Full width home advertisement

Featured Actors

Popular Biographies

Post Page Advertisement [Top]

পূর্ণ নাম তারেক রহমান
অন্যান্য নাম তারেক জিয়া
জন্ম ১৯৬৭ সালের ২০ নভেম্বর
জন্মস্থান করাচি, পশ্চিম পাকিস্তান (বর্তমান পাকিস্তান)
পিতা জিয়াউর রহমান (বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি)
মাতা খালেদা জিয়া (বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী)
স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান
সন্তান জাইমা রহমান
রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)
বর্তমান পদ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)
পরিচিতি একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র।

পরিচিতি

তারেক রহমান, যিনি তারেক জিয়া নামেও পরিচিত, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের এক অত্যন্ত প্রভাবশালী ও আলোচিত ব্যক্তিত্ব। তিনি বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র। বর্তমানে তিনি দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবন শুরু থেকেই উত্থান-পতন, সাফল্য-ব্যর্থতা এবং নানা বিতর্কে পরিপূর্ণ। পারিবারিক ঐতিহ্য এবং রাজনৈতিক উত্তরাধিকার তাকে শৈশব থেকেই দেশের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নিয়ে আসে, যা তার ভবিষ্যৎ পথকে অনেকাংশে প্রভাবিত করেছে। দেশের রাজনীতিতে তারেক রহমানের ভূমিকা এবং তার নেতৃত্বাধীন বিএনপির ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে সর্বদাই আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা বিদ্যমান থাকে।

Tareque Rahman

Photo: Wikimedia Commons
View Source

প্রারম্ভিক জীবন

১৯৬৭ সালের ২০ নভেম্বর তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের করাচিতে তারেক রহমান জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা জিয়াউর রহমান তখন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে একজন কর্মরত কর্মকর্তা ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর, তারেক রহমান তার বাবা-মায়ের সাথে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে এক ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক পরিবেশে। তার পিতা জিয়াউর রহমান প্রথমে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশের জন্য অবদান রাখেন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেশ পরিচালনা করেন। অন্যদিকে, তার মাতা খালেদা জিয়াও পরবর্তীতে দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এমন একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠার কারণে তারেক রহমান ছোটবেলা থেকেই দেশের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করেন এবং রাজনীতির প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়। পরিবারের সদস্যদের উচ্চ রাজনৈতিক পদমর্যাদা তাকে স্বাভাবিকভাবেই জনজীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে।

শিক্ষাজীবন

তারেক রহমানের শিক্ষাজীবন শুরু হয় বাংলাদেশে। তিনি ঢাকার স্বনামধন্য ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে পড়াশোনা করেন, যা দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। এখানে তিনি তার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন। যদিও তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি, কারণ তিনি দ্রুতই সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তবে, তারেক রহমান পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশেও পড়াশোনা করেছেন বলে জানা যায়। তার রাজনৈতিক জ্ঞান ও দূরদর্শিতা মূলত ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা, পারিবারিক শিক্ষা এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গভীর পর্যবেক্ষণ থেকেই অর্জিত হয়েছে।

ক্যারিয়ার

তারেক রহমানের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু হয় ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে। পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে ধারণ করে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।

প্রাথমিক রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও উত্থান

  • বগুড়ার রাজনীতিতে প্রবেশ: ১৯৯০-এর দশকে তিনি তার পৈতৃক নিবাস বগুড়া জেলা বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে সক্রিয় হন। বগুড়ায় তার সাংগঠনিক কার্যক্রম দ্রুতই স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তাকে জনপ্রিয় করে তোলে। তিনি দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে শুরু করেন এবং তারুণ্যের উদ্দীপনা ও সাংগঠনিক দক্ষতা দিয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
  • সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব: ২০০২ সালের জুনে তাকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিযুক্ত করা হয়। এই সময়ে তিনি দেশজুড়ে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে শক্তিশালী করার জন্য ব্যাপক সফর করেন। তিনি যুবসমাজকে সংগঠিত করতে এবং দলের তৃণমূল পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার নেতৃত্বে যুবদল এবং ছাত্রদল আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে।
  • সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান: ২০০৯ সালে দলের ৫ম জাতীয় কাউন্সিলে তাকে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। এই পদটি তাকে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তিতে পরিণত করে এবং দলের নীতি নির্ধারণ ও কৌশল প্রণয়নে তার প্রভাব আরও বৃদ্ধি পায়। এই সময়ে তিনি দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন।

১/১১ পরবর্তী পরিস্থিতি ও নির্বাসন

  • গ্রেফতার ও কারাভোগ: ২০০৭ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর তারেক রহমানকে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। প্রায় দেড় বছর কারাভোগের পর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি উচ্চ আদালতের নির্দেশে জামিনে মুক্তি পান।
  • চিকিৎসার জন্য বিদেশ গমন: জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরপরই তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে (লন্ডন) যান। সেই থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন এবং দেশে ফিরে আসেননি।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ও আইনি জটিলতা

  • ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান: তার মা ও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দী হওয়ার পর তারেক রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বিদেশ থেকে দলের নেতৃত্ব দেওয়ার এই বিষয়টি বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তিনি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
  • আইনি জটিলতা ও সাজা: তারেক রহমানের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বিতর্ক ও আইনি জটিলতায় পূর্ণ। তার বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির মামলা, মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলাসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব মামলায় তার বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে। বিশেষ করে, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং মানি লন্ডারিং মামলায়ও তার সাজা হয়। এসব আইনি জটিলতার কারণে তিনি বর্তমানে দেশে ফিরতে পারছেন না।

উল্লেখযোগ্য অর্জন

তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবন যেমন বিতর্কমূলক, তেমনি তার কিছু উল্লেখযোগ্য অর্জনও রয়েছে যা দলের অভ্যন্তরে এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক অঙ্গনে তার অবস্থানকে সুদৃঢ় করেছে।

  • শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরি: বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে দলকে সুসংগঠিত করতে তারেক রহমানের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান থাকাকালীন তিনি দলের বিভিন্ন শাখা ও অঙ্গসংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য দেশব্যাপী ব্যাপক কাজ করেছেন। তার নেতৃত্বে যুবদল এবং ছাত্রদল আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং দলের সাংগঠনিক কাঠামোতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে।
  • যুব সমাজের মধ্যে জনপ্রিয়তা: নব্বই দশকের শেষভাগ থেকে ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি যুব সমাজের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। তারেক রহমান তরুণদের রাজনীতিতে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হন এবং তাদের মধ্যে দলের আদর্শ ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
  • বিএনপির ঐক্য ধরে রাখা: তারেক রহমান দেশের বাইরে থাকা সত্ত্বেও, তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দলের নেতৃত্ব ধরে রাখা এবং কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে তার প্রচেষ্টা দলের জন্য একটি বড় অর্জন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি দলকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছেন।
  • ডিজিটাল মাধ্যমে রাজনৈতিক যোগাযোগ: বর্তমান সময়ে তিনি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ স্থাপন করেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এটি আধুনিক যুগে রাজনৈতিক যোগাযোগের একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবং দলের কর্মীদের সাথে তার সংযোগ বজায় রাখতে সাহায্য করেছে।
  • জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রচার: জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং জাতীয়তাবাদী দর্শনকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে তারেক রহমান কার্যকর ভূমিকা পালন করেছেন। বিভিন্ন সভা-সমাবেশে এবং ভার্চুয়াল মাধ্যমে তিনি দলের মূলনীতি ও লক্ষ্যগুলো তুলে ধরেন।

ব্যক্তিগত জীবন

তারেক রহমান ১৯৯৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ডা. জোবাইদা রহমানের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। জোবাইদা রহমান বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের কন্যা। তাদের একমাত্র কন্যা সন্তানের নাম জাইমা রহমান। জাইমা রহমান বর্তমানে লন্ডনে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন। তারেক রহমান তার পরিবারের সাথে লন্ডনে বসবাস করছেন। তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে জনসমক্ষে খুব বেশি আলোচনা না হলেও, তার পরিবারের সদস্যরা সবসময়ই তার রাজনৈতিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন। জোবাইদা রহমানও বিভিন্ন সময়ে তার স্বামীর পাশে থেকে রাজনৈতিক প্রতিকূলতা মোকাবিলায় দৃঢ় ভূমিকা রেখেছেন। তাদের পারিবারিক বন্ধন এবং লন্ডনে তাদের জীবনযাপন প্রায়শই গণমাধ্যমের আলোচনায় আসে।

মজার তথ্য

  • তারেক রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসে একমাত্র ব্যক্তি যিনি একাধারে একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পুত্র এবং দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। এই ধরনের পারিবারিক ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিরল।
  • তার রাজনৈতিক জীবনের প্রথম দিকে তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপকভাবে সফর করে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে মিশে গিয়েছিলেন এবং 'জনতার তারেক' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। তার এই সফরগুলো তাকে সাধারণ মানুষের কাছে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছিল।
  • লন্ডনে নির্বাসিত জীবনযাপন করলেও, তিনি আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দলের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করেন। ভিডিও কনফারেন্স এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে তিনি দলের বিভিন্ন সভা-সমাবেশে ভার্চুয়ালি অংশ নেন এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন, যা বর্তমান সময়ে তার নেতৃত্বের একটি বিশেষ দিক।
  • তারেক রহমান ক্রিকেট এবং ফুটবল খেলার একজন অনুরাগী। তারুণ্যে তিনি নিজেও খেলাধুলায় আগ্রহী ছিলেন।

উপসংহার

তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক মেরুকৃত ও অবিচ্ছেদ্য চরিত্র। তার সমর্থকরা তাকে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতীক হিসেবে দেখে থাকেন, অন্যদিকে বিরোধীরা তাকে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে অভিযুক্ত করে। তারেক রহমানের রাজনৈতিক যাত্রা এখনও চ্যালেঞ্জে পরিপূর্ণ। দেশের বাইরে থেকে দলের নেতৃত্ব দেওয়া, আইনি জটিলতা মোকাবেলা করা এবং দলকে আগামী দিনের রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করা তার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। তবে, তারেক রহমান যে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে থাকবেন, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আগামী দিনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত হচ্ছে এবং দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার ভূমিকা সর্বদাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন: তারেক রহমান কে?

উত্তর: তারেক রহমান বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ। তিনি বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র এবং বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

প্রশ্ন: তারেক রহমানের বর্তমান রাজনৈতিক পদ কী?

উত্তর: তারেক রহমান বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি তার মা খালেদা জিয়া কারাবন্দী হওয়ার পর ২০১৮ সাল থেকে এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

প্রশ্ন: তারেক রহমান কি বাংলাদেশে থাকেন?

উত্তর: না, তারেক রহমান বর্তমানে তার পরিবার নিয়ে যুক্তরাজ্যে (লন্ডনে) বসবাস করছেন। ২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য দেশ ছাড়ার পর থেকে তিনি সেখানেই রয়েছেন এবং আইনি জটিলতার কারণে দেশে ফিরতে পারছেন না।

প্রশ্ন: তারেক রহমানের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য অভিযোগ কী কী?

উত্তর: তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিভিন্ন মামলা, মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব মামলায় তার বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে, যার মধ্যে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অন্যতম।

প্রশ্ন: তারেক রহমানের স্ত্রী ও সন্তানের নাম কী?

উত্তর: তারেক রহমানের স্ত্রীর নাম ডা. জোবাইদা রহমান এবং তাদের একমাত্র কন্যা সন্তানের নাম জাইমা রহমান। ডা. জোবাইদা রহমান একজন চিকিৎসক এবং জাইমা রহমান বর্তমানে লন্ডনে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।

প্রশ্ন: তারেক রহমান কখন থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন?

উত্তর: তারেক রহমান ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন, যখন তার মা ও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দী হন।

প্রশ্ন: তারেক রহমানের শিক্ষাজীবন সম্পর্কে কিছু তথ্য দিন।

উত্তর: তারেক রহমান ঢাকার স্বনামধন্য ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে পড়াশোনা করেছেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন, যদিও তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশেও পড়াশোনা করেছেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Bottom Ad [Post Page]