Full width home advertisement

Featured Actors

Popular Biographies

Post Page Advertisement [Top]

তথ্যসারণি

নাম মহাত্মা গান্ধী
পুরো নাম মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী
জন্ম ২ অক্টোবর ১৮৬৯
জন্মস্থান পোরবন্দর, গুজরাট, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু ৩০ জানুয়ারি ১৯৪৮
মৃত্যুস্থান নতুন দিল্লি, ভারত
পেশা আইনজীবী, রাজনৈতিক নেতা, স্বাধীনতা সংগ্রামী
পরিচিতি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রধান নেতা, জাতির পিতা, অহিংসার প্রতীক
আন্দোলন অহিংস অসহযোগ আন্দোলন, সত্যাগ্রহ, লবণ সত্যাগ্রহ, ভারত ছাড়ো আন্দোলন
মূলনীতি অহিংসা, সত্যাগ্রহ, স্বরাজ, সর্বোদয়
সম্মান মহাত্মা (১৯১৪), ভারতের জাতির পিতা
জাতীয়তা ভারতীয়
মৃত্যুর কারণ আততায়ীর গুলিতে নিহত

পরিচিতি

মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, যিনি মহাত্মা গান্ধী নামেই বিশ্বজুড়ে পরিচিত, ছিলেন একজন ভারতীয় আইনজীবী, উপনিবেশবিরোধী জাতীয়তাবাদী এবং রাজনৈতিক নীতিবিদ। তিনি অহিংস প্রতিরোধের মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারতের সফল স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং পরবর্তীকালে বিশ্বজুড়ে নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতার আন্দোলনকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। ১৯১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় তাঁকে প্রথম 'মহাত্মা' উপাধি দেওয়া হয়, যা এখন বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত হয়। তিনি শুধু ভারতের স্বাধীনতা এনে দেননি, বরং বিশ্বকে শিখিয়েছেন কীভাবে অহিংসার পথ ধরে বড় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। তাঁর দর্শন, যা সত্যাগ্রহ নামে পরিচিত, আজও অনেক আন্দোলন ও কর্মীর কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। মহাত্মা গান্ধী ভারতের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম, যিনি তাঁর আদর্শ ও জীবনযাত্রার মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। তাঁকে ভারতের জাতির পিতা হিসেবে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

Mahatma Gandhi

Photo: Wikimedia Commons
View Source

প্রারম্ভিক জীবন

মহাত্মা গান্ধী ১৮৬৯ সালের ২ অক্টোবর ব্রিটিশ ভারতের গুজরাট প্রদেশের পোরবন্দরে এক হিন্দু মোধ বনিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা করমচাঁদ গান্ধী ছিলেন পোরবন্দরের দিওয়ান (মুখ্যমন্ত্রী)। তাঁর মাতা পুতলিবাই ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ মহিলা, যিনি জৈনধর্মের কঠোর নীতিগুলি অনুসরণ করতেন, যেমন উপবাস, নিরামিষভোজন এবং আত্মশুদ্ধি। মায়ের কাছ থেকেই গান্ধীজি অহিংসা, সহনশীলতা এবং পারস্পরিক সম্মানের শিক্ষা লাভ করেন, যা তাঁর ভবিষ্যৎ জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। শৈশবে গান্ধী ছিলেন একজন লাজুক এবং সাধারণ ছাত্র। তিনি পোরবন্দর ও রাজকোটে তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি কস্তুরবাই মাখানজির সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন, যিনি পরবর্তীকালে তাঁর স্বাধীনতা সংগ্রামে একজন অবিচল সহযোদ্ধা হিসেবে পাশে ছিলেন। বাল্যবিবাহের এই অভিজ্ঞতা তাঁকে পরে সামাজিক সংস্কারের দিকে ঠেলে দিয়েছিল।

শিক্ষাজীবন

গান্ধীজির শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল পোরবন্দরের স্থানীয় স্কুলে। এরপর তিনি রাজকোটের আলফ্রেড হাই স্কুলে পড়াশোনা করেন। পড়াশোনায় তিনি খুব ভালো না হলেও, তাঁর সততা ও চরিত্র দৃঢ় ছিল। ১৮৮৮ সালে, মাত্র ১৯ বছর বয়সে, তিনি আইন বিষয়ে পড়াশোনার জন্য ইংল্যান্ডের লন্ডনে যান। যদিও তাঁর পরিবারে এমন বিদেশযাত্রা নিয়ে আপত্তি ছিল, বিশেষ করে তাঁর মা পুতলিবাইয়ের। কিন্তু গান্ধীজি নিরামিষভোজন, মদ্যপান ও নারীসঙ্গ ত্যাগ করার শপথ নিয়ে মায়ের সম্মতি আদায় করেন। লন্ডনে তিনি ইনার টেম্পল-এ আইন অধ্যয়ন করেন এবং ১৮৯১ সালে ব্যারিস্টার হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেন। এই সময়ে তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থ, বিশেষ করে ভগবদ গীতা এবং বাইবেল অধ্যয়ন করেন, যা তাঁর আধ্যাত্মিক ও নৈতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। লন্ডনে থাকাকালীন তিনি পাশ্চাত্য জীবনধারার সংস্পর্শে এলেও নিজের ভারতীয় সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের প্রতি অবিচল ছিলেন। ব্যারিস্টারি পাশ করে তিনি ভারতে ফিরে আসেন এবং মুম্বাই ও রাজকোটে আইন পেশা শুরু করেন, কিন্তু প্রাথমিকভাবে তেমন সফল হতে পারেননি।

ক্যারিয়ার

দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিজ্ঞতা ও সত্যাগ্রহের উন্মেষ

১৮৯৩ সালে একটি ভারতীয় সংস্থার আইনি পরামর্শক হিসেবে গান্ধীজি দক্ষিণ আফ্রিকার নাটাল প্রদেশে যান। এই যাত্রা তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। দক্ষিণ আফ্রিকায় তিনি বর্ণবৈষম্যের শিকার হন। একটি প্রথম শ্রেণীর কামরার টিকিট থাকা সত্ত্বেও তাঁকে পিটোরিয়াগামী ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়, কারণ তিনি একজন অশ্বেতাঙ্গ ছিলেন। এই ঘটনা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয় এবং তিনি ভারতীয়দের প্রতি চলমান বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেন। দীর্ঘ ২১ বছর তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারতীয়দের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেন। এই সময়েই তিনি তাঁর অহিংস প্রতিরোধের দর্শন 'সত্যাগ্রহ' গড়ে তোলেন। তিনি নাটাল ইন্ডিয়ান কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ, অসহযোগ ও আইন অমান্য আন্দোলনের মাধ্যমে শ্বেতাঙ্গ সরকারের বর্ণবাদী নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। তাঁর এই সংগ্রাম দক্ষিণ আফ্রিকার ভারতীয়দের জীবনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে এবং বিশ্বব্যাপী অহিংস আন্দোলনের এক নতুন পথ দেখায়।

ভারতে স্বাধীনতা আন্দোলন

১৯১৫ সালে গান্ধীজি ভারতে ফিরে আসেন এবং ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। তিনি ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট উপলব্ধি করেন এবং তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য অহিংস পথ বেছে নেন।

  • চম্পারণ সত্যাগ্রহ (১৯১৭): বিহারের চম্পারণে নীলচাষীদের ওপর ব্রিটিশদের জোরপূর্বক নীলচাষের বিরুদ্ধে তিনি সফলভাবে সত্যাগ্রহ আন্দোলন পরিচালনা করেন। এটি ছিল ভারতে তাঁর প্রথম সফল সত্যাগ্রহ।
  • খেদা সত্যাগ্রহ (১৯১৮): গুজরাটের খেদা জেলায় ফসল নষ্ট হওয়া সত্ত্বেও ব্রিটিশ সরকার ভূমি কর মওকুফ না করায় তিনি কৃষকদের নিয়ে সত্যাগ্রহ আন্দোলন করেন এবং সফল হন।
  • অসহযোগ আন্দোলন (১৯২০-২২): জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং স্বরাজের দাবিতে গান্ধীজি অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। এই আন্দোলনে ব্রিটিশ পণ্য বর্জন, সরকারি স্কুল-কলেজ ও আদালত বর্জন, এবং সরকারি উপাধি বর্জনের আহ্বান জানানো হয়। যদিও চৌরিচৌরার ঘটনার পর এই আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়।
  • লবণ সত্যাগ্রহ বা ডান্ডি মার্চ (১৯৩০): ব্রিটিশ সরকারের লবণ করের বিরুদ্ধে গান্ধীজি তাঁর বিখ্যাত ডান্ডি মার্চ শুরু করেন। সবরমতী আশ্রম থেকে ডান্ডি পর্যন্ত প্রায় ২৪০ মাইল হেঁটে তিনি লবণ তৈরি করে আইন ভঙ্গ করেন। এই আন্দোলন বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং ব্রিটিশ শাসনের ভিত নাড়িয়ে দেয়।
  • ভারত ছাড়ো আন্দোলন (১৯৪২): দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশদের ভারত ত্যাগের দাবিতে গান্ধীজি 'ভারত ছাড়ো' আন্দোলনের ডাক দেন এবং 'করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে' (করব অথবা মরব) স্লোগান দেন। এই আন্দোলন ব্রিটিশ শাসনের ওপর চূড়ান্ত চাপ সৃষ্টি করে।

গান্ধীজির নিরলস সংগ্রাম এবং অহিংসার দর্শন শেষ পর্যন্ত ১৯৪৭ সালে ভারতকে স্বাধীনতা এনে দেয়। যদিও দেশভাগ এবং এর ফলে সৃষ্ট সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছিল। তিনি হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের জন্য আমৃত্যু চেষ্টা চালিয়ে গেছেন।

উল্লেখযোগ্য অর্জন

মহাত্মা গান্ধীর জীবন ও কর্ম ছিল অজস্র অর্জনে ভরপুর, যা শুধু ভারতের ইতিহাসেই নয়, বিশ্ব ইতিহাসেও এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে।

  • ভারতের স্বাধীনতা: তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন নিঃসন্দেহে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে ভারতের স্বাধীনতা। অহিংসা ও সত্যাগ্রহের মাধ্যমে তিনি বিশ্বের বৃহত্তম সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে সফলভাবে লড়াই করেছিলেন।
  • সত্যাগ্রহ দর্শনের প্রবর্তন: তিনি 'সত্যাগ্রহ' নামক অহিংস প্রতিরোধের একটি নতুন দর্শন ও কৌশল উদ্ভাবন করেন, যা পরবর্তীতে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র, নেলসন ম্যান্ডেলার মতো বিশ্বনেতাদের অনুপ্রাণিত করেছে।
  • জাতিগত সমতার জন্য সংগ্রাম: দক্ষিণ আফ্রিকায় তিনি বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে ২১ বছর ধরে সংগ্রাম করেছেন এবং ভারতীয়দের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
  • অস্পৃশ্যতা বর্জন: তিনি ভারতের সমাজে বিদ্যমান অস্পৃশ্যতা বা 'দলিত'দের প্রতি বৈষম্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন এবং তাদের অধিকার ও সম্মানের জন্য 'হরিজন' (ঈশ্বরের সন্তান) আন্দোলন শুরু করেন।
  • গ্রাম স্বরাজ ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা: গান্ধীজি গ্রাম স্বরাজ এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার ওপর জোর দিয়েছিলেন। তিনি চরকার মাধ্যমে হাতে কাপড় বোনার প্রচলন করে গ্রামীণ কুটির শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে চেয়েছিলেন, যা ভারতের লক্ষ লক্ষ মানুষকে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ দেখিয়েছিল।
  • ধর্মীয় সম্প্রীতি: তিনি হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের একজন প্রবল সমর্থক ছিলেন এবং দেশভাগের সময় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা থামাতে নিজের জীবন বাজি রেখে চেষ্টা করেছিলেন।
  • আন্তর্জাতিক অনুপ্রেরণা: তাঁর অহিংসার বার্তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এবং নাগরিক অধিকার আন্দোলন, শান্তি আন্দোলন এবং বিভিন্ন সামাজিক ন্যায়বিচারের সংগ্রামে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

ব্যক্তিগত জীবন

মহাত্মা গান্ধীর ব্যক্তিগত জীবন ছিল তাঁর আদর্শের প্রতিচ্ছবি। তিনি সরলতা, আত্মত্যাগ এবং আত্মশুদ্ধির জীবনযাপন করতেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে কস্তুরবাই মাখানজির সাথে তাঁর বিবাহ হয় এবং এই দম্পতি চার পুত্রসন্তানের জনক ছিলেন: হরিলাল, মণিলাল, রামদাস এবং দেবদাস। কস্তুরবাই গান্ধী ছিলেন তাঁর জীবনের একজন অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং তাঁর সকল সংগ্রামে তিনি গান্ধীজির পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। গান্ধীজি তাঁর জীবনে ব্রহ্মচর্য (celibacy) পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যা তাঁর আধ্যাত্মিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল। তিনি নিরামিষভোজনকে কঠোরভাবে অনুসরণ করতেন এবং এটি তাঁর নৈতিক ও স্বাস্থ্যগত বিশ্বাসের অংশ ছিল। তাঁর জীবন ছিল একটি উন্মুক্ত বইয়ের মতো, যেখানে তিনি তাঁর ভুল-ভ্রান্তি, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং আত্মোপলব্ধির কথা অকপটে লিখেছেন তাঁর আত্মজীবনী 'আমার সত্যের অন্বেষণ' (My Experiments with Truth)-এ। তিনি সবরমতী আশ্রম এবং ফিনিক্স আশ্রমে একটি সাম্প্রদায়িক জীবনযাপন করতেন, যেখানে সবাই একসঙ্গে কাজ করত, প্রার্থনা করত এবং সরল জীবনযাপন করত। তাঁর পোশাক ছিল অত্যন্ত সাধারণ – একটি ধুতি এবং চাদর, যা ভারতের সাধারণ মানুষের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। তিনি নিজের হাতে চরকা কেটে সুতা তৈরি করতেন এবং সেই সুতা দিয়ে নিজের কাপড় বুনতেন, যা স্বনির্ভরতা ও স্বদেশী আন্দোলনের প্রতীক ছিল।

মজার তথ্য

  • নোবেল শান্তি পুরস্কার: মহাত্মা গান্ধী ১৯৩৭, ১৯৩৮, ১৯৩৯, ১৯৪৭ সালে এবং মৃত্যুর ঠিক আগে ১৯৪৮ সালে মোট পাঁচবার নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন, কিন্তু তিনি কখনই এই পুরস্কার পাননি। অনেক নোবেল কমিটি সদস্য পরে এটিকে তাঁদের একটি বড় ভুল বলে স্বীকার করেন।
  • আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস: তাঁর জন্মদিন, ২ অক্টোবর, বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস হিসেবে পালিত হয়। ২০০৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এই সিদ্ধান্ত নেয়।
  • লেবু ও লবণ: গান্ধীজি তাঁর ডায়েটে লেবু ও লবণকে খুব গুরুত্ব দিতেন। লবণ সত্যাগ্রহের সময় তিনি লবণকে শুধু রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবেই নয়, দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবেও তুলে ধরেছিলেন।
  • চারটি মহাদেশে ভ্রমণ: তিনি চারটি মহাদেশে (এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ) ভ্রমণ করেছেন এবং ১২টিরও বেশি দেশে বসবাস করেছেন। তিনি মূলত ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ইংল্যান্ডে তাঁর জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন।
  • গান্ধীজীর ঘড়ি: তিনি একটি সাধারণ পকেট ঘড়ি ব্যবহার করতেন, যা তাঁর সরল জীবনযাত্রার প্রতীক ছিল। এই ঘড়িটি প্রায়শই তাঁর ধুতিতে আটকানো থাকত।
  • চিঠি লেখা: তিনি অসংখ্য চিঠি লিখেছেন, যার মধ্যে লিও টলস্টয়, আলবার্ট আইনস্টাইন এবং হিটলারের মতো বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বদের কাছে লেখা চিঠিও অন্তর্ভুক্ত।
  • চলচ্চিত্র ও বই: মহাত্মা গান্ধীর জীবন নিয়ে অসংখ্য বই লেখা হয়েছে এবং চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রিচার্ড অ্যাটেনবোরোর 'গান্ধী' (১৯৮২) ছবিটি অস্কার জিতেছিল।

উপসংহার

মহাত্মা গান্ধী কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন দার্শনিক, একজন সমাজ সংস্কারক এবং মানবতাবাদী। তাঁর জীবন ছিল সত্য, অহিংসা এবং আত্মত্যাগের এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে তাঁর অহিংস সংগ্রাম ভারতকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছিল এবং বিশ্বজুড়ে ঔপনিবেশিক শাসন অবসানের পথ প্রশস্ত করেছিল। তাঁর সত্যাগ্রহের দর্শন আজও নিপীড়িত মানুষের কাছে প্রতিরোধের এক শক্তিশালী হাতিয়ার। যদিও তিনি ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতা দেখেছিলেন, কিন্তু দেশভাগের বেদনা এবং সাম্প্রদায়িক সহিংসতা তাঁকে গভীরভাবে বিচলিত করেছিল। ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি এক আততায়ীর গুলিতে তাঁর জীবনাবসান হয়, কিন্তু তাঁর আদর্শ ও বার্তা আজও বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে অম্লান। মহাত্মা গান্ধী শুধু ভারতের জাতির পিতাই নন, তিনি বিশ্ব শান্তির এক চিরন্তন প্রতীক, যাঁর শিক্ষা ও আদর্শ আগামী প্রজন্মকেও আলোর পথ দেখাবে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন: মহাত্মা গান্ধী কে ছিলেন?

উত্তর: মহাত্মা গান্ধী ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা এবং অহিংস প্রতিরোধের পথিকৃৎ। তিনি ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারতের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছিলেন এবং বিশ্বজুড়ে নাগরিক অধিকার আন্দোলনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলেন। তাঁকে ভারতের জাতির পিতা হিসেবে গণ্য করা হয়।

প্রশ্ন: মহাত্মা গান্ধীকে কেন "জাতির পিতা" বলা হয়?

উত্তর: মহাত্মা গান্ধী তাঁর অহিংস সংগ্রাম এবং আত্মত্যাগের মাধ্যমে ভারতকে ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত করতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা ও আদর্শ ভারতের ঐক্য ও স্বাধীনতার ভিত্তি স্থাপন করেছিল, তাই তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে "জাতির পিতা" হিসেবে স্মরণ করা হয়।

প্রশ্ন: সত্যাগ্রহ কী?

উত্তর: সত্যাগ্রহ হলো মহাত্মা গান্ধীর প্রবর্তিত একটি অহিংস প্রতিরোধের দর্শন ও কৌশল। এর মূলনীতি হলো সত্য ও প্রেমের শক্তিতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিপক্ষকে ঘৃণা না করে তাদের হৃদয় পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়।

প্রশ্ন: মহাত্মা গান্ধী কবে ভারতে ফিরে আসেন?

উত্তর: মহাত্মা গান্ধী দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রায় ২১ বছর থাকার পর ১৯১৫ সালের ৯ জানুয়ারি ভারতে ফিরে আসেন। এই দিনটি ভারতে 'প্রবাসী ভারতীয় দিবস' হিসেবে পালিত হয়।

প্রশ্ন: মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন কীভাবে পালন করা হয়?

উত্তর: মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন, ২ অক্টোবর, ভারতে 'গান্ধী জয়ন্তী' হিসেবে জাতীয় ছুটি হিসেবে পালিত হয়। বিশ্বজুড়ে এই দিনটি 'আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস' হিসেবেও পালিত হয়, যা তাঁর অহিংসার নীতিকে সম্মান জানায়।

প্রশ্ন: মহাত্মা গান্ধী কোন আন্দোলনের জন্য পরিচিত?

উত্তর: মহাত্মা গান্ধী অসহযোগ আন্দোলন, লবণ সত্যাগ্রহ (ডান্ডি মার্চ) এবং ভারত ছাড়ো আন্দোলনের মতো ঐতিহাসিক আন্দোলনের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এই আন্দোলনগুলি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ভারতীয়দের একত্রিত করেছিল এবং স্বাধীনতার পথ সুগম করেছিল।

প্রশ্ন: মহাত্মা গান্ধীর প্রধান বার্তা কী ছিল?

উত্তর: মহাত্মা গান্ধীর প্রধান বার্তা ছিল সত্য, অহিংসা এবং প্রেম। তিনি বিশ্বাস করতেন যে এই নীতিগুলির মাধ্যমে যে কোনো অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সফলভাবে লড়াই করা সম্ভব। তিনি স্বরাজ (আত্মশাসন) এবং সর্বোদয় (সকলের কল্যাণ) এর ধারণার প্রচার করেছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Bottom Ad [Post Page]