কিশোর কুমার: ভারতীয় সঙ্গীতের এক অবিস্মরণীয় কিংবদন্তী
ভারতীয় সঙ্গীত জগতে এমন কিছু নাম আছে, যা সময় ও কালের সীমানা পেরিয়ে আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক ও জনপ্রিয়। কিশোর কুমার (Kishore Kumar) এমনই এক নাম। তিনি কেবল একজন গায়ক ছিলেন না, ছিলেন এক সম্পূর্ণ বিনোদন প্যাকেজ – একাধারে গায়ক, অভিনেতা, সুরকার, গীতিকার, পরিচালক এবং প্রযোজক। তার বহুমুখী প্রতিভা, অভিনব যোডলিং এবং অসামান্য ব্যক্তিত্ব তাকে ভারতীয় সঙ্গীতের ইতিহাসে এক কিংবদন্তীর আসনে বসিয়েছে। তার সুরেলা কণ্ঠ, গানের বৈচিত্র্য এবং প্রতিটি গানে প্রাণ সঞ্চার করার ক্ষমতা তাকে অগণিত শ্রোতার হৃদয়ে চিরস্থায়ী করে রেখেছে।

Photo: Wikimedia Commons
View Source
তথ্যসারণি
| পূর্ণ নাম | আভাস কুমার গাঙ্গুলী |
|---|---|
| জন্ম | ৪ আগস্ট, ১৯২৯ |
| মৃত্যু | ১৩ অক্টোবর, ১৯৮৭ |
| জন্মস্থান | খণ্ডওয়া, মধ্যপ্রদেশ, ব্রিটিশ ভারত |
| জাতীয়তা | ভারতীয় |
| পেশা | প্লেব্যাক গায়ক, অভিনেতা, সুরকার, গীতিকার, পরিচালক, প্রযোজক |
| উল্লেখযোগ্য কাজ | "রূপ তেরা মাস্তানা", "পল পল দিল কে পাস", "তেরে মেরে মিলন কি ইয়ে রায়না", "চিংগারি কোই ভড়কে", "মেরে স্বপ্নো কি রানি", "এক চতুর নার" |
| জীবনসঙ্গিনী | রুমা গুহঠাকুরতা (১৯৫০-১৯৫৮) মধুবালা (১৯৬০-১৯৬৯) যোগিতা বালি (১৯৭৬-১৯৭৮) লীনা চন্দভারকর (১৯৮০-১৯৮৭) |
| সন্তান | অমিত কুমার, সুমিত কুমার |
| পুরস্কার | ৮টি ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড (শ্রেষ্ঠ পুরুষ প্লেব্যাক গায়ক) |
পরিচিতি
কিশোর কুমার, যার আসল নাম আভাসের কুমার গাঙ্গুলী, ভারতীয় চলচ্চিত্র এবং সঙ্গীত শিল্পের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তার কণ্ঠের জাদু, অভিনয়ের সহজাত ক্ষমতা এবং হাস্যরসপূর্ণ ব্যক্তিত্ব তাকে কয়েক দশক ধরে কোটি কোটি মানুষের মন জয় করতে সাহায্য করেছে। তিনি হিন্দি, বাংলা, মারাঠি, গুজরাটি, কন্নড়, মালায়ালম, ওড়িয়া এবং ভোজপুরি সহ বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় ১৫০০টিরও বেশি গান গেয়েছেন। তার গানে ছিল এক অসাধারণ বৈচিত্র্য – রোমান্টিক গান থেকে শুরু করে দুঃখের গান, কৌতুকপূর্ণ গান থেকে শাস্ত্রীয় সুরের গান পর্যন্ত সব ধরনের গানেই তিনি ছিলেন সমান পারদর্শী। তার যোডলিং ছিল তার ট্রেডমার্ক, যা তাকে অন্য গায়কদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল। কিশোর কুমার কেবল একজন শিল্পী ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটি আবেগ, একটি অভিজ্ঞতা, যা আজও ভারতীয় সঙ্গীতের প্রতিটি কোণে প্রতিধ্বনিত হয়।
প্রারম্ভিক জীবন
১৯২৯ সালের ৪ আগস্ট মধ্যপ্রদেশের খণ্ডওয়া শহরে এক বাঙালি পরিবারে কিশোর কুমার জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা কুঞ্জলাল গাঙ্গুলী ছিলেন একজন আইনজীবী এবং মা গৌরী দেবী ছিলেন গৃহিণী। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন কনিষ্ঠ। তার বড় ভাই ছিলেন বিখ্যাত অভিনেতা অশোক কুমার, যিনি ইতিমধ্যেই বলিউডে নিজের স্থান করে নিয়েছিলেন। তার মেজ ভাই অনুপ কুমারও ছিলেন একজন অভিনেতা। শৈশব থেকেই কিশোর কুমার সঙ্গীতের প্রতি এক গভীর টান অনুভব করতেন, যদিও তার কোনো আনুষ্ঠানিক সঙ্গীত শিক্ষা ছিল না। তিনি কে.এল. সায়গলের গানের ভক্ত ছিলেন এবং তাকে অনুকরণ করতেন। পরিবারের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল তাকে শৈল্পিক বিকাশে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। তার ভাই অশোক কুমার যখন মুম্বাইয়ে নিজের কর্মজীবন শুরু করেন, তখন কিশোরও তার সঙ্গে মুম্বাই চলে আসেন, যা তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
শিক্ষাজীবন
কিশোর কুমারের শিক্ষাজীবন খুব একটা উজ্জ্বল ছিল না। তিনি খণ্ডওয়ার ক্রিশ্চিয়ান কলেজে পড়াশোনা করতেন, তবে পড়াশোনার চেয়ে তার আগ্রহ ছিল গানবাজনা এবং বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ায়। তিনি প্রায়শই ক্লাসে অনুপস্থিত থাকতেন এবং তার শিক্ষকদের কাছে একজন দুষ্টু ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মুম্বাই আসার পর তিনি তার ভাই অশোক কুমারের তত্ত্বাবধানে কিছু সময় কাটান। যদিও তার কোনো আনুষ্ঠানিক সঙ্গীত শিক্ষা ছিল না, তবুও তিনি নিজের চেষ্টায় গান গাওয়া এবং সুর করা শিখেছিলেন। তার সহজাত প্রতিভা এবং প্রবল ইচ্ছাশক্তিই ছিল তার প্রধান শিক্ষক। তিনি বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারতেন এবং নিজের সুরেই গান গাইতেন, যা তার পরবর্তী কর্মজীবনে তাকে একজন সম্পূর্ণ শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করে।
ক্যারিয়ার
কিশোর কুমারের ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল অভিনেতা হিসেবে। তার বড় ভাই অশোক কুমার তাকে বোম্বে টকিজে কাজ করার সুযোগ করে দেন। ১৯৪৮ সালে "সাজিশ" ছবিতে তিনি প্রথম গান গাওয়ার সুযোগ পান, যদিও সেটি ছিল একটি ছোট ভূমিকা। ১৯৫১ সালে "আন্দোলন" ছবিতে তিনি প্রথম অভিনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। প্রথমদিকে তিনি মূলত কৌতুক অভিনেতা হিসেবেই পরিচিতি লাভ করেন। "নৌকরী", "মিস মেরি", "চলতি কা নাম গাড়ি" এবং "হাফ টিকিট" এর মতো ছবিতে তার অভিনয় ব্যাপক প্রশংসিত হয়।
তবে কিশোর কুমারের আসল প্রতিভা ছিল গানে। তিনি প্রথমদিকে কে.এল. সায়গলের গায়কী অনুকরণ করতেন, কিন্তু ধীরে ধীরে তিনি নিজের একটি স্বতন্ত্র শৈলী তৈরি করেন। কিংবদন্তী সুরকার শচীন দেববর্মণ তার প্রতিভার সঠিক মূল্যায়ন করেন এবং তাকে নিজের মতো করে গান গাওয়ার সুযোগ দেন। "ট্যাক্সি ড্রাইভার" (১৯৫৪) ছবিতে শচীন দেববর্মণের সুরে তার গাওয়া গানগুলি তাকে পরিচিতি এনে দেয়। তবে তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় ১৯৬৯ সালের ছবি "আরাধনা"। এই ছবিতে রাজেশ খান্নার লিপে তার গাওয়া "রূপ তেরা মাস্তানা", "মেরে স্বপ্নো কি রানি" এবং "কোরা কাগজ থা ইয়ে মন" গানগুলি তাকে রাতারাতি সুপারস্টার প্লেব্যাক সিঙ্গার বানিয়ে দেয়। এই সময় থেকেই শুরু হয় ভারতীয় সঙ্গীতের কিশোর যুগ।
৭০ ও ৮০ এর দশকে কিশোর কুমার ছিলেন বলিউডের সবচেয়ে ব্যস্ত এবং জনপ্রিয় গায়ক। তিনি রাজেশ খান্না, দেব আনন্দ, ধর্মেন্দ্র, অমিতাভ বচ্চন এবং মিঠুন চক্রবর্তীর মতো শীর্ষস্থানীয় অভিনেতাদের কণ্ঠ হয়ে ওঠেন। তার গানে ছিল এক অসাধারণ প্রাণবন্ততা এবং আবেগ, যা শ্রোতাদের মুগ্ধ করত। তিনি কেবল রোমান্টিক গানই নয়, দুঃখের গান ("চিংগারি কোই ভড়কে"), কৌতুকপূর্ণ গান ("এক চতুর নার"), এবং দার্শনিক গান ("দূর গগন কি ছাঁও মেঁ") সবকিছুতেই ছিলেন সমান পারদর্শী। তিনি নিজেই বেশ কিছু চলচ্চিত্র পরিচালনা ও প্রযোজনা করেছেন, যার মধ্যে "দূর গগন কি ছাঁও মেঁ" (১৯৬৪) এবং "দূর কা রাহি" (১৯৭৪) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই ছবিগুলোতে তিনি অভিনয়ও করেছেন এবং সঙ্গীত পরিচালনাও করেছেন।
উল্লেখযোগ্য অর্জন
- কিশোর কুমার তার কর্মজীবনে ৮ বার শ্রেষ্ঠ পুরুষ প্লেব্যাক গায়কের জন্য ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন, যা আজও একটি রেকর্ড।
- ১৯৭০ সালে "আরাধনা" ছবির "রূপ তেরা মাস্তানা" গানের জন্য তিনি প্রথম ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড পান।
- অন্যান্য ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী গানগুলির মধ্যে রয়েছে "দিল অ্যায়সা কিসি নে মেরা তোড়া" (১৯৭২), "তেরে মেরে মিলন কি ইয়ে রায়না" (১৯৭৫), "দিল সায়ে আজা" (১৯৭৮), "হাজার রাহেঁ মুড় কে দেখি" (১৯৮০), "পাগ ঘুংরু বাঁধ" (১৯৮২), "আগার তুম না হোতে" (১৯৮৪) এবং "মঞ্জিলেঁ আপনি জাগা" (১৯৮৬)।
- ২০১৩ সালে ফিল্মফেয়ার ম্যাগাজিন পরিচালিত একটি জরিপে তিনি "সর্বাধিক জনপ্রিয় পুরুষ প্লেব্যাক গায়ক" হিসেবে নির্বাচিত হন।
- মধ্যপ্রদেশ সরকার তাকে লতা মঙ্গেশকর পুরস্কারে ভূষিত করে।
- তার বহুমুখী প্রতিভা এবং ভারতীয় সঙ্গীতে তার অবদানের জন্য তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।
ব্যক্তিগত জীবন
কিশোর কুমারের ব্যক্তিগত জীবন ছিল তার ক্যারিয়ারের মতোই বর্ণময়। তিনি চারবার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। ১৯৫০ সালে তিনি বাঙালি অভিনেত্রী ও গায়িকা রুমা গুহঠাকুরতাকে (রুমা গুহঠাকুরতা) বিয়ে করেন। তাদের একমাত্র সন্তান হলেন বিখ্যাত গায়ক অমিত কুমার। ১৯৫৮ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর তিনি ১৯৬০ সালে বলিউডের কিংবদন্তী অভিনেত্রী মধুবালাকে (Madhubala) বিয়ে করেন। এটি ছিল এক প্রেমময় কিন্তু সংক্ষিপ্ত সম্পর্ক, কারণ মধুবালা হৃদরোগে ভুগছিলেন এবং ১৯৬৯ সালে মারা যান।
মধুবালা মারা যাওয়ার পর, ১৯৭৬ সালে কিশোর কুমার অভিনেত্রী যোগিতা বালিকে (Yogeeta Bali) বিয়ে করেন, কিন্তু এই সম্পর্ক মাত্র দুই বছর টিকেছিল এবং ১৯৭৮ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। অবশেষে, ১৯৮০ সালে তিনি অভিনেত্রী লীনা চন্দভারকরকে (Leena Chandavarkar) বিয়ে করেন। তাদের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে, যার নাম সুমিত কুমার। কিশোর কুমার তার পরিবারের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন এবং তার সন্তানদের তিনি সঙ্গীতের জগতে প্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করেছেন। তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অনেক গল্প প্রচলিত আছে, যা তার অদ্ভুত এবং মজার ব্যক্তিত্বকে তুলে ধরে।
মজার তথ্য
- কিশোর কুমার তার বাড়িতে একটি সাইনবোর্ড লাগিয়েছিলেন যেখানে লেখা ছিল, "কিশোর থেকে সাবধান" ("Beware of Kishore")। এটি তার অদ্ভুত রসবোধের পরিচয় দিত।
- তিনি তার জন্মস্থান খণ্ডওয়াকে খুব ভালোবাসতেন এবং প্রায়শই সেখানে ফিরে যাওয়ার কথা বলতেন। তিনি স্বপ্ন দেখতেন যে একদিন তিনি মুম্বাই ছেড়ে খণ্ডওয়াতে ফিরে যাবেন এবং সেখানেই মারা যাবেন। কাকতালীয়ভাবে, তার জন্ম এবং মৃত্যু উভয়ই ৪ আগস্ট এবং ১৩ অক্টোবরের কাছাকাছি সময়ে ঘটেছিল, যদিও তিনি মুম্বাইয়ে মারা যান।
- কিশোর কুমার বিশ্বাস করতেন যে তিনি তার গানে কণ্ঠ দেওয়ার জন্য প্রতিটি চলচ্চিত্রের প্রযোজকের কাছে পাওনাদার। একবার একজন প্রযোজক তাকে পুরো পারিশ্রমিক না দেওয়ায়, তিনি সেটে জুতো পরে এসেছিলেন এবং এক পায়ে জুতো এবং অন্য পায়ে স্যান্ডেল পরে একটি গান রেকর্ড করেছিলেন, যা তার প্রতিবাদ জানানোর এক অনন্য উপায় ছিল।
- তিনি গাছপালার সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন এবং তার বাগানকে খুব যত্ন করতেন।
- ভারতীয় জরুরি অবস্থার সময় (১৯৭৫-৭৭), তিনি সরকারের প্রচারমূলক অনুষ্ঠানে গান গাইতে অস্বীকার করায় তাকে অল ইন্ডিয়া রেডিও এবং দূরদর্শনে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
- তিনি কখনও আনুষ্ঠানিক সঙ্গীত প্রশিক্ষণ নেননি, যা তার প্রতিভাকে আরও অসাধারণ করে তোলে। তিনি মূলত তার ভাই অশোক কুমারের কাছে থেকে গান গাওয়ার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন এবং কে.এল. সায়গলের গান শুনে শুনে নিজেকে তৈরি করেছিলেন।
উপসংহার
কিশোর কুমার কেবল একজন গায়ক বা অভিনেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক যুগান্তকারী শিল্পী যিনি ভারতীয় সঙ্গীত ও চলচ্চিত্রকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছিলেন। তার কণ্ঠের বৈচিত্র্য, গানের প্রতি তার আবেগ এবং তার অনন্য ব্যক্তিত্ব তাকে সর্বকালের সেরা বিনোদনকারীদের একজন করে তুলেছে। তিনি তার গান এবং অভিনয়ের মাধ্যমে শ্রোতাদের হাসিয়েছেন, কাঁদিয়েছেন এবং অনুপ্রাণিত করেছেন। তার গান আজও লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয়ে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে রয়েছে। কিশোর কুমার নামের এই কিংবদন্তী শিল্পী তার কাজ এবং স্মৃতির মাধ্যমে ভারতীয় সংস্কৃতির আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে চিরকাল জ্বলজ্বল করবেন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন: কিশোর কুমার কে ছিলেন?
উত্তর: কিশোর কুমার ছিলেন ভারতীয় সঙ্গীতের একজন কিংবদন্তী প্লেব্যাক গায়ক, অভিনেতা, সুরকার, গীতিকার এবং পরিচালক। তিনি তার বহুমুখী প্রতিভা, অভিনব যোডলিং এবং ভারতীয় চলচ্চিত্রে তার অসামান্য অবদানের জন্য পরিচিত।
প্রশ্ন: কিশোর কুমারের আসল নাম কী ছিল?
উত্তর: কিশোর কুমারের আসল নাম ছিল আভাসের কুমার গাঙ্গুলী। তিনি ১৯২৯ সালের ৪ আগস্ট মধ্যপ্রদেশের খণ্ডওয়া শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
প্রশ্ন: কিশোর কুমার কতগুলি বিয়ে করেছিলেন?
উত্তর: কিশোর কুমার চারবার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। তার স্ত্রীরা ছিলেন রুমা গুহঠাকুরতা, মধুবালা, যোগিতা বালি এবং লীনা চন্দভারকর।
প্রশ্ন: কিশোর কুমার কতগুলি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পেয়েছিলেন?
উত্তর: কিশোর কুমার শ্রেষ্ঠ পুরুষ প্লেব্যাক গায়কের জন্য রেকর্ড ৮টি ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড জিতেছিলেন। এটি ভারতীয় প্লেব্যাক গায়কদের মধ্যে একটি অনন্য রেকর্ড।
প্রশ্ন: কিশোর কুমার কোন ধরনের গানের জন্য পরিচিত ছিলেন?
উত্তর: কিশোর কুমার তার বহুমুখী গায়কী শৈলীর জন্য পরিচিত ছিলেন। তিনি রোমান্টিক, দুঃখের, কৌতুকপূর্ণ, শাস্ত্রীয় এবং দেশাত্মবোধক সহ সব ধরনের গানই সমান দক্ষতার সাথে গাইতেন।
প্রশ্ন: কিশোর কুমারের যোডলিং কি বিখ্যাত ছিল?
উত্তর: হ্যাঁ, কিশোর কুমারের যোডলিং ছিল তার ট্রেডমার্ক এবং তার গানের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার অভিনব যোডলিং তাকে অন্যান্য গায়কদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল এবং তার গানকে এক অনন্য মাত্রা দিয়েছিল।
প্রশ্ন: কিশোর কুমার কবে মারা যান?
উত্তর: কিশোর কুমার ১৩ অক্টোবর, ১৯৮৭ সালে মুম্বাইয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তিনি ৫৭ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন