Full width home advertisement

Politicians

Celebrities

Post Page Advertisement [Top]

ডোনাল্ড ট্রাম্প হলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম এবং ৪৭তম রাষ্ট্রপতি, একজন সুপরিচিত বিলিয়নেয়ার ব্যবসায়ী এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। আমেরিকার ইতিহাসে তিনি এক অন্যতম আলোচিত, প্রভাবশালী এবং মেরুকরণ সৃষ্টিকারী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। ডোনাল্ড ট্রাম্প এর জীবনী শুধু একজন ব্যবসায়ীর গল্প নয়, বরং কোনো পূর্ববর্তী রাজনৈতিক বা সামরিক পটভূমি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে আসীন হওয়ার এক অভাবনীয় সাফল্য এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে পুনরায় জয়লাভ করে হোয়াইট হাউসে ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস।

 donald-trump-biographyBy Daniel Torok - White HouseFacebook, Public Domain, Link

এক নজরে (Quick Facts)

  • সম্পূর্ণ নাম: ডোনাল্ড জন ট্রাম্প (Donald John Trump)

  • জন্ম তারিখ: ১৪ জুন, ১৯৪৬

  • জন্মস্থান: কুইন্স, নিউ ইয়র্ক সিটি, যুক্তরাষ্ট্র

  • মৃত্যু তারিখ: প্রযোজ্য নয়

  • জাতীয়তা: আমেরিকান

  • পেশা: রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি

  • উল্লেখযোগ্য কাজ: দ্য ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের নেতৃত্ব, 'দ্য অ্যাপ্রেন্টিস' রিয়েলিটি শো, এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম ও ৪৭তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন।

 

প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা (Early Life and Education)

ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৯৪৬ সালের ১৪ জুন নিউ ইয়র্ক সিটির কুইন্সের জ্যামাইকা এস্টেটসে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ফ্রেড ট্রাম্প ছিলেন একজন অত্যন্ত সফল রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী এবং মা মেরি অ্যান ম্যাকলিওড ট্রাম্প ছিলেন স্কটিশ বংশোদ্ভূত একজন গৃহিণী, যিনি স্কটল্যান্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প ছিলেন চতুর্থ। শৈশব থেকেই ট্রাম্পের মধ্যে প্রচণ্ড শক্তি, আত্মবিশ্বাস এবং স্বাধীনচেতা মনোভাব দেখা গিয়েছিল। তাঁর এই দুরন্তপনার কারণে তাঁর বাবা-মা তাঁকে শৃঙ্খলার মধ্যে রাখার জন্য মাত্র ১৩ বছর বয়সে নিউ ইয়র্ক মিলিটারি একাডেমিতে (NYMA) পাঠিয়ে দেন। মিলিটারি একাডেমিতে তিনি কঠোর সামরিক শৃঙ্খলার মধ্যে বড় হন, সেখানে তিনি খেলাধুলা—বিশেষ করে বেসবল এবং ফুটবল—ও সামাজিক কার্যক্রমে চমৎকার নেতৃত্ব দিতে শেখেন এবং ১৯৬৪ সালে সেখান থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন।

মিলিটারি একাডেমির পাঠ চুকিয়ে তিনি নিউ ইয়র্কের ফোর্ডহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (Fordham University) ভর্তি হন। সেখানে দুই বছর পড়াশোনা করার পর, তিনি পেন্সিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদাপূর্ণ ওয়ারটন স্কুল অব ফাইন্যান্সে (Wharton School of Finance) স্থানান্তরিত হন। ওয়ারটন স্কুলকে বেছে নেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল, সে সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে হাতেগোনা কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে রিয়েল এস্টেট স্টাডিজ বা আবাসন ব্যবসার ওপর আলাদা বিভাগ ছিল, যার মধ্যে ওয়ারটন ছিল সেরা। ১৯৬৮ সালে তিনি ওয়ারটন থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক (বিএসসি) ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই তিনি তাঁর বাবার রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় হাতেখড়ি নেন এবং গ্রীষ্মের ছুটিতে ব্রুকলিন ও কুইন্সের বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পগুলোতে কাজ শুরু করেন। উল্লেখ্য, ভিয়েতনামের যুদ্ধের সময় পায়ের গোড়ালিতে 'বোন স্পারস' বা হাড় বৃদ্ধির কারণে তিনি মেডিকেল ছাড়পত্র পান এবং সামরিক চাকরিতে যোগদান থেকে আইনি অব্যাহতি লাভ করেন।

 

কর্মজীবন ও প্রধান অর্জন (Career and Major Achievements)

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুদীর্ঘ এবং বর্ণাঢ্য কর্মজীবনকে মূলত তিনটি বড় অধ্যায়ে বিভক্ত করা যায়: একটি বিশাল রিয়েল এস্টেট সাম্রাজ্য গড়ে তোলা, মিডিয়া ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব হিসেবে গ্লোবাল ব্র্যান্ডিং, এবং সবশেষে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ক্যারিয়ার।

 

কর্মজীবনের শুরু ও রিয়েল এস্টেট সাম্রাজ্য

স্নাতক শেষ করার পর ট্রাম্প তাঁর বাবার কোম্পানি 'এলিজাবেথ ট্রাম্প অ্যান্ড সান'-এ পূর্ণকালীন কর্মী হিসেবে যোগ দেন, যার নাম তিনি ১৯৭১ সালে পরিবর্তন করে রাখেন 'দ্য ট্রাম্প অর্গানাইজেশন' (The Trump Organization)। বাবার মূলত মধ্যবিত্তদের জন্য ব্রুকলিন এবং কুইন্সে আবাসন ব্যবসার যে মডেল ছিল, ট্রাম্প সেখান থেকে বেরিয়ে এসে ম্যানহাটনের অত্যন্ত লাভজনক ও বিলাসবহুল রিয়েল এস্টেট বাজারে প্রবেশ করেন। ১৯৭০-এর দশকের শেষের দিকে তিনি ম্যানহাটনের ভগ্নপ্রায় কমোডোর হোটেলটি কিনে নেন এবং বিশাল সংস্কারের মাধ্যমে সেটিকে অত্যাধুনিক 'গ্র্যান্ড হায়াত' (Grand Hyatt) হোটেলে রূপান্তরিত করেন, যা তাঁকে প্রথম বড় ধরনের ব্যবসায়িক সাফল্য এনে দেয়।

১৯৮৩ সালে তিনি ম্যানহাটনের ফিফথ অ্যাভিনিউতে তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত স্থাপনা 'ট্রাম্প টাওয়ার' (Trump Tower) নির্মাণ করেন। ৫৮ তলা বিশিষ্ট এই অত্যাধুনিক ভবনটি নিউ ইয়র্কের অন্যতম প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয় এবং ট্রাম্পের বিলাসবহুল ব্র্যান্ডিংয়ের প্রতীক হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে তিনি দ্য প্লাজা হোটেল কিনে নেন এবং নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে ট্রাম্প তাজমহলসহ একাধিক ক্যাসিনো ও হোটেল নির্মাণ করেন। ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে চরম আর্থিক মন্দার কারণে তাঁর ক্যাসিনো ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসা ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হয় এবং তাঁকে বেশ কয়েকবার কর্পোরেট দেউলিয়াত্বের (Bankruptcy) আবেদন করতে হয়। তবে অত্যন্ত ধূর্ত এবং কৌশলী ব্যবসায়ী ট্রাম্প সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে আবার ঘুরে দাঁড়ান। ২০০০ সালের পর থেকে তিনি নিজের নামকে একটি 'ব্র্যান্ড'-এ পরিণত করেন এবং বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন গলফ কোর্স, হোটেল এবং রিসোর্টের লাইসেন্সিং করে বিপুল অর্থ উপার্জন করেন।

 

মিডিয়া এবং বিনোদন জগতে সাফল্য

রিয়েল এস্টেটের পাশাপাশি মিডিয়া এবং বিনোদন জগতেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিচরণ ছিল অসাধারণ। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি 'মিস ইউনিভার্স', 'মিস ইউএসএ' এবং 'মিস টিন ইউএসএ' সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মালিক ছিলেন। তবে তাঁকে বিশ্বজুড়ে ঘরে ঘরে পরিচিত করে তোলে এনবিসি (NBC) টেলিভিশনের বিখ্যাত রিয়েলিটি শো 'দ্য অ্যাপ্রেন্টিস' (The Apprentice), যা ২০০৪ সালে শুরু হয়েছিল। এই শো-তে প্রতিযোগীরা ট্রাম্পের কোম্পানিতে একটি উচ্চ বেতনের ম্যানেজমেন্ট পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেন।

এই শো-এর শেষে বাদ পড়া প্রতিযোগীদের উদ্দেশ্যে ট্রাম্পের বলা বিখ্যাত সংলাপ "ইউ আর ফায়ার্ড!" (You're fired!) বিশ্বব্যাপী তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করে। শো-টি টানা ১৪টি সিজন চলে এবং পরবর্তীতে 'দ্য সেলিব্রিটি অ্যাপ্রেন্টিস' নামেও এর সফল সম্প্রচার হয়। এই শো-টি তাঁকে কেবল একজন সফল ব্যবসায়ী নয়, বরং একজন প্রভাবশালী এবং বুদ্ধিমান মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হিসেবেও সাধারণ মানুষের কাছে প্রতিষ্ঠিত করে। এছাড়াও তিনি ১৯৮৭ সালে 'দ্য আর্ট অফ দ্য ডিল' (The Art of the Deal) নামে একটি ব্যবসা-ভিত্তিক স্মৃতিকথা প্রকাশ করেন, যা বেস্টসেলার তালিকায় শীর্ষে ছিল।

 

রাজনৈতিক উত্থান এবং ৪৫তম রাষ্ট্রপতি (২০১৭-২০২১)

রাজনীতি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রহ আগে থেকেই ছিল। ২০০০ সালে তিনি রিফর্ম পার্টির হয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কথা ভেবেছিলেন, তবে পরে সরে দাঁড়ান। কিন্তু ২০১৫ সালের ১৬ জুন ট্রাম্প টাওয়ারের এস্কেলেটর দিয়ে নেমে এসে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রিপাবলিকান পার্টির হয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেন। তাঁর "মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন" (Make America Great Again বা MAGA) স্লোগানটি আমেরিকানদের, বিশেষ করে শ্রমিক শ্রেণির মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। রাজনৈতিক পণ্ডিত ও মিডিয়ার সমস্ত হিসাব-নিকাশ উল্টে দিয়ে তিনি রিপাবলিকান প্রাইমারিতে ১৬ জন হেভিওয়েট প্রার্থীকে পরাজিত করেন। ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির শক্তিশালী প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে ইলেক্টোরাল কলেজে পরাজিত করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হন।

তাঁর প্রথম মেয়াদে তিনি বেশ কিছু বড় পদক্ষেপ নেন। ২০১৭ সালে তিনি আমেরিকার ইতিহাসে অন্যতম বড় কর কর্তন আইন (Tax Cuts and Jobs Act) স্বাক্ষর করেন। তিনি সুপ্রিম কোর্টে তিনজন রক্ষণশীল বিচারপতি—নিল গোরসাচ, ব্রেট কাভানা এবং অ্যামি কোনি ব্যারেট—নিয়োগ দেন, যা আমেরিকার বিচারব্যবস্থাকে দীর্ঘমেয়াদে রক্ষণশীলদের অনুকূলে নিয়ে যায়। অর্থনীতিতে তিনি 'আমেরিকা ফার্স্ট' (America First) নীতি গ্রহণ করে চীনের বিরুদ্ধে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করেন এবং পুরনো নাফটা (NAFTA) চুক্তি বাতিল করে নতুন ইউএসএমসিএ (USMCA) চুক্তি স্বাক্ষর করেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে 'আব্রাহাম অ্যাকর্ডস' নামে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সম্পাদনে মধ্যস্থতা করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক শাখা 'স্পেস ফোর্স' (Space Force) গঠন করেন। তবে তাঁর প্রথম মেয়াদটি ছিল চরম বিতর্কিত। ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস তাঁকে দুবার ইমপিচ বা অভিশংসন করে—প্রথমে ২০১৯ সালে ইউক্রেন ইস্যুতে এবং পরে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে হামলার প্ররোচনার অভিযোগে। তবে দুবারই তিনি সিনেটে খালাস পান।

 

আইনি লড়াই এবং হোয়াইট হাউসে ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন (৪৭তম রাষ্ট্রপতি)

২০২০ সালের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে পরাজিত হওয়ার পর ট্রাম্প হোয়াইট হাউস ত্যাগ করেন, কিন্তু তিনি নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তাঁর রাজনৈতিক জীবন ছিল অসংখ্য আইনি লড়াইয়ে জর্জরিত। তাঁকে রাষ্ট্রের গোপন নথি সংরক্ষণ, ব্যবসায়িক জালিয়াতি এবং নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে একাধিক ফৌজদারি অভিযোগের (Indictment) সম্মুখীন হতে হয়। নিউ ইয়র্কে একটি ব্যবসায়িক জালিয়াতি মামলায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দোষী সাব্যস্ত হন।

কিন্তু এই সমস্ত আইনি চ্যালেঞ্জ তাঁর রাজনৈতিক ভিত্তি বা 'ম্যাগা' (MAGA) সমর্থকদের দুর্বল করতে পারেনি, বরং তারা আরও ঐক্যবদ্ধ হয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি পুনরায় রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন লাভ করেন। জুলাই ২০২৪ সালে পেনসিলভেনিয়ার বাটলার শহরে একটি নির্বাচনী সমাবেশে তাঁর ওপর সরাসরি বন্দুক হামলা (Assassination attempt) হয়, যেখানে একটি বুলেট তাঁর কান ছুঁয়ে যায়। এই হামলা থেকে অবিশ্বাস্যভাবে বেঁচে গিয়ে তিনি রক্তাক্ত মুখে মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে "ফাইট, ফাইট!" বলে স্লোগান দেন, যা আমেরিকার রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি আইকনিক মুহূর্তে পরিণত হয়।

২০২৪ সালের নভেম্বরের নির্বাচনে তিনি বিপুল জনসমর্থন নিয়ে জয়লাভ করেন এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুনরায় শপথ গ্রহণ করেন। আমেরিকার ইতিহাসে গ্রোভার ক্লিভল্যান্ডের পর ডোনাল্ড ট্রাম্পই হলেন দ্বিতীয় ব্যক্তি, যিনি এক মেয়াদের বিরতির পর দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর এই দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার এবং সরকারি অপচয় রোধে অত্যন্ত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

 

ব্যক্তিগত জীবন (Personal Life)

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জীবন সর্বদা গণমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রে থেকেছে এবং অত্যন্ত বর্ণাঢ্য। তিনি তাঁর জীবনে তিনবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। তাঁর প্রথম স্ত্রী ছিলেন চেক বংশোদ্ভূত মডেল ও ব্যবসায়ী ইভানা জেলনিকোভা। তাঁরা ১৯৭৭ সালে বিয়ে করেন এবং ১৯৯২ সালে তাঁদের আইনি বিচ্ছেদ ঘটে। তাঁদের ঘরে তিন সন্তান—ডোনাল্ড জুনিয়র, ইভাঙ্কা এবং এরিক ট্রাম্প জন্মগ্রহণ করেন, যারা পরবর্তীতে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন এবং রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

প্রথম স্ত্রীর সাথে বিচ্ছেদের পর ১৯৯৩ সালে তিনি অভিনেত্রী মার্লা ম্যাপলসকে বিয়ে করেন। তাঁদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে, যার নাম টিফানি। ১৯৯৯ সালে মার্লার সাথেও ট্রাম্পের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে তিনি স্লোভেনিয়ান মডেল মেলানিয়া ক্নসকে (Melania Knauss) বিয়ে করেন, যিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই মেয়াদেই যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের এক পুত্র সন্তান রয়েছে, যার নাম ব্যারন ট্রাম্প। ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগত জীবনে একজন গলফপ্রেমী এবং বিশ্বজুড়ে তাঁর বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানের গলফ কোর্স রয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, তাঁর বড় ভাই ফ্রেড জুনিয়র অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে অকালে মৃত্যুবরণ করায়, ট্রাম্প তাঁর পুরো জীবনে কখনও অ্যালকোহল পান করেননি বা ধূমপান করেননি। ধর্মীয় বিশ্বাসে তিনি নিজেকে একজন খ্রিস্টান হিসেবে পরিচয় দেন।

 

অবদান ও স্বীকৃতি (Legacy and Impact)

আমেরিকার রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এবং আধুনিক যুগের যেকোনো প্রেসিডেন্টের চেয়ে ভিন্ন। তিনি রিপাবলিকান পার্টিকে একটি চিরাচরিত কর্পোরেট দল থেকে একটি পপুলিস্ট (populist) এবং জাতীয়তাবাদী দলে রূপান্তরিত করেছেন, যা রাজনীতিতে 'ট্রাম্পিজম' (Trumpism) নামে পরিচিতি পেয়েছে। তাঁর নীতিগুলোর কারণে আমেরিকার শ্রমিক শ্রেণি এবং মধ্যবিত্ত সমাজ রিপাবলিকান পার্টির দিকে ব্যাপকভাবে ঝুঁকেছে।

তিনি আধুনিক মিডিয়ার ব্যবহার, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের (যেমন: টুইটার/এক্স এবং তাঁর নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল) মাধ্যমে সরাসরি জনগণের সাথে কথা বলার যে নতুন ধারা তৈরি করেছেন, তা সারা বিশ্বের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সুপ্রিম কোর্ট ও ফেডারেল আদালতগুলোতে তাঁর নিয়োগকৃত রক্ষণশীল বিচারকদের প্রভাব আগামী কয়েক দশক ধরে আমেরিকার আইন প্রণয়নে বজায় থাকবে। তাঁর 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতির কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্য, ন্যাটো (NATO) এবং জলবায়ু চুক্তির মতো আন্তর্জাতিক বিষয়গুলোতে আমেরিকার দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। হাজারো বিতর্ক, অভিশংসন এবং আইনি বাধা সত্ত্বেও ২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে হোয়াইট হাউসে তাঁর প্রত্যাবর্তন প্রমাণ করেছে যে, জনগণের একাংশের কাছে তাঁর আবেদন কতটা শক্তিশালী এবং অটুট। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, দৃঢ় রাজনৈতিক বিশ্বাস থাকলে কোনো প্রথাগত রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড ছাড়াও শীর্ষ পদে পৌঁছানো এবং ইতিহাস তৈরি করা সম্ভব।

 

সচরাচর জিজ্ঞাস্য (FAQs)

১. ডোনাল্ড ট্রাম্প কতবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়েছেন?

ডোনাল্ড ট্রাম্প এ পর্যন্ত দুবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১৬ সালে তিনি ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে এবং এক মেয়াদের বিরতির পর ২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

২. রাজনীতিতে আসার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পেশা কী ছিল?

রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প মূলত একজন স্বনামধন্য রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী, বিলিয়নেয়ার এবং 'দ্য অ্যাপ্রেন্টিস' নামক জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো-এর উপস্থাপক ছিলেন। তিনি তাঁর নিজের কোম্পানি 'দ্য ট্রাম্প অর্গানাইজেশন'-এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে বিলাসবহুল আবাসন ও হোটেল ব্যবসা পরিচালনা করতেন।

৩. ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিখ্যাত নির্বাচনী স্লোগানটি কী?

তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত এবং সফল নির্বাচনী স্লোগানটি হলো "মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন" (Make America Great Again) বা সংক্ষেপে MAGA। এই স্লোগানটি আমেরিকার রাজনীতিতে একটি বিশাল পপুলিস্ট আন্দোলনের রূপ নিয়েছে যা রিপাবলিকান পার্টির মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

No comments:

Post a Comment

Bottom Ad [Post Page]

| Designed by Colorlib