| তথ্যসারণি | |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | পিটার জিন হার্নান্দেজ |
| পেশা | গায়ক, গীতিকার, রেকর্ড প্রযোজক, নৃত্যশিল্পী |
| জাতীয়তা | আমেরিকান |
| জন্ম | ৮ অক্টোবর, ১৯৮৫ |
| জন্মস্থান | হনলুলু, হাওয়াই, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র |
| পরিচিতি | পপ ও আরএন্ডবি আইকন, তিন-অক্টেভ টেনর ভোকাল রেঞ্জ |
| ব্যান্ড | দ্য হুলিগানস |
পরিচিতি
পিটার জিন হার্নান্দেজ, যিনি পেশাগতভাবে ব্রুনো মার্স নামেই বিশ্বজুড়ে পরিচিত, একজন আমেরিকান গায়ক, গীতিকার, রেকর্ড প্রযোজক এবং নৃত্যশিল্পী। পপ সঙ্গীতের অন্যতম আইকন হিসেবে বিবেচিত ব্রুনো মার্স তার অসাধারণ তিন-অক্টেভ টেনর ভোকাল রেঞ্জ, প্রাণবন্ত স্টেজ পারফরম্যান্স, রেট্রো শোম্যানশিপ এবং সঙ্গীতের বহুমুখী প্রতিভার জন্য সুপরিচিত। তার সঙ্গীত শৈলীতে পপ, আরএন্ডবি, ফাঙ্ক, সোল, রেগে এবং রক সঙ্গীতের এক অনন্য মিশ্রণ দেখা যায়, যা তাকে সমসাময়িক সঙ্গীত জগতে এক বিশেষ স্থান করে দিয়েছে। তার পরিবেশনায় সর্বদা তার ব্যাকআপ ব্যান্ড, দ্য হুলিগানস, তাকে সঙ্গ দেয়। ব্রুনো মার্স কেবল একজন গায়ক নন, তিনি একজন দক্ষ গীতিকার এবং প্রযোজকও, যিনি অসংখ্য হিট গান এবং অ্যালবাম তৈরি করেছেন, যা তাকে একাধিক গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসহ অসংখ্য সম্মাননা এনে দিয়েছে।
Photo: Wikimedia Commons
View Source
প্রারম্ভিক জীবন
ব্রুনো মার্স ১৯৮৫ সালের ৮ অক্টোবর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের হনলুলুতে এক সঙ্গীত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা পিটার হার্নান্দেজ ছিলেন একজন পারকাশনিস্ট এবং তার মা বার্নাডেট সান পেড্রো বায়োট ছিলেন একজন গায়িকা। তার পরিবারের ছয় সন্তানের মধ্যে ব্রুনো ছিলেন তৃতীয়। তার বাবা ছিলেন পুয়ের্তো রিকান এবং ইহুদি বংশোদ্ভূত, আর মা ছিলেন ফিলিপিনো এবং স্প্যানিশ বংশোদ্ভূত। ছোটবেলা থেকেই ব্রুনো সঙ্গীতের পরিবেশে বড় হয়েছেন এবং বিভিন্ন ধরনের সঙ্গীতের সাথে পরিচিত হয়েছেন।
মাত্র দুই বছর বয়স থেকেই ব্রুনো মার্স তার বাবার ব্যান্ডে পারফর্ম করা শুরু করেন। তিনি মাইকেল জ্যাকসন, এলভিস প্রেসলি এবং জেমস ব্রাউনের মতো কিংবদন্তি শিল্পীদের অনুকরণ করে দর্শকদের মুগ্ধ করতেন। বিশেষ করে এলভিস প্রেসলির অনুকরণে তার দক্ষতা তাকে হাওয়াইয়ে ‘ছোট এলভিস’ হিসেবে পরিচিতি এনে দিয়েছিল। তার বাবা তাকে ব্রুনো সামমার্টিনো নামে একজন পেশাদার কুস্তিগীরের সাথে তুলনা করে ‘ব্রুনো’ ডাকনাম দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে তার পেশাগত নামের অংশ হয়ে ওঠে। এই প্রারম্ভিক অভিজ্ঞতা তাকে একজন পারফর্মার হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে এবং তার মধ্যে স্টেজ পারফরম্যান্সের প্রতি গভীর ভালোবাসা তৈরি করে।
শিক্ষাজীবন
ব্রুনো মার্স হনলুলুর রুজভেল্ট হাই স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। যদিও তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন সঙ্গীতকেন্দ্রিক ছিল না, তবে তিনি স্কুল জীবন থেকেই সঙ্গীতের প্রতি তার গভীর আগ্রহ এবং প্রতিভা প্রদর্শন করেছেন। তিনি বিভিন্ন স্থানীয় অনুষ্ঠানে এবং পারিবারিক ব্যান্ডে নিয়মিত পারফর্ম করতেন, যা তাকে সঙ্গীত জগতের ব্যবহারিক দিক সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করে। হাই স্কুল থেকে পাশ করার পর, তিনি তার সঙ্গীত স্বপ্ন পূরণের জন্য ২০০৩ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসে পাড়ি জমান।
ক্যারিয়ার
প্রাথমিক সংগ্রাম ও উত্থান
লস অ্যাঞ্জেলেসে এসে ব্রুনো মার্সকে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি প্রথমে মোটাউন রেকর্ডসের সাথে চুক্তিবদ্ধ হলেও তা সফল হয়নি। তবে এই সময়ে তিনি গীতিকার এবং প্রযোজক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান। তিনি দ্য স্পুটনিকস নামে একটি প্রযোজনা দল গঠন করেন এবং অন্যান্য শিল্পীদের জন্য গান লেখা ও প্রযোজনা শুরু করেন। তার এই সময়ের উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে কে'নানের ‘ওয়েভিং ফ্ল্যাগ’ (Wavin' Flag), বি.ও.বি-এর ‘নাথিন' অন ইউ’ (Nothin' on You) এবং ট্র্যাভি ম্যাককয়ের ‘বিলিওনেয়ার’ (Billionaire)। এই গানগুলো ব্যাপক সাফল্য লাভ করে এবং ব্রুনো মার্সকে একজন প্রতিভাবান গীতিকার ও প্রযোজক হিসেবে পরিচিতি এনে দেয়।
২০০৯ সালে তিনি আটলান্টিক রেকর্ডসের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন এবং ২০১০ সালে তার প্রথম একক ইপি (EP) ‘ইটস বেটার ইফ ইউ ডোন্ট আন্ডারস্ট্যান্ড’ (It's Better If You Don't Understand) প্রকাশ করেন। এই ইপি-এর ‘জাস্ট দ্য ওয়ে ইউ আর’ (Just the Way You Are) গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং বিলবোর্ড হট ১০০ চার্টে শীর্ষস্থান দখল করে।
সাফল্যের শিখরে
২০১০ সালে ব্রুনো মার্স তার ডেবিউ স্টুডিও অ্যালবাম ‘ডু-ওপস অ্যান্ড হুলিগানস’ (Doo-Wops & Hooligans) প্রকাশ করেন। এই অ্যালবামের ‘জাস্ট দ্য ওয়ে ইউ আর’, ‘গ্রেনেড’ (Grenade) এবং ‘দ্য লেজি সং’ (The Lazy Song) গানগুলো বিশ্বজুড়ে বিশাল সাফল্য লাভ করে। ‘জাস্ট দ্য ওয়ে ইউ আর’ গানটির জন্য তিনি তার প্রথম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন।
২০১২ সালে তার দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘আনঅর্থোডক্স জুকবক্স’ (Unorthodox Jukebox) প্রকাশিত হয়, যা সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায় এবং বাণিজ্যিকভাবেও সফল হয়। এই অ্যালবামের ‘লকড আউট অফ হেভেন’ (Locked Out of Heaven) এবং ‘হোয়েন আই ওয়াজ ইওর ম্যান’ (When I Was Your Man) গানগুলো বিশ্বব্যাপী হিট হয়। ‘আনঅর্থোডক্স জুকবক্স’ অ্যালবামটি সেরা পপ ভোকাল অ্যালবাম ক্যাটাগরিতে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড লাভ করে।
২০১৪ সালে ব্রুনো মার্স মার্ক রনসনের সাথে যৌথভাবে ‘আপটাউন ফাঙ্ক’ (Uptown Funk) গানটি তৈরি করেন, যা একটি বিশ্বব্যাপী ফেনোমেননে পরিণত হয়। গানটি বিলবোর্ড হট ১০০ চার্টে টানা ১৪ সপ্তাহ ধরে শীর্ষস্থানে ছিল এবং রেকর্ড অফ দ্য ইয়ার ক্যাটাগরিতে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড লাভ করে।
২০১৬ সালে তিনি তার তৃতীয় স্টুডিও অ্যালবাম ‘২৪কে ম্যাজিক’ (24K Magic) প্রকাশ করেন। এই অ্যালবামটিও ব্যাপক সাফল্য লাভ করে এবং ‘২৪কে ম্যাজিক’, ‘দ্যাটস হোয়াট আই লাইক’ (That's What I Like) এবং ‘ফিনেস’ (Finesse) এর মতো হিট গান উপহার দেয়। ‘২৪কে ম্যাজিক’ অ্যালবামটি অ্যালবাম অফ দ্য ইয়ার ক্যাটাগরিতে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জেতে এবং ‘দ্যাটস হোয়াট আই লাইক’ গানটি সং অফ দ্য ইয়ার ক্যাটাগরিতে গ্র্যামি লাভ করে।
২০২১ সালে ব্রুনো মার্স অ্যান্ডারসন .প্যাকের সাথে ‘সিল্ক সনিক’ (Silk Sonic) নামে একটি নতুন ডুও গঠন করেন এবং তাদের প্রথম অ্যালবাম ‘অ্যান ইভেনিং উইথ সিল্ক সনিক’ (An Evening with Silk Sonic) প্রকাশ করেন। এই অ্যালবামের ‘লিভ দ্য ডোর ওপেন’ (Leave the Door Open) গানটি রেকর্ড অফ দ্য ইয়ার এবং সং অফ দ্য ইয়ার ক্যাটাগরিতে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড লাভ করে।
দ্য হুলিগানস
ব্রুনো মার্সের সঙ্গীত ক্যারিয়ারে তার ব্যাকআপ ব্যান্ড দ্য হুলিগানসের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এই ব্যান্ডটি তার লাইভ পারফরম্যান্সকে আরও প্রাণবন্ত এবং আকর্ষণীয় করে তোলে। দ্য হুলিগানসের সদস্যরা কেবল যন্ত্রশিল্পীই নন, তারা ব্রুনো মার্সের সাথে গান লেখা এবং প্রযোজনাতেও অংশ নেন। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ব্রুনো মার্সের মঞ্চ পরিবেশনাকে একটি অনন্য মাত্রা দেয়, যা দর্শক-শ্রোতাদের কাছে বিশেষভাবে উপভোগ্য।
সঙ্গীত শৈলী ও প্রভাব
ব্রুনো মার্সের সঙ্গীত শৈলী অত্যন্ত বৈচিত্র্যপূর্ণ। তিনি পপ, আরএন্ডবি, সোল, ফাঙ্ক, রেগে, ডিস্কো এবং রক সঙ্গীতের উপাদানগুলিকে নিপুণভাবে মিশ্রিত করেন। তার গানগুলিতে প্রায়শই রেট্রো ভাইব এবং পুরনো দিনের সঙ্গীতের প্রতি শ্রদ্ধা দেখা যায়, যা তাকে সমসাময়িক শিল্পীদের থেকে আলাদা করে তোলে। মাইকেল জ্যাকসন, এলভিস প্রেসলি, জেমস ব্রাউন, প্রিন্স এবং লিটল রিচার্ডের মতো কিংবদন্তি শিল্পীরা তার সঙ্গীতের উপর গভীর প্রভাব ফেলেছেন। তার গানের কথা প্রায়শই প্রেম, সম্পর্ক এবং পার্টি থিম নিয়ে রচিত হয়, যা শ্রোতাদের সাথে সহজে সংযোগ স্থাপন করে।
উল্লেখযোগ্য অর্জন
পুরস্কার ও সম্মাননা
ব্রুনো মার্স তার সঙ্গীত জীবনে অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন। তিনি এ পর্যন্ত ১৪টি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন, যার মধ্যে রয়েছে অ্যালবাম অফ দ্য ইয়ার, রেকর্ড অফ দ্য ইয়ার এবং সং অফ দ্য ইয়ারের মতো সম্মানজনক পুরস্কার। এছাড়াও তিনি বিলবোর্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস, আমেরিকান মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস, এমটিভি ভিডিও মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস এবং সোল ট্রেন মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস-সহ আরও অনেক পুরস্কার জিতেছেন। তার গানগুলো বিলবোর্ড হট ১০০ চার্টে একাধিকবার শীর্ষস্থান দখল করেছে এবং তার অ্যালবামগুলো বিশ্বজুড়ে মিলিয়ন মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা
ব্রুনো মার্স বিশ্বজুড়ে অন্যতম জনপ্রিয় এবং বাণিজ্যিকভাবে সফল সঙ্গীতশিল্পীদের একজন। তার অ্যালবামগুলো বিশ্বব্যাপী ১০০ মিলিয়নেরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছে এবং তার একক গানগুলো ২০০ মিলিয়নেরও বেশি ডিজিটাল কপি বিক্রি হয়েছে, যা তাকে সর্বকালের সেরা বিক্রিত সঙ্গীতশিল্পীদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তার কনসার্টগুলো বিশ্বজুড়ে হাউসফুল হয় এবং তার লাইভ পারফরম্যান্সগুলো সমালোচকদের দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। তিনি ফোর্বস ম্যাগাজিনের বিশ্বের সর্বোচ্চ উপার্জনকারী সঙ্গীতশিল্পীদের তালিকায় নিয়মিত স্থান করে নেন।
ব্যক্তিগত জীবন
ব্রুনো মার্স তার ব্যক্তিগত জীবনকে জনসমক্ষে খুব বেশি আনেন না। তিনি ২০১২ সাল থেকে মডেল এবং অভিনেত্রী জেসিকা কাবানের সাথে সম্পর্কে রয়েছেন। এই দম্পতি লস অ্যাঞ্জেলেসে একসাথে বসবাস করেন। ব্রুনো মার্স তার পরিবারকে অত্যন্ত ভালোবাসেন এবং প্রায়শই তাদের সাথে সময় কাটান। যদিও তিনি একজন বিশ্বখ্যাত তারকা, তবুও তিনি তার ব্যক্তিগত জীবনকে যতটা সম্ভব সাধারণ রাখতে পছন্দ করেন। তিনি বিভিন্ন দাতব্য কাজেও জড়িত রয়েছেন, তবে প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকেই তিনি এসব কাজ করেন।
মজার তথ্য
- ব্রুনো মার্সের আসল নাম পিটার জিন হার্নান্দেজ। তার বাবা তাকে ‘ব্রুনো’ ডাকনাম দিয়েছিলেন, কারণ ছোটবেলায় তাকে জনপ্রিয় কুস্তিগীর ব্রুনো সামমার্টিনোর মতো দেখতে লাগতো।
- মাত্র দুই বছর বয়স থেকেই ব্রুনো মার্স তার পারিবারিক ব্যান্ডে পারফর্ম করা শুরু করেন এবং হাওয়াইয়ে ‘ছোট এলভিস’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
- তিনি একজন স্বশিক্ষিত সঙ্গীতশিল্পী এবং একাধিক বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারেন, যার মধ্যে রয়েছে ড্রামস, গিটার, বেস, পিয়ানো এবং কীবোর্ড।
- লস অ্যাঞ্জেলেসে আসার পর তিনি প্রথমে একজন গীতিকার এবং প্রযোজক হিসেবে কাজ শুরু করেন, অন্যান্য শিল্পীদের জন্য হিট গান তৈরি করে নিজেকে প্রমাণ করেন।
- ব্রুনো মার্স সুপার বোল হাফটাইম শোতে দুইবার প্রধান শিল্পী হিসেবে পারফর্ম করেছেন (২০১৪ এবং ২০১৬), যা তাকে এই সম্মান পাওয়া অল্প কয়েকজন শিল্পীর একজন করে তুলেছে।
উপসংহার
ব্রুনো মার্স একজন অসাধারণ প্রতিভাবান সঙ্গীতশিল্পী, যিনি তার অনন্য সঙ্গীত শৈলী, শক্তিশালী ভোকাল এবং মনোমুগ্ধকর স্টেজ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্তের মন জয় করেছেন। তার সঙ্গীত কেবল বিনোদনই দেয় না, বরং এটি বিভিন্ন ঘরানার সঙ্গীতের এক সার্থক মিশ্রণ, যা পুরনো দিনের সঙ্গীতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেও আধুনিকতার ছোঁয়া দেয়। গীতিকার, প্রযোজক এবং পারফর্মার হিসেবে তার বহুমুখী প্রতিভা তাকে সমসাময়িক সঙ্গীত জগতে এক কিংবদন্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ব্রুনো মার্স নিঃসন্দেহে একজন পপ আইকন, যার প্রভাব আগামী প্রজন্মকেও অনুপ্রাণিত করবে এবং তার সঙ্গীত চিরকাল শ্রোতাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন: ব্রুনো মার্সের আসল নাম কী?
উত্তর: ব্রুনো মার্সের আসল নাম হলো পিটার জিন হার্নান্দেজ। তার বাবা তাকে ছোটবেলায় ‘ব্রুনো’ ডাকনাম দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে তার মঞ্চ নাম হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
প্রশ্ন: ব্রুনো মার্স কোন দেশের গায়ক?
উত্তর: ব্রুনো মার্স একজন আমেরিকান গায়ক। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের হনলুলুতে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং সেখানেই তার শৈশব কেটেছে।
প্রশ্ন: ব্রুনো মার্স কিসের জন্য বিখ্যাত?
উত্তর: ব্রুনো মার্স তার অসাধারণ ভোকাল রেঞ্জ, প্রাণবন্ত স্টেজ পারফরম্যান্স, রেট্রো শোম্যানশিপ এবং পপ, আরএন্ডবি, ফাঙ্ক ও সোল সঙ্গীতের মিশ্রণের জন্য বিখ্যাত। তিনি একজন সফল গীতিকার ও প্রযোজকও।
প্রশ্ন: ব্রুনো মার্সের জনপ্রিয় গানগুলো কী কী?
উত্তর: ব্রুনো মার্সের জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘জাস্ট দ্য ওয়ে ইউ আর’, ‘গ্রেনেড’, ‘লকড আউট অফ হেভেন’, ‘হোয়েন আই ওয়াজ ইওর ম্যান’, ‘আপটাউন ফাঙ্ক’, ‘২৪কে ম্যাজিক’, ‘দ্যাটস হোয়াট আই লাইক’ এবং ‘লিভ দ্য ডোর ওপেন’ (সিল্ক সনিকের সাথে)।
প্রশ্ন: ব্রুনো মার্স কতগুলো গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন?
উত্তর: ব্রুনো মার্স তার সঙ্গীত জীবনে এ পর্যন্ত ১৪টি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন, যা তাকে অন্যতম সম্মানিত সঙ্গীতশিল্পীদের একজন করে তুলেছে। তিনি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে এই পুরস্কারগুলো অর্জন করেছেন।
প্রশ্ন: ব্রুনো মার্সের ব্যান্ডটির নাম কী?
উত্তর: ব্রুনো মার্সের ব্যাকআপ ব্যান্ডটির নাম হলো ‘দ্য হুলিগানস’। এই ব্যান্ডটি তার লাইভ পারফরম্যান্সে তাকে সঙ্গ দেয় এবং তার সঙ্গীত তৈরিতেও অবদান রাখে।
প্রশ্ন: ব্রুনো মার্স কত বছর বয়সে গান গাওয়া শুরু করেন?
উত্তর: ব্রুনো মার্স মাত্র দুই বছর বয়স থেকেই তার পারিবারিক ব্যান্ডে পারফর্ম করা শুরু করেন। তিনি ছোটবেলা থেকেই মঞ্চে এলভিস প্রেসলির মতো কিংবদন্তিদের অনুকরণ করে দর্শকদের মুগ্ধ করতেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন