Full width home advertisement

Featured Actors

Popular Biographies

Post Page Advertisement [Top]

তথ্যসারণি
পুরো নাম এসরা বিলজিক
জন্ম ১৪ অক্টোবর ১৯৯২
জন্মস্থান আঙ্কারা, তুরস্ক
জাতীয়তা তুর্কি
পেশা অভিনেত্রী, মডেল
পরিচিতি 'দিরিলিস এরতুগ্রুল' নাটকে হালিমা সুলতান চরিত্রে অভিনয়ের জন্য
উল্লেখযোগ্য কাজ দিরিলিস এরতুগ্রুল, রামো, কানুনসুজ তোপরকলার
বৈবাহিক অবস্থা তালাকপ্রাপ্ত

পরিচিতি

এসরা বিলজিক, তুরস্কের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যিনি তার অসাধারণ অভিনয় প্রতিভা এবং মন মুগ্ধ করা সৌন্দর্যের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে দর্শকদের হৃদয় জয় করেছেন। বিশেষ করে, জনপ্রিয় তুর্কি ঐতিহাসিক ড্রামা সিরিজ 'দিরিলিস এরতুগ্রুল'-এ "হালিমা সুলতান" চরিত্রে তার অনবদ্য portrayals তাকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দিয়েছে। বাংলাদেশেও তিনি "হালিমা সুলতান" নামেই অত্যন্ত সুপরিচিত এবং তার জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। এসরা বিলজিক কেবল একজন অভিনেত্রী নন, তিনি তার শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব এবং ঐতিহাসিক চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলার ক্ষমতার জন্য প্রশংসিত। তার অভিনয় জীবন শুরু হয় এই মেগা-সিরিজের মাধ্যমেই, যা তাকে রাতারাতি তারকা বানিয়ে তোলে এবং বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি ভক্ত তৈরি করে।

এসরা বিলজিক তার কর্মজীবনে বিভিন্ন চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করেছেন, তবে হালিমা সুলতানের চরিত্রটি তার ক্যারিয়ারের মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। এই চরিত্রটি তাকে শুধু তুরস্ক নয়, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে সাংস্কৃতিক আইকনে পরিণত করেছে। তার সাবলীল অভিনয়, ঐতিহাসিক পোশাকের সাথে মানানসই শারীরিক ভাষা এবং আবেগপূর্ণ অভিব্যক্তি দর্শকদের গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। এসরা বিলজিকের প্রভাব এতটাই ব্যাপক যে, তার ফ্যাশন, জীবনযাপন এবং ব্যক্তিগত মতামতও গণমাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। তিনি আধুনিক তুর্কি অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

প্রারম্ভিক জীবন

এসরা বিলজিক ১৯৯২ সালের ১৪ অক্টোবর তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় জন্মগ্রহণ করেন। তার শৈশব এবং কৈশোর কেটেছে আঙ্কারার প্রাণবন্ত পরিবেশে। ছোটবেলা থেকেই তিনি শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী ছিলেন। যদিও তার পরিবারে সরাসরি অভিনয়ের সাথে জড়িত কেউ ছিলেন না, এসরা অল্প বয়স থেকেই অভিনয় এবং সৃজনশীল কাজের প্রতি গভীর অনুরাগ অনুভব করতেন। তার প্রারম্ভিক জীবন ছিল সাধারণ কিন্তু স্বপ্নময়, যেখানে তিনি নিজেকে একজন সফল এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখতেন। তার বেড়ে ওঠার সময়ে তিনি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতেন, যা হয়তো ভবিষ্যতে তার অভিনয় জীবনের ভিত্তি স্থাপন করেছিল।

আঙ্কারার স্থানীয় বিদ্যালয়ে তার প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন হয়। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন ধরনের বই পড়তে এবং ঐতিহাসিক বিষয়বস্তু নিয়ে জানতে ভালোবাসতেন। এই আগ্রহ তাকে পরবর্তীতে 'দিরিলিস এরতুগ্রুল'-এর মতো ঐতিহাসিক নাটকে হালিমা সুলতানের মতো একটি শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয় করার জন্য প্রস্তুত করতে সাহায্য করেছিল। তার পরিবার তাকে সবসময় তার পছন্দের পথে উৎসাহিত করেছে, যা তাকে তার স্বপ্ন পূরণের দিকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে। এসরা বিলজিকের প্রারম্ভিক জীবন তার দৃঢ় সংকল্প এবং পরিশ্রমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা তাকে আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে।

শিক্ষাজীবন

এসরা বিলজিক কেবল একজন প্রতিভাবান অভিনেত্রীই নন, তিনি শিক্ষাক্ষেত্রেও বেশ মনোযোগী ছিলেন। তার উচ্চশিক্ষা শুরু হয় আঙ্কারার হাচিটেপে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রত্নতত্ত্ব (Archaeology) নিয়ে পড়াশোনার মাধ্যমে। প্রত্নতত্ত্বের প্রতি তার আগ্রহ তাকে প্রাচীন সভ্যতা, ইতিহাস এবং সংস্কৃতির গভীরে প্রবেশ করতে সাহায্য করেছিল, যা পরবর্তীতে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের উপর নির্মিত 'দিরিলিস এরতুগ্রুল'-এর মতো সিরিজে তার চরিত্রকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে সহায়ক হয়েছিল। এই পড়াশোনা তাকে ঐতিহাসিক চরিত্রগুলির মনস্তত্ত্ব এবং তাদের সময়ের প্রেক্ষাপট বুঝতে এক অনন্য অন্তর্দৃষ্টি দিয়েছিল।

তবে, কিছুদিন প্রত্নতত্ত্ব নিয়ে পড়াশোনার পর এসরা বিলজিক তার অধ্যয়নের ক্ষেত্র পরিবর্তন করেন। তিনি বিলকেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক (International Relations) বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে পড়াশোনা তাকে বিশ্ব রাজনীতি, কূটনীতি এবং বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে সংযোগ সম্পর্কে একটি ব্যাপক ধারণা দেয়। এই জ্ঞান তাকে একজন বিশ্ব নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এবং তার অভিনয় জীবনে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দর্শকদের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করেছে। তার শিক্ষাজীবন প্রমাণ করে যে তিনি কেবল মুখের সৌন্দর্য দিয়ে নয়, মেধা এবং জ্ঞান দিয়েও নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন।

ক্যারিয়ার

এসরা বিলজিকের অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু হয় এক অসাধারণ সাফল্যের মধ্য দিয়ে, যা তাকে দ্রুতই বিশ্বজুড়ে পরিচিতি এনে দেয়। ২০১৪ সালে তিনি মেগা-সিরিজ 'দিরিলিস এরতুগ্রুল'-এর মাধ্যমে প্রথম অভিনয় জগতে পা রাখেন। এই সিরিজে তিনি সেলজুক সাম্রাজ্যের রাজকন্যা এবং এরতুগ্রুল বে-এর স্ত্রী হালিমা সুলতানের প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। হালিমা সুলতান চরিত্রটি ছিল সাহসী, দৃঢ়চেতা এবং একই সাথে কোমল হৃদয়ের অধিকারী, যা এসরা বিলজিক অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ফুটিয়ে তোলেন। তার অভিনয় এতটাই বাস্তবসম্মত ছিল যে, দর্শকরা তাকে সত্যিকারের হালিমা সুলতান হিসেবেই গ্রহণ করে নেয়। এই সিরিজটি তুরস্কের টেলিভিশনের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল সিরিজগুলোর মধ্যে অন্যতম এবং বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৫০টিরও বেশি দেশে এটি প্রচারিত হয়েছে।

‘দিরিলিস এরতুগ্রুল’ সিরিজে তার চার বছরের যাত্রা (২০১৪-২০১৮) তাকে কেবল একজন অভিনেত্রী হিসেবে নয়, একজন সাংস্কৃতিক আইকন হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই সিরিজের সাফল্যের পর এসরা বিলজিক আর পেছনে ফিরে তাকাননি। ২০১৮ সালে সিরিজটি শেষ হওয়ার পর তিনি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কাজ শুরু করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ২০১৯ সালের ক্রাইম ড্রামা সিরিজ 'রামো' (Ramo), যেখানে তিনি সিবেল চরিত্রে অভিনয় করেন। এই চরিত্রে তিনি তার পূর্বের ঐতিহাসিক চরিত্রের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি আধুনিক এবং শক্তিশালী নারীর ভূমিকায় নিজেকে প্রমাণ করেন। 'রামো' সিরিজে তার অভিনয় সমালোচকদের দ্বারা প্রশংসিত হয় এবং এটি তার বহুমুখী অভিনয় প্রতিভার পরিচয় দেয়।

পরবর্তীতে, ২০২১ সালে তিনি ঐতিহাসিক ড্রামা 'কানুনসুজ তোপরকলার' (Kanunsuz Topraklar) এ গুলফেম চরিত্রে অভিনয় করেন। এই সিরিজটি বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকের তুরস্কের পটভূমিতে নির্মিত হয়েছিল এবং এসরা বিলজিক এখানেও তার অভিনয় দিয়ে দর্শকদের মন জয় করেন। তার প্রতিটি চরিত্রেই তিনি নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করেছেন এবং দর্শকদের সামনে ভিন্ন ভিন্ন রূপে উপস্থাপন করেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি এসরা বিলজিক একজন সফল মডেলও। তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এবং স্থানীয় ব্র্যান্ডের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করেছেন, যার মধ্যে বাংলাদেশের একটি সুপরিচিত মোবাইল ব্র্যান্ডও রয়েছে। তার ফ্যাশন সেন্স এবং স্টাইল তাকে তরুণ প্রজন্মের কাছে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে। তার ক্যারিয়ার প্রমাণ করে যে তিনি শুধুমাত্র একটি চরিত্র দিয়ে নয়, বরং ধারাবাহিক পরিশ্রম এবং মেধার জোরেই শিল্পের জগতে নিজের স্থায়ী আসন গড়ে তুলেছেন।

উল্লেখযোগ্য অর্জন

এসরা বিলজিকের ক্যারিয়ারে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য অর্জন রয়েছে যা তাকে একজন আন্তর্জাতিক তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তার সবচেয়ে বড় অর্জন নিঃসন্দেহে 'দিরিলিস এরতুগ্রুল' সিরিজে হালিমা সুলতানের চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করা। এই চরিত্রটি তাকে শুধু তুরস্ক নয়, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এক বিশাল ফ্যানবেজ তৈরি করে দিয়েছে। তার অভিনয় লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে এবং তাকে সাংস্কৃতিক দূত হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে।

তিনি বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন তার অভিনয়ের জন্য। এর মধ্যে রয়েছে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নারীদের অনুপ্রেরণা যোগানোর জন্য বিভিন্ন সম্মাননা। এসরা বিলজিক তার জনপ্রিয়তাকে শুধু অভিনয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তিনি অত্যন্ত সক্রিয়। তার লক্ষ লক্ষ অনুসারী রয়েছে, যাদের সাথে তিনি তার কাজ এবং ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন দিক শেয়ার করেন। তার এই সক্রিয়তা তাকে ভক্তদের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।

এছাড়াও, তিনি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন, যা তার মডেলিং ক্যারিয়ারকেও সমৃদ্ধ করেছে। বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় মোবাইল ব্র্যান্ডের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করা তার আন্তর্জাতিক প্রভাবের একটি বড় প্রমাণ। এই অর্জনগুলো এসরা বিলজিককে কেবল একজন অভিনেত্রী হিসেবে নয়, একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে, যিনি তার কাজ এবং ব্যক্তিত্ব দিয়ে বিশ্বজুড়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছেন।

ব্যক্তিগত জীবন

এসরা বিলজিকের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে বরাবরই কৌতূহল ছিল। তিনি তার ব্যক্তিগত জীবনকে যতটা সম্ভব আড়ালে রাখতে পছন্দ করলেও, তার জনপ্রিয়তার কারণে অনেক তথ্যই গণমাধ্যমে চলে আসে। ২০১৭ সালে তিনি তুর্কি পেশাদার ফুটবলার গোকহান তোরে-কে (Gökhan Töre) বিয়ে করেন। তাদের বিবাহ অনুষ্ঠান ছিল বেশ জাঁকজমকপূর্ণ এবং তুরস্কের সে সময়ের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। বিয়ের অনুষ্ঠানে তুরস্কের রাষ্ট্রপতি রেচেপ তাইয়িপ এরদোয়ান এবং তার স্ত্রী এমিনে এরদোয়ানও উপস্থিত ছিলেন, যা তাদের জনপ্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়।

তবে, তাদের এই সম্পর্ক বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ২০১৯ সালে তারা বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা দেন, যা তাদের ভক্তদের জন্য ছিল একটি দুঃখজনক খবর। বিবাহবিচ্ছেদের পর এসরা বিলজিক তার ক্যারিয়ারে আরও বেশি মনোযোগ দেন এবং নতুন নতুন চরিত্রে নিজেকে ব্যস্ত রাখেন। তিনি তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব বেশি কথা বলতে পছন্দ করেন না এবং তার কাজকেই তার পরিচয় হিসেবে তুলে ধরতে আগ্রহী। এসরা বিলজিক তার পরিবার এবং বন্ধুদের সাথে সময় কাটাতে ভালোবাসেন এবং নিজের ফিটনেস ও স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি তার ভক্তদের সাথে যুক্ত থাকলেও, ব্যক্তিগত জীবনের খুঁটিনাটি তিনি সচরাচর শেয়ার করেন না।

মজার তথ্য

  • এসরা বিলজিক তার অভিনয় জীবনে আসার আগে প্রত্নতত্ত্ব নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন, যা তার ঐতিহাসিক চরিত্রগুলোকে বুঝতে সাহায্য করেছে।
  • 'দিরিলিস এরতুগ্রুল' সিরিজে হালিমা সুলতানের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তাকে ঘোড়সওয়ারি এবং তলোয়ার চালানো শিখতে হয়েছিল।
  • তিনি একজন প্রাণবন্ত এবং ফ্যাশন সচেতন ব্যক্তি। তার স্টাইল স্টেটমেন্ট প্রায়শই ফ্যাশন ম্যাগাজিনগুলোতে স্থান পায়।
  • তুরস্কের বাইরে পাকিস্তান, ভারত এবং বাংলাদেশে তার জনপ্রিয়তা এতটাই বেশি যে তাকে প্রায়শই বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনে দেখা যায়।
  • তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অত্যন্ত সক্রিয় এবং তার ভক্তদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। ইনস্টাগ্রামে তার লক্ষ লক্ষ অনুসারী রয়েছে।
  • এসরা বিলজিক একাধিক ভাষা জানেন। তুর্কি ছাড়াও তিনি ইংরেজি ভাষায় সাবলীল।
  • তিনি পশুপ্রেমী এবং প্রায়শই তার পোষা প্রাণীদের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেন।

উপসংহার

এসরা বিলজিক, যিনি "হালিমা সুলতান" নামেই বিশ্বজুড়ে পরিচিত, আধুনিক তুর্কি অভিনয় জগতের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তার ক্যারিয়ারের শুরুটা ছিল এক ঐতিহাসিক সাফল্যের মাধ্যমে, যা তাকে রাতারাতি আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দিয়েছে। 'দিরিলিস এরতুগ্রুল' সিরিজে তার অনবদ্য অভিনয় তাকে শুধু একজন অভিনেত্রী হিসেবে নয়, বরং সাংস্কৃতিক আইকন হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে, বিশেষ করে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে। তার সৌন্দর্য, মেধা এবং পরিশ্রম তাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

হালিমা সুলতানের চরিত্রটি তার জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকলেও, এসরা বিলজিক নিজেকে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে প্রমাণ করেছেন। 'রামো' এবং 'কানুনসুজ তোপরকলার'-এর মতো সিরিজে তার ভিন্নধর্মী অভিনয় তার বহুমুখী প্রতিভার পরিচয় বহন করে। তিনি কেবল একজন সফল অভিনেত্রীই নন, একজন মডেল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বও। তার শিক্ষাজীবন থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবন পর্যন্ত সবকিছুই তার দৃঢ় সংকল্প এবং আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। এসরা বিলজিক প্রমাণ করেছেন যে কঠোর পরিশ্রম, মেধা এবং নিষ্ঠা থাকলে যেকোনো স্বপ্নই পূরণ করা সম্ভব। ভবিষ্যতে তার কাছ থেকে আরও অনেক অসাধারণ কাজ দেখার অপেক্ষায় রয়েছে তার বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ভক্তরা।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন: এসরা বিলজিক কে?

উত্তর: এসরা বিলজিক একজন তুর্কি অভিনেত্রী এবং মডেল। তিনি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা লাভ করেন 'দিরিলিস এরতুগ্রুল' নামক ঐতিহাসিক তুর্কি ড্রামা সিরিজে "হালিমা সুলতান" চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে।

প্রশ্ন: এসরা বিলজিকের জন্ম কবে এবং কোথায়?

উত্তর: এসরা বিলজিক ১৯৯২ সালের ১৪ অক্টোবর তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় জন্মগ্রহণ করেন। তার শৈশব ও কৈশোর আঙ্কারাতেই কেটেছে।

প্রশ্ন: তিনি কোন চরিত্রে অভিনয় করে সবচেয়ে বেশি পরিচিতি লাভ করেন?

উত্তর: তিনি 'দিরিলিস এরতুগ্রুল' সিরিজে এরতুগ্রুল বে-এর স্ত্রী "হালিমা সুলতান" চরিত্রে অভিনয় করে সবচেয়ে বেশি পরিচিতি লাভ করেন। এই চরিত্রটি তাকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দিয়েছে।

প্রশ্ন: এসরা বিলজিকের শিক্ষাজীবন কেমন ছিল?

উত্তর: এসরা বিলজিক প্রথমে হাচিটেপে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রত্নতত্ত্ব নিয়ে পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে তিনি বিলকেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে অধ্যয়ন করেন।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে এসরা বিলজিকের জনপ্রিয়তার কারণ কী?

উত্তর: 'দিরিলিস এরতুগ্রুল' সিরিজটি বাংলাদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করায়, এর প্রধান চরিত্র "হালিমা সুলতান" হিসেবে এসরা বিলজিকও এ দেশে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তার সৌন্দর্য, অভিনয় দক্ষতা এবং শক্তিশালী চরিত্র portrayals দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।

প্রশ্ন: এসরা বিলজিকের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাজ কি কি?

উত্তর: 'দিরিলিস এরতুগ্রুল' ছাড়াও এসরা বিলজিক 'রামো' (Ramo) এবং 'কানুনসুজ তোপরকলার' (Kanunsuz Topraklar) এর মতো জনপ্রিয় তুর্কি সিরিজে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তিনি একজন সফল মডেল হিসেবেও পরিচিত।

প্রশ্ন: এসরা বিলজিক কি বিবাহিত?

উত্তর: এসরা বিলজিক ২০১৭ সালে তুর্কি ফুটবলার গোকহান তোরে-কে বিয়ে করেছিলেন, তবে ২০১৯ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়। বর্তমানে তিনি তালাকপ্রাপ্ত।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Bottom Ad [Post Page]