য মাইকেল জ্যাকসন এর জীবনী এক অবশ্য পাঠ্য এবং অনুপ্রেরণামূলক অধ্যায়। তাঁর সৃজনশীলতা শুধু আমেরিকার বিনোদন জগতকে নয়, বরং পুরো বিশ্বের সংস্কৃতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।

 michael-jackson-biographyBy Georges Biard, CC BY-SA 3.0, Link

এক নজরে (Quick Facts)

  • সম্পূর্ণ নাম: মাইকেল জোসেফ জ্যাকসন

  • জন্ম তারিখ: ২৯ আগস্ট, ১৯৫৮

  • জন্মস্থান: গ্যারি, ইন্ডিয়ানা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

  • মৃত্যু তারিখ: ২৫ জুন, ২০০৯

  • জাতীয়তা: আমেরিকান

  • পেশা: সংগীতশিল্পী, গীতিকার, নৃত্যশিল্পী, রেকর্ড প্রযোজক এবং সমাজসেবক

  • উল্লেখযোগ্য কাজ: 'থ্রিলার' (Thriller), 'ব্যাড' (Bad), 'ডেঞ্জারাস' (Dangerous) অ্যালবাম এবং তাঁর বিখ্যাত 'মুনওয়াক' (Moonwalk) নৃত্যশৈলী।

 

প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা

মাইকেল জোসেফ জ্যাকসন ১৯৫৮ সালের ২৯ আগস্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের গ্যারি শহরের একটি আফ্রিকান-আমেরিকান শ্রমজীবী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা জো জ্যাকসন ছিলেন একজন স্থানীয় ইস্পাত কারখানার ক্রেন অপারেটর এবং 'দ্য ফ্যালকন্স' (The Falcons) নামক একটি স্থানীয় রিদম অ্যান্ড ব্লুজ (R&B) ব্যান্ডের গিটারিস্ট। তাঁর মা ক্যাথরিন জ্যাকসন ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ গৃহিণী এবং কান্ট্রি মিউজিকের দারুণ ভক্ত। দশ ভাইবোনের বিশাল পরিবারে মাইকেল ছিলেন অষ্টম। জ্যাকসন পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব একটা সচ্ছল ছিল না। তারা গ্যারি শহরের একটি ছোট দুই কামরার বাড়িতে গাদাগাদি করে বসবাস করতেন।

মাইকেলের শৈশব অন্যান্য সাধারণ শিশুদের মতো মোটেও আনন্দদায়ক ছিল না। সংগীতে তাঁর বাবার অপূর্ণ স্বপ্ন তিনি তাঁর সন্তানদের মাধ্যমে পূরণ করতে চেয়েছিলেন। পরিবারের তীব্র অভাব অনটনের মধ্যেই মাত্র পাঁচ বছর বয়সে মাইকেল তাঁর ভাইদের নিয়ে গঠিত ব্যান্ড 'জ্যাকসন ব্রাদার্স' (যা পরবর্তীতে 'জ্যাকসন ফাইভ' নামে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করে)-এ প্রধান গায়ক ও নৃত্যশিল্পী হিসেবে যোগ দেন। মাইকেলের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বলতে মূলত লস অ্যাঞ্জেলেসের 'মন্টক্লেয়ার কলেজ প্রিপারেটরি স্কুল'-এ কিছুকাল পড়াশোনা, তবে তাঁর শৈশবের একটি বিশাল অংশ কেটেছে স্টুডিওতে রিহার্সাল করে, নাইট ক্লাবে গান গেয়ে এবং বিভিন্ন কনসার্টে পারফর্ম করে।

তাঁর বাবা জো জ্যাকসন অত্যন্ত কঠোর এবং অনেক সময় শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনকারী ছিলেন। নাচে বা গানে সামান্য ভুল হলেই তিনি সন্তানদের চরম শাস্তি দিতেন। বাবার এই কঠোর শৃঙ্খলার কারণেই জ্যাকসন ফাইভ অসামান্য পারদর্শিতা অর্জন করেছিল ঠিকই, কিন্তু এর ফলে মাইকেল তাঁর শৈশবের স্বাভাবিক আনন্দ ও খেলাধুলা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হন। শৈশবের এই বঞ্চনা এবং বাবার সাথে তাঁর ভীতিকর সম্পর্ক মাইকেলের পরিণত বয়সের মনস্তত্ত্বে গভীর প্রভাব ফেলেছিল, যা তিনি পরবর্তীতে তাঁর বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে অশ্রুসিক্ত নয়নে স্বীকার করেছেন।

 

কর্মজীবন ও প্রধান অর্জন

মাইকেল জ্যাকসনের কর্মজীবন কেবল আমেরিকার নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের বিনোদন জগতের একটি সোনালি ও অবিস্মরণীয় অধ্যায়। একজন শিশুশিল্পী থেকে শুরু করে বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত 'পপ সম্রাট' হওয়ার এই দীর্ঘ যাত্রা ছিল অভাবনীয় প্রতিভা এবং কঠোর পরিশ্রমে মোড়ানো।

 

কর্মজীবনের শুরু ও জ্যাকসন ফাইভ

১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে 'জ্যাকসন ফাইভ' (Jackson 5) ব্যান্ডের প্রধান গায়ক হিসেবে মাইকেল জ্যাকসন শ্রোতাদের নজর কাড়তে শুরু করেন। তাঁরা স্থানীয় বিভিন্ন ট্যালেন্ট শো-তে অংশ নিয়ে জয়লাভ করতে থাকেন। ১৯৬৮ সালে তারা বিখ্যাত কৃষ্ণাঙ্গ রেকর্ড লেবেল 'মোটাউন' (Motown)-এর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়। মাত্র ১১ বছর বয়সে মাইকেলের অসামান্য কণ্ঠ, পরিপক্ব আবেগ এবং মঞ্চে তাঁর অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স বিশ্ববাসীকে মুগ্ধ করে। জ্যাকসন ফাইভের প্রথম চারটি সিঙ্গেল— "I Want You Back", "ABC", "The Love You Save", এবং "I'll Be There" — বিলবোর্ড হট ১০০ (Billboard Hot 100) তালিকার শীর্ষে অবস্থান করে এক অনন্য ইতিহাস তৈরি করে। মোটাউনের অধীনে থাকার সময়েই মাইকেল কিশোর বয়সে বেশ কয়েকটি সোলো বা একক অ্যালবাম প্রকাশ করেন, যার মধ্যে ১৯৭১ সালের 'Got to Be There' এবং ১৯৭২ সালের 'Ben' উল্লেখযোগ্য। 'বেন' গানটি ছিল মাইকেলের ক্যারিয়ারের প্রথম একক নাম্বার ওয়ান হিট গান।

 

একক ক্যারিয়ারের উত্থান ও 'অফ দ্য ওয়াল'

১৯৭০-এর দশকের শেষের দিকে মাইকেল জ্যাকসন তাঁর পরিবারের ব্যান্ড থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে এসে পুরোপুরি স্বাধীনভাবে কাজ শুরু করেন। ১৯৭৮ সালে 'দ্য উইজ' (The Wiz) চলচ্চিত্রে কাকতাড়ুয়ার (Scarecrow) চরিত্রে অভিনয় করার সময় কিংবদন্তি সংগীত প্রযোজক কুইন্সি জোন্সের সাথে তাঁর পরিচয় হয়। কুইন্সি জোন্সের প্রযোজনায় ১৯৭৯ সালে প্রকাশিত হয় মাইকেলের যুগান্তকারী একক অ্যালবাম 'অফ দ্য ওয়াল' (Off the Wall)। এই অ্যালবামের ডিস্কো এবং পপ ঘরানার "Don't Stop 'Til You Get Enough" এবং "Rock with You" গানগুলো তাকে বিশ্বজুড়ে বিশাল জনপ্রিয়তা এনে দেয়। এই অ্যালবামের জন্যই তিনি তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন এবং এটি তাঁকে একজন প্রাপ্তবয়স্ক সুপারস্টার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

 

'থ্রিলার' এবং বিশ্বজয়

১৯৮২ সালে প্রকাশিত হয় মাইকেল জ্যাকসনের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সফল এবং পৃথিবীর সংগীত ইতিহাসের সর্বকালের সবচেয়ে বেশি বিক্রীত অ্যালবাম 'থ্রিলার' (Thriller)। এই অ্যালবামের "Billie Jean", "Beat It", এবং "Thriller" গানগুলো তৎকালীন পপ মিউজিকের ধারা ও ধারণা সম্পূর্ণ পাল্টে দেয়। ১৯৮৩ সালে 'মোটাউন ২৫' (Motown 25) নামক একটি টেলিভিশন স্পেশাল অনুষ্ঠানে 'বিলি জিন' গানের পারফরম্যান্সের সময় তিনি প্রথম তাঁর বিখ্যাত 'মুনওয়াক' (Moonwalk) নামক জাদুকরী নৃত্যশৈলী প্রদর্শন করেন, যা বিশ্বজুড়ে এক অভূতপূর্ব ঝড় তোলে।

'থ্রিলার' অ্যালবামের মিউজিক ভিডিওগুলো এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে, এমটিভি (MTV) বাধ্য হয়েছিল কৃষ্ণাঙ্গ শিল্পীদের মিউজিক ভিডিও সম্প্রচার করতে, যা এর আগে তারা বর্ণবাদের কারণে করত না। এই অ্যালবামের মাধ্যমে মাইকেল বর্ণবাদের অদৃশ্য দেয়াল ভেঙে দিয়েছিলেন এবং মিউজিক ভিডিওকে একটি স্বতন্ত্র শিল্পমাধ্যমে রূপান্তর করেছিলেন। 'থ্রিলার' ১৯৮৪ সালের গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডে রেকর্ড সংখ্যক আটটি পুরস্কার জয়লাভ করে, যা আজও এক অনন্য ইতিহাস।

 

সাফল্য ও স্বীকৃতি অব্যাহত রাখা

'থ্রিলার'-এর অভূতপূর্ব সাফল্যের পর ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর বহুল প্রতীক্ষিত 'ব্যাড' (Bad) অ্যালবাম। এই অ্যালবামটিও বাণিজ্যিকভাবে দারুণ সফল হয় এবং বিলবোর্ড তালিকায় পাঁচটি এক নম্বর সিঙ্গেল উপহার দেয়, যা একটি বিশাল রেকর্ড। এরপর মাইকেল তাঁর লাইভ কনসার্টগুলোকে বিশাল থিয়েট্রিক্যাল প্রোডাকশনে পরিণত করেন। ১৯৯১ সালে আসে তাঁর 'ডেঞ্জারাস' (Dangerous) অ্যালবাম এবং ১৯৯৫ সালে 'হিস্ট্রি' (HIStory), যার প্রতিটি অ্যালবামই মিলিয়ন মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছে। ১৯৯৩ সালে তিনি সুপার বোল এক্সএক্সভিআইআই (Super Bowl XXVII) এর হাফটাইম শো-তে পারফর্ম করেন, যা টেলিভিশন সম্প্রচারের ইতিহাসে সুপার বোলের হাফটাইম শো-কে একটি বিশাল বিনোদন ইভেন্টে পরিণত করে।

তাঁর গানগুলোতে শুধু প্রেম নয়, বরং সমাজের বৈষম্য, বর্ণবাদ, পরিবেশ রক্ষা এবং বিশ্ব শান্তির গভীর বার্তাও থাকত। "We Are the World", "Heal the World", "Earth Song" এবং "They Don't Care About Us"-এর মতো গানগুলো প্রমাণ করে যে তিনি কেবল একজন বিনোদনকর্মী ছিলেন না, বরং একজন গভীরভাবে সমাজ সচেতন মানুষ ছিলেন যিনি তাঁর শিল্পের মাধ্যমে পৃথিবীকে পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন।

 

ব্যক্তিগত জীবন

মাইকেল জ্যাকসনের ব্যক্তিগত জীবন তাঁর কর্মজীবনের মতোই অত্যন্ত আলোচিত, রহস্যময় এবং গণমাধ্যমের জন্য একটি মুখরোচক বিষয় ছিল। তিনি তাঁর জীবনে দুবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। ১৯৯৪ সালে তিনি কিংবদন্তি গায়ক এলভিস প্রিসলির কন্যা লিসা মেরি প্রিসলিকে বিয়ে করেন। তবে এই বিয়ে মাত্র দুই বছর টিকে ছিল এবং ১৯৯৬ সালে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। এরপর ১৯৯৬ সালেই তিনি তাঁর চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের সহকারী নার্স ডেবি রো-কে বিয়ে করেন। এই দম্পতির ঘরে প্রিন্স জ্যাকসন এবং প্যারিস জ্যাকসন নামে দুই সন্তানের জন্ম হয়। ১৯৯৯ সালে ডেবির সাথেও তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। পরবর্তীতে ২০০২ সালে এক অজ্ঞাত সারোগেট মায়ের মাধ্যমে তাঁর তৃতীয় সন্তান প্রিন্স মাইকেল জ্যাকসন টু (যিনি 'ব্লাংকেট' বা বিজি নামে বেশি পরিচিত) জন্মগ্রহণ করেন। মাইকেল তাঁর সন্তানদের অত্যন্ত ভালোবাসতেন এবং তাদের গণমাধ্যমের নজর থেকে দূরে রাখতে বাইরে বের হওয়ার সময় তাদের মুখে মাস্ক বা মুখোশ পরিয়ে রাখতেন।

ব্যক্তিগত জীবনে মাইকেল জ্যাকসন তাঁর শারীরিক পরিবর্তনের কারণে মিডিয়ার তীব্র আক্রমণের শিকার হয়েছেন। তাঁর ত্বকের রঙ কালো থেকে ক্রমশ সম্পূর্ণ সাদা হয়ে যাওয়ার কারণে অনেকেই মনে করতেন তিনি কৃষ্ণাঙ্গ পরিচয় মুছে ফেলে প্লাস্টিক সার্জারি করে শ্বেতাঙ্গ হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তিনি 'ভিটিলিগো' (Vitiligo) নামক একটি চর্মরোগে ভুগছিলেন, যার কারণে তাঁর ত্বকের স্বাভাবিক পিগমেন্টেশন নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এছাড়া তিনি নিজের জন্য ক্যালিফোর্নিয়ায় 'নেভারল্যান্ড র‍্যাঞ্চ' (Neverland Ranch) নামে প্রায় ৩,০০০ একরের একটি বিশাল এমিউজমেন্ট পার্ক ও চিড়িয়াখানা সংবলিত স্বপ্নের বাড়ি তৈরি করেছিলেন, কারণ শৈশবে হারিয়ে যাওয়া আনন্দ তিনি প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে সেখানে ফিরে পেতে চাইতেন।

তাঁর জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার এবং যন্ত্রণাদায়ক অধ্যায় ছিল ১৯৯৩ এবং ২০০৩ সালে ওঠা শিশু যৌন নিপীড়নের ভয়াবহ অভিযোগ। ২০০৫ সালে এক দীর্ঘ এবং ক্লান্তিকর আইনি প্রক্রিয়ার পর আদালত তাঁকে সকল অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করে সসম্মানে খালাস দেয়। কিন্তু এই আইনি লড়াই, মিডিয়ার অপপ্রচার এবং বিচার প্রক্রিয়া তাঁর সুনাম, আর্থিক অবস্থা এবং মানসিক স্বাস্থ্যকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। এরপর তিনি অনেকটা লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যান।

 

অবদান ও স্বীকৃতি

২০০৯ সালের ২৫ জুন, মাত্র ৫০ বছর বয়সে 'প্রোপোফল' (Propofol) নামক চেতনানাশক ওষুধের তীব্র বিষক্রিয়ার কারণে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হয়ে মাইকেল জ্যাকসনের আকস্মিক মৃত্যু পুরো বিশ্বকে স্তব্ধ করে দেয়। তিনি তখন তাঁর প্রত্যাবর্তনের কনসার্ট 'দিস ইজ ইট' (This Is It)-এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর খবর এতটাই আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল যে, অতিরিক্ত ট্রাফিকের কারণে গুগল, টুইটার এবং উইকিপিডিয়ার মতো ওয়েবসাইটগুলো সাময়িকভাবে ক্র্যাশ করেছিল।

পপ সংগীত এবং আধুনিক বিনোদন জগতে তাঁর অবদান অপরিসীম এবং তুলনাহীন। তিনিই প্রথম দেখিয়েছিলেন কীভাবে একটি সাধারণ গানকে শর্টফিল্ম বা ছোট চলচ্চিত্রের মতো মিউজিক ভিডিওতে রূপান্তরিত করা যায়। তাঁর রোবট ড্যান্স, মুনওয়াক, অ্যান্টি-গ্র্যাভিটি লিন (Anti-gravity lean), মাথায় পরা কালো ফেডোরা হ্যাট, ডান হাতে একটি সাদা গ্লাভস এবং লাল চামড়ার জ্যাকেট আজও পপ সংস্কৃতির অমোঘ ও আইকনিক প্রতীক। বিয়ন্সে, জাস্টিন টিম্বারলেক থেকে শুরু করে ব্রুনো মার্স—বর্তমান প্রজন্মের প্রায় সকল পপ শিল্পীই তাঁর দ্বারা গভীরভাবে অনুপ্রাণিত।

জীবদ্দশায় মাইকেল জ্যাকসন ৩৯টি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড, ১৫টি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড (যার মধ্যে মর্যাদাপূর্ণ গ্র্যামি লিজেন্ড এবং লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড রয়েছে) এবং ২৬টি আমেরিকান মিউজিক অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন। তিনি পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী। তাঁর দাতব্য কাজও ছিল অনন্য; তিনি ৩৯টি চ্যারিটি বা দাতব্য সংস্থাকে আর্থিকভাবে সহায়তা করতেন এবং তাঁর আয়ের কয়েক মিলিয়ন ডলার আর্তমানবতার সেবায় দান করেছেন। মাইকেল জ্যাকসন কেবল একজন ব্যক্তি নন, তিনি একটি সম্পূর্ণ যুগ এবং একটি আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক বিপ্লব। মৃত্যুর এত বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁর শিল্পকর্ম, গান ও জনপ্রিয়তা একটুও ম্লান হয়নি, যা তাঁকে প্রকৃত অর্থেই সংগীতের ইতিহাসে অমর করে রেখেছে।

 

সচরাচর জিজ্ঞাস্য (FAQs)

১. মাইকেল জ্যাকসনের সবচেয়ে বিখ্যাত ও জনপ্রিয় অ্যালবাম কোনটি?

মাইকেল জ্যাকসনের সবচেয়ে বিখ্যাত এবং সফল অ্যালবাম হলো ১৯৮২ সালে প্রকাশিত 'থ্রিলার' (Thriller)। এটি এখন পর্যন্ত পৃথিবীর সংগীত ইতিহাসের সর্বকালের সবচেয়ে বেশি বিক্রীত অ্যালবাম, যার প্রায় ৭০ মিলিয়নেরও বেশি কপি বিশ্বজুড়ে বিক্রি হয়েছে।

২. মাইকেল জ্যাকসন কীভাবে মারা গিয়েছিলেন?

২০০৯ সালের ২৫ জুন মাইকেল জ্যাকসন তাঁর লস অ্যাঞ্জেলেসের বাসভবনে 'প্রোপোফল' নামক চেতনানাশক ওষুধের ওভারডোজ বা অতিরিক্ত মাত্রার বিষক্রিয়ার কারণে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরবর্তীতে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক কনরাড মারেকে অনিচ্ছাকৃত হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

৩. মাইকেল জ্যাকসনের ত্বকের রঙ কেন কালো থেকে সাদা হয়ে গিয়েছিল?

অনেকের ভুল ধারণা থাকলেও, মাইকেল জ্যাকসন প্রকৃতপক্ষে 'ভিটিলিগো' (Vitiligo) নামক একটি বিরল এবং বংশগত চর্মরোগে আক্রান্ত ছিলেন, যা ত্বকের স্বাভাবিক রঙ বা পিগমেন্টেশন নষ্ট করে দেয়। এই রোগের কারণে সৃষ্ট সাদা দাগগুলো ঢাকতে তিনি মেকআপ ব্যবহার করতেন এবং সময়ের সাথে সাথে তাঁর পুরো ত্বক ফ্যাকাশে বা সাদা হয়ে গিয়েছিল।

No comments:

Post a Comment

Bottom Ad [Post Page]

| Designed by Colorlib