তথ্যসারণি
| পূর্ণ নাম | কিম নাম-জুন (Kim Nam-joon) |
|---|---|
| পেশাগত নাম | আরএম (RM) |
| জন্ম | ১২ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৪ |
| জন্মস্থান | সিউল, দক্ষিণ কোরিয়া |
| জাতীয়তা | দক্ষিণ কোরীয় |
| পেশা | র্যাপার, গীতিকার, রেকর্ড প্রযোজক, সঙ্গীতশিল্পী |
| পরিচিতি | দক্ষিণ কোরীয় বয় ব্যান্ড বিটিএস (BTS)-এর নেতা ও প্রধান র্যাপার |
| সঙ্গীত সংস্থা | বিগ হিট মিউজিক (হাইব এন্টারটেইনমেন্ট) |
| কার্যকাল | ২০১০-বর্তমান (বিটিএস: ২০১৩-বর্তমান) |
| অন্যান্য নাম | র্যাঞ্চ র্যান্ডা (আন্ডারগ্রাউন্ডে) |
পরিচিতি
কিম নাম-জুন, যিনি বিশ্বজুড়ে আরএম নামে পরিচিত, দক্ষিণ কোরীয় সঙ্গীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি বিশ্ববিখ্যাত কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস (BTS)-এর দূরদর্শী নেতা এবং প্রধান র্যাপার। তার গভীর চিন্তাভাবনা, কাব্যিক লিরিক্স এবং অসাধারণ নেতৃত্ব গুণ তাকে কেবল একজন পারফর্মার হিসেবে নয়, একজন শিল্পী এবং অনুপ্রেরণাদায়ক ব্যক্তিত্ব হিসেবেও পরিচিতি এনে দিয়েছে। আরএম তার শিল্পকর্মের মাধ্যমে সামাজিক বার্তা প্রদান এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার জন্য সুপরিচিত। তার সঙ্গীত কেবল বিনোদন নয়, এটি শ্রোতাদের চিন্তা করতে এবং নিজেদের নিয়ে প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করে।

Photo: Wikimedia Commons
View Source
আরএম বিটিএস-এর অন্যতম প্রধান গীতিকার ও প্রযোজক, যিনি ব্যান্ডের অসংখ্য হিট গানের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার একক কাজগুলোও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে, বিশেষ করে তার মিক্সটেপ ‘মনো’ (Mono) বিশ্বব্যাপী শ্রোতাদের মন জয় করেছে। আরএমের বহুমুখী প্রতিভা এবং সাংস্কৃতিক প্রভাব তাকে আধুনিক সঙ্গীতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। তিনি কেবল একজন সঙ্গীতশিল্পী নন, একজন বুদ্ধিজীবী এবং একজন সাংস্কৃতিক দূত হিসেবেও তার ভূমিকা অনস্বীকার্য।
প্রারম্ভিক জীবন
১৯৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে কিম নাম-জুন জন্মগ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে ইলসান শহরে বেড়ে ওঠেন। ছোটবেলা থেকেই তার সঙ্গীতের প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল। বিশেষ করে হিপ-হপ সঙ্গীত তাকে ভীষণভাবে আকর্ষণ করত। এপিকে হাই (Epik High)-এর মতো শিল্পীদের সঙ্গীত শুনে তিনি র্যাপের প্রতি অনুপ্রাণিত হন। কিশোর বয়সে তিনি আন্ডারগ্রাউন্ড হিপ-হপ দৃশ্যে 'র্যাঞ্চ র্যান্ডা' (Runch Randa) ছদ্মনামে সক্রিয় ছিলেন। এই সময়ে তিনি বিভিন্ন অনলাইন হিপ-হপ কমিউনিটিতে নিজের র্যাপ দক্ষতা প্রদর্শন করতেন এবং অন্যান্য আন্ডারগ্রাউন্ড র্যাপারদের সাথে সহযোগিতা করতেন।
আরএমের পরিবার তার শিক্ষাজীবনে অত্যন্ত গুরুত্ব দিত। তিনি পড়াশোনায় খুবই ভালো ছিলেন এবং তার বুদ্ধিমত্তা ছোটবেলা থেকেই লক্ষণীয় ছিল। কিন্তু সঙ্গীতের প্রতি তার অদম্য টান তাকে ভিন্ন পথে চালিত করে। তার মা প্রাথমিকভাবে তার সঙ্গীত ক্যারিয়ারের প্রতি সন্দিহান ছিলেন, তবে আরএমের দৃঢ় সংকল্প এবং প্রতিভা শেষ পর্যন্ত তাকে সমর্থন জানাতে উৎসাহিত করে। এই প্রারম্ভিক অভিজ্ঞতাগুলো তার পরবর্তী সঙ্গীত জীবনের ভিত্তি স্থাপন করে, যেখানে তিনি তার আবেগ এবং বুদ্ধিমত্তা উভয়কেই কাজে লাগিয়েছিলেন।
শিক্ষাজীবন
আরএম তার শিক্ষাজীবনে অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। তার আইকিউ (IQ) ১৪৮, যা তার অসাধারণ বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক। তিনি পড়াশোনায় ভালো হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জনে আগ্রহী ছিলেন। যদিও তিনি শেষ পর্যন্ত সঙ্গীতকে পেশা হিসেবে বেছে নেন, তার একাডেমিক ভিত্তি তাকে একজন চিন্তাশীল গীতিকার এবং গভীর বক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে। তিনি ইংরেজি ভাষায় অত্যন্ত দক্ষ, যা তিনি মূলত আমেরিকান টিভি সিরিজ 'ফ্রেন্ডস' দেখে নিজে নিজে শিখেছেন। তার এই স্ব-শিক্ষিত ইংরেজি দক্ষতা বিটিএস-এর আন্তর্জাতিক সাফল্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণিত হয়েছে, কারণ তিনি প্রায়শই ব্যান্ডের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেন এবং বিশ্বব্যাপী ভক্তদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেন।
আরএম গ্লোবাল সাইবার ইউনিভার্সিটি থেকে সম্প্রচার ও বিনোদন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তার শিক্ষাজীবন কেবল বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তিনি বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন শিল্পকর্ম থেকেও জ্ঞান আহরণ করেন। তার এই বিস্তৃত জ্ঞান এবং শেখার আগ্রহ তাকে একজন বহুমুখী শিল্পী হিসেবে বিকশিত হতে সাহায্য করেছে, যিনি কেবল সঙ্গীত নয়, শিল্প, সাহিত্য এবং দর্শন নিয়েও গভীরভাবে চিন্তা করেন।
ক্যারিয়ার
আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে বিশ্ব মঞ্চে: আরএমের সঙ্গীত যাত্রা
আরএমের সঙ্গীত ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়ার আন্ডারগ্রাউন্ড হিপ-হপ দৃশ্যে, যেখানে তিনি 'র্যাঞ্চ র্যান্ডা' নামে পরিচিত ছিলেন। কিশোর বয়সে তিনি বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তার র্যাপ দক্ষতা প্রদর্শন করতেন এবং অন্যান্য উদীয়মান শিল্পীদের সাথে কাজ করতেন। তার তীক্ষ্ণ লিরিক্স এবং অনন্য র্যাপ স্টাইল দ্রুতই তাকে আন্ডারগ্রাউন্ড কমিউনিটিতে পরিচিত করে তোলে।
২০১০ সালে, বিগ হিট এন্টারটেইনমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা ব্যাং সি-হিউক আরএমের প্রতিভা আবিষ্কার করেন এবং তাকে সংস্থায় যোগদান করার প্রস্তাব দেন। আরএমই ছিলেন বিটিএস-এর প্রথম সদস্য, এবং তার যোগদানের পর ব্যাং সি-হিউক একটি হিপ-হপ গ্রুপ গঠনের পরিকল্পনা করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে বিটিএস একটি ঐতিহ্যবাহী হিপ-হপ গ্রুপ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার কথা ছিল, কিন্তু পরবর্তীতে এর ধারণা পরিবর্তিত হয় এবং এটি একটি আইডল গ্রুপে রূপান্তরিত হয়।
বিটিএস-এর নেতা ও প্রধান র্যাপার
২০১৩ সালের জুন মাসে, আরএম বিটিএস-এর নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তাদের প্রথম একক গান ছিল "No More Dream"। শুরু থেকেই আরএম ব্যান্ডের প্রধান র্যাপার এবং গীতিকার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিটিএস-এর বেশিরভাগ গানে তার লিরিক্স এবং সুরের অবদান রয়েছে। তিনি ব্যান্ডের সামগ্রিক সঙ্গীত দিকনির্দেশনায় গভীরভাবে জড়িত।
বিটিএস আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জনের সাথে সাথে আরএমের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তার সাবলীল ইংরেজি ভাষা দক্ষতার কারণে তিনি প্রায়শই ব্যান্ডের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাক্ষাৎকারে অংশ নেন এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। তার নেতৃত্ব গুণ এবং স্থিতিশীল ব্যক্তিত্ব ব্যান্ডের সদস্যদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং তাদের সম্মিলিত সাফল্যের পেছনে একটি শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে কাজ করে।
একক কাজ ও সহযোগিতা
বিটিএস-এর কাজের পাশাপাশি আরএম তার একক সঙ্গীত প্রকল্পেও সক্রিয়। ২০১৫ সালে তিনি তার প্রথম মিক্সটেপ 'আরএম' (RM) প্রকাশ করেন, যা তার ব্যক্তিগত সঙ্গীত শৈলী এবং গভীর চিন্তাভাবনার প্রতিফলন ঘটায়। এই মিক্সটেপে "Do You" এবং "Joke"-এর মতো গানগুলো সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল।
২০১৮ সালে তিনি তার দ্বিতীয় মিক্সটেপ 'মনো' (Mono) প্রকাশ করেন, যা বিশ্বব্যাপী ব্যাপক সাফল্য লাভ করে। 'মনো' বিলবোর্ড ২০০ চার্টে ২৬ নম্বরে পৌঁছেছিল, যা একজন কোরিয়ান একক শিল্পীর জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। এই মিক্সটেপের গানগুলো, যেমন "Seoul", "Moonchild" এবং "Forever Rain", তার আবেগপ্রবণ এবং দার্শনিক দিকটি তুলে ধরে।
আরএম বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শিল্পীদের সাথেও কাজ করেছেন, যার মধ্যে আমেরিকান র্যাপার ওয়ালে (Wale) এবং ফল আউট বয় (Fall Out Boy) উল্লেখযোগ্য। তার সহযোগিতাগুলো তার সঙ্গীতের বৈশ্বিক আবেদনকে আরও প্রসারিত করেছে। ২০২২ সালে তিনি তার প্রথম অফিসিয়াল একক অ্যালবাম 'ইন্ডিগো' (Indigo) প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি বিভিন্ন ঘরানার শিল্পীদের সাথে কাজ করেছেন এবং তার ব্যক্তিগত শৈল্পিক যাত্রা আরও গভীরে অন্বেষণ করেছেন।
উল্লেখযোগ্য অর্জন
আরএমের ক্যারিয়ারে অসংখ্য উল্লেখযোগ্য অর্জন রয়েছে যা তাকে একজন বিশ্বব্যাপী প্রভাবশালী শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে:
- বিটিএস-এর বিশ্বব্যাপী সাফল্য: আরএমের নেতৃত্বে বিটিএস বিশ্বের অন্যতম সফল সঙ্গীত গ্রুপে পরিণত হয়েছে, যারা বিলবোর্ড হট ১০০ এবং বিলবোর্ড ২০০ চার্টে একাধিকবার শীর্ষস্থান অর্জন করেছে।
- জাতিসংঘে বক্তৃতা: ২০১৮ সালে, আরএম জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে 'স্পিক ইওরসেলফ' (Speak Yourself) প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে একটি মর্মস্পর্শী বক্তৃতা দেন। এই বক্তৃতা বিশ্বব্যাপী তরুণদের নিজেদের ভালোবাসতে এবং নিজেদের কথা বলতে উৎসাহিত করেছিল।
- একক মিক্সটেপের সাফল্য: তার মিক্সটেপ 'মনো' বিলবোর্ড ২০০ চার্টে ২৬ নম্বরে পৌঁছেছিল, যা কোরিয়ান একক শিল্পীদের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকা মিক্সটেপগুলোর মধ্যে অন্যতম। তার একক অ্যালবাম 'ইন্ডিগো'ও বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে।
- গীতিকার ও প্রযোজক হিসেবে অবদান: আরএম বিটিএস-এর অসংখ্য হিট গান, যেমন "Spring Day", "DNA", "Fake Love", "Idol" এবং "Dynamite"-এর রচনা ও প্রযোজনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি কোরিয়া সঙ্গীত কপিরাইট অ্যাসোসিয়েশনের (KOMCA) একজন পূর্ণ সদস্য।
- সাংস্কৃতিক দূত: তার ইংরেজি ভাষা দক্ষতা এবং গভীর চিন্তাভাবনা তাকে বিটিএস-এর একজন কার্যকর সাংস্কৃতিক দূত হিসেবে কাজ করতে সাহায্য করেছে, যা কোরিয়ান সংস্কৃতিকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে অবদান রেখেছে।
- পুরস্কার ও সম্মাননা: বিটিএস-এর অংশ হিসেবে তিনি অসংখ্য মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতেছেন, যার মধ্যে আমেরিকান মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস, বিলবোর্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস এবং গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস-এর মনোনয়ন উল্লেখযোগ্য।
ব্যক্তিগত জীবন
আরএম, তার গভীর চিন্তাভাবনা এবং দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য পরিচিত। তিনি তার ব্যক্তিগত জীবনকে কিছুটা আড়ালে রাখতেই পছন্দ করেন, তবে তার শিল্পকর্মের মাধ্যমে তার ভেতরের জগত প্রায়শই উন্মোচিত হয়। আরএম শিল্প ও প্রকৃতির প্রতি গভীর ভালোবাসা পোষণ করেন। তিনি প্রায়শই শিল্প প্রদর্শনী এবং জাদুঘর পরিদর্শন করেন, এবং তার ইনস্টাগ্রাম ফিড প্রায়শই বিভিন্ন শিল্পকর্মের ছবি দিয়ে ভরা থাকে। এটি তার ভক্তদের কাছে 'নামজুনং' (Namjooning) নামে পরিচিত, যা আরএমের মতো করে নিজের সাথে সময় কাটানো, প্রকৃতি উপভোগ করা এবং শিল্প অন্বেষণকে বোঝায়।
বই পড়া তার অন্যতম প্রিয় শখ। তিনি বিভিন্ন ধরনের বই পড়তে ভালোবাসেন, যা তার লিরিক্স এবং চিন্তাভাবনাকে সমৃদ্ধ করে। আরএম সাইকেল চালাতে এবং প্রকৃতির মাঝে সময় কাটাতেও পছন্দ করেন। তার পোষা কুকুর, যার নাম মন (Mon), তার ব্যক্তিগত জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। আরএম তার আবেগ এবং দুর্বলতা প্রকাশ করতে ভয় পান না, যা তাকে তার ভক্তদের কাছে আরও বেশি মানবিক এবং relatable করে তোলে। তিনি বিশ্বাস করেন যে, নিজের ভুল এবং সীমাবদ্ধতা স্বীকার করা একজন মানুষকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।
মজার তথ্য
- আরএমের আইকিউ (IQ) ১৪৮, যা তাকে বিটিএস-এর সবচেয়ে বুদ্ধিমান সদস্য হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে।
- তিনি আমেরিকান টিভি সিরিজ 'ফ্রেন্ডস' দেখে নিজে নিজে ইংরেজি শিখেছেন।
- তার ডাকনাম 'গড অফ ডেস্ট্রাকশন' (God of Destruction) কারণ তিনি প্রায়শই জিনিসপত্র ভেঙে ফেলেন বা হারিয়ে ফেলেন।
- আরএম তার স্কুল জীবনে কোরিয়ান এবং গণিত অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়েছিলেন এবং ভালো ফলাফল করেছিলেন।
- তিনি কাঁকড়া খেতে খুব ভালোবাসেন এবং একবার বলেছিলেন যে তিনি কাঁকড়া হওয়ার স্বপ্ন দেখেন।
- আরএম তার পাসপোর্ট বেশ কয়েকবার হারিয়েছেন, যার ফলে তাকে নতুন পাসপোর্ট তৈরি করতে হয়েছিল।
- তিনি একজন পরিবেশ সচেতন ব্যক্তি এবং বিভিন্ন পরিবেশগত বিষয়ে তার আগ্রহ রয়েছে।
- তার প্রিয় ঋতু শরৎকাল।
- আরএম একজন গভীর পাঠক এবং তার ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে অসংখ্য বই রয়েছে।
উপসংহার
আরএম কেবল একজন সঙ্গীতশিল্পী নন, তিনি একটি প্রজন্মের কণ্ঠস্বর, যিনি তার সঙ্গীত এবং কথার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছেন। আন্ডারগ্রাউন্ড র্যাপার 'র্যাঞ্চ র্যান্ডা' থেকে শুরু করে বিশ্ববিখ্যাত বিটিএস-এর নেতা আরএম পর্যন্ত তার যাত্রা ছিল অসাধারণ। তার নেতৃত্ব, কাব্যিক লিরিক্স, এবং গভীর চিন্তাভাবনা তাকে সঙ্গীতের জগতে একটি অনন্য স্থান দিয়েছে। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, সঙ্গীত কেবল বিনোদন নয়, এটি পরিবর্তন আনার এবং মানুষের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম।
আরএমের প্রভাব কেবল সঙ্গীত শিল্পেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি তার 'স্পিক ইওরসেলফ' বার্তার মাধ্যমে তরুণদের নিজেদের ভালোবাসতে এবং নিজেদের কথা বলতে উৎসাহিত করেছেন। শিল্প ও প্রকৃতির প্রতি তার ভালোবাসা, এবং জ্ঞান অর্জনের অদম্য স্পৃহা তাকে একজন বহুমুখী এবং অনুপ্রেরণাদায়ক ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। ভবিষ্যতে আরএম তার সঙ্গীত এবং দর্শনের মাধ্যমে আরও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবেন, যা বিশ্বব্যাপী তার ভক্তদের এবং সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করবে। তার যাত্রা এখনও চলমান, এবং তার ভবিষ্যৎ অবদান নিঃসন্দেহে আরও উজ্জ্বল হবে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন: আরএমের আসল নাম কী?
উত্তর: আরএমের আসল নাম কিম নাম-জুন (Kim Nam-joon)। তিনি তার পেশাগত জীবনে আরএম নামেই পরিচিত, যা একসময় 'র্যাপ মনস্টার' (Rap Monster) এর সংক্ষিপ্ত রূপ ছিল, তবে এখন এটি একটি স্বতন্ত্র নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
প্রশ্ন: আরএম বিটিএস-এর নেতা কেন?
উত্তর: আরএম বিটিএস-এর প্রথম সদস্য এবং বিগ হিট এন্টারটেইনমেন্টে যোগদানের পর থেকেই তিনি ব্যান্ডের মূল ভিত্তি ছিলেন। তার নেতৃত্ব গুণ, বিচক্ষণতা, এবং ইংরেজি ভাষায় সাবলীলতা তাকে ব্যান্ডের মুখপাত্র এবং নেতা হিসেবে অত্যন্ত যোগ্য করে তুলেছে। তিনি সদস্যদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেন এবং ব্যান্ডের বার্তা বিশ্বব্যাপী পৌঁছে দিতে সাহায্য করেন।
প্রশ্ন: আরএমের আইকিউ কত?
উত্তর: আরএমের আইকিউ (IQ) ১৪৮। তার এই উচ্চ বুদ্ধিমত্তা তার শিক্ষাজীবনে এবং পরবর্তীতে তার সঙ্গীত ও দার্শনিক চিন্তাভাবনায় প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি একজন গভীর চিন্তাবিদ এবং মেধাবী ছাত্র ছিলেন।
প্রশ্ন: আরএমের একক সঙ্গীত প্রকল্পগুলো কী কী?
উত্তর: আরএমের উল্লেখযোগ্য একক সঙ্গীত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে তার মিক্সটেপ 'আরএম' (২০১৫), 'মনো' (২০১৮), এবং তার প্রথম অফিসিয়াল একক অ্যালবাম 'ইন্ডিগো' (২০২২)। এই কাজগুলো তার ব্যক্তিগত শৈল্পিক অভিব্যক্তি এবং সঙ্গীতের প্রতি তার গভীর ভালোবাসার পরিচায়ক।
প্রশ্ন: আরএম কিভাবে ইংরেজি শিখেছেন?
উত্তর: আরএম মূলত আমেরিকান টিভি সিরিজ 'ফ্রেন্ডস' দেখে নিজে নিজে ইংরেজি শিখেছেন। তিনি সিরিজটি কোরিয়ান সাবটাইটেল, তারপর ইংরেজি সাবটাইটেল এবং শেষ পর্যন্ত কোনো সাবটাইটেল ছাড়াই দেখেছেন, যা তাকে ইংরেজি ভাষা আয়ত্ত করতে সাহায্য করেছে।
প্রশ্ন: আরএমের 'স্পিক ইওরসেলফ' বক্তৃতাটি কোথায় হয়েছিল?
উত্তর: আরএম ২০১৮ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে 'স্পিক ইওরসেলফ' (Speak Yourself) প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে বক্তৃতা দিয়েছিলেন। এই বক্তৃতায় তিনি তরুণদের নিজেদেরকে ভালোবাসতে, নিজেদের কথা বলতে এবং নিজেদের স্বপ্ন অনুসরণ করতে উৎসাহিত করেছিলেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন