Full width home advertisement

Featured Actors

Popular Biographies

Post Page Advertisement [Top]

তথ্যসারণি

পূর্ণ নামশাহাবুদ্দিন আহমেদ
জন্ম১ ফেব্রুয়ারি ১৯৩০
মৃত্যু১৯ মার্চ ২০২২ (৯২ বছর বয়সে)
জন্মস্থানকেন্দুয়া, নেত্রকোনা, ব্রিটিশ ভারত (বর্তমান বাংলাদেশ)
পেশাবিচারপতি, রাজনীতিবিদ, রাষ্ট্রনায়ক
পরিচিতিবাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতি; তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান
কার্যালয়
  • বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি (১৯৯৬-২০০১)
  • বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি (১৯৯০-১৯৯৫)
  • বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি (১৯৯০-১৯৯১)
স্ত্রীবেগম সায়েদা রেবেকা আহমেদ
জাতীয়তাবাংলাদেশী
ধর্মইসলাম

পরিচিতি

শাহাবুদ্দিন আহমেদ (১৯৩০-২০২২) ছিলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও বিচারিক অঙ্গনের এক কিংবদন্তী পুরুষ। তিনি একাধারে বাংলাদেশের চতুর্থ প্রধান বিচারপতি এবং পরবর্তীতে দুই মেয়াদের জন্য দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার কর্মজীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়টি হলো ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে তার ভূমিকা। সেসময় তিনি এক ঐতিহাসিক দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন এবং একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করেন। তার সততা, নিরপেক্ষতা, প্রজ্ঞা এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধের প্রতি অবিচল আস্থা তাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে, যার অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।

Shahabuddin Ahmed

Photo: Wikimedia Commons
View Source

প্রারম্ভিক জীবন

শাহাবুদ্দিন আহমেদ ১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের দেওগাঁও গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও শিক্ষানুরাগী মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা তালুকদার রিসাত আহমেদ ছিলেন এলাকার একজন স্বনামধন্য সমাজসেবী ও স্থানীয় জননেতা, যিনি এলাকার মানুষের কল্যাণে নিবেদিত ছিলেন। মায়ের নাম ছিল নূরজাহান বেগম। শাহাবুদ্দিন আহমেদ ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ও পড়াশোনায় মনোযোগী ছিলেন। তার পরিবারে ন্যায় ও নৈতিকতার চর্চা ছিল প্রবল, যা তাকে শৈশব থেকেই সততা ও আদর্শের পথে চলতে অনুপ্রাণিত করেছিল। গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে উঠলেও, তার মধ্যে ছিল বৃহত্তর সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা।

শিক্ষাজীবন

শাহাবুদ্দিন আহমেদের শিক্ষাজীবন শুরু হয় নিজ গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর তিনি ময়মনসিংহ জিলা স্কুলে ভর্তি হন, যা সেসময়ের অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল। সেখান থেকে তিনি ১৯৪৬ সালে কৃতিত্বের সাথে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর ১৯৪৮ সালে তিনি ময়মনসিংহ আনন্দ মোহন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ঢাকার বুকে পাড়ি জমান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৫১ সালে তিনি অর্থনীতিতে বি.এ (অনার্স) ডিগ্রি এবং ১৯৫২ সালে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন। তার এই বিস্তৃত জ্ঞান তাকে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে গভীর ধারণা প্রদান করে। আইন বিষয়ে তার আগ্রহ ছিল প্রবল, তাই ১৯৫৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএল.বি ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি আরও উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য যুক্তরাজ্যে যান এবং ১৯৫৬ সালে লন্ডনের বিখ্যাত লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স (LSE) থেকে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তার এই সুদূরপ্রসারী ও বহুমুখী শিক্ষাজীবন তাকে বিচার বিভাগ এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রয়োজনীয় জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা অর্জনে সহায়তা করেছিল।

ক্যারিয়ার

শাহাবুদ্দিন আহমেদের কর্মজীবন ছিল দীর্ঘ, গৌরবময় এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ। ১৯৫৫ সালে তিনি তৎকালীন পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে (সিএসপি) যোগদান করেন, যা সেসময়ের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সরকারি চাকরি ছিল। সিএসপি কর্মকর্তা হিসেবে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালন করেন, যা তাকে রাষ্ট্রীয় প্রশাসন সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রদান করে। তবে তার মূল লক্ষ্য ছিল বিচার বিভাগের প্রতি।

বিচার বিভাগীয় ক্যারিয়ার

  • ১৯৬০ সালে শাহাবুদ্দিন আহমেদ বিচার বিভাগে স্থানান্তরিত হন। এরপর তিনি ঢাকা ও খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে তিনি অসংখ্য মামলার বিচারকার্য পরিচালনা করেন এবং তার নিরপেক্ষতা ও বিচক্ষণতা সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
  • ১৯৬৭ সালে তাকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। এই পদে থেকে তিনি বিচারিক প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন।
  • বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর, ১৯৭২ সালে তাকে নবগঠিত বাংলাদেশ হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। স্বাধীন দেশের বিচার ব্যবস্থার বিকাশে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
  • ১৯৮০ সালে তিনি হাইকোর্ট থেকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে উন্নীত হন, যা বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ স্তরের একটি পদ।
  • ১৯৮৯ সালের ১৪ জানুয়ারি শাহাবুদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশের চতুর্থ প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। দেশের সর্বোচ্চ বিচারিক পদে আসীন হয়ে তিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন সমুন্নত রাখা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষায় নিরলস কাজ করেন। তার নেতৃত্বে বিচার বিভাগ অনেক গুরুত্বপূর্ণ রায় প্রদান করে, যা দেশের আইন ও সংবিধানের ব্যাখ্যায় নতুন মাত্রা যোগ করে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার

১৯৯০ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে যখন সারা দেশে গণঅভ্যুত্থান চলছিল এবং রাজনৈতিক সংকট চরমে পৌঁছেছিল, তখন শাহাবুদ্দিন আহমেদ এক ঐতিহাসিক দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। ৪ ডিসেম্বর ১৯৯০ সালে এরশাদ পদত্যাগের ঘোষণা দেন এবং প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন। এই প্রস্তাব গ্রহণ করতে শাহাবুদ্দিন আহমেদ প্রথমে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন, কারণ তিনি বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর ছিলেন। কিন্তু জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এবং একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে তিনি এই গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে তিনি একটি শর্ত দেন যে, দায়িত্ব শেষে তিনি তার পূর্বের প্রধান বিচারপতির পদে ফিরে যাবেন। এই শর্ত মেনে নেওয়া হয় এবং ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ সালে তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ নেন।

তার নেতৃত্বে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার অত্যন্ত দক্ষতা, সততা ও নিরপেক্ষতার সাথে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করে। এই নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হিসেবে সর্বমহলে প্রশংসিত হয়। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয় এবং একটি নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়। নির্বাচন শেষে, তিনি তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির পদে ফিরে যান এবং ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন। দেশের ইতিহাসে এটি একটি বিরল ঘটনা ছিল, যেখানে একজন ব্যক্তি রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন শেষে তার পূর্বের পেশাগত পদে ফিরে আসেন।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর, সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শাহাবুদ্দিন আহমেদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেন। ১৪ জুলাই ১৯৯৬ সালে তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হন এবং ৯ অক্টোবর ১৯৯৬ সালে শপথ গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার প্রধান কাজ ছিল সংবিধান ও সংসদীয় রীতিনীতি মেনে চলা, রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে দেশের ঐক্য ও সংহতির প্রতীক হিসেবে কাজ করা এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করা। তিনি দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে দেশের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করেছেন। ২০০১ সালের ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত তিনি এই পদে দায়িত্ব পালন করেন, যা ছিল তার দ্বিতীয়বার রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন।

উল্লেখযোগ্য অর্জন

  • গণতন্ত্রের স্থপতি: ১৯৯০-৯১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের সফল পুনঃপ্রতিষ্ঠা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় এবং অবিস্মরণীয় অর্জন। এই পদক্ষেপ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে এবং তাকে 'গণতন্ত্রের স্থপতি' হিসেবে পরিচিতি এনে দেয়।
  • বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও মর্যাদা: প্রধান বিচারপতি হিসেবে তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষায় আপোষহীন ছিলেন। তার সময়ে বিচারিক প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং কার্যকর করার প্রচেষ্টা চালানো হয়, যা বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা বাড়াতে সাহায্য করে।
  • সততা ও নিরপেক্ষতার প্রতীক: তার দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি সততা, নিরপেক্ষতা এবং নৈতিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে তার ভূমিকা সর্বমহলে প্রশংসিত হয় এবং তিনি দেশের রাজনৈতিক সংকটে আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠেন।
  • সাংবিধানিক মূল্যবোধের ধারক: তিনি সবসময় সাংবিধানিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন এবং গণতান্ত্রিক আদর্শের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। তার কর্ম ও সিদ্ধান্তগুলো সংবিধানের প্রতি তার অঙ্গীকারের প্রতিফলন ছিল, যা তাকে একজন আদর্শ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
  • ক্ষমতার প্রতি নির্মোহ: রাষ্ট্রপ্রধানের মতো সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর পদ ছেড়ে পুনরায় প্রধান বিচারপতির পদে ফিরে আসার মতো ঘটনা তার ক্ষমতার প্রতি নির্মোহতা এবং উচ্চ নৈতিকতার পরিচায়ক। এটি তাকে একজন বিরল ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।

ব্যক্তিগত জীবন

শাহাবুদ্দিন আহমেদ ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন অত্যন্ত সাদাসিধে, বিনয়ী এবং নির্মোহ। তিনি বেগম সায়েদা রেবেকা আহমেদকে বিয়ে করেন এবং তাদের দাম্পত্য জীবন ছিল সুখের। তাদের সংসারে দুই পুত্র ও তিন কন্যা সন্তান রয়েছে। তিনি তার পরিবারকে যথেষ্ট সময় দিতেন এবং ব্যক্তিগত জীবনে ধর্মীয় অনুশাসন ও সামাজিক মূল্যবোধ মেনে চলতেন। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি নিভৃত জীবনযাপন করতেন এবং জনসমক্ষে খুব বেশি আসতেন না। তার বিনয়ী স্বভাব এবং সাধারণ জীবনযাপন তাকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও প্রিয় করে তুলেছিল। তিনি নিজের ব্যক্তিগত খ্যাতি বা ক্ষমতার চেয়ে দেশের স্বার্থকেই সর্বদা ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছেন।

উপসংহার

শাহাবুদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশের ইতিহাসের এক ক্রান্তিকালে জাতিকে সঠিক পথে চালিত করার ক্ষেত্রে এক অসামান্য অবদান রেখেছেন। প্রধান বিচারপতি হিসেবে তার বিচক্ষণতা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে তার সাহসিকতা, নিরপেক্ষতা ও প্রজ্ঞা তাকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে। গণতন্ত্রের প্রতি তার অবিচল আস্থা, আইনের শাসনের প্রতি তার অঙ্গীকার এবং ক্ষমতার প্রতি তার নির্মোহতা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণা। তিনি ছিলেন এমন একজন বিরল ব্যক্তিত্ব যিনি ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করেও নিজের সততা, আদর্শ এবং নৈতিক মূল্যবোধ থেকে কখনো বিচ্যুত হননি। ১৯ মার্চ ২০২২ সালে ৯২ বছর বয়সে তার মহাপ্রয়াণ হয়, কিন্তু তার কর্ম, আদর্শ এবং অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি একাধারে একজন সফল বিচারপতি, একজন নির্ভীক রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন আদর্শ মানব হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন: শাহাবুদ্দিন আহমেদ কে ছিলেন?

উত্তর: শাহাবুদ্দিন আহমেদ ছিলেন বাংলাদেশের একজন বরেণ্য রাজনীতিবিদ, সাবেক প্রধান বিচারপতি এবং দুই মেয়াদের সাবেক রাষ্ট্রপতি। তিনি ১৯৯০-৯১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

প্রশ্ন: শাহাবুদ্দিন আহমেদ কখন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন?

উত্তর: শাহাবুদ্দিন আহমেদ ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর থেকে ১৯৯১ সালের ৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে তিনি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করেন এবং ক্ষমতা নির্বাচিত সরকারের কাছে হস্তান্তর করেন।

প্রশ্ন: তিনি কখন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন?

উত্তর: ১৯৯৬ সালের ১৪ জুলাই শাহাবুদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হন এবং ৯ অক্টোবর ১৯৯৬ সালে শপথ গ্রহণ করেন। তিনি ২০০১ সালের ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত এই পদে দায়িত্ব পালন করেন, যা ছিল তার দ্বিতীয়বার রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন।

প্রশ্ন: শাহাবুদ্দিন আহমেদ বিচার বিভাগে কী অবদান রেখেছেন?

উত্তর: শাহাবুদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশের চতুর্থ প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও নিরপেক্ষতা রক্ষায় সচেষ্ট ছিলেন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

প্রশ্ন: শাহাবুদ্দিন আহমেদের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অর্জন কী?

উত্তর: শাহাবুদ্দিন আহমেদের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অর্জন হলো ১৯৯০-৯১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের সফল পুনঃপ্রতিষ্ঠা। এটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

প্রশ্ন: শাহাবুদ্দিন আহমেদ কবে মৃত্যুবরণ করেন?

উত্তর: শাহাবুদ্দিন আহমেদ ২০২২ সালের ১৯ মার্চ ৯২ বছর বয়সে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) মৃত্যুবরণ করেন।

প্রশ্ন: শাহাবুদ্দিন আহমেদের জন্মস্থান কোথায়?

উত্তর: শাহাবুদ্দিন আহমেদ ১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের দেওগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Bottom Ad [Post Page]