Full width home advertisement

Featured Actors

Popular Biographies

Post Page Advertisement [Top]

তথ্যসারণি
প্রকৃত নাম শিবাজী রাও গায়কোয়াড়
পরিচিত নাম রজনীকান্ত
পেশা অভিনেতা
জাতীয়তা ভারতীয়
জন্ম ১২ ডিসেম্বর, ১৯৫০
জন্মস্থান ব্যাঙ্গালোর, মহীশূর রাজ্য (বর্তমান কর্ণাটক), ভারত
উল্লেখযোগ্য পরিচিতি তামিল সিনেমার কিংবদন্তি 'সুপারস্টার'

পরিচিতি

ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের এক অবিসংবাদিত নাম রজনীকান্ত। তার আসল নাম শিবাজী রাও গায়কোয়াড় হলেও, তিনি বিশ্বজুড়ে ‘সুপারস্টার’ রজনীকান্ত নামেই পরিচিত। অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে তিনি তামিল সিনেমায় তার অসামান্য অভিনয়, অনন্য স্টাইল এবং ক্যারিশমা দিয়ে দর্শকদের মন জয় করে চলেছেন। শুধু তামিল নয়, হিন্দি, তেলেগু, কন্নড়, মালায়ালাম এমনকি বাংলা সিনেমাতেও তার উপস্থিতি ভারতীয় চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করেছে। তার সংলাপ বলার ভঙ্গি, অ্যাকশন দৃশ্য এবং পর্দায় তার উপস্থিতি তাকে এক কিংবদন্তি অভিনেতার আসনে বসিয়েছে। রজনীকান্ত কেবল একজন অভিনেতা নন, তিনি একটি সাংস্কৃতিক আইকন, যার ভক্তরা তাকে দেবতার মতো পূজা করেন। তার প্রতিটি চলচ্চিত্র মুক্তি যেন এক উৎসবের রূপ নেয়, যা ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে বিরল।

Rajinikanth

Photo: Wikimedia Commons
View Source

প্রারম্ভিক জীবন

১৯৫০ সালের ১২ই ডিসেম্বর ব্যাঙ্গালোরের এক মারাঠি পরিবারে শিবাজী রাও গায়কোয়াড় নামে রজনীকান্তের জন্ম হয়। তার বাবা রামোজি রাও গায়কোয়াড় ছিলেন একজন পুলিশ কনস্টেবল এবং মা রামাবাই ছিলেন গৃহিণী। রজনীকান্তের জীবনে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম ছিল। তিনি ছিলেন চার ভাইবোনের মধ্যে কনিষ্ঠ। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তিনি তার মাকে হারান, যা তার শৈশবে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব ভালো ছিল না, যার কারণে তাকে ছোটবেলা থেকেই কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে।

তার কৈশোরকালে তিনি ব্যাঙ্গালোরের বিভিন্ন স্থানে ছোটখাটো কাজ করতেন। একসময় তিনি ব্যাঙ্গালোর মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনে একজন বাস কন্ডাক্টর হিসেবে কাজ শুরু করেন। এই সময়েই তার মধ্যে অভিনয়ের প্রতি গভীর আগ্রহ জন্মে। বাসে টিকিট কাটার সময় বা যাত্রীদের সাথে কথা বলার সময় তিনি তার নিজস্ব স্টাইল এবং ম্যানারিজম তৈরি করেন, যা পরবর্তীতে তার অভিনয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। বাসের যাত্রীরা এবং সহকর্মীরা তার এই অনন্য ভঙ্গি দেখে মুগ্ধ হতেন। এই সময়ে তিনি স্থানীয় নাট্যদলগুলিতে অভিনয় করা শুরু করেন, যা তাকে অভিনয়ের জগতে আরও আগ্রহী করে তোলে।

শিক্ষাজীবন

রজনীকান্তের প্রথাগত শিক্ষাজীবন খুব দীর্ঘ ছিল না। তিনি ব্যাঙ্গালোরের আচার্য পাঠশালা এবং বিবেকানন্দ বালিকা মন্দিরে পড়াশোনা করেন। স্কুল জীবন থেকেই তিনি বিভিন্ন নাটকে অংশ নিতেন এবং তার অভিনয় প্রতিভা সবার নজর কাড়ত। বিশেষ করে পৌরাণিক চরিত্রে তার অভিনয় বেশ প্রশংসিত হত। স্কুল শেষ করার পর, যখন তিনি বাস কন্ডাক্টরের কাজ করছিলেন, তখনও তার মনে অভিনয়ের স্বপ্ন জিইয়ে ছিল। তার বন্ধুদের উৎসাহে এবং নিজের ভেতরের প্রবল ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে তিনি চেন্নাইয়ের মাদ্রাজ ফিল্ম ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন ১৯৭৩ সালে। এই ইনস্টিটিউটে অভিনয়ের আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ তাকে তার স্বপ্নের পথে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যায়।

ক্যারিয়ার

মাদ্রাজ ফিল্ম ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করার সময়ই কিংবদন্তি পরিচালক কে. বালাচন্দর রজনীকান্তের অসাধারণ প্রতিভা লক্ষ্য করেন। ১৯৭৫ সালে বালাচন্দরের তামিল চলচ্চিত্র "অপূর্ব রাগঙ্গল" (Apoorva Raagangal) দিয়ে রজনীকান্তের চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়। এই ছবিতে তিনি একটি ছোট চরিত্রে অভিনয় করেন, কিন্তু তার উপস্থিতি দর্শকদের মনে দাগ কাটতে সক্ষম হয়। প্রথম দিকে তিনি বেশিরভাগ ছবিতে নেতিবাচক বা ধূসর চরিত্রে অভিনয় করতেন এবং এই চরিত্রগুলিতেও তিনি নিজের স্বতন্ত্রতা প্রমাণ করেন। "মুনদ্রু মুডিচু" (Moondru Mudichu) ছবিতে তার অভিনয় তাকে আরও পরিচিতি এনে দেয়।

আশির দশকে রজনীকান্ত ধীরে ধীরে প্রধান চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন এবং দ্রুতই জনপ্রিয়তার শীর্ষে ওঠেন। তার নিজস্ব স্টাইল, দ্রুত সংলাপ বলার ভঙ্গি, অ্যাকশন দৃশ্য এবং তার ক্যারিশমা তাকে অন্যান্য অভিনেতাদের থেকে আলাদা করে তোলে। "বিল্লা" (Billa), "মুরাট্টু কালাই" (Murattu Kaalai), "থালাপাথি" (Thalapathi) এর মতো ছবিগুলি তাকে একজন অ্যাকশন হিরো হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। নব্বইয়ের দশকে তিনি 'সুপারস্টার' উপাধি লাভ করেন এবং তার জনপ্রিয়তা দক্ষিণ ভারতের গণ্ডি পেরিয়ে সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়ে। "আন্নামালাই" (Annamalai), "ভাষা" (Baashha), "মুথু" (Muthu) এর মতো চলচ্চিত্রগুলি তাকে সর্বকালের অন্যতম সফল অভিনেতার মর্যাদা এনে দেয়। "ভাষা" ছবিটি তামিল সিনেমার ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে তিনি একজন গ্যাংস্টারের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেন।

২০০০ সালের পর রজনীকান্তের ক্যারিয়ার আরও উজ্জ্বল হয়। "শিবাজি: দ্য বস" (Sivaji: The Boss), "এন্থিরান" (Enthiran - রোবট নামেও পরিচিত) এবং এর সিক্যুয়েল "২.০" (2.0) এর মতো ব্লকবাস্টার ছবিগুলি তাকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দেয়। "এন্থিরান" ছবিতে তিনি দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করে প্রযুক্তিগতভাবেও এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন। তার প্রতিটি ছবিই বক্স অফিসে ঝড় তোলে এবং তার স্টারডম অক্ষুণ্ণ থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে "কাবালি" (Kabali), "কালা" (Kaala) এবং "জেলার" (Jailer) এর মতো ছবিগুলি প্রমাণ করে যে বয়সের সাথে সাথে তার আবেদন বিন্দুমাত্র কমেনি। তিনি কেবল তামিল নয়, হিন্দি, তেলেগু, কন্নড়, মালায়ালাম এবং কিছু বাংলা ভাষার ছবিতেও অভিনয় করেছেন, যা তার বহুমুখী প্রতিভার প্রমাণ। তার ক্যারিয়ার কেবল অভিনয়ে সীমাবদ্ধ নয়; তিনি একজন প্রযোজক এবং চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন।

উল্লেখযোগ্য অর্জন

রজনীকান্তের দীর্ঘ এবং বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে অসংখ্য পুরস্কার এবং সম্মাননা লাভ করেছেন। তার কিছু উল্লেখযোগ্য অর্জন নিচে দেওয়া হলো:

  • পদ্মভূষণ (Padma Bhushan): ভারত সরকার কর্তৃক প্রদত্ত তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা, যা তিনি ২০০০ সালে লাভ করেন।
  • পদ্মবিভূষণ (Padma Vibhushan): ভারত সরকার কর্তৃক প্রদত্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা, যা তিনি ২০১৬ সালে লাভ করেন।
  • দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার (Dadasaheb Phalke Award): ভারতীয় চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ সম্মাননা, যা তিনি ২০১৯ সালে (২০২০ সালের জন্য) ভূষিত হন।
  • আইএফএফআই সত্যজিৎ রায় লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড (IFFI Satyajit Ray Lifetime Achievement Award): বিশ্ব চলচ্চিত্রে তার অসামান্য অবদানের জন্য এই সম্মাননা লাভ করেন।
  • ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডস: তিনি একাধিক ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতেছেন, যার মধ্যে সেরা অভিনেতা এবং আজীবন সম্মাননা পুরস্কার উল্লেখযোগ্য।
  • সিআইআই-সাউথ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস: ভারতীয় সিনেমায় অসামান্য অবদানের জন্য এই পুরস্কার পান।

এছাড়াও, তিনি তামিলনাড়ু রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার, সিনেমা এক্সপ্রেস অ্যাওয়ার্ডস, এনটিআর জাতীয় পুরস্কার সহ অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন। তাকে বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেতাদের একজন হিসেবেও গণ্য করা হয়। তার জনপ্রিয়তা এতটাই যে জাপানেও তার বিশাল ভক্তগোষ্ঠী রয়েছে, যা ভারতীয় অভিনেতাদের মধ্যে বিরল।

ব্যক্তিগত জীবন

রজনীকান্তের ব্যক্তিগত জীবন তার তারকা ইমেজের চেয়ে অনেক বেশি সাধারণ এবং বিনয়ী। ১৯৮১ সালের ২৬শে ফেব্রুয়ারি তিনি লতা রাঙ্গাচারীকে বিয়ে করেন। লতা দেবী এথিরাজ কলেজ ফর উইমেনের ছাত্রী ছিলেন এবং একটি ম্যাগাজিনের জন্য রজনীকান্তের সাক্ষাৎকার নিতে গিয়ে তাদের পরিচয় হয়। তাদের দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে – ঐশ্বরিয়া রজনীকান্ত এবং সৌন্দর্য রজনীকান্ত। ঐশ্বরিয়া পরিচালক ধানুশের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ।

রজনীকান্ত একজন অত্যন্ত আধ্যাত্মিক ব্যক্তি। তিনি প্রায়শই হিমালয়ে বা বিভিন্ন মন্দিরে নির্জনে সময় কাটাতে যান। এই আধ্যাত্মিক যাত্রা তাকে মানসিক শান্তি ও শক্তি যোগায় বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তার জীবনযাপন খুবই সাধারণ এবং তিনি লাইমলাইট থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করেন, যা তার ভক্তদের কাছে তাকে আরও বেশি প্রিয় করে তুলেছে। যদিও তিনি একসময় রাজনীতিতে প্রবেশের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন এবং একটি রাজনৈতিক দলও গঠন করেছিলেন, তবে পরবর্তীতে স্বাস্থ্যগত কারণ এবং রাজনৈতিক পরিবেশের জটিলতা বিবেচনা করে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন।

মজার তথ্য

  • বাস কন্ডাক্টর থেকে সুপারস্টার: রজনীকান্ত তার অভিনয় জীবন শুরু করার আগে ব্যাঙ্গালোরের একজন বাস কন্ডাক্টর ছিলেন। তার টিকিট কাটার স্টাইল এবং যাত্রীদের মনোরঞ্জনের ক্ষমতা তখন থেকেই সবার নজর কাড়ত।
  • প্রকৃত নাম: তার আসল নাম শিবাজী রাও গায়কোয়াড়। পরিচালক কে. বালাচন্দর তাকে 'রজনীকান্ত' নামটি দেন।
  • স্টাইল আইকন: তার চশমা ঘোরানোর ভঙ্গি, দ্রুত হাঁটার স্টাইল এবং বিশেষ সংলাপ বলার ধরন তার ট্রেডমার্ক। এই স্টাইলগুলি তার চরিত্রগুলিকে আলাদা মাত্রা দেয় এবং ভক্তদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
  • জাপানে জনপ্রিয়তা: রজনীকান্ত ভারতের বাইরেও, বিশেষ করে জাপানে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তার "মুথু" ছবিটি জাপানে ব্যাপক সাফল্য লাভ করে এবং সেখানে তার বিশাল ফ্যানবেস তৈরি হয়।
  • আধ্যাত্মিকতা: তিনি একজন গভীর আধ্যাত্মিক ব্যক্তি এবং প্রায়শই হিমালয়ে গিয়ে ধ্যান করেন। তার এই আধ্যাত্মিকতা তার শান্ত ও বিনয়ী ব্যক্তিত্বের মূল কারণ।
  • রাজনৈতিক যাত্রা: দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার পর তিনি রাজনীতিতে আসার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং একটি দলও গঠন করেছিলেন, কিন্তু পরে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেন, যা তার ভক্তদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

উপসংহার

রজনীকান্ত, যিনি শিবাজী রাও গায়কোয়াড় থেকে 'সুপারস্টার' রজনীকান্ত হয়ে উঠেছেন, তার জীবন কঠোর পরিশ্রম, অদম্য ইচ্ছা এবং অসাধারণ প্রতিভার এক অনুপ্রেরণামূলক গল্প। তার অনন্য স্টাইল, শক্তিশালী অভিনয় এবং বিনয়ী ব্যক্তিত্ব তাকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক কিংবদন্তি আসনে বসিয়েছে। তিনি কেবল একজন সফল অভিনেতা নন, তিনি কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া একজন আইকন। তার প্রভাব প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বিস্তৃত এবং ভারতীয় চলচ্চিত্র যতদিন থাকবে, রজনীকান্তের নাম ততদিন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তার ক্যারিশমা, তার মানবিকতা এবং তার আধ্যাত্মিকতা তাকে একজন সত্যিকারের 'সুপারস্টার' বানিয়েছে, যার উজ্জ্বলতা সময়ের সাথে সাথে আরও বাড়ছে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন: রজনীকান্তের আসল নাম কী?

উত্তর: রজনীকান্তের আসল নাম শিবাজী রাও গায়কোয়াড়। তিনি তার অভিনয় জীবনে প্রবেশের পর পরিচালক কে. বালাচন্দর কর্তৃক 'রজনীকান্ত' নামটি গ্রহণ করেন।

প্রশ্ন: রজনীকান্তের প্রথম চলচ্চিত্র কোনটি?

উত্তর: রজনীকান্তের প্রথম চলচ্চিত্র হলো ১৯৭৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তামিল ভাষার "অপূর্ব রাগঙ্গল"। এটি পরিচালনা করেছিলেন কিংবদন্তি পরিচালক কে. বালাচন্দর।

প্রশ্ন: রজনীকান্ত কেন 'সুপারস্টার' নামে পরিচিত?

উত্তর: রজনীকান্ত তার অনন্য অভিনয় শৈলী, অসাধারণ ক্যারিশমা, দ্রুত সংলাপ বলার ভঙ্গি এবং অ্যাকশন দৃশ্যে অসামান্য দক্ষতার জন্য 'সুপারস্টার' নামে পরিচিত। তার প্রতিটি চলচ্চিত্র বক্স অফিসে ব্যাপক সাফল্য লাভ করে এবং তার বিশাল ভক্তগোষ্ঠী তাকে এই উপাধি দেয়।

প্রশ্ন: রজনীকান্ত কি রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন?

উত্তর: রজনীকান্ত একসময় রাজনীতিতে প্রবেশের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন এবং একটি রাজনৈতিক দলও গঠন করেছিলেন। তবে, স্বাস্থ্যগত কারণ এবং রাজনৈতিক পরিবেশের জটিলতা বিবেচনা করে তিনি পরবর্তীতে সক্রিয় রাজনীতি থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন।

প্রশ্ন: রজনীকান্ত কোন কোন উল্লেখযোগ্য পুরস্কার পেয়েছেন?

উত্তর: রজনীকান্ত তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ভারত সরকারের পদ্মভূষণ (২০০০), পদ্মবিভূষণ (২০১৬), ভারতীয় চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ সম্মাননা দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার (২০১৯) এবং আইএফএফআই সত্যজিৎ রায় লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড সহ অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন।

প্রশ্ন: রজনীকান্তের স্ত্রী কে?

উত্তর: রজনীকান্তের স্ত্রীর নাম লতা রাঙ্গাচারী। ১৯৮১ সালের ২৬শে ফেব্রুয়ারি তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং তাদের দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে – ঐশ্বরিয়া রজনীকান্ত এবং সৌন্দর্য রজনীকান্ত।

প্রশ্ন: রজনীকান্তের বিখ্যাত কিছু চলচ্চিত্র কী কী?

উত্তর: রজনীকান্তের অসংখ্য বিখ্যাত চলচ্চিত্র রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো "ভাষা", "মুথু", "আন্নামালাই", "থালাপাথি", "শিবাজি: দ্য বস", "এন্থিরান" (রোবট), "২.০", "কাবালি" এবং "জেলার"।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Bottom Ad [Post Page]