Full width home advertisement

Featured Actors

Popular Biographies

Post Page Advertisement [Top]

পূর্ণ নামরাজকুমার রাও যাদব
জন্ম৩১ আগস্ট, ১৯৮৪
জন্মস্থানগুরুগ্রাম, হরিয়ানা, ভারত
পেশাঅভিনেতা
জাতীয়তাভারতীয়
স্ত্রীপত্রলেখা পল
উল্লেখযোগ্য পুরস্কারজাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ফিল্মফেয়ার পুরস্কার, এশিয়া প্যাসিফিক স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড
উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রশহীদ, নিউটন, স্ত্রী, সিটিলাইটস, আলিগড়, ট্র্যাপড

পরিচিতি

রাজকুমার রাও, ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যিনি তার অসাধারণ অভিনয় এবং চরিত্রকে আত্মস্থ করার ক্ষমতার জন্য পরিচিত। বলিউডের মূলধারার বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র থেকে শুরু করে স্বাধীন, পরীক্ষামূলক সিনেমা—সবখানেই তিনি নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। তার অভিনয় এতটাই বিশ্বাসযোগ্য যে দর্শক সহজেই চরিত্রের গভীরে প্রবেশ করতে পারে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ভারতীয় সিনেমায় এক নতুন ধারার জন্ম দিয়েছেন, যেখানে গল্প এবং চরিত্রই প্রধান। সমালোচকদের প্রশংসা এবং বক্স-অফিসে সাফল্য, উভয়ই তার ঝুলিতে রয়েছে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ফিল্মফেয়ার পুরস্কার এবং এশিয়া প্যাসিফিক স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড-এর মতো অসংখ্য সম্মাননা তার অভিনয় প্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ। রাজকুমার রাও শুধু একজন অভিনেতা নন, তিনি এক অনুপ্রেরণা, যিনি প্রমাণ করেছেন যে মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে যেকোনো উচ্চতায় পৌঁছানো সম্ভব।

Rajkummar Rao

Photo: Wikimedia Commons
View Source

প্রারম্ভিক জীবন

১৯৮৪ সালের ৩১শে আগস্ট ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের গুরুগ্রামে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে রাজকুমার রাওয়ের জন্ম। তার পুরো নাম রাজকুমার যাদব, তবে পরবর্তীতে তিনি তার মায়ের অনুরোধে নামের সাথে 'রাও' যুক্ত করেন এবং জ্যোতিষশাস্ত্রের কারণে একটি 'M' যোগ করে 'Rajkummar' লেখেন। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি তার প্রবল আগ্রহ ছিল। তিনি স্কুলে থাকাকালীন নাটকে অংশ নিতেন এবং স্থানীয় থিয়েটার গ্রুপে কাজ শুরু করেন। তার পরিবার শিল্পকলার সাথে সরাসরি জড়িত না থাকলেও, তারা রাজকুমারের স্বপ্নকে সমর্থন যুগিয়েছিল। এই সময় থেকেই তিনি নিজেকে একজন অভিনেতা হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন।

শিক্ষাজীবন

রাজকুমার রাও গুরুগ্রামের এস.এন.সি.পি.এস. (S.N.C.P.S.) থেকে তার স্কুলিং শেষ করেন। এরপর তিনি দিল্লির আত্মরাম সনাতন ধর্ম কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। কলেজে পড়াকালীন তিনি দিল্লির বিভিন্ন থিয়েটার গ্রুপ, যেমন কশিস (Kashish) এবং সৃষ্টি (Srishti)-এর সাথে যুক্ত ছিলেন। এই সময় তিনি মঞ্চে প্রায় ৫০০টিরও বেশি নাটকে অভিনয় করেন, যা তার অভিনয় দক্ষতার ভিত্তি স্থাপন করে। থিয়েটারের এই অভিজ্ঞতা তাকে চরিত্রের গভীরে প্রবেশ করতে এবং বিভিন্ন ধরনের চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে। এরপর তিনি পুনের বিখ্যাত ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (FTII) থেকে অভিনয়ে দুই বছরের ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করেন। FTII-এর কঠোর প্রশিক্ষণ তার অভিনয়কে আরও ধারালো করে তোলে এবং তাকে পেশাদার অভিনেতা হিসেবে প্রস্তুত করে তোলে।

ক্যারিয়ার

প্রথম জীবন ও সংগ্রাম

FTII থেকে পাস করার পর রাজকুমার রাও মুম্বাইয়ে আসেন অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু বলিউডে তার পথচলা সহজ ছিল না। শুরুর দিকে তাকে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা করে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ২০১০ সালে দিবাকর ব্যানার্জির 'লাভ সেক্স ঔর ধোকা' (Love Sex Aur Dhokha) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তার বলিউডে অভিষেক হয়। যদিও এটি একটি ছোট ভূমিকা ছিল, তবুও তার অভিনয় সমালোচকদের নজর কাড়ে। এরপর তিনি 'রাগিণী এমএমএস' (Ragini MMS) এবং 'শয়তান' (Shaitan) এর মতো ছবিতে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেন।

সফলতার শিখরে

২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত 'কাই পো চে!' (Kai Po Che!) চলচ্চিত্রে গোবিন্দ প্যাটেল চরিত্রে অভিনয় করে রাজকুমার রাও প্রথমবার ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। তবে তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয় ২০১৩ সালের বায়োপিক 'শহীদ' (Shahid)। এই ছবিতে আইনজীবী শহীদ আজমির চরিত্রে তার অনবদ্য অভিনয় তাকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এনে দেয় এবং সমালোচকদের ভূয়সী প্রশংসা কুড়ায়। এরপর 'সিটিলাইটস' (CityLights), 'আলিগড়' (Aligarh), 'ট্র্যাপড' (Trapped) এবং 'নিউটন' (Newton)-এর মতো চলচ্চিত্রে তার শক্তিশালী অভিনয় তাকে বলিউডের অন্যতম সেরা অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। 'নিউটন' ছবিটি অস্কারের জন্য ভারতের আনুষ্ঠানিক এন্ট্রি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল।

বৈচিত্র্যময় চরিত্র

রাজকুমার রাও তার বহুমুখী প্রতিভার জন্য সুপরিচিত। তিনি একই সাথে বাণিজ্যিক এবং সমালোচকদের দ্বারা প্রশংসিত উভয় ধরনের চলচ্চিত্রে সমান দক্ষতার সাথে কাজ করেছেন। 'বরেলি কি বরফি' (Bareilly Ki Barfi) এবং 'স্ত্রী' (Stree)-এর মতো কমেডি চলচ্চিত্রে তার অভিনয় দর্শক ও সমালোচক উভয়কেই মুগ্ধ করেছে। 'স্ত্রী' ছবিটি বক্স-অফিসে দারুণ সাফল্য লাভ করে এবং তাকে একজন সফল বাণিজ্যিক অভিনেতা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করে। এরপর 'ওমের্তা' (Omerta)-এর মতো ডার্ক থ্রিলারে একজন সন্ত্রাসীর চরিত্রে অভিনয় করে তিনি তার অভিনয় সীমার গভীরতা প্রমাণ করেন। 'বাধাই দো' (Badhaai Do) ছবিতে একজন সমকামী পুলিশ অফিসারের চরিত্রে তার সংবেদনশীল এবং শক্তিশালী অভিনয় সমাজের স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রাজকুমার রাও এমন একজন অভিনেতা যিনি প্রতিটি চরিত্রে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে বিলিয়ে দেন, যার ফলে তার প্রতিটি চরিত্রই দর্শকের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলে।

উল্লেখযোগ্য অর্জন

রাজকুমার রাও তার অসাধারণ অভিনয় প্রতিভার জন্য অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। তার উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলো হলো:

  • জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার: ২০১৩ সালে 'শহীদ' চলচ্চিত্রে তার অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তিনি সেরা অভিনেতার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।
  • ফিল্মফেয়ার পুরস্কার:
    • ২০১৩ সালে 'কাই পো চে!' এর জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেতা (সমালোচক)।
    • ২০১৩ সালে 'শহীদ' এর জন্য সেরা অভিনেতা (সমালোচক)।
    • ২০১৭ সালে 'ট্র্যাপড' এর জন্য সেরা অভিনেতা (সমালোচক)।
    • ২০১৮ সালে 'স্ত্রী' এর জন্য সেরা অভিনেতা।
    • ২০২২ সালে 'বাধাই দো' এর জন্য সেরা অভিনেতা।
  • এশিয়া প্যাসিফিক স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড: ২০১৭ সালে 'নিউটন' চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতার পুরস্কার।
  • ফোর্বস ইন্ডিয়া সেলিব্রিটি ১০০ তালিকা: ২০১৭ সালে তিনি ফোর্বস ইন্ডিয়ার ১০০ জন সেলিব্রিটির তালিকায় স্থান পান, যা তার জনপ্রিয়তা ও প্রভাবের প্রমাণ।

এছাড়াও, তিনি স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডস, জি সিনে অ্যাওয়ার্ডস এবং আইফা অ্যাওয়ার্ডস সহ আরও অনেক সম্মাননা পেয়েছেন।

ব্যক্তিগত জীবন

রাজকুমার রাও তার ব্যক্তিগত জীবনকে জনসমক্ষে খুব বেশি আনেন না, তবে তার দীর্ঘদিনের বান্ধবী অভিনেত্রী পত্রলেখা পলের সাথে তার সম্পর্ক ছিল বলিউডের অন্যতম আলোচিত প্রেমকাহিনী। প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তাদের সম্পর্ক ছিল। অবশেষে, ২০২১ সালের নভেম্বরে চণ্ডীগড়ে এক জমকালো অনুষ্ঠানে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের বিবাহ ছিল ভালোবাসা, সম্মান এবং পারস্পরিক সমর্থনের এক সুন্দর দৃষ্টান্ত। পত্রলেখা নিজেও একজন প্রতিভাবান অভিনেত্রী এবং তারা দুজনেই একে অপরের কাজের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল।

মজার তথ্য

  • অভিনেতা হওয়ার জন্য রাজকুমার রাও মুম্বাই আসার আগে মাত্র ১৮,০০০ টাকা নিয়ে এসেছিলেন এবং একসময় তাকে দিনে মাত্র ২০ টাকা দিয়ে চলতে হয়েছে।
  • 'ট্র্যাপড' চলচ্চিত্রের জন্য তিনি ওজন কমিয়েছিলেন এবং চরিত্রের চাহিদা অনুযায়ী কয়েকদিন ধরে শুধু কফি ও গাজর খেয়েছিলেন, যা তার মেথড অ্যাক্টিংয়ের প্রতি অঙ্গীকার প্রমাণ করে।
  • তিনি একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মার্শাল আর্টিস্ট।
  • রাজকুমার রাও শাহরুখ খানের একজন বড় ভক্ত এবং তার অভিনয় দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন।
  • তিনি তার নামের বানান জ্যোতিষশাস্ত্রের পরামর্শে 'Rajkummar' করেছেন।
  • নিজের অভিনয়কে আরও নিখুঁত করতে তিনি প্রায়শই চরিত্রের জন্য গভীর গবেষণা করেন এবং প্রয়োজনে ওয়ার্কশপ করেন।

উপসংহার

রাজকুমার রাও ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক বিরল প্রতিভা, যিনি তার প্রতিটি চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলেন। তার অভিনয় শুধু বিনোদনই দেয় না, বরং দর্শককে ভাবায় এবং চরিত্রের সাথে একাত্ম করে তোলে। তার ক্যারিয়ার প্রমাণ করে যে মেধা, কঠোর পরিশ্রম এবং সঠিক চরিত্র নির্বাচনের মাধ্যমে বলিউডে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করা সম্ভব। তিনি নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের জন্য এক আদর্শ, যারা শুধু তারকাখ্যাতির পেছনে না ছুটে অভিনয়ের প্রতি নিজেদের সম্পূর্ণ উৎসর্গ করতে চায়। ভবিষ্যতে রাজকুমার রাও ভারতীয় সিনেমায় আরও অনেক স্মরণীয় কাজ উপহার দেবেন এবং তার অভিনয় দিয়ে দর্শকদের মন জয় করে যাবেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন: রাজকুমার রাওয়ের জন্ম কবে এবং কোথায়?

উত্তর: রাজকুমার রাও ১৯৮৪ সালের ৩১শে আগস্ট ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের গুরুগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তার অসাধারণ অভিনয় প্রতিভার জন্য পরিচিত।

প্রশ্ন: রাজকুমার রাওয়ের স্ত্রী কে?

উত্তর: রাজকুমার রাওয়ের স্ত্রী হলেন অভিনেত্রী পত্রলেখা পল। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর ২০২১ সালের নভেম্বরে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

প্রশ্ন: রাজকুমার রাও কোন চলচ্চিত্রের জন্য জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন?

উত্তর: রাজকুমার রাও ২০১৩ সালের চলচ্চিত্র 'শহীদ'-এ আইনজীবী শহীদ আজমির চরিত্রে তার অনবদ্য অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

প্রশ্ন: রাজকুমার রাওয়ের কিছু উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র কী কী?

উত্তর: রাজকুমার রাওয়ের উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে 'শহীদ', 'নিউটন', 'স্ত্রী', 'সিটিলাইটস', 'আলিগড়', 'ট্র্যাপড', 'বাধাই দো' এবং 'কাই পো চে!'।

প্রশ্ন: রাজকুমার রাও কীভাবে তার নামের বানান পরিবর্তন করেছেন?

উত্তর: রাজকুমার রাও জ্যোতিষশাস্ত্রের পরামর্শে তার নামের বানান 'Rajkumar' থেকে 'Rajkummar' এ পরিবর্তন করেছেন। তিনি তার মায়ের অনুরোধে নামের সাথে 'রাও' যুক্ত করেন।

প্রশ্ন: রাজকুমার রাওয়ের অভিনয়ের বিশেষত্ব কী?

উত্তর: রাজকুমার রাও তার মেথড অ্যাক্টিং, বহুমুখী চরিত্র নির্বাচন এবং প্রতিটি চরিত্রে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে বিলিয়ে দেওয়ার ক্ষমতার জন্য পরিচিত। তিনি চরিত্রকে এতটাই বিশ্বাসযোগ্য করে তোলেন যে দর্শক সহজেই তার সাথে একাত্ম হতে পারে।

প্রশ্ন: রাজকুমার রাও কি শুধু স্বাধীন চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন?

উত্তর: না, রাজকুমার রাও স্বাধীন চলচ্চিত্রের পাশাপাশি মূলধারার বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রেও সমান দক্ষতার সাথে অভিনয় করেন। 'স্ত্রী' এবং 'বরেলি কি বরফি' এর মতো বাণিজ্যিক সফল চলচ্চিত্রেও তিনি কাজ করেছেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Bottom Ad [Post Page]