| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | ইয়ে (পূর্বে কানিয়ে ওমারি ওয়েস্ট) |
| জন্ম | ৮ জুন, ১৯৭৭ (বয়স ৪৬) |
| জন্মস্থান | আটলান্টা, জর্জিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র |
| পেশা | র্যাপার, সঙ্গীত প্রযোজক, গীতিকার, ফ্যাশন ডিজাইনার, ব্যবসায়ী |
| জাতীয়তা | আমেরিকান |
| পরিচিতি | হিপ-হপ সঙ্গীতের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, ইয়েজি (Yeezy) ফ্যাশন ব্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা |
| উল্লেখযোগ্য অ্যালবাম | The College Dropout, My Beautiful Dark Twisted Fantasy, 808s & Heartbreak |
| পুরস্কার | ২৪টি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড |
| স্ত্রী/সঙ্গিনী | কিম কারদাশিয়ান (বিবাহবিচ্ছেদ) |
| সন্তান | ৪ জন (নর্থ, সেইন্ট, শিকাগো, পামস) |
পরিচিতি
কানিয়ে ওয়েস্ট, যিনি বর্তমানে 'ইয়ে' নামে পরিচিত, একজন আমেরিকান র্যাপার, সঙ্গীত প্রযোজক, গীতিকার এবং ফ্যাশন ডিজাইনার। হিপ-হপ সঙ্গীতের ইতিহাসে তাকে অন্যতম প্রভাবশালী ও বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে গণ্য করা হয়। তার সঙ্গীত কর্মজীবনে তিনি অসংখ্য স্টাইলের পরিবর্তন এনেছেন, যা প্রচলিত গ্যাংস্টা র্যাপের বাইরে নতুন ধারার র্যাপারদের উত্থানে সহায়তা করেছে। কানিয়ে শুধু একজন সঙ্গীতশিল্পী নন, তিনি ফ্যাশন জগতেও একজন আইকন এবং তার নিজস্ব ব্র্যান্ড 'ইয়েজি' (Yeezy) বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। তার বিতর্কিত জনসম্মুখের ব্যক্তিত্ব এবং সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক মন্তব্য প্রায়শই তাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে, যা তার কর্মজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।
Photo: Wikimedia Commons
View Source
প্রারম্ভিক জীবন
১৯৭৭ সালের ৮ জুন আটলান্টায় জন্মগ্রহণ করেন কানিয়ে ওয়েস্ট। তার বাবা রে ওয়েস্ট ছিলেন একজন প্রাক্তন ব্ল্যাক প্যান্থার এবং খ্রিস্টান কাউন্সেলর, যিনি পরে একজন ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করেন। তার মা ডন্ডা ওয়েস্ট ছিলেন একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। কানিয়ের তিন বছর বয়সে তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ ঘটে এবং তিনি তার মায়ের সাথে শিকাগো, ইলিনয়ে চলে আসেন। ডন্ডা ওয়েস্ট শিকাগো স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন এবং তার ছেলেকে একা হাতেই বড় করেন। কানিয়ের শৈশবকাল থেকেই সঙ্গীতের প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন এবং ১৩ বছর বয়সে সঙ্গীত রচনা ও প্রযোজনা শুরু করেন। তার মা তার এই প্রতিভাকে উৎসাহিত করেন এবং তাকে একটি ছোট কীবোর্ড কিনে দেন, যা তার সঙ্গীত যাত্রার প্রথম ধাপ ছিল।
শিক্ষাজীবন
শিকাগোর পোলারিস হাই স্কুল থেকে স্নাতক হওয়ার পর কানিয়ে আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ আর্ট এবং শিকাগো স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেন। তবে, সঙ্গীতকে পেশা হিসেবে নেওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষার কারণে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দেন। তার এই সিদ্ধান্ত তার মা ডন্ডা ওয়েস্টের কাছে শুরুতে মেনে নেওয়া কঠিন ছিল, কারণ তিনি চেয়েছিলেন কানিয়ে তার পড়াশোনা শেষ করুক। কিন্তু কানিয়ে তার স্বপ্ন পূরণের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। তার এই কলেজ ছাড়ার অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে তার প্রথম অ্যালবাম The College Dropout-এর মূল অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে, যা তার শিক্ষাজীবনের এই অধ্যায়কে স্মরনীয় করে রেখেছে।
ক্যারিয়ার
সঙ্গীত প্রযোজক হিসেবে উত্থান
কানিয়ে ওয়েস্টের কর্মজীবনের শুরু হয় একজন সঙ্গীত প্রযোজক হিসেবে। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে তিনি শিকাগোর স্থানীয় শিল্পীদের জন্য প্রযোজনা শুরু করেন। ২০০০-এর দশকের গোড়ার দিকে তিনি জে-জেড (Jay-Z)-এর রক-এ-ফেলা রেকর্ডস (Roc-A-Fella Records)-এর সাথে যুক্ত হয়ে খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি জে-জেড-এর The Blueprint অ্যালবামের বেশ কয়েকটি ট্র্যাক প্রযোজনা করেন, যা সমালোচকদের দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। তার প্রযোজনা শৈলী ছিল স্বতন্ত্র – সোল মিউজিকের স্যাম্পল, উচ্চ পিচের ভোকাল স্যাম্পল এবং নিজস্ব ড্রাম প্যাটার্নের মিশ্রণ। এই সময়ে তিনি লুডাক্রিস, কমন, অ্যালিসিয়া কীস সহ অনেক বিখ্যাত শিল্পীর জন্য সফলভাবে প্রযোজনা করেন।
র্যাপার হিসেবে অভিষেক ও সাফল্য
প্রযোজক হিসেবে সফল হলেও, কানিয়ের স্বপ্ন ছিল একজন র্যাপার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। কিন্তু রক-এ-ফেলা রেকর্ডস তাকে র্যাপার হিসেবে চুক্তিবদ্ধ করতে দ্বিধা করছিল। অবশেষে, ২০০৪ সালে তিনি তার প্রথম স্টুডিও অ্যালবাম The College Dropout প্রকাশ করেন। এই অ্যালবামটি বাণিজ্যিক ও সমালোচনামূলক উভয় দিক থেকেই ব্যাপক সাফল্য লাভ করে এবং তাকে একজন র্যাপার হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি এনে দেয়। অ্যালবামটি তার শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতা, ভোগবাদ এবং প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবাদের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।
পরবর্তীকালে তিনি একের পর এক সফল অ্যালবাম উপহার দেন: Late Registration (২০০৫), Graduation (২০০৭), এবং 808s & Heartbreak (২০০৮)। 808s & Heartbreak অ্যালবামটি তার মায়ের আকস্মিক মৃত্যু এবং তার বাগদত্তার সাথে বিচ্ছেদের ব্যক্তিগত দুঃখ থেকে অনুপ্রাণিত ছিল। এই অ্যালবামটি অটো-টিউন ব্যবহার এবং আবেগপ্রবণ গীতধর্মীতার জন্য পরিচিত, যা হিপ-হপ সঙ্গীতের প্রচলিত ধারাকে ভেঙে দিয়েছিল এবং ভবিষ্যতের অনেক শিল্পীকে প্রভাবিত করেছিল।
২০১০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত My Beautiful Dark Twisted Fantasy অ্যালবামটিকে অনেক সমালোচক কানিয়ের সেরা কাজ এবং সর্বকালের সেরা হিপ-হপ অ্যালবামগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচনা করেন। এই অ্যালবামটি তার বিতর্কিত জনসম্মুখের ঘটনাগুলির পর মুক্তি পেয়েছিল এবং এটি তার সৃজনশীলতা ও শিল্পকলার গভীরতা প্রদর্শন করে। এরপর Yeezus (২০১৩), The Life of Pablo (২০১৬), Ye (২০১৮), Jesus Is King (২০১৯) এবং Donda (২০২১) এর মতো অ্যালবামগুলি তার সঙ্গীতের বিবর্তন এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।
ফ্যাশন এবং অন্যান্য উদ্যোগ
সঙ্গীতের পাশাপাশি কানিয়ে ফ্যাশন জগতেও নিজের প্রভাব বিস্তার করেছেন। তিনি Nike এবং Adidas-এর মতো ব্র্যান্ডগুলির সাথে সহযোগিতা করেছেন এবং তার নিজস্ব ফ্যাশন ব্র্যান্ড 'ইয়েজি' (Yeezy) প্রতিষ্ঠা করেছেন। ইয়েজি ব্র্যান্ডটি স্নিকার্স এবং পোশাকের জন্য বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এবং এটি একটি বিলিয়ন ডলারের ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। কানিয়ে তার নিজস্ব রেকর্ড লেবেল জি.ও.ও.ডি. মিউজিক (GOOD Music) প্রতিষ্ঠা করেছেন, যা ফিউচার, বিগ শন এবং পুশা টি-এর মতো শিল্পীদের ক্যারিয়ার গঠনে সহায়তা করেছে।
বিতর্কিত জনসম্মুখের ব্যক্তিত্ব
কানিয়ে ওয়েস্ট তার সঙ্গীত এবং ফ্যাশন সাফল্যের পাশাপাশি তার বিতর্কিত জনসম্মুখের ব্যক্তিত্বের জন্যও সুপরিচিত। তার রাজনৈতিক মন্তব্য, যেমন জর্জ ডব্লিউ বুশকে নিয়ে তার উক্তি বা ট্রাম্পের প্রতি তার সমর্থন, তাকে প্রায়শই সমালোচনার মুখে ফেলে দিয়েছে। তার বিভিন্ন অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে হস্তক্ষেপ, যেমন ২০০৯ সালের ভিএমএ (VMA) অনুষ্ঠানে টেইলর সুইফটের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়া, তাকে আরও বিতর্কিত করে তোলে। এই বিতর্কগুলি তার ক্যারিয়ারের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং অনেক সময় তার শিল্পকর্মের আলোচনাকেও ছাপিয়ে যায়।
উল্লেখযোগ্য অর্জন
- গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস: কানিয়ে ওয়েস্ট তার কর্মজীবনে মোট ২৪টি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন, যা তাকে সর্বকালের সবচেয়ে বেশি গ্র্যামি বিজয়ী শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম করে তুলেছে। তিনি ৭০ বারেরও বেশি মনোনয়ন পেয়েছেন।
- অ্যালবাম বিক্রি: তার একাধিক অ্যালবাম বিশ্বজুড়ে মিলিয়ন মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছে এবং বিলবোর্ড ২০০ চার্টে শীর্ষস্থান দখল করেছে।
- সাংস্কৃতিক প্রভাব: হিপ-হপ সঙ্গীতের ধারা পরিবর্তন এবং নতুন শিল্পীদের জন্য পথ তৈরি করার ক্ষেত্রে তার অবদান অনস্বীকার্য। তিনি স্যাম্পলিং এবং সঙ্গীত প্রযোজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন।
- ফ্যাশন আইকন: ইয়েজি (Yeezy) ব্র্যান্ডের মাধ্যমে ফ্যাশন শিল্পে তার প্রভাব অপরিসীম। তার ডিজাইন করা জুতা এবং পোশাক বিশ্বজুড়ে ফ্যাশন প্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
- টাইম ১০০: টাইম ম্যাগাজিনের বিশ্বের ১০০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় তিনি একাধিকবার স্থান পেয়েছেন।
- গুড মিউজিক (GOOD Music): তার প্রতিষ্ঠিত রেকর্ড লেবেল গুড মিউজিক অসংখ্য সফল শিল্পীর জন্ম দিয়েছে।
ব্যক্তিগত জীবন
কানিয়ে ওয়েস্টের ব্যক্তিগত জীবন সবসময়ই জনসমক্ষে ছিল এবং প্রায়শই সংবাদ শিরোনাম হয়েছে। ২০০৭ সালে তার মা ডন্ডা ওয়েস্টের আকস্মিক মৃত্যু তার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল, যা তার পরবর্তী অ্যালবাম 808s & Heartbreak-এ প্রতিফলিত হয়েছিল।
তিনি টিভি ব্যক্তিত্ব কিম কারদাশিয়ানের সাথে তার উচ্চ-প্রোফাইল সম্পর্কের জন্য পরিচিত। ২০১২ সালে তাদের সম্পর্ক শুরু হয় এবং ২০১৪ সালে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির চারটি সন্তান রয়েছে: নর্থ ওয়েস্ট, সেইন্ট ওয়েস্ট, শিকাগো ওয়েস্ট এবং পামস ওয়েস্ট। তাদের বিবাহ এবং পারিবারিক জীবন নিয়ে রিয়েলিটি শো এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। ২০২১ সালে কিম কারদাশিয়ান বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন এবং ২০২২ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়।
কানিয়ে তার মানসিক স্বাস্থ্যের সংগ্রাম নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন, বিশেষ করে তার বাইপোলার ডিসঅর্ডার নিয়ে। তার জনসম্মুখের অনেক বিতর্কিত আচরণের পেছনে তার মানসিক স্বাস্থ্যের প্রভাবের কথা উঠে এসেছে। তার ব্যক্তিগত জীবন, সম্পর্ক এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে তার খোলামেলা আলোচনা তাকে আরও বেশি মানবিক এবং জটিল ব্যক্তিত্ব হিসেবে তুলে ধরেছে।
মজার তথ্য
- কানিয়ে ওয়েস্ট ছোটবেলায় একজন চিত্রশিল্পী হতে চেয়েছিলেন এবং আর্ট স্কুলে পড়াশোনা করেছিলেন।
- তার মা ডন্ডা ওয়েস্ট একসময় তার ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন।
- কানিয়ে একবার গ্যাপ (Gap) স্টোরে ইন্টার্নশিপ করেছিলেন, যা তার ফ্যাশন ক্যারিয়ারের প্রাথমিক ধাপ ছিল।
- তার প্রথম বড় প্রযোজনা ক্রেডিট ছিল ডেরিক "ডি-ডট" অ্যাঞ্জেলেট্টির জন্য।
- কানিয়ে তার অ্যালবাম কভার ডিজাইন করার জন্য বিখ্যাত, কিন্তু তিনি একসময় অন্য শিল্পীদের জন্য অ্যালবাম কভার ডিজাইন করতেন।
- তিনি তার সঙ্গীতের মাধ্যমে সোল মিউজিকের স্যাম্পলিংকে নতুন করে জনপ্রিয় করে তুলেছেন।
উপসংহার
কানিয়ে ওয়েস্ট একজন জটিল এবং বহুমুখী শিল্পী, যার প্রভাব সঙ্গীত, ফ্যাশন এবং পপ সংস্কৃতির প্রতিটি স্তরে বিস্তৃত। তার উদ্ভাবনী সঙ্গীত, সাহসী ফ্যাশন উদ্যোগ এবং প্রায়শই বিতর্কিত মন্তব্য তাকে এক অনন্য স্থানে স্থাপন করেছে। তিনি হিপ-হপ সঙ্গীতের প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন, নতুন ধারার জন্ম দিয়েছেন এবং অসংখ্য শিল্পীকে অনুপ্রাণিত করেছেন। যদিও তার কর্মজীবন বিতর্কমুক্ত নয়, তার সৃজনশীল প্রতিভা এবং সাংস্কৃতিক প্রভাবকে অস্বীকার করা যায় না। কানিয়ে ওয়েস্টের উত্তরাধিকার কেবল তার পুরস্কার বা বিক্রিত অ্যালবামের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং তিনি যেভাবে শিল্প ও সংস্কৃতির সীমানা ঠেলে দিয়েছেন, তাতেই তার প্রকৃত মহত্ব নিহিত। তিনি একজন সত্যিকারের আইকন, যিনি তার নিজস্ব শর্তে জীবনযাপন করেন এবং বিশ্বকে তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির সাথে পরিচিত করান।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন: কানিয়ে ওয়েস্ট কে?
উত্তর: কানিয়ে ওয়েস্ট (বর্তমানে ইয়ে নামে পরিচিত) একজন আমেরিকান র্যাপার, সঙ্গীত প্রযোজক, গীতিকার, এবং ফ্যাশন ডিজাইনার। হিপ-হপ সঙ্গীত ও ফ্যাশন শিল্পে তার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে এবং তিনি তার বিতর্কিত জনসম্মুখের ব্যক্তিত্বের জন্যও পরিচিত।
প্রশ্ন: কানিয়ে ওয়েস্টের উল্লেখযোগ্য অ্যালবামগুলো কী কী?
উত্তর: কানিয়ে ওয়েস্টের উল্লেখযোগ্য অ্যালবামগুলোর মধ্যে রয়েছে The College Dropout, Late Registration, Graduation, 808s & Heartbreak, My Beautiful Dark Twisted Fantasy, Yeezus, এবং Donda। এই অ্যালবামগুলো তাকে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি এনে দিয়েছে।
প্রশ্ন: কানিয়ে ওয়েস্ট কতগুলো গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন?
উত্তর: কানিয়ে ওয়েস্ট তার কর্মজীবনে মোট ২৪টি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন, যা তাকে সর্বকালের সবচেয়ে বেশি গ্র্যামি বিজয়ী শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম করে তুলেছে। তিনি ৭০ বারেরও বেশি মনোনয়ন পেয়েছেন।
প্রশ্ন: ইয়েজি (Yeezy) কী?
উত্তর: ইয়েজি (Yeezy) হলো কানিয়ে ওয়েস্টের নিজস্ব ফ্যাশন ব্র্যান্ড, যা স্নিকার্স এবং পোশাকের জন্য বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এটি একটি বিলিয়ন ডলারের ব্যবসায় পরিণত হয়েছে এবং ফ্যাশন শিল্পে কানিয়ের প্রভাবের প্রতীক।
প্রশ্ন: কানিয়ে ওয়েস্ট কেন বিতর্কিত?
উত্তর: কানিয়ে ওয়েস্ট তার রাজনৈতিক মন্তব্য, অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে অপ্রত্যাশিত হস্তক্ষেপ, এবং জনসম্মুখে দেওয়া বিভিন্ন উক্তির জন্য প্রায়শই বিতর্কিত হন। তার এই বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব তার কর্মজীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
প্রশ্ন: কানিয়ে ওয়েস্টের জন্ম তারিখ কবে?
উত্তর: কানিয়ে ওয়েস্টের জন্ম তারিখ হলো ৮ জুন, ১৯৭৭। তিনি আটলান্টা, জর্জিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেন।
প্রশ্ন: কানিয়ে ওয়েস্টের মায়ের নাম কী ছিল?
উত্তর: কানিয়ে ওয়েস্টের মায়ের নাম ছিল ডন্ডা ওয়েস্ট। তিনি শিকাগো স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন এবং কানিয়ের জীবনে তার গভীর প্রভাব ছিল।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন