| বিবরণ | তথ্য |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | আল্লাহ রাখা রহমান (এ আর রহমান) |
| জন্ম | ৬ জানুয়ারি, ১৯৬৭ |
| জন্মস্থান | চেন্নাই, তামিলনাড়ু, ভারত |
| পেশা | সঙ্গীত পরিচালক, সুরকার, গায়ক, রেকর্ড প্রযোজক |
| জাতীয়তা | ভারতীয় |
| উল্লেখযোগ্য অর্জন | ২টি একাডেমি অ্যাওয়ার্ড (অস্কার), ২ গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড, পদ্মভূষণ |
| স্ত্রী | সাইরা বানু |
| সন্তান | খতিজা, রহিমা, আমিন |
এ আর রহমান: সুরের জাদুকর ও বিশ্ব সঙ্গীতের পথিকৃৎ
এ আর রহমান, যিনি আল্লাহ রাখা রহমান নামেও পরিচিত, ভারতীয় সঙ্গীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং বিশ্বজুড়ে পরিচিত এক কিংবদন্তী শিল্পী। তার সঙ্গীত কেবল ভারতের সীমানায় আবদ্ধ থাকেনি, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি ভারতীয় সুরের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। তার সুরের জাদুতে মুগ্ধ হয়েছে কোটি কোটি শ্রোতা, আর তার উদ্ভাবনী ক্ষমতা তাকে এনে দিয়েছে অসংখ্য সম্মাননা, যার মধ্যে রয়েছে দুটি একাডেমি অ্যাওয়ার্ড (অস্কার), দুটি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড, একটি বাফটা অ্যাওয়ার্ড, এবং একটি গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ড। ভারত সরকার তাকে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মভূষণ উপাধিতে ভূষিত করেছে।
Photo: Wikimedia Commons
View Source
রহমান তার কর্মজীবনে মূলত তামিল ও হিন্দি চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালনার জন্য পরিচিত হলেও, আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র এবং মঞ্চ নাটকেও তার অবদান অনস্বীকার্য। তিনি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সুরের এক অপূর্ব মিশ্রণ ঘটিয়েছেন, যেখানে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের গভীরতা আধুনিক প্রযুক্তির সাথে মিশে এক নতুন ধারার সৃষ্টি করেছে। তার সঙ্গীত কেবল শ্রুতিমধুর নয়, এটি আত্মাকে স্পর্শ করে, যা তাকে কেবল একজন সুরকার নয়, একজন সঙ্গীত দার্শনিক হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে।
প্রারম্ভিক জীবন ও সঙ্গীতের হাতেখড়ি
এ আর রহমান ১৯৬৭ সালের ৬ জানুয়ারি ভারতের তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ে (তৎকালীন মাদ্রাজ) এ.এস. দিলীপ কুমার নামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আর.কে. শেখর ছিলেন একজন স্বনামধন্য মালয়ালম সঙ্গীত পরিচালক এবং কন্ডাক্টর। বাবার কাছ থেকেই তিনি সঙ্গীতের প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন এবং খুব অল্প বয়সেই বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র যেমন কীবোর্ড, পিয়ানো, সিন্থেসাইজার ও গিটার বাজানো শেখেন। সঙ্গীতের প্রতি তার গভীর অনুরাগ শৈশব থেকেই স্পষ্ট ছিল।
মাত্র নয় বছর বয়সে বাবাকে হারানোর পর রহমানের জীবনে এক কঠিন সময় আসে। পরিবারের আর্থিক অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে, তার মা কারিমা বেগম পরিবারের হাল ধরেন এবং বাবার বাদ্যযন্ত্র ভাড়া দিয়ে পরিবার চালাতেন। রহমান নিজেও এই সময়ে বিভিন্ন সঙ্গীত দলের সাথে কীবোর্ড বাজিয়ে অর্থ উপার্জন শুরু করেন। এই কঠিন অভিজ্ঞতা তাকে আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করে তোলে এবং সঙ্গীতের প্রতি তার নিষ্ঠাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। এই সময়েই তিনি তার মায়ের অনুপ্রেরণায় আধ্যাত্মিকতার দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং পরবর্তীতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে আল্লাহ রাখা রহমান নাম ধারণ করেন।
শিক্ষাজীবন ও সঙ্গীত সাধনা
রহমানের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন ছিল সংক্ষিপ্ত। তিনি পদ্ম শেষাদ্রি বালা ভবন এবং এম.সি.সি. হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে পড়াশোনা করলেও, পরিবারের আর্থিক সহায়তার জন্য অল্প বয়সেই স্কুল ছেড়ে সঙ্গীতে পূর্ণ মনোযোগ দেন। তবে তার সঙ্গীত শিক্ষা কখনও থেমে থাকেনি। তিনি গুরু ধনরাজের কাছে ওয়েস্টার্ন ক্লাসিক্যাল মিউজিক শেখেন এবং পরবর্তীতে লন্ডনের ট্রিনিটি কলেজ অফ মিউজিক থেকে ওয়েস্টার্ন ক্লাসিক্যাল মিউজিক নিয়ে দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে ডিপ্লোমা অর্জন করেন।
কিশোর বয়সে তিনি "রুটস" নামে একটি ব্যান্ড গঠন করেন এবং বিভিন্ন স্থানীয় অর্কেস্ট্রার সাথে কাজ করেন। একজন সেশন মিউজিশিয়ান হিসেবে তিনি এম.এস. বিশ্বনাথন, ইলাইয়ারাজা, রমেশ নাইডু এবং রাজ-কোটির মতো কিংবদন্তী সুরকারদের সাথে কাজ করার সুযোগ পান। এই অভিজ্ঞতা তাকে সঙ্গীত রচনা, অ্যারেঞ্জমেন্ট এবং প্রযোজনা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করে। তার নিজস্ব রেকর্ডিং স্টুডিও, পঞ্চাতন রেকর্ড ইন, প্রতিষ্ঠা ছিল তার সঙ্গীত যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যা পরবর্তীতে অত্যাধুনিক স্টুডিওতে পরিণত হয়।
বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার ও বিশ্বজোড়া খ্যাতি
এ আর রহমানের পেশাগত জীবনের মোড় ঘুরে যায় ১৯৯২ সালে, যখন তিনি পরিচালক মণি রত্নমের তামিল চলচ্চিত্র "রোজা"-এর সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্ব পান। এই চলচ্চিত্রের সঙ্গীত ছিল এক নতুন যুগের সূচনা। তার সুরের বিন্যাস, উদ্ভাবনী ব্যবহার এবং ভারতীয় লোক ও শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের সাথে আধুনিক ফিউশনের মিশ্রণ তাকে রাতারাতি তারকা বানিয়ে দেয়। "রোজা" তাকে শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালকের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এনে দেয়, যা তার প্রথম জাতীয় পুরস্কার ছিল।
এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তামিল চলচ্চিত্রে একের পর এক সফল অ্যালবামের পর তিনি হিন্দি চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন। রাম গোপাল ভার্মার "রঙ্গীলা" (১৯৯৫) এবং মণি রত্নমের "দিল সে.." (১৯৯৮) তাকে বলিউডেও প্রতিষ্ঠিত করে। "তাল", "লগান", "স্বদেশ", "যোধা আকবর"-এর মতো চলচ্চিত্রে তার সঙ্গীত তাকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা সুরকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
২০০৮ সালে ড্যানি বয়েলের "স্লামডগ মিলিয়নিয়ার" চলচ্চিত্রটি এ আর রহমানের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট ছিল। এই চলচ্চিত্রের জন্য তিনি দুটি একাডেমি অ্যাওয়ার্ড (অস্কার) অর্জন করেন – একটি সেরা মৌলিক সুরের জন্য এবং অন্যটি "জয় হো" গানের জন্য সেরা মৌলিক গানের জন্য। এই অর্জন তাকে বিশ্ব মঞ্চে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। এরপর তিনি "১২৭ আওয়ার্স", "কাপলস রিট্রিট", "পেলে: বার্থ অফ এ লেজেন্ড" এর মতো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রেও কাজ করেন। তিনি অ্যান্ড্রু লয়েড ওয়েবারের "বম্বে ড্রিমস" এবং "লর্ড অফ দ্য রিংস" মিউজিক্যালের জন্যও সঙ্গীত রচনা করেছেন।
এ আর রহমান শুধু চলচ্চিত্রেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। তিনি কে.এম. মিউজিক কনজারভেটরি প্রতিষ্ঠা করেছেন, যা তরুণ সঙ্গীত প্রতিভাদের প্রশিক্ষণ দেয়। তার সঙ্গীতশৈলী আধুনিক প্রযুক্তি, বিশ্ব সঙ্গীত, ভারতীয় শাস্ত্রীয় ও লোক সঙ্গীত এবং পশ্চিমা অর্কেস্ট্রেশনকে একত্রিত করে এক স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছে। তার কণ্ঠও বহু জনপ্রিয় গানে শোনা গেছে, যা তার সুরের মতোই শ্রোতাদের মন জয় করেছে।
উল্লেখযোগ্য অর্জন ও সম্মাননা
এ আর রহমান তার অসাধারণ প্রতিভার জন্য অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন। তার ঝুলিতে রয়েছে:
- একাডেমি অ্যাওয়ার্ড (অস্কার): ২টি (২০০৯ সালে "স্লামডগ মিলিয়নিয়ার" ছবির জন্য সেরা মৌলিক সুর এবং সেরা মৌলিক গান "জয় হো"-এর জন্য)।
- গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড: ২টি (২০০৯ সালে "স্লামডগ মিলিয়নিয়ার" ছবির জন্য)।
- বাফটা অ্যাওয়ার্ড: ১টি (২০০৯ সালে "স্লামডগ মিলিয়নিয়ার" ছবির জন্য)।
- গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ড: ১টি (২০০৯ সালে "স্লামডগ মিলিয়নিয়ার" ছবির জন্য)।
- জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার: ৭টি।
- ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড: ১৫টি।
- ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড সাউথ: ১৮টি।
- পদ্মভূষণ: ২০১০ সালে ভারত সরকার কর্তৃক প্রদত্ত ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা।
- মাননীয় ডক্টরেট: বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাধিক সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি।
- টাইম ম্যাগাজিনের স্বীকৃতি: ২০০৯ সালে টাইম ম্যাগাজিনের বিশ্বের ১০০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান।
এছাড়াও তিনি অসংখ্য আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, যা ভারতীয় সঙ্গীতকে বিশ্ব দরবারে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। তার স্টুডিও, পঞ্চাতন রেকর্ড ইন, এশিয়ার অন্যতম অত্যাধুনিক রেকর্ডিং স্টুডিও হিসেবে পরিচিত।
ব্যক্তিগত জীবন ও আধ্যাত্মিকতা
এ আর রহমান তার ব্যক্তিগত জীবনকে সবসময়ই জনসমক্ষে খুব বেশি আনেননি। তিনি সাইরা বানুকে বিয়ে করেছেন এবং তাদের তিন সন্তান রয়েছে – খতিজা, রহিমা এবং আমিন। তার পরিবার তার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
রহমানের জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো তার আধ্যাত্মিক যাত্রা এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ। এটি তার সঙ্গীত এবং ব্যক্তিগত দর্শনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। তিনি বিশ্বাস করেন যে সঙ্গীত হলো ঈশ্বরের দান, এবং এর মাধ্যমে তিনি শান্তি ও আনন্দ ছড়িয়ে দিতে চান। তার মা কারিমা বেগম তার জীবনে এবং সিদ্ধান্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। মায়ের অনুপ্রেরণা এবং বিশ্বাস তাকে সব সময় সঠিক পথে চালিত করেছে। খ্যাতি এবং সাফল্যের শিখরে পৌঁছেও তিনি তার বিনয়ী স্বভাব এবং আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ বজায় রেখেছেন।
এ আর রহমান সম্পর্কে কিছু মজার তথ্য
- তার আসল নাম ছিল এ.এস. দিলীপ কুমার। তিনি প্রায় ২৩ বছর বয়সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে আল্লাহ রাখা রহমান নাম ধারণ করেন।
- মাত্র চার বছর বয়স থেকেই তিনি কীবোর্ড বাজানো শুরু করেন।
- তার বাবা মারা যাওয়ার পর পরিবারের আর্থিক সংকট মেটাতে তিনি বাবার বাদ্যযন্ত্র ভাড়া দিতেন।
- মণি রত্নমের "রোজা" ছবির সঙ্গীত পরিচালনার প্রস্তাব প্রথমে অন্য কয়েকজন সুরকারকে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
- ২০১০ সালের দিল্লি কমনওয়েলথ গেমসের থিম সং তিনিই সুর করেছিলেন।
- তিনি "এ আর রহমান ফাউন্ডেশন" নামে একটি দাতব্য সংস্থা পরিচালনা করেন, যা অভাবী শিশুদের সঙ্গীত শিক্ষা ও অন্যান্য সহায়তা প্রদান করে।
- তিনি তার কাজের প্রতি অত্যন্ত নিবেদিত এবং সময়ানুবর্তিতার জন্য পরিচিত।
- তার স্টুডিও "পঞ্চাতন রেকর্ড ইন" অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত এবং এটি তার সঙ্গীত উদ্ভাবনের কেন্দ্র।
উপসংহার: এক অবিস্মরণীয় সঙ্গীত যাত্রা
এ আর রহমান শুধু একজন সঙ্গীত পরিচালক বা গায়ক নন, তিনি একজন দূরদর্শী শিল্পী যিনি ভারতীয় সঙ্গীতকে বিশ্ব মঞ্চে এক নতুন পরিচিতি দিয়েছেন। তার সঙ্গীতশৈলী, যেখানে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সুর, ঐতিহ্য ও আধুনিকতার অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে, তা তাকে সমসাময়িকদের থেকে আলাদা করে তুলেছে। "রোজা" থেকে "স্লামডগ মিলিয়নিয়ার" পর্যন্ত তার যাত্রা কেবল সাফল্যের গল্প নয়, এটি উদ্ভাবন, অধ্যবসায় এবং সঙ্গীতের প্রতি গভীর ভালোবাসার এক প্রতিচ্ছবি।
তার সুর করা গানগুলো কেবল কানেই নয়, হৃদয়েও অনুরণিত হয়। তিনি অসংখ্য তরুণ সঙ্গীতশিল্পীকে অনুপ্রাণিত করেছেন এবং তার সঙ্গীত একাডেমির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে পথ দেখাচ্ছেন। এ আর রহমান ভারতীয় সঙ্গীতের এক জীবন্ত কিংবদন্তী, যার প্রভাব আগামী বহু দশক ধরে অনুভূত হবে। তার সঙ্গীত বিশ্বজুড়ে মানুষের মধ্যে শান্তি, আনন্দ এবং একতার বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে, যা তাকে সত্যিই "মোজার্ট অফ মাদ্রাজ" উপাধিটির যোগ্য করে তুলেছে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন: এ আর রহমানের আসল নাম কী ছিল?
উত্তর: এ আর রহমানের আসল নাম ছিল এ.এস. দিলীপ কুমার। পরবর্তীতে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে আল্লাহ রাখা রহমান নাম ধারণ করেন, যা সংক্ষেপে এ আর রহমান নামে পরিচিতি লাভ করে।
প্রশ্ন: এ আর রহমান কতগুলি অস্কার জিতেছেন?
উত্তর: এ আর রহমান দুটি একাডেমি অ্যাওয়ার্ড (অস্কার) জিতেছেন। ২০০৯ সালে "স্লামডগ মিলিয়নিয়ার" ছবির জন্য তিনি সেরা মৌলিক সুর এবং সেরা মৌলিক গান ("জয় হো") এই দুটি বিভাগে অস্কার লাভ করেন।
প্রশ্ন: এ আর রহমানের সবচেয়ে বিখ্যাত কিছু কাজ কী কী?
উত্তর: এ আর রহমানের সবচেয়ে বিখ্যাত কিছু কাজের মধ্যে রয়েছে "রোজা", "বম্বে", "দিল সে..", "লগান", "রঙ্গীলা", "তাল", "যোধা আকবর" এবং আন্তর্জাতিকভাবে "স্লামডগ মিলিয়নিয়ার", "১২৭ আওয়ার্স" এর সঙ্গীত।
প্রশ্ন: এ আর রহমান কখন এবং কেন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন?
উত্তর: এ আর রহমান ১৯৮০-এর দশকের শেষের দিকে, প্রায় ২৩ বছর বয়সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তার পরিবার আধ্যাত্মিক শান্তি এবং নিরাময়ের সন্ধানে ছিল, এবং তার মা কারিমা বেগমের অনুপ্রেরণায় তারা সুফিবাদের দিকে আকৃষ্ট হন।
প্রশ্ন: এ আর রহমান কি একজন গায়কও?
উত্তর: হ্যাঁ, এ আর রহমান একজন সুরকার এবং সঙ্গীত পরিচালক হওয়ার পাশাপাশি একজন দক্ষ গায়কও। তার নিজের সুর করা বহু গানে তিনি কণ্ঠ দিয়েছেন, যা শ্রোতাদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
প্রশ্ন: এ আর রহমান কি কোনো সঙ্গীত প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন?
উত্তর: হ্যাঁ, এ আর রহমান চেন্নাইয়ে কে.এম. মিউজিক কনজারভেটরি (K.M. Music Conservatory) নামে একটি সঙ্গীত প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন, যা শিক্ষার্থীদের ভারতীয় এবং পশ্চিমা উভয় প্রকার সঙ্গীতে প্রশিক্ষণ দেয়।
প্রশ্ন: এ আর রহমান কি পদ্মভূষণ পুরস্কার পেয়েছেন?
উত্তর: হ্যাঁ, ২০১০ সালে ভারত সরকার এ আর রহমানকে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা 'পদ্মভূষণ' উপাধিতে ভূষিত করে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন