তথ্যসারণি
| বিবরণ | তথ্য |
|---|---|
| নাম | SEVENTEEN (সেভেনটিন) |
| পেশা | কে-পপ বয় ব্যান্ড, সঙ্গীতশিল্পী |
| জাতীয়তা | দক্ষিণ কোরীয় |
| সদস্য সংখ্যা | ১৩ জন |
| প্রতিষ্ঠাতা সংস্থা | প্লেডিস এন্টারটেইনমেন্ট |
| প্রতিষ্ঠাকাল | ২৬ মে ২০১৫ |
| অন্যান্য পরিচিতি | 'সেল্ফ-প্রডিউসিং' আইডল গ্রুপ |
| ফ্যানডম নাম | ক্যারাট (CARAT) |
পরিচিতি
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গীত জগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হলো SEVENTEEN, যা সেভেনটিন নামে পরিচিত। প্লেডিস এন্টারটেইনমেন্টের অধীনে গঠিত এই ১৩ সদস্যের বয় ব্যান্ডটি ২০১৫ সালে আত্মপ্রকাশ করে। তাদের অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো তারা 'সেল্ফ-প্রডিউসিং' আইডল গ্রুপ হিসেবে পরিচিত। এর অর্থ হলো, ব্যান্ডের সদস্যরা নিজেরাই তাদের গানের কথা লেখা, সুর তৈরি, সঙ্গীত উৎপাদন এবং কোরিওগ্রাফি সহ সঙ্গীতের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে জড়িত। এই স্বকীয়তা এবং সৃজনশীলতাই সেভেনটিনকে অন্যান্য কে-পপ গ্রুপের থেকে আলাদা করে তুলেছে এবং বিশ্বজুড়ে অসংখ্য ভক্তের মন জয় করেছে।
Photo: Wikimedia Commons
View Source
গ্রুপটির নামকরণ করা হয়েছে এর ১৩ জন সদস্য, ৩টি সাব-ইউনিট (হিপ-হপ, ভোকাল এবং পারফরম্যান্স) এবং ১টি সম্মিলিত দল—এই তিনটি সংখ্যার যোগফল (১৩+৩+১=১৭) থেকে। এই নামটি তাদের ঐক্যবদ্ধ শক্তি এবং বহুমুখী প্রতিভার প্রতীক। এস.কুপস (S.Coups), জেওংহান (Jeonghan), জোশুয়া (Joshua), জুন (Jun), হোশি (Hoshi), ওনউ (Wonwoo), উজি (Woozi), ডিকে (DK), মিংগ্যু (Mingyu), দ্যএইট (The8), সেউংকোয়ান (Seungkwan), ভার্নন (Vernon) এবং ডিনো (Dino)—এই ১৩ জন প্রতিভাবান শিল্পী তাদের অসাধারণ পরিবেশনা, শক্তিশালী কণ্ঠ এবং আকর্ষণীয় কোরিওগ্রাফির মাধ্যমে কে-পপ শিল্পে নিজেদের একটি বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন।
প্রারম্ভিক জীবন
সেভেনটিনের যাত্রা শুরু হয়েছিল তাদের ডেবিউয়ের বহু আগে, প্লেডিস এন্টারটেইনমেন্টের কঠোর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে। সদস্যরা বছরের পর বছর ধরে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন, যা তাদের দক্ষতা এবং দলগত বোঝাপড়ার ভিত্তি স্থাপন করে। তাদের প্রাক-ডেবিউ কার্যকলাপ 'সেভেনটিন টিভি' (SEVENTEEN TV) নামক একটি অনলাইন রিয়েলিটি শো-এর মাধ্যমে জনসাধারণের কাছে উন্মোচিত হয়। এই শোতে সদস্যরা তাদের প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া, গান তৈরি এবং পারফরম্যান্সের প্রস্তুতি দেখাতেন। এটি ভক্তদের সাথে তাদের একটি প্রাথমিক সংযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করে এবং তাদের ডেবিউয়ের আগেই একটি শক্তিশালী ফ্যানবেস তৈরি করে।
এই সময় থেকেই সদস্যরা তাদের সঙ্গীতের প্রতি গভীর আগ্রহ এবং সৃজনশীল প্রতিভা প্রদর্শন করতে শুরু করেন। উজি প্রধান সুরকার হিসেবে এবং হোশি প্রধান কোরিওগ্রাফার হিসেবে তাদের ভূমিকা পালন করা শুরু করেন, যা তাদের 'সেল্ফ-প্রডিউসিং' আইডল হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পথ সুগম করে। দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং দলগত প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ, সেভেনটিন তাদের ডেবিউয়ের জন্য প্রস্তুত হয়, যা কে-পপ শিল্পে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।
ক্যারিয়ার
সেভেনটিন আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১৫ সালের ২৬শে মে তাদের প্রথম মিনি অ্যালবাম ১৭ ক্যারাট (17 Carat) এবং টাইটেল ট্র্যাক "অ্যাডোর ইউ" (Adore U) এর মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে। তাদের ডেবিউ ছিল কে-পপ ইতিহাসে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করা, কারণ তারা একটি লাইভ ডেবিউ শোকেসের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেছিল যা টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হয়। এটি ছিল তাদের আত্মবিশ্বাসের প্রতীক এবং তাদের পারফরম্যান্স দক্ষতার প্রমাণ। প্রথম অ্যালবামটি বিলবোর্ডের ওয়ার্ল্ড অ্যালবাম চার্টে ৯ম স্থানে পৌঁছেছিল, যা একটি ডেবিউ গ্রুপের জন্য অসাধারণ সাফল্য ছিল।
এরপর তাদের দ্বিতীয় মিনি অ্যালবাম বয়েজ বি (Boys Be) প্রকাশিত হয়, যার টাইটেল ট্র্যাক ছিল "মানসে" (Mansae)। এই অ্যালবামটিও ব্যাপক সাফল্য লাভ করে এবং তাদের জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পায়। ২০১৬ সালে তাদের প্রথম স্টুডিও অ্যালবাম লাভ অ্যান্ড লেটার (Love & Letter) প্রকাশিত হয়, যার টাইটেল ট্র্যাক "প্রেটি ইউ" (Pretty U) তাদের প্রথম সঙ্গীত শো জয়ের গৌরব এনে দেয়। এটি ছিল তাদের কঠোর পরিশ্রমের ফল এবং ভক্তদের ভালোবাসার প্রতিদান।
সেভেনটিনের ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তাদের তিনটি সাব-ইউনিট: হিপ-হপ ইউনিট (এস.কুপস, ওনউ, মিংগ্যু, ভার্নন), ভোকাল ইউনিট (জেওংহান, জোশুয়া, উজি, ডিকে, সেউংকোয়ান) এবং পারফরম্যান্স ইউনিট (জুন, হোশি, দ্যএইট, ডিনো)। এই ইউনিটগুলো তাদের নিজস্ব স্টাইলে গান প্রকাশ করে এবং ব্যান্ডের সামগ্রিক সঙ্গীতকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তোলে। উজি ব্যান্ডের প্রধান সুরকার হিসেবে অসংখ্য হিট গান তৈরি করেছেন, এবং হোশি তার উদ্ভাবনী কোরিওগ্রাফির মাধ্যমে সেভেনটিনের পারফরম্যান্সকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
২০১৭ সালে "ডোন্ট ওয়ানা ক্রাই" (Don't Wanna Cry) গানটি তাদের আন্তর্জাতিক পরিচিতি এনে দেয়। এই গানটি তাদের সঙ্গীত শৈলীতে একটি নতুন মোড় নিয়ে আসে এবং বিশ্বজুড়ে কে-পপ ভক্তদের কাছে তাদের জনপ্রিয়তা বাড়ায়। এরপর "ক্ল্যাপ" (Clap), "হোম" (Home), "লেফট অ্যান্ড রাইট" (Left & Right), "রক উইথ ইউ" (Rock With You), "হট" (HOT), "সুপার" (Super) এবং "গড অফ মিউজিক" (God of Music) এর মতো অসংখ্য হিট গান দিয়ে তারা নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করে। তাদের প্রতিটি কামব্যাকই নতুন কিছু নিয়ে আসে এবং ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি করে।
সেভেনটিন কেবল দক্ষিণ কোরিয়াতেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। তারা জাপান, আমেরিকা এবং ইউরোপ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সফল ট্যুর করেছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ডায়মন্ড এজ (Diamond Edge), ওড টু ইউ (Ode to You) এবং বি দ্য সান (Be The Sun) ওয়ার্ল্ড ট্যুর। তাদের জাপানিজ ডেবিউও অত্যন্ত সফল ছিল, এবং তারা সেখানে অসংখ্য সিঙ্গেল ও অ্যালবাম প্রকাশ করেছে যা চার্টে শীর্ষস্থান দখল করেছে।
তাদের সঙ্গীত কেবল বিনোদনই নয়, প্রায়শই গভীর বার্তা বহন করে, যা তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা যোগায়। তাদের 'সেল্ফ-প্রডিউসিং' মডেলটি কে-পপ শিল্পে একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে এবং অনেক তরুণ শিল্পীকে অনুপ্রাণিত করেছে। সেভেনটিনের সদস্যরা তাদের সঙ্গীত এবং পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজেদের গল্প বলে চলেছেন, যা তাদের ভক্তদের সাথে একটি গভীর সংযোগ তৈরি করেছে।
উল্লেখযোগ্য অর্জন
সেভেনটিন তাদের ক্যারিয়ারে অসংখ্য উল্লেখযোগ্য অর্জন এবং সম্মান লাভ করেছে, যা তাদের কে-পপ ইতিহাসের অন্যতম সফল গ্রুপ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাদের কিছু প্রধান অর্জন নিচে উল্লেখ করা হলো:
- সঙ্গীত শো জয়: ডেবিউয়ের পর থেকেই তারা বিভিন্ন জনপ্রিয় সঙ্গীত অনুষ্ঠানে (যেমন – The Show, Show Champion, M Countdown, Music Bank, Inkigayo) অসংখ্যবার প্রথম স্থান অধিকার করেছে।
- ডেসং পুরস্কার: সেভেনটিন বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অনুষ্ঠানে 'ডেসং' (Grand Prize) অর্জন করেছে, যা কে-পপ শিল্পে সর্বোচ্চ সম্মান হিসেবে বিবেচিত। এর মধ্যে রয়েছে MAMA অ্যাওয়ার্ডস, গোল্ডেন ডিস্ক অ্যাওয়ার্ডস, সিউল মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস এবং এশিয়া আর্টিস্ট অ্যাওয়ার্ডস থেকে প্রাপ্ত পুরস্কার।
- মিলিয়ন-সেলিং অ্যালবাম: তাদের বেশ কয়েকটি অ্যালবাম মিলিয়ন কপি বিক্রির মাইলফলক অতিক্রম করেছে, যা তাদের ব্যাপক জনপ্রিয়তা এবং বাণিজ্যিক সাফল্যের প্রমাণ। অ্যাটাকা (Attacca), ফেইস দ্য সান (Face the Sun), সেভেনটিনথ হেভেন (Seventeenth Heaven) এর মতো অ্যালবামগুলো এই তালিকায় রয়েছে।
- আন্তর্জাতিক চার্ট সাফল্য: বিলবোর্ড ওয়ার্ল্ড অ্যালবাম চার্ট এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সঙ্গীত চার্টে তাদের অ্যালবামগুলো নিয়মিতভাবে শীর্ষস্থানে থাকে। তারা বিলবোর্ড ২০০-তেও স্থান করে নিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের ইঙ্গিত দেয়।
- পারফরম্যান্স কিং: তাদের শক্তিশালী এবং সুসংগঠিত কোরিওগ্রাফির জন্য সেভেনটিনকে প্রায়শই 'পারফরম্যান্স কিং' হিসেবে অভিহিত করা হয়। প্রতিটি পারফরম্যান্সেই তারা তাদের কঠোর পরিশ্রম এবং নিখুঁত সমন্বয় প্রদর্শন করে।
- জাতিসংঘের সাথে সহযোগিতা: সেভেনটিন ইউনিসেফ (UNICEF) এর সাথে বিভিন্ন জনহিতকর প্রকল্পে কাজ করেছে, যেমন 'লাভ ইওরসেল্ফ' (Love Yourself) ক্যাম্পেইন, যা তরুণদের মধ্যে আত্মসম্মান বৃদ্ধি এবং সহিংসতা রোধে সহায়তা করে।
এই অর্জনগুলো সেভেনটিনের কেবল সঙ্গীতগত সাফল্যই নয়, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং ইতিবাচক প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতাকেও তুলে ধরে।
ব্যক্তিগত জীবন
সেভেনটিনের সদস্যরা তাদের পেশাদার জীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও একে অপরের সাথে গভীর বন্ধনে আবদ্ধ। দীর্ঘ প্রশিক্ষণকাল এবং একসাথে বেড়ে ওঠার কারণে তারা একে অপরকে একটি পরিবারের মতো মনে করে। এই ১৩ জন সদস্যের মধ্যে যে সখ্যতা ও বোঝাপড়া রয়েছে, তা তাদের পারফরম্যান্সেও প্রতিফলিত হয়। তারা একে অপরের শক্তি এবং দুর্বলতা সম্পর্কে অবগত এবং একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।
তাদের ব্যক্তিগত জীবন সাধারণত জনসমক্ষে খুব বেশি আসে না, তবে তারা প্রায়শই তাদের 'ক্যারাট' (CARAT) নামক ফ্যানডমের প্রতি তাদের ভালোবাসা এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। ভক্তদের সাথে তাদের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং সম্মানজনক। তারা নিয়মিতভাবে ফ্যানদের সাথে যোগাযোগ রাখে এবং তাদের সমর্থনকে তাদের সাফল্যের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখে। কঠোর পরিশ্রম, বিনয় এবং একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তাদের ব্যক্তিগত মূল্যবোধের অংশ। তাদের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো 'গোয়িং সেভেনটিন' (Going Seventeen) এর মাধ্যমে ভক্তরা তাদের মজার এবং বন্ধুত্বপূর্ণ দিকটি দেখতে পায়, যা তাদের আরও বেশি মানবিক এবং আপন করে তোলে।
মজার তথ্য
- সেভেনটিনের ১৩ জন সদস্য, ৩টি ইউনিট এবং ১টি দল মিলে মোট ১৭ সংখ্যাটি গঠিত হয়েছে, যা তাদের নামের উৎস।
- ডেবিউয়ের আগে তারা 'সেভেনটিন টিভি' নামক একটি অনলাইন রিয়েলিটি শোতে অংশ নিত, যেখানে তাদের প্রশিক্ষণ এবং প্রস্তুতি দেখানো হতো।
- তাদের ফ্যানডম 'ক্যারাট' (CARAT) নামে পরিচিত, যার অর্থ হলো সেভেনটিনকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।
- ব্যান্ডের সদস্যরা তাদের প্রায় সব গান, লিরিক এবং কোরিওগ্রাফি নিজেরাই তৈরি করে, যার ফলে তাদের 'সেল্ফ-প্রডিউসিং' আইডল গ্রুপ বলা হয়।
- উজি (Woozi) হলেন ব্যান্ডের প্রধান সুরকার এবং গীতিকার, যিনি সেভেনটিনের বেশিরভাগ হিট গান তৈরি করেছেন।
- হোশি (Hoshi) হলেন প্রধান কোরিওগ্রাফার, যিনি সেভেনটিনের আইকনিক এবং জটিল নাচের স্টেপগুলো ডিজাইন করেন।
- সেভেনটিনের একটি জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ রয়েছে যার নাম 'গোয়িং সেভেনটিন' (Going Seventeen), যেখানে সদস্যরা বিভিন্ন মজার এবং চ্যালেঞ্জিং কার্যকলাপে অংশ নেয়।
- তারা বিশ্বজুড়ে তাদের 'ক্লিন অ্যান্ড ক্লিয়ার' ইমেজ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের জন্য পরিচিত।
উপসংহার
সেভেনটিন কেবল একটি কে-পপ বয় ব্যান্ড নয়, বরং এটি সৃজনশীলতা, কঠোর পরিশ্রম এবং দলগত ঐক্যের এক মূর্ত প্রতীক। তাদের 'সেল্ফ-প্রডিউসিং' মডেলটি কে-পপ শিল্পে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং অসংখ্য তরুণ শিল্পীকে অনুপ্রাণিত করেছে। ১৩ জন প্রতিভাবান সদস্য তাদের গান, নৃত্য এবং পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ ভক্তের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। তাদের সঙ্গীত কেবল বিনোদনই নয়, বরং আশা, ভালোবাসা এবং আত্মবিশ্বাসের বার্তা বহন করে। ডেবিউয়ের পর থেকে তারা যে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করেছে, তা তাদের অদম্য ইচ্ছা এবং প্রতিভার প্রমাণ। সেভেনটিন নিঃসন্দেহে কে-পপ ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী এবং প্রিয় গ্রুপগুলোর মধ্যে একটি, এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আরও অনেক সাফল্য ও উদ্ভাবনের প্রতিশ্রুতি দেয়।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন: সেভেনটিন কতজন সদস্য নিয়ে গঠিত?
উত্তর: সেভেনটিন মোট ১৩ জন সদস্য নিয়ে গঠিত। এই সদস্যরা হলেন: এস.কুপস, জেওংহান, জোশুয়া, জুন, হোশি, ওনউ, উজি, ডিকে, মিংগ্যু, দ্যএইট, সেউংকোয়ান, ভার্নন এবং ডিনো।
প্রশ্ন: সেভেনটিনকে কেন 'সেল্ফ-প্রডিউসিং' গ্রুপ বলা হয়?
উত্তর: সেভেনটিনকে 'সেল্ফ-প্রডিউসিং' গ্রুপ বলা হয় কারণ এর সদস্যরা নিজেরাই তাদের গানের কথা লেখা, সুর তৈরি, সঙ্গীত উৎপাদন এবং কোরিওগ্রাফি সহ সঙ্গীতের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকে। এটি তাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
প্রশ্ন: সেভেনটিনের ডেবিউ কবে হয়েছিল?
উত্তর: সেভেনটিন আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১৫ সালের ২৬শে মে তাদের প্রথম মিনি অ্যালবাম ১৭ ক্যারাট এবং টাইটেল ট্র্যাক "অ্যাডোর ইউ" এর মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেছিল। তাদের ডেবিউ একটি লাইভ শোকেসের মাধ্যমে হয়েছিল।
প্রশ্ন: সেভেনটিনের ফ্যান ক্লাবের নাম কী?
উত্তর: সেভেনটিনের ফ্যান ক্লাবের নাম হলো 'ক্যারাট' (CARAT)। এই নামটি এই ধারণাকে বোঝায় যে, ক্যারাটরা সেভেনটিনকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে, যেমন হীরাকে ক্যারাট দ্বারা পরিমাপ করা হয়।
প্রশ্ন: সেভেনটিনের প্রধান সুরকার কে?
উত্তর: সেভেনটিনের প্রধান সুরকার এবং গীতিকার হলেন উজি (Woozi)। তিনি ব্যান্ডের বেশিরভাগ গানের সুর ও লিরিক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং তাদের সঙ্গীতের মূল চালিকাশক্তি।
প্রশ্ন: সেভেনটিনের সাব-ইউনিটগুলো কী কী?
উত্তর: সেভেনটিনের তিনটি সাব-ইউনিট রয়েছে: হিপ-হপ ইউনিট, ভোকাল ইউনিট এবং পারফরম্যান্স ইউনিট। প্রতিটি ইউনিটই তাদের নিজস্ব স্টাইলে সঙ্গীত পরিবেশন করে এবং ব্যান্ডের সামগ্রিক বৈচিত্র্য বৃদ্ধি করে।
প্রশ্ন: সেভেনটিনের সবচেয়ে জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে কয়েকটি কী কী?
উত্তর: সেভেনটিনের অনেক জনপ্রিয় গান রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো "ডোন্ট ওয়ানা ক্রাই", "ক্ল্যাপ", "হোম", "লেফট অ্যান্ড রাইট", "রক উইথ ইউ", "হট", "সুপার" এবং "গড অফ মিউজিক"। এই গানগুলো তাদের আন্তর্জাতিক পরিচিতি এনে দিয়েছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন