Full width home advertisement

Featured Actors

Popular Biographies

Post Page Advertisement [Top]

তথ্যসারণি

নামজিয়াউর রহমান
পরিচিতিবাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান
জন্ম১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি
জন্মস্থানবগুড়া, ব্রিটিশ ভারত (বর্তমান বাংলাদেশ)
মৃত্যু১৯৮১ সালের ৩০ মে
মৃত্যুস্থানচট্টগ্রাম, বাংলাদেশ
জাতীয়তাবাংলাদেশী
পেশাসামরিক কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ
রাজনৈতিক দলবাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)
দাম্পত্য সঙ্গীবেগম খালেদা জিয়া
সন্তানতারেক রহমান, আরাফাত রহমান

পরিচিতি

মেজর জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব, যিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং পরবর্তীতে দেশের সপ্তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার সামরিক ও রাজনৈতিক জীবন বাংলাদেশের ইতিহাসের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে। তিনি ২৬শে মার্চ, ১৯৭১ সালে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করে জাতিকে মুক্তির পথে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা, একজন সামরিক অধিনায়ক এবং একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক গভীর ও স্থায়ী প্রভাব রেখে গেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আজও দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি।

Major Ziaur Rahman

Photo: Wikimedia Commons
View Source

প্রারম্ভিক জীবন

জিয়াউর রহমান ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বগুড়া জেলার বাগবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মনসুর রহমান এবং মায়ের নাম জাহানারা খাতুন। তার বাবা ছিলেন একজন রসায়নবিদ এবং সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে কাজ করতেন। বাবার চাকরির সুবাদে জিয়াউর রহমানের শৈশব ও কৈশোরের অনেকটা সময় কেটেছে কলকাতা, ঢাকা ও অন্যান্য শহরে। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, শান্ত ও আত্মপ্রত্যয়ী। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাতেও তার আগ্রহ ছিল। তার পরিবার ছিল মধ্যবিত্ত এবং শিক্ষানুরাগী। এই পরিবেশ তাকে ভবিষ্যৎ জীবনে দৃঢ়চেতা ও কর্তব্যপরায়ণ হতে সাহায্য করেছিল।

শিক্ষাজীবন

জিয়াউর রহমানের শিক্ষাজীবন শুরু হয় বগুড়ায়। পরবর্তীতে তিনি কলকাতার হাওড়া জেলা স্কুলে ভর্তি হন এবং সেখানে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। ভারত ভাগের পর তার বাবা ঢাকা চলে আসেন এবং জিয়াউর রহমান বগুড়া জিলা স্কুলে ভর্তি হন। ১৯৫৩ সালে তিনি ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন। এরপর তিনি করাচির ডি. জে. সিন্ধু কলেজে ভর্তি হন এবং সেখানে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। তার শিক্ষাজীবনে মেধার স্বাক্ষর রেখেছিলেন এবং নেতৃত্বের গুণাবলীও তার মধ্যে পরিলক্ষিত হয়েছিল। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি সামরিক জীবন বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যা তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

ক্যারিয়ার

সামরিক জীবন

১৯৫৩ সালে জিয়াউর রহমান পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন। ১৯৫৫ সালে তিনি সফলতার সাথে কমিশন লাভ করেন এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু হয়। তিনি বিভিন্ন সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে তিনি একজন তরুণ কর্মকর্তা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং তার সাহসিকতার জন্য প্রশংসিত হন। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে তিনি চট্টগ্রাম সেনানিবাসে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের উপ-অধিনায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাত্রিতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখন জিয়াউর রহমান বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। ২৬শে মার্চ তিনি চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন, যা সমগ্র জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার অনুপ্রেরণা যোগায়। তিনি পরবর্তীতে ১ নম্বর সেক্টরের (পরে জেড ফোর্সের) অধিনায়ক হিসেবে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। তার নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। মুক্তিযুদ্ধে তার অসামান্য অবদানের জন্য তাকে বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত করা হয়।

রাজনৈতিক জীবন

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। একই বছরের ৭ই নভেম্বর এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন এবং দেশের হাল ধরেন। তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে দেশের শাসনভার গ্রহণ করেন।

১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তার শাসনামলে তিনি দেশের অর্থনীতি, কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেন। তার উল্লেখযোগ্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল খাল কাটা কর্মসূচি, যা দেশের সেচ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিল। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন। তার শাসনামলে দেশের শিল্পায়ন ও গ্রামীণ উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠন করেন, যা দ্রুত দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়। পররাষ্ট্রনীতিতে তিনি জোটনিরপেক্ষ নীতি অনুসরণ করেন এবং মুসলিম বিশ্বের সাথে সম্পর্ক জোরদার করেন। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) গঠনের প্রাথমিক উদ্যোগ তার হাত ধরেই শুরু হয়েছিল।

উল্লেখযোগ্য অর্জন

  • স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ: ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করে তিনি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান।
  • মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা: ১ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার এবং পরবর্তীতে জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখেন।
  • বীর উত্তম খেতাব: মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীর উত্তম’ প্রদান করা হয়।
  • রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেশের পুনর্গঠন: ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দেশের অর্থনীতি, কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেন।
  • বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা: সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনেন।
  • বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা: তার নেতৃত্বে গঠিত বিএনপি অল্প সময়েই দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়।
  • খাল কাটা কর্মসূচি: দেশের সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে ‘খাল কাটা’ কর্মসূচি চালু করেন, যা কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
  • সার্ক গঠনের উদ্যোগ: আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) গঠনের প্রাথমিক ধারণার তিনি অন্যতম প্রবক্তা ছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবন

জিয়াউর রহমান ১৯৭০ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বেগম খালেদা জিয়া পরবর্তীতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাদের দুই পুত্র সন্তান রয়েছে: তারেক রহমান এবং আরাফাত রহমান (প্রয়াত)। জিয়াউর রহমান ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন অত্যন্ত সাদাসিধে ও অনাড়ম্বর। সামরিক শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেম তার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হয়েছিল। তিনি তার পরিবারকে ভালোবাসতেন এবং দেশের প্রতি তার দায়িত্ব পালনে সর্বদা সচেষ্ট ছিলেন।

মজার তথ্য

  • জিয়াউর রহমান তার সামরিক জীবনে অত্যন্ত শৃঙ্খলাপরায়ণ এবং কঠোর পরিশ্রমী ছিলেন। তিনি তার অধীনস্থদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন তার মানবিক গুণাবলীর জন্য।
  • রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন তিনি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাধারণ মানুষের সাথে মিশে তাদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতেন। তার খাল কাটা কর্মসূচিতে তিনি নিজেও কোদাল হাতে অংশ নিতেন, যা সাধারণ মানুষকে অনুপ্রাণিত করত।
  • তিনি বাংলা, ইংরেজি এবং উর্দু ভাষায় পারদর্শী ছিলেন।
  • প্রকৃতির প্রতি তার গভীর ভালোবাসা ছিল এবং তিনি প্রায়শই প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে পছন্দ করতেন।

উপসংহার

মেজর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিতর্কিত কিন্তু অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে তার ভূমিকা, মুক্তিযুদ্ধে তার নেতৃত্ব এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেশের পুনর্গঠন ও উন্নয়নে তার অবদান অনস্বীকার্য। তার শাসনামলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে গিয়েছিল। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা হিসেবে পরিচিত এবং তার প্রতিষ্ঠিত বিএনপি বাংলাদেশের রাজনীতিতে আজও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে এক সামরিক অভ্যুত্থানে তার আকস্মিক মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক গভীর শূন্যতা তৈরি করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও উন্নয়নে তার অবদান তাকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন: মেজর জিয়াউর রহমান কে ছিলেন?

উত্তর: মেজর জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার অন্যতম ঘোষক, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের সপ্তম রাষ্ট্রপতি। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর প্রতিষ্ঠাতা।

প্রশ্ন: তিনি কখন স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন?

উত্তর: ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ তিনি চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন, যা সমগ্র জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে অনুপ্রাণিত করে।

প্রশ্ন: মেজর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের কততম রাষ্ট্রপতি ছিলেন?

উত্তর: তিনি ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের সপ্তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

প্রশ্ন: তার উল্লেখযোগ্য অবদান কী?

উত্তর: তার উল্লেখযোগ্য অবদানের মধ্যে রয়েছে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ, মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ নেতৃত্ব, বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, খাল কাটা কর্মসূচি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা।

প্রশ্ন: তিনি কখন এবং কিভাবে মারা যান?

উত্তর: ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে এক সামরিক অভ্যুত্থানে তিনি নিহত হন।

প্রশ্ন: তার স্ত্রীর নাম কী?

উত্তর: তার স্ত্রীর নাম বেগম খালেদা জিয়া, যিনি পরবর্তীতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

প্রশ্ন: জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন কী ছিল?

উত্তর: জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ছিল বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় গণতন্ত্র, বাজার অর্থনীতি এবং আত্মনির্ভরশীলতা। তিনি দেশের অবকাঠামোগত ও কৃষি উন্নয়নে বিশেষ জোর দিয়েছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Bottom Ad [Post Page]