Full width home advertisement

Featured Actors

Popular Biographies

Post Page Advertisement [Top]

তথ্যসারণি
পূর্ণ নামমাহাথির বিন মোহাম্মদ
পেশারাজনীতিবিদ, চিকিৎসক, লেখক
জাতীয়তামালয়েশীয়
জন্ম১০ জুলাই ১৯২৫
জন্মস্থানআলোর সেতার, কেদাহ, মালয়ান ইউনিয়ন (বর্তমান মালয়েশিয়া)
স্ত্রীসিটি হাসমাহ মোহাম্মদ আলী
সন্তান৭ জন
উল্লেখযোগ্য পরিচিতিমালয়েশিয়ার চতুর্থ ও সপ্তম প্রধানমন্ত্রী, আধুনিক মালয়েশিয়ার স্থপতি

পরিচিতি

মাহাথির বিন মোহাম্মদ, মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনের এক কিংবদন্তী নাম। তিনি শুধু একজন রাজনীতিবিদই নন, একজন দূরদর্শী নেতা, চিকিৎসক এবং লেখক হিসেবেও পরিচিত। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে তিনি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রেকর্ড গড়েছেন। ১৯৮১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত প্রথম মেয়াদে এবং ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি মালয়েশিয়ার নেতৃত্ব দেন। তার শাসনামলে মালয়েশিয়া কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি থেকে শিল্পোন্নত আধুনিক রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হয়, যার ফলস্বরূপ তাকে "আধুনিক মালয়েশিয়ার স্থপতি" বা "Father of Modernisation" উপাধি দেওয়া হয়। ৯২ বছর বয়সে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হয়ে তিনি বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন, যা তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও জনগণের প্রতি তার প্রতিশ্রুতির প্রমাণ। মালয়েশিয়ার অর্থনীতি, অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি গঠনে তার অবদান অনস্বীকার্য।

Mahathir Mohamad

Photo: Wikimedia Commons
View Source

প্রারম্ভিক জীবন

১৯২৫ সালের ১০ জুলাই মালয়েশিয়ার কেদাহ রাজ্যের আলোর সেতারে এক সাধারণ পরিবারে মাহাথির মোহাম্মদ জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মোহাম্মদ বিন ইস্কান্দার ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক এবং মা ওয়ান টেম্পওয়ান বিনতে ওয়ান দেগ। কঠোর পরিশ্রম ও শৃঙ্খলার পরিবেশে তার শৈশব কাটে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি দখলদারিত্বের অভিজ্ঞতা তার মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। এই সময়ে তিনি ছোটখাটো ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন, যা তাকে বাস্তব জীবনের কঠিনতা সম্পর্কে ধারণা দেয়। এই অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে তার জাতীয়তাবাদী চেতনা এবং মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার ধারণাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। অল্প বয়স থেকেই তিনি মালয় জনগণের অধিকার আদায়ে সোচ্চার ছিলেন এবং ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিক্ষোভে অংশ নেন, যা তার রাজনৈতিক জীবনের ভিত্তি স্থাপন করে।

শিক্ষাজীবন

মাহাথির মোহাম্মদের শিক্ষাজীবন শুরু হয় তার নিজ শহর আলোর সেতারে। তিনি সেবারাং পেরাইয়ের মালয় স্কুল এবং পরবর্তীতে সুলতান আব্দুল হামিদ কলেজে পড়াশোনা করেন। মেধাবী ছাত্র হিসেবে তিনি বরাবরই ভালো ফল করতেন। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি সিঙ্গাপুরের কিং এডওয়ার্ড সপ্তম কলেজ অফ মেডিসিনে (বর্তমানে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিঙ্গাপুর) ভর্তি হন। ১৯৫৩ সালে তিনি চিকিৎসা বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং একজন চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। চিকিৎসা পেশা তাকে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সাথে মিশে তাদের সমস্যাগুলো গভীরভাবে বোঝার সুযোগ করে দেয়, যা তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। চিকিৎসা পেশায় থাকাকালীনও তিনি লেখালেখি করতেন এবং মালয়েশিয়ার সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে তার মতামত প্রকাশ করতেন।

ক্যারিয়ার

মাহাথির মোহাম্মদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার প্রায় ৭৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিস্তৃত, যা তাকে বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।

প্রাথমিক রাজনৈতিক জীবন ও উত্থান

১৯৪৬ সালে মাহাথির মোহাম্মদ ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (UMNO) এ যোগ দেন। ১৯৬৪ সালে তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু ১৯৬৯ সালের নির্বাচনে তিনি তার আসন হারান এবং মালয়েশিয়ার জাতিগত দাঙ্গা নিয়ে তার সমালোচনামূলক মন্তব্যের কারণে UMNO থেকে বহিষ্কৃত হন। এই সময়ে তিনি "দ্য মালয় ডিলেমা" (The Malay Dilemma) বইটি লেখেন, যা মালয়েশিয়ার জাতিগত বৈষম্য এবং অর্থনৈতিক অসমতা নিয়ে তার গভীর চিন্তাভাবনার প্রতিফলন ঘটায়। বইটি বিতর্কের ঝড় তোলে এবং দীর্ঘকাল নিষিদ্ধ ছিল। ১৯৭২ সালে তিনি UMNO-তে ফিরে আসেন এবং ১৯৭৪ সালে আবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর তিনি শিক্ষামন্ত্রী এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যা তাকে দেশের শীর্ষ নেতৃত্বে পৌঁছানোর পথ প্রশস্ত করে।

প্রথম প্রধানমন্ত্রীত্ব (১৯৮১-২০০৩)

১৯৮১ সালে মাহাথির মোহাম্মদ মালয়েশিয়ার চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তার প্রথম মেয়াদ ছিল মালয়েশিয়ার ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায়। তিনি "লুক ইস্ট পলিসি" (Look East Policy) চালু করেন, যার মাধ্যমে জাপানের ও দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক মডেল অনুসরণ করে মালয়েশিয়ার শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করেন। তার নেতৃত্বে মালয়েশিয়া একটি কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি থেকে শিল্পোন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হয়। তিনি পেট্রোনাস টাওয়ার, কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নর্থ-সাউথ এক্সপ্রেসওয়ে এবং মাল্টিমিডিয়া সুপার করিডোরের মতো মেগা-প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করেন, যা দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিপ্লব ঘটায়। তার "ভিশন ২০২০" (Vision 2020) মালয়েশিয়াকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা ছিল। যদিও তার শাসনামলে কিছু বিতর্কিত ঘটনা যেমন অপারেশন লালাং এবং আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে তার সম্পর্ক নিয়ে সমালোচনা ছিল, তবে মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আধুনিকীকরণে তার অবদান ছিল প্রশ্নাতীত। ১৯৯৭ সালের এশীয় অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় তার সাহসী পদক্ষেপ, বিশেষ করে মূলধন নিয়ন্ত্রণ আরোপ, প্রাথমিকভাবে সমালোচিত হলেও পরে তা মালয়েশিয়ার অর্থনীতিকে দ্রুত পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে।

অবসর ও প্রত্যাবর্তন (২০০৩-২০১৮)

২০০৩ সালে মাহাথির মোহাম্মদ প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন, যা মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা করে। তবে অবসরের পরও তিনি দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে সক্রিয় ছিলেন এবং তার উত্তরসূরিদের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করতেন। বিশেষ করে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের ১এমডিবি কেলেঙ্কারির (1MDB scandal) বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার হন। অবশেষে, ২০১৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি বিরোধী দল পাকাতান হারাপান (Pakatan Harapan) জোটের নেতৃত্ব দিয়ে ৯২ বছর বয়সে আবার প্রধানমন্ত্রীত্বের দৌড়ে নামেন।

দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রীত্ব (২০১৮-২০২০)

২০১৮ সালের ৯ মে মালয়েশিয়ার ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটে। মাহাথির মোহাম্মদ ৯২ বছর বয়সে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক নির্বাচিত সরকারপ্রধান হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হন। তার এই প্রত্যাবর্তন ছিল দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার এক সাহসী পদক্ষেপ। তিনি নাজিব রাজাকের সরকারের নেওয়া বিতর্কিত প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করেন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। তবে জোটের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি নিয়ে জটিলতার কারণে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি পদত্যাগ করেন, যা তার দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রীত্বের আকস্মিক সমাপ্তি ঘটায়।

পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড

দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রীত্ব থেকে পদত্যাগের পরও মাহাথির মোহাম্মদ রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি নতুন রাজনৈতিক দল পেজুয়াং (Pejuang) এবং পরবর্তীতে গেরাকান তানাহ এয়ার (Gerakan Tanah Air) জোট গঠন করেন, যা মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে তার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের প্রমাণ।

উল্লেখযোগ্য অর্জন

মাহাথির মোহাম্মদের দীর্ঘ এবং বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন অসংখ্য উল্লেখযোগ্য অর্জনে ভরপুর।

  • অর্থনৈতিক রূপান্তর: মালয়েশিয়াকে একটি কৃষিভিত্তিক দেশ থেকে দ্রুত শিল্পোন্নত, রপ্তানিমুখী অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করা। তার "লুক ইস্ট পলিসি" এবং বেসরকারীকরণ নীতি দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে শক্তিশালী করে।
  • বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প: কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, পেট্রোনাস টাওয়ার, নর্থ-সাউথ এক্সপ্রেসওয়ে এবং মাল্টিমিডিয়া সুপার করিডোরের মতো বিশ্বমানের অবকাঠামো তৈরি, যা মালয়েশিয়াকে আধুনিক বিশ্বের মানচিত্রে তুলে ধরে।
  • "ভিশন ২০২০" এর প্রবর্তন: মালয়েশিয়াকে ২০০০ সালের মধ্যে একটি সম্পূর্ণরূপে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা তৈরি ও বাস্তবায়নের ভিত্তি স্থাপন।
  • আন্তর্জাতিক মঞ্চে মালয়েশিয়ার অবস্থান: জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন (NAM) এবং অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কো-অপারেশন (OIC) এর মতো আন্তর্জাতিক ফোরামে মালয়েশিয়ার কণ্ঠস্বরকে শক্তিশালী করা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর পক্ষে কথা বলা।
  • বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক নির্বাচিত সরকারপ্রধান: ৯২ বছর বয়সে দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হয়ে বিশ্ব রেকর্ড স্থাপন।
  • শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়ন: শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক বিনিয়োগের মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা।

ব্যক্তিগত জীবন

মাহাথির মোহাম্মদ ১৯৫৬ সালে তার সহপাঠিনী ও সহকর্মী চিকিৎসক সিটি হাসমাহ মোহাম্মদ আলীকে বিয়ে করেন। তাদের দাম্পত্য জীবন দীর্ঘ ও সফল। সিটি হাসমাহ নিজেও একজন সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব এবং মালয়েশিয়ার প্রথম নারী চিকিৎসক। এই দম্পতির সাত সন্তান রয়েছে – চার পুত্র ও তিন কন্যা। মাহাথির তার ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত শৃঙ্খলাপরায়ণ এবং স্বাস্থ্য সচেতন হিসেবে পরিচিত। তিনি নিয়মিত ব্যায়াম করেন এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস মেনে চলেন, যা তার দীর্ঘ ও কর্মময় জীবনের অন্যতম রহস্য। রাজনীতি এবং চিকিৎসা পেশার বাইরেও তিনি একজন আগ্রহী লেখক এবং তার লেখালেখি তার গভীর চিন্তাভাবনা এবং দেশের প্রতি ভালোবাসার প্রতিফলন। তার পরিবার সবসময়ই তার রাজনৈতিক জীবনের উত্থান-পতনে পাশে থেকেছে এবং তাকে সমর্থন জুগিয়েছে।

মজার তথ্য

  • মাহাথির মোহাম্মদ রাজনীতিতে আসার আগে একজন সফল চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেছেন এবং নিজের ক্লিনিকও ছিল।
  • তার লেখা "দ্য মালয় ডিলেমা" বইটি মালয়েশিয়ায় একসময় নিষিদ্ধ ছিল, কিন্তু পরে এটি মালয়েশিয়ার রাজনীতি ও সমাজে একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
  • তিনি বিশ্বের একমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান যিনি দুইবার অবসর নেওয়ার পর আবার রাজনীতিতে ফিরে এসেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।
  • ৯২ বছর বয়সে প্রধানমন্ত্রী হয়ে তিনি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক নির্বাচিত সরকারপ্রধান হিসেবে নাম লেখান।
  • মাহাথির মোহাম্মদ তার কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা এবং স্পষ্টভাষী মনোভাবের জন্য সুপরিচিত। তিনি প্রায়শই আন্তর্জাতিক ফোরামে পশ্চিমা দেশগুলোর নীতির সমালোচনা করতেন।
  • তিনি মালয়েশিয়ার নিজস্ব গাড়ি ব্র্যান্ড "প্রোটন" (Proton) প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, যা মালয়েশিয়ার শিল্পায়নের একটি প্রতীক।

উপসংহার

মাহাথির মোহাম্মদ একাধারে একজন দূরদর্শী নেতা, দৃঢ়চেতা সংস্কারক এবং আধুনিক মালয়েশিয়ার স্বপ্নদ্রষ্টা। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার মালয়েশিয়াকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। তার শাসনামলে মালয়েশিয়া শুধু অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিই অর্জন করেনি, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও একটি শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী জাতি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। যদিও তার নীতি ও সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক ছিল, তবে মালয়েশিয়ার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তার অবদান অবিস্মরণীয়। তার "লুক ইস্ট পলিসি" থেকে শুরু করে "ভিশন ২০২০" পর্যন্ত প্রতিটি পদক্ষেপই ছিল দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এক সুদূরপ্রসারী ভাবনা। মাহাথির মোহাম্মদ মালয়েশিয়ার ইতিহাসে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, যার প্রভাব আগামী বহু প্রজন্ম ধরে অনুভূত হবে। তিনি প্রমাণ করেছেন, সংকল্প এবং দৃঢ় ইচ্ছা থাকলে যেকোনো বয়সে দেশ ও জাতির জন্য কাজ করা সম্ভব।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন: মাহাথির মোহাম্মদ কে?

উত্তর: মাহাথির মোহাম্মদ মালয়েশিয়ার একজন কিংবদন্তী রাজনীতিবিদ, যিনি ১৯৮১ থেকে ২০০৩ সাল এবং ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাকে আধুনিক মালয়েশিয়ার স্থপতি হিসেবে গণ্য করা হয়।

প্রশ্ন: মালয়েশিয়ার আধুনিকীকরণে মাহাথিরের ভূমিকা কী ছিল?

উত্তর: মাহাথির মোহাম্মদ মালয়েশিয়াকে একটি কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি থেকে শিল্পোন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করেন। তার "লুক ইস্ট পলিসি" এবং বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প যেমন পেট্রোনাস টাওয়ার ও কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের আধুনিকীকরণে মুখ্য ভূমিকা রাখে।

প্রশ্ন: তিনি কতবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন?

উত্তর: মাহাথির মোহাম্মদ মোট দুইবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। প্রথমবার ১৯৮১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত এবং দ্বিতীয়বার ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত।

প্রশ্ন: মাহাথির মোহাম্মদ কত বছর বয়সে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হন?

উত্তর: মাহাথির মোহাম্মদ ৯২ বছর বয়সে দ্বিতীয়বারের মতো মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন, যা তাকে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক নির্বাচিত সরকারপ্রধানের খেতাব এনে দেয়।

প্রশ্ন: তার উল্লেখযোগ্য নীতিগুলো কী ছিল?

উত্তর: তার উল্লেখযোগ্য নীতিগুলোর মধ্যে ছিল "লুক ইস্ট পলিসি", দেশের বেসরকারীকরণ, "ভিশন ২০২০" এবং বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন, যা মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আধুনিকীকরণে সহায়তা করে।

প্রশ্ন: মাহাথির মোহাম্মদ কোন বই লিখেছেন?

উত্তর: মাহাথির মোহাম্মদ "দ্য মালয় ডিলেমা" (The Malay Dilemma) বইটি লিখেছেন, যা মালয়েশিয়ার জাতিগত ও অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ে তার বিশ্লেষণ তুলে ধরে।

প্রশ্ন: তার স্ত্রীর নাম কি?

উত্তর: মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রীর নাম ড. সিটি হাসমাহ মোহাম্মদ আলী, যিনি নিজেও একজন চিকিৎসক এবং মালয়েশিয়ার প্রথম নারী চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Bottom Ad [Post Page]