Full width home advertisement

Featured Actors

Popular Biographies

Post Page Advertisement [Top]

তথ্যসারণি
পূর্ণ নামশেখ মুজিবুর রহমান
জন্ম১৭ মার্চ ১৯২০
জন্মস্থানটুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু১৫ আগস্ট ১৯৭৫
মৃত্যুস্থানঢাকা, বাংলাদেশ
পেশারাজনীতিবিদ, রাষ্ট্রনায়ক
পরিচিতিবাংলাদেশের জাতির পিতা, বঙ্গবন্ধু, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি
পত্নীবেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব
সন্তানশেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল
রাজনৈতিক দলবাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
জাতীয়তাবাংলাদেশী

পরিচিতি

শেখ মুজিবুর রহমান, যিনি বাঙালির কাছে ‘বঙ্গবন্ধু’ ও ‘জাতির পিতা’ হিসেবে চিরস্মরণীয়, স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা ও স্থপতি। তাঁর অদম্য নেতৃত্ব, দূরদর্শী চিন্তা এবং আপসহীন সংগ্রামের ফলেই বাঙালি জাতি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পেরেছে। তাঁর জীবন ছিল বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে উৎসর্গীকৃত এক মহাকাব্য। তিনি কেবল একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন না, ছিলেন এক মহান জননেতা যিনি তাঁর সমগ্র জীবন উৎসর্গ করেছেন তাঁর দেশের মানুষের মুক্তি ও কল্যাণের জন্য।

Sheikh Mujibur Rahman

Photo: Wikimedia Commons
View Source

প্রারম্ভিক জীবন

১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে শেখ মুজিবুর রহমান জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম শেখ লুৎফর রহমান এবং মাতার নাম সায়েরা খাতুন। পারিবারিক পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠা খোকা নামের এই শিশুটি ছোটবেলা থেকেই ছিলেন অত্যন্ত সাহসী, পরোপকারী এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী। গ্রামের স্কুলে পড়াশোনার সময় থেকেই তিনি দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতেন, যা তাঁর ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের ভিত্তি স্থাপন করে। কৈশোরেই তাঁর মধ্যে দেশপ্রেম ও জনসেবার বীজ রোপিত হয়েছিল, যা পরবর্তীতে তাঁকে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত করে।

শিক্ষাজীবন

শেখ মুজিবুর রহমানের শিক্ষাজীবন শুরু হয় স্থানীয় গিমাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর তিনি গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুল ও মিশন স্কুলে পড়াশোনা করেন। ১৯৪২ সালে তিনি ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে (বর্তমান মাওলানা আজাদ কলেজ) ভর্তি হন। এই সময়ে তিনি সক্রিয়ভাবে ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং ধীরে ধীরে একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৪৬ সালে তিনি ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন, যা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ছিল। ১৯৪৭ সালে তিনি এই কলেজ থেকেই স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ভারত বিভক্তির পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তিনি বহিষ্কৃত হন। (পরবর্তীতে মরণোত্তর এই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়)।

ক্যারিয়ার

শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু হয় ১৯৪০-এর দশকে। তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সান্নিধ্যে এসে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং মুসলিম লীগের একজন তরুণ নেতা হিসেবে কাজ শুরু করেন।

  • ভাষা আন্দোলন: ১৯৪৮ সাল থেকে শুরু হওয়া ভাষা আন্দোলনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে তাঁর দৃঢ় অবস্থান তাকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের কাছে পরিচিত করে তোলে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি কারাবন্দী থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন, যা আন্দোলনকে আরও বেগবান করে।
  • আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা: ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ (পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ) প্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এই দলটি পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের অধিকার আদায়ের প্রধান প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়।
  • যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন: ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে তিনি যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে গোপালগঞ্জ থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন এবং শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের মন্ত্রিসভায় সর্বকনিষ্ঠ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
  • ছয় দফা আন্দোলন: ১৯৬৬ সালে তিনি বাঙালির মুক্তির সনদ হিসেবে ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এই ছয় দফা ছিল স্বায়ত্তশাসনের দাবি এবং পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি। ছয় দফার প্রচারণার কারণে তাঁকে বারবার কারাবরণ করতে হয়, কিন্তু তাঁর এই আন্দোলন বাঙালির মনে স্বাধীনতার বীজ বুনে দেয়।
  • আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা: ১৯৬৮ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় জড়িয়ে ফাঁসির চেষ্টা করে। কিন্তু গণআন্দোলনের মুখে সরকার মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় এবং তাঁকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। এই মামলা তাঁকে আরও বেশি জনপ্রিয় করে তোলে।
  • গণঅভ্যুত্থান ও বঙ্গবন্ধু উপাধি: ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক বিশাল জনসভায় ছাত্র জনতা তাঁকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করে। এই উপাধি তাঁর প্রতি বাঙালির গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতীক।
  • ৭০-এর নির্বাচন: ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে, যা তাঁকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বৈধ অধিকার এনে দেয়। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানায়, যা পরিস্থিতিকে চরম উত্তেজনার দিকে ঠেলে দেয়।
  • ৭ই মার্চের ভাষণ: ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার সামনে তিনি তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। এই ভাষণে তিনি স্বাধীনতার ডাক দেন, "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম" - এই বজ্রকণ্ঠের ঘোষণা বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে তোলে। এটি ছিল কার্যত বাংলাদেশের স্বাধীনতার অনানুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং মুক্তিযুদ্ধের দিকনির্দেশনা।
  • স্বাধীনতা ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধ: ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির উপর ঝাঁপিয়ে পড়লে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরপর তাঁকে গ্রেফতার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর অনুপস্থিতিতে তাঁর নামেই মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয় এবং দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে।
  • স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি: ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি তিনি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এরপর তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বল্প সময়ের মধ্যেই একটি সংবিধান লাভ করে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতি অর্জন করে।

উল্লেখযোগ্য অর্জন

শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ছিল অর্জনে ভরপুর। তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন হলো একটি স্বাধীন জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।

  • জাতির পিতা ও বঙ্গবন্ধু: তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের জাতির পিতা এবং বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা 'বঙ্গবন্ধু' হিসেবে পরিচিত। এই উপাধি তাঁর প্রতি বাঙালির চিরন্তন ভালোবাসার প্রতীক।
  • স্বাধীনতার স্থপতি: তাঁর নেতৃত্বেই বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। তাঁর আপসহীন সংগ্রাম ও দূরদর্শী নেতৃত্ব ছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা সম্ভব ছিল না।
  • ৭ই মার্চের ভাষণ: তাঁর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। এটি বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদ্দীপনামূলক ভাষণ হিসেবে বিবেচিত, যা একটি জাতিকে স্বাধীনতার জন্য ঐক্যবদ্ধ করেছিল।
  • সংবিধান প্রণয়ন: তাঁর নেতৃত্বে মাত্র ১০ মাসের মধ্যে একটি গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণীত হয়, যা সদ্য স্বাধীন একটি দেশের জন্য এক বিশাল অর্জন।
  • আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: তাঁর দূরদর্শী পররাষ্ট্রনীতির কারণে বাংলাদেশ দ্রুত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বীকৃতি লাভ করে এবং জাতিসংঘ, কমনওয়েলথসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে।

ব্যক্তিগত জীবন

শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৩৮ সালে বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে বিয়ে করেন। তাঁদের দাম্পত্য জীবন ছিল গভীর ভালোবাসা ও ত্যাগের এক অনন্য উদাহরণ। তাঁদের দুই কন্যা - শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা এবং তিন পুত্র - শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল। তাঁর পরিবার ছিল তাঁর শক্তির উৎস। রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ সময় তিনি কারাগারে কাটিয়েছেন, কিন্তু তাঁর স্ত্রী ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সবসময় তাঁর পাশে থেকেছেন, সাহস জুগিয়েছেন এবং আওয়ামী লীগের দুর্দিনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি ছিলেন একজন স্নেহময় পিতা এবং আদর্শ স্বামী, যিনি শত ব্যস্ততার মাঝেও পরিবারের প্রতি তাঁর দায়িত্ব পালন করতেন।

মজার তথ্য

  • ছোটবেলায় তাঁকে সবাই 'খোকা' নামে ডাকত। এই নামটি তাঁর পারিবারিক পরিবেশে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল।
  • তিনি ফুটবল খেলতে খুব ভালোবাসতেন এবং স্কুল জীবনে একজন ভালো খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ ছিল অপরিসীম।
  • তাঁর অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং কারাগারের রোজনামচা বই দুটি তাঁর জীবন ও রাজনৈতিক দর্শনের এক অমূল্য দলিল। এই বইগুলো তাঁর সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং রাষ্ট্রচিন্তার গভীর পরিচয় বহন করে।
  • তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ বক্তা, যাঁর কণ্ঠস্বর লাখো মানুষকে অনুপ্রাণিত করত। তাঁর ভাষণ ছিল সহজ, সরল এবং হৃদয়গ্রাহী, যা সাধারণ মানুষের মনে গভীর প্রভাব ফেলত।

উপসংহার

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একদল বিপথগামী সেনা সদস্যের হাতে সপরিবারে নির্মমভাবে নিহত হলেও শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির হৃদয়ে চিরঞ্জীব। তিনি শুধু একটি দেশের জন্ম দেননি, তিনি বাঙালির হাজার বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন এবং সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন। তাঁর আদর্শ ও আত্মত্যাগ আজও বাঙালি জাতিকে অনুপ্রাণিত করে। 'সোনার বাংলা' গড়ার যে স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়নের পথেই বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। তাঁর অবদান চিরকাল বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে তাঁর নাম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন: শেখ মুজিবুর রহমান কে ছিলেন?

উত্তর: শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, জাতির পিতা এবং প্রথম রাষ্ট্রপতি। তিনি 'বঙ্গবন্ধু' নামেই সমধিক পরিচিত এবং তাঁর নেতৃত্বেই বাঙালি জাতি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতা অর্জন করে।

প্রশ্ন: তিনি কবে জন্মগ্রহণ করেন?

উত্তর: শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। এই দিনটি বাংলাদেশে জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে পালিত হয়।

প্রশ্ন: ৭ই মার্চের ভাষণের গুরুত্ব কী?

উত্তর: ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেওয়া তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণটি ছিল বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা। এই ভাষণে তিনি স্বাধীনতার ডাক দেন এবং এটি ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের স্বাধীনতায় তাঁর ভূমিকা কী ছিল?

উত্তর: শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রধান নেতা ও অনুপ্রেরণা। তাঁর ছয় দফা আন্দোলন, ৭০-এর নির্বাচনে বিজয় এবং ৭ই মার্চের ভাষণ স্বাধীনতার পথ প্রশস্ত করে। ২৬ মার্চ ১৯৭১ তারিখে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

প্রশ্ন: তাঁর কতজন সন্তান ছিল?

উত্তর: শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের দুই কন্যা (শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা) এবং তিন পুত্র (শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল) ছিল।

প্রশ্ন: "বঙ্গবন্ধু" উপাধিটির অর্থ কী?

উত্তর: "বঙ্গবন্ধু" উপাধিটির অর্থ 'বাংলার বন্ধু'। ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে এক বিশাল জনসভায় ছাত্র জনতা শেখ মুজিবুর রহমানকে এই উপাধিতে ভূষিত করে, যা তাঁর প্রতি বাঙালির গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতীক।

প্রশ্ন: স্বাধীনতার পর তিনি কবে বাংলাদেশে ফিরে আসেন?

উত্তর: দীর্ঘ নয় মাস পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী থাকার পর, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এই দিনটি 'স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস' হিসেবে পালিত হয়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Bottom Ad [Post Page]