Full width home advertisement

Featured Actors

Popular Biographies

Post Page Advertisement [Top]

পূর্ণ নামউপ্পলাপতি ভেঙ্কটা সূর্যনারায়ণ প্রভাস রাজু
পরিচিত নামপ্রভাস
পেশাঅভিনেতা
জাতীয়তাভারতীয়
জন্ম২৩ অক্টোবর ১৯৭৯
জন্মস্থানচেন্নাই, তামিলনাড়ু, ভারত
পিতাউ. সূর্যনারায়ণ রাজু
মাতাশিব কুমারী
প্রসিদ্ধিবাহুবলী সিরিজ, তেলেগু চলচ্চিত্র
উপাধিরেবেল স্টার, ডার্লিং
উল্লেখযোগ্য পুরস্কারনন্দী পুরস্কার, সাইমা পুরস্কার
প্রথম চলচ্চিত্রঈশ্বর (২০০২)

পরিচিতি

প্রভাস, যাঁর পুরো নাম উপ্পালাপতি ভেঙ্কটা সূর্যনারায়ণ প্রভাস রাজু, ভারতীয় সিনেমার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং তেলেগু চলচ্চিত্র শিল্পের অন্যতম প্রভাবশালী অভিনেতা। 'রেবেল স্টার' এবং 'ডার্লিং' নামে পরিচিত এই অভিনেতা তাঁর শক্তিশালী অভিনয়, আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব এবং পর্দায় তাঁর উপস্থিতি দিয়ে দর্শকদের মন জয় করেছেন। বিশেষ করে এস.এস. রাজামৌলির মহাকাব্যিক 'বাহুবলী' সিরিজের মাধ্যমে তিনি শুধু দক্ষিণ ভারতেই নয়, সারা ভারত এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। এই সিরিজের অভূতপূর্ব সাফল্যের পর প্রভাস আর কেবল একজন আঞ্চলিক তারকা নন, তিনি একজন প্যান-ইন্ডিয়া সুপারস্টার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। প্রভাস বর্তমানে ভারতের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেতাদের মধ্যে অন্যতম এবং ফোর্বস ইন্ডিয়ার 'সেলেব্রটি ১০০' তালিকায় ২০১৫ সাল থেকে নিয়মিত স্থান পেয়ে আসছেন। তাঁর ক্যারিয়ার দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিস্তৃত, যেখানে তিনি বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে নিজের বহুমুখী প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছেন এবং ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পে এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। তাঁর অভিনীত ছবিগুলি প্রায়শই বক্স অফিসে রেকর্ড সৃষ্টি করে, যা তাঁর তারকাখ্যাতির এক বড় প্রমাণ।

Prabhas

Photo: Wikimedia Commons
View Source

প্রারম্ভিক জীবন

১৯৭৯ সালের ২৩ অক্টোবর ভারতের তামিলনাড়ুর চেন্নাই শহরে প্রভাস জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ছিলেন প্রখ্যাত তেলেগু চলচ্চিত্র প্রযোজক উপ্পালাপতি সূর্যনারায়ণ রাজু এবং মা শিব কুমারী। প্রভাস তেলেগু সিনেমার কিংবদন্তী অভিনেতা এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কৃষ্ণম রাজুর ভাগ্নে। চলচ্চিত্র জগতের সাথে তাঁর পরিবারের এই গভীর সম্পর্কই তাঁকে ছোটবেলা থেকেই সিনেমার প্রতি আকৃষ্ট করেছিল এবং তাঁর মধ্যে অভিনয়ের স্বপ্ন বুনে দিয়েছিল। যদিও তিনি একটি ঐতিহ্যবাহী চলচ্চিত্র পরিবার থেকে এসেছেন, তবুও প্রভাস নিজের যোগ্যতায় এবং কঠোর পরিশ্রমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর শৈশব কেটেছে চলচ্চিত্র জগতের আবহাওয়ায়, যেখানে তিনি বড় হয়েছেন সিনেমার প্রতি এক গভীর ভালোবাসা নিয়ে, যা তাঁর ভবিষ্যত পেশাগত জীবনের ভিত গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে। পারিবারিক সমর্থন এবং একটি শৈল্পিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা তাঁকে পরবর্তীতে একজন সফল অভিনেতা হতে অনুপ্রাণিত করেছিল।

শিক্ষাজীবন

প্রভাসের শিক্ষাজীবন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য খুব বেশি জনসমক্ষে আসেনি, তবে জানা যায় যে তিনি হায়দ্রাবাদের শ্রী চৈতন্য কলেজে পড়াশোনা করেছেন। যদিও তিনি চলচ্চিত্র পরিবার থেকে এসেছিলেন, তবুও প্রথাগত শিক্ষাকে তিনি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি খেলাধুলাতেও আগ্রহী ছিলেন, বিশেষ করে ভলিবল ছিল তাঁর প্রিয় খেলা। তিনি একজন ক্রীড়াপ্রেমী হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তাঁর শারীরিক গঠন ও ফিটনেস বজায় রাখার ক্ষেত্রে খেলাধুলার ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাঁর এই শিক্ষাজীবন এবং ব্যক্তিগত আগ্রহগুলি তাঁর ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, যা তাঁকে একজন সুষম এবং বিনয়ী ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তুলেছে।

ক্যারিয়ার

প্রভাসের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার শুরু হয় ২০০২ সালে 'ঈশ্বর' ছবির মাধ্যমে। যদিও ছবিটি বক্স অফিসে তেমন সাফল্য অর্জন করতে পারেনি, তবে প্রভাসের অভিনয় এবং পর্দায় তাঁর উপস্থিতির ক্ষমতা সমালোচকদের নজর কাড়ে। এরপর ২০০৪ সালে 'বর্ষম' ছবিতে তাঁর অভিনয় তাঁকে প্রথম বাণিজ্যিক সাফল্য এনে দেয়। এই ছবিটি তাঁকে তেলেগু সিনেমায় একজন প্রতিশ্রুতিশীল এবং জনপ্রিয় তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

২০০৫ সালে এস.এস. রাজামৌলির পরিচালনায় 'ছাত্রপতি' ছবিতে অভিনয় করে প্রভাস ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। এই ছবিটি বক্স অফিসে ব্লকবাস্টার হিট হয় এবং প্রভাসের অ্যাকশন হিরো ইমেজ তৈরি করে। 'ছাত্রপতি' তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ছবি হিসেবে বিবেচিত হয়, যা তাঁকে অ্যাকশন ঘরানার ছবিতে এক নতুন পরিচয় এনে দেয়। এরপর তিনি 'চক্রম' (২০০৫), 'পৌর্ণমী' (২০০৬), 'যোগী' (২০০৭), 'বুজ্জিগাদু' (২০০৮) এবং 'এক নিরঞ্জন' (২০০৯) এর মতো বিভিন্ন ছবিতে অভিনয় করে নিজের অভিনয় দক্ষতা প্রমাণ করেন।

২০১০ সালে 'ডার্লিং' এবং ২০১১ সালে 'মিস্টার পারফেক্ট' ছবি দুটি প্রভাসের রোমান্টিক হিরো ইমেজকে আরও মজবুত করে। এই ছবিগুলো বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য পায় এবং তাঁকে তরুণ প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তোলে। ২০১৩ সালের 'মির্চি' ছবিটিও প্রভাসের ক্যারিয়ারে একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট ছিল, যা তাঁকে আরও বড় তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে এবং এই ছবির জন্য তিনি নন্দী পুরস্কার লাভ করেন।

তবে, প্রভাসের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মোড় আসে ২০১৫ সালে, যখন তিনি এস.এস. রাজামৌলির মহাকাব্যিক ছবি 'বাহুবলী: দ্য বিগিনিং'-এ অভিনয় করেন। এই ছবির জন্য তিনি প্রায় পাঁচ বছর তাঁর জীবনের মূল্যবান সময় উৎসর্গ করেন, অন্য কোনো ছবিতে কাজ করা থেকে বিরত থাকেন। 'বাহুবলী' ছবিটি ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। এর বিশাল বাজেট, অত্যাশ্চর্য ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট, অসাধারণ গল্প এবং প্রভাসের দ্বৈত চরিত্রে (শিবুডু ও মহেন্দ্র বাহুবলী) অভিনয় সারা বিশ্বের দর্শকদের মুগ্ধ করে। ছবিটি আন্তর্জাতিকভাবেও ব্যাপক প্রশংসা লাভ করে।

২০১৭ সালে মুক্তি পায় 'বাহুবলী ২: দ্য কনক্লুশন', যা ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয়কারী ছবিতে পরিণত হয় এবং বক্স অফিসে প্রায় ১,৮০০ কোটি টাকারও বেশি সংগ্রহ করে। এই ছবিটি প্রভাসের খ্যাতিকে আকাশচুম্বী করে তোলে এবং তাঁকে একজন প্যান-ইন্ডিয়া সুপারস্টার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। বাহুবলী সিরিজের পর প্রভাস আর শুধু তেলেগু অভিনেতা নন, তিনি সারা ভারতের একজন আইকনে পরিণত হন, যাঁর জনপ্রিয়তা ভাষা এবং ভৌগোলিক সীমানা ছাড়িয়ে যায়।

বাহুবলীর পর প্রভাস 'সাহো' (২০১৯) ছবিতে অভিনয় করেন, যা একটি বহুভাষিক অ্যাকশন থ্রিলার ছিল এবং হিন্দি, তেলেগু, তামিল সহ একাধিক ভাষায় মুক্তি পায়। যদিও ছবিটি সমালোচকদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পায়, তবে এর বক্স অফিস সংগ্রহ ছিল উল্লেখযোগ্য, যা প্রভাসের স্টার পাওয়ার প্রমাণ করে। এরপর তিনি রোমান্টিক ড্রামা 'রাধে শ্যাম' (২০২২) এবং পৌরাণিক অ্যাকশন ছবি 'আদিপুরুষ' (২০২৩)-এ অভিনয় করেন। ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত 'সালার: পার্ট ১ – সিজফায়ার' ছবিটি প্রভাসের অ্যাকশন হিরো ইমেজকে আবার সামনে নিয়ে আসে এবং বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য অর্জন করে, যা তাঁর ভক্তদের প্রত্যাশা পূরণ করে।

প্রভাস তাঁর প্রতিটি ছবিতে নতুন কিছু করার চেষ্টা করেন এবং নিজের চরিত্রের প্রতি সম্পূর্ণ নিবেদন দেখান। তাঁর ক্যারিয়ার প্রমাণ করে যে কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য, সঠিক পছন্দের মাধ্যমে এবং নিজের কাজের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা রেখে একজন অভিনেতা কীভাবে সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে পারেন এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারেন।

উল্লেখযোগ্য অর্জন

  • প্যান-ইন্ডিয়া সুপারস্টার: 'বাহুবলী' সিরিজের মাধ্যমে প্রভাস প্রথম দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেতাদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে সারা ভারতে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর ছবিগুলি এখন শুধু তেলেগু ভাষাতেই নয়, হিন্দি, তামিল, মালয়ালম এবং কন্নড় ভাষাতেও মুক্তি পায় এবং সমানভাবে সফল হয়।
  • সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেতা: তিনি ভারতের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেতাদের একজন হিসেবে পরিচিত, যা তাঁর স্টার পাওয়ার এবং বক্স অফিস আবেদনকে প্রতিফলিত করে।
  • ফোর্বস ইন্ডিয়া সেলেব্রটি ১০০: ২০১৫ সাল থেকে তিনি নিয়মিত ফোর্বস ইন্ডিয়ার 'সেলেব্রটি ১০০' তালিকায় স্থান পেয়ে আসছেন, যা তাঁর আর্থিক সাফল্য এবং জনপ্রিয়তার প্রতীক।
  • মাদাম তুসোতে মোমের মূর্তি: তিনিই প্রথম দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেতা যাঁর মোমের মূর্তি ব্যাংককের মাদাম তুসো জাদুঘরে স্থাপন করা হয়। এটি তাঁর আন্তর্জাতিক খ্যাতি এবং বিশ্বজুড়ে ভক্তদের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতার এক বড় প্রমাণ।
  • নন্দী পুরস্কার: ২০১৩ সালের ব্লকবাস্টার হিট ছবি 'মির্চি'-তে তাঁর অসামান্য অভিনয়ের জন্য তিনি সেরা অভিনেতার জন্য মর্যাদাপূর্ণ নন্দী পুরস্কার লাভ করেন।
  • সাইমা পুরস্কার: 'বাহুবলী: দ্য বিগিনিং' ছবিতে তাঁর আইকনিক ভূমিকার জন্য তিনি সেরা তেলেগু অভিনেতার জন্য সাইমা (SIIMA) পুরস্কার পান।
  • ফিল্মফেয়ার মনোনয়ন: তিনি বেশ কয়েকবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন, যা তাঁর অভিনয় দক্ষতার স্বীকৃতি।
  • চলচ্চিত্রের জন্য নিবেদন: 'বাহুবলী' সিরিজের জন্য প্রায় পাঁচ বছর ধরে অন্য কোনো ছবিতে কাজ না করার তাঁর সিদ্ধান্ত চলচ্চিত্র শিল্পের প্রতি তাঁর অতুলনীয় নিবেদন প্রমাণ করে। এই সময়ে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণরূপে বাহুবলী চরিত্রের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন।
  • বক্স অফিস সাফল্য: তাঁর অভিনীত অনেক ছবিই বক্স অফিসে রেকর্ড ভেঙেছে, বিশেষ করে 'বাহুবলী' সিরিজ ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয়কারী ছবিগুলোর মধ্যে অন্যতম।

ব্যক্তিগত জীবন

প্রভাস তাঁর ব্যক্তিগত জীবনকে ক্যামেরার আড়ালে রাখতে পছন্দ করেন এবং এ বিষয়ে খুবই লাজুক। তিনি অত্যন্ত বিনয়ী স্বভাবের এবং খুব কমই জনসমক্ষে নিজের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলেন, যা তাঁর ভক্তদের কাছে তাঁকে আরও বেশি প্রিয় করে তুলেছে। তাঁর বৈবাহিক অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গুজব ছড়ালেও, তিনি এখনও অবিবাহিত। তিনি তাঁর পরিবার এবং বন্ধুদের সাথে সময় কাটাতে ভালোবাসেন এবং তাদের সাথে একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখেন। প্রভাস একজন প্রকৃতিপ্রেমী এবং তাঁর একটি নিজস্ব ফার্মহাউস রয়েছে যেখানে তিনি অবসর সময় কাটান এবং প্রাকৃতিক পরিবেশে নিজেকে রিচার্জ করেন। তিনি ফিটনেস সচেতন এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করেন। যদিও তিনি একজন মেগাস্টার, তবুও তাঁর মধ্যে কোনো অহংকার দেখা যায় না, যা তাঁকে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। তিনি প্রায়শই নিজের সহ-অভিনেতা এবং টিম মেম্বারদের প্রতি তাঁর উদারতা এবং আতিথেয়তার জন্য প্রশংসিত হন।

মজার তথ্য

  • প্রভাস একজন খাদ্যরসিক এবং বিভিন্ন ধরনের খাবার রান্না করতে ভালোবাসেন। তিনি প্রায়শই তাঁর বন্ধুদের জন্য বিশেষ করে মাংসের পদ রান্না করেন এবং তাঁর আতিথেয়তার জন্য পরিচিত।
  • তিনি একজন ভলিবল প্রেমী এবং তাঁর নিজস্ব ভলিবল কোর্ট রয়েছে। শুটিং বিরতিতে তিনি প্রায়শই বন্ধুদের সাথে ভলিবল খেলেন, যা তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সতেজ রাখে।
  • 'বাহুবলী' সিরিজের জন্য তিনি কঠোর ডায়েট এবং ট্রেনিং রেজিমেন অনুসরণ করেছিলেন। চরিত্রের প্রয়োজনে তিনি প্রায় ১৫-২০ কেজি ওজন বাড়িয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে আবার ওজন কমিয়েছিলেন।
  • বাহুবলী সিরিজের জন্য তিনি প্রায় ৬০০ দিন শুটিং করেছিলেন এবং এই সময়ে তিনি প্রায় ৬০০০ বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, যা তাঁর চরিত্রের প্রতি তাঁর নিবেদনের এক বড় প্রমাণ।
  • প্রভাস তাঁর সিনেমায় সাধারণত নিজের স্টান্ট নিজেই করতে পছন্দ করেন, যা তাঁর অ্যাকশন দৃশ্যে বাস্তবতার ছোঁয়া আনে।
  • তিনি মার্ভেল কমিকস এবং ডিসি কমিকসের একজন বড় ভক্ত এবং সুপারহিরো ছবি দেখতে খুব ভালোবাসেন।
  • তাঁর প্রথম বেতন ছিল ৫০০ টাকা, যা তিনি তাঁর বাবার কাছ থেকে পেয়েছিলেন এবং এটি তাঁর জীবনের এক স্মরণীয় ঘটনা।
  • প্রভাসকে তাঁর ভক্তরা 'ডার্লিং' নামেও সম্বোধন করেন, যা তাঁর মিষ্টি স্বভাব এবং বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের জন্য দেওয়া হয়েছে।
  • তিনি একজন বইপ্রেমী এবং অবসর সময়ে বিভিন্ন ধরনের বই পড়তে পছন্দ করেন।

উপসংহার

প্রভাস ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক বিরল প্রতিভা, যিনি নিজের কঠোর পরিশ্রম, নিবেদন এবং অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে তুলেছেন। 'বাহুবলী' সিরিজের মাধ্যমে তিনি যে উচ্চতায় পৌঁছেছেন, তা তাঁকে কেবল একজন তারকা হিসেবে নয়, একজন সাংস্কৃতিক আইকন হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাঁর শান্ত স্বভাব, বিনয় এবং চরিত্রের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে। প্রভাস শুধু একজন সফল অভিনেতা নন, তিনি অসংখ্য মানুষের অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁর ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলিও ভারতীয় সিনেমার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা যায়, যেখানে তিনি তাঁর ব্যতিক্রমী প্রতিভা নিয়ে আরও অনেক মাইলফলক স্থাপন করবেন এবং বিশ্বজুড়ে তাঁর ভক্তদের বিনোদন দিয়ে যাবেন। ভারতীয় চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য এবং তাঁর প্রভাব আগামী দিনেও অনুভূত হতে থাকবে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন: প্রভাসের আসল নাম কী?

উত্তর: প্রভাসের আসল নাম উপ্পালাপতি ভেঙ্কটা সূর্যনারায়ণ প্রভাস রাজু। তবে তিনি প্রভাস নামেই চলচ্চিত্র জগতে পরিচিতি লাভ করেছেন এবং ভক্তদের কাছেও এই নামেই জনপ্রিয়।

প্রশ্ন: প্রভাস কোন সিনেমার জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত?

উত্তর: প্রভাস এস.এস. রাজামৌলির ঐতিহাসিক মহাকাব্যিক ছবি 'বাহুবলী: দ্য বিগিনিং' এবং 'বাহুবলী ২: দ্য কনক্লুশন' সিরিজের জন্য বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি পরিচিত। এই ছবিগুলি তাঁকে প্যান-ইন্ডিয়া সুপারস্টার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

প্রশ্ন: প্রভাস কি বিবাহিত?

উত্তর: বিভিন্ন সময়ে গুজব ছড়ালেও, প্রভাস এখনও অবিবাহিত। তিনি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনকে জনসমক্ষে আনতে পছন্দ করেন না এবং এ বিষয়ে খুবই লাজুক।

প্রশ্ন: প্রভাসের জন্ম কবে?

উত্তর: প্রভাস ১৯৭৯ সালের ২৩ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। প্রতি বছর এই দিনে তাঁর ভক্তরা তাঁর জন্মদিন পালন করেন।

প্রশ্ন: প্রভাস কোন পুরস্কার জিতেছেন?

উত্তর: প্রভাস 'মির্চি' ছবির জন্য সেরা অভিনেতার জন্য নন্দী পুরস্কার এবং 'বাহুবলী: দ্য বিগিনিং' ছবির জন্য সেরা তেলেগু অভিনেতার জন্য সাইমা পুরস্কার জিতেছেন। এছাড়াও তিনি বেশ কয়েকবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন।

প্রশ্ন: প্রভাসের প্রথম সিনেমা কোনটি?

উত্তর: প্রভাসের প্রথম সিনেমা হলো ২০০২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তেলেগু চলচ্চিত্র 'ঈশ্বর'। এই ছবির মাধ্যমে তিনি চলচ্চিত্র জগতে তাঁর অভিনয় জীবন শুরু করেন।

প্রশ্ন: প্রভাসকে কেন 'রেবেল স্টার' বলা হয়?

উত্তর: প্রভাসকে তাঁর চাচা, কিংবদন্তী অভিনেতা কৃষ্ণম রাজুর উপাধি 'রেবেল স্টার' থেকে এই নামে ডাকা হয়। কৃষ্ণম রাজু তাঁর বিদ্রোহী চরিত্রের জন্য পরিচিত ছিলেন এবং প্রভাসকেও তাঁর অ্যাকশন-প্যাকড চরিত্রে অভিনয়ের জন্য এই উপাধি দেওয়া হয়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Bottom Ad [Post Page]