Full width home advertisement

Featured Actors

Popular Biographies

Post Page Advertisement [Top]

তথ্যসারণি
নামইন্দিরা প্রিয়দর্শিনী গান্ধী
জন্ম১৯ নভেম্বর ১৯১৭
মৃত্যু৩১ অক্টোবর ১৯৮৪
পেশারাজনীতিবিদ, ভারতের প্রধানমন্ত্রী
জাতীয়তাভারতীয়
পিতাজওহরলাল নেহেরু
মাতাকমলা নেহেরু
স্বামীফিরোজ গান্ধী
সন্তানরাজীব গান্ধী, সঞ্জয় গান্ধী

পরিচিতি

ইন্দিরা প্রিয়দর্শিনী গান্ধী (১৯১৭-১৯৮৪) ছিলেন ভারতের এক অবিস্মরণীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং দেশের প্রথম ও একমাত্র মহিলা প্রধানমন্ত্রী। তিনি ১৯৬৬ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত এবং পুনরায় ১৯৮০ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। প্রায় ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রীর আসনে থেকে তিনি ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গভীর ও স্থায়ী প্রভাব ফেলে গেছেন। তিনি কেবল একজন রাষ্ট্রনেতা ছিলেন না, বরং ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম স্থপতি জওহরলাল নেহেরুর কন্যা এবং পরবর্তীকালে ভারতের আরেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর জননী হিসেবে তাঁর পরিবার ভারতীয় রাজনীতিতে এক কিংবদন্তী স্থান অধিকার করে আছে। তাঁর দৃঢ় নেতৃত্ব, দূরদর্শী নীতি এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের অবস্থান সুদৃঢ় করার মাধ্যমে তিনি 'ভারতের লৌহমানবী' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের (NAM) চেয়ারপার্সন হিসেবেও তিনি বিশ্বশান্তি ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

Indira Gandhi

Photo: Wikimedia Commons
View Source

প্রারম্ভিক জীবন

১৯১৭ সালের ১৯ নভেম্বর এলাহাবাদের এক সম্ভ্রান্ত কাশ্মীরি পণ্ডিত পরিবারে ইন্দিরা গান্ধীর জন্ম। তাঁর পিতা জওহরলাল নেহেরু ছিলেন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী এবং মাতা কমলা নেহেরু ছিলেন একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী। শৈশব থেকেই ইন্দিরা এক রাজনৈতিক পরিবেশে বেড়ে উঠেছিলেন। তাঁর দাদা মতিলাল নেহেরু এবং পিতা জওহরলাল নেহেরু দুজনেই ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্রগণ্য নেতা। ফলে, আনন্দ ভবন — তাঁদের পৈতৃক নিবাস — ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মিলনস্থল। মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ ও দর্শন তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। ছোটবেলা থেকেই তিনি দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের মূল্যবোধ নিয়ে বড় হয়েছেন। তাঁর পিতা প্রায়শই ব্রিটিশ কারাগারে বন্দি থাকতেন, যার ফলে তাঁর শৈশব কেটেছে পিতার অনুপস্থিতিতে এবং মায়ের অসুস্থতার মধ্যে। এই প্রতিকূলতা তাঁকে আরও দৃঢ়চেতা করে তুলেছিল। মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি 'বানর সেনা' (Monkey Brigade) নামে শিশুদের একটি দল গঠন করেছিলেন, যা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বিভিন্ন কাজে সাহায্য করত, যেমন বার্তা আদান-প্রদান এবং প্রতিবাদী মিছিলে অংশ নেওয়া।

শিক্ষাজীবন

ইন্দিরা গান্ধীর শিক্ষাজীবন ছিল বৈচিত্র্যময় এবং কিছুটা খণ্ডিত। ভারতের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং তাঁর মায়ের অসুস্থতার কারণে তাঁকে বিভিন্ন সময়ে স্কুল পরিবর্তন করতে হয়েছিল। তিনি পুনের পিপলস ওন স্কুল, মুম্বাইয়ের সেন্ট মেরি অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান স্কুল এবং জেনেভার ইকোলে নোভেল-এ পড়াশোনা করেন। এরপর তিনি শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুকাল অধ্যয়ন করেন, যেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই তাঁকে 'প্রিয়দর্শিনী' উপাধি প্রদান করেন। পরবর্তীকালে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য ইংল্যান্ডে যান এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সোমারভিল কলেজে ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা করেন। তবে, তাঁর মায়ের অসুস্থতা এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে তাঁর পড়াশোনা পুরোপুরি শেষ করা সম্ভব হয়নি। এই সময়কালে তিনি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেন এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতি সম্পর্কে গভীর ধারণা লাভ করেন।

ক্যারিয়ার

ইন্দিরা গান্ধীর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের পর। প্রথমদিকে তিনি তাঁর পিতা জওহরলাল নেহেরুর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করেন, যা তাঁকে ভারতীয় রাজনীতির অন্দরমহল থেকে শেখার সুযোগ করে দেয়।

রাজনৈতিক উত্থান

  • ১৯৫৯ সাল: তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভানেত্রী নির্বাচিত হন, যা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ছিল।
  • ১৯৬৪ সাল: জওহরলাল নেহেরুর মৃত্যুর পর লাল বাহাদুর শাস্ত্রী প্রধানমন্ত্রী হলে ইন্দিরা গান্ধী তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হিসেবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় যোগ দেন।
  • ১৯৬৬ সাল: লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর আকস্মিক মৃত্যুর পর ইন্দিরা গান্ধী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ভারতের ইতিহাসে এটি ছিল এক যুগান্তকারী মুহূর্ত, যখন একজন নারী দেশের সর্বোচ্চ পদে আসীন হন।

প্রধানমন্ত্রিত্বের প্রথম পর্ব (১৯৬৬-১৯৭৭)

ইন্দিরা গান্ধীর প্রথম প্রধানমন্ত্রিত্বের সময়কাল ছিল ভারতের জন্য পরিবর্তনের এক দশক।

  • সবুজ বিপ্লব: তিনি কৃষিক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন, যা 'সবুজ বিপ্লব' নামে পরিচিত। এর ফলে ভারত খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে।
  • ব্যাংক জাতীয়করণ: ১৯৬৯ সালে তিনি ১৪টি প্রধান বাণিজ্যিক ব্যাংক জাতীয়করণ করেন, যার উদ্দেশ্য ছিল ব্যাংকিং সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো।
  • রাজপরিবারের ভাতা বিলোপ: ১৯৭০ সালে তিনি প্রাক্তন দেশীয় রাজাদের 'প্রিভি পার্স' বা বিশেষ ভাতা বিলোপ করেন, যা সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থার অবসান ঘটায় এবং সমাজতান্ত্রিক নীতির প্রতি তাঁর অঙ্গীকার তুলে ধরে।
  • বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ (১৯৭১): ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ছিল তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের decisive বিজয় এবং স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম তাঁকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে একজন শক্তিশালী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
  • পারমাণবিক পরীক্ষা (১৯৭৪): ১৯৭৪ সালের ১৮ মে ভারত পোখরানে প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়, যা 'স্মাইলিং বুদ্ধ' নামে পরিচিত। এর মাধ্যমে ভারত বিশ্বের পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর কাতারে স্থান করে নেয়।
  • জরুরি অবস্থা (১৯৭৫-১৯৭৭): ১৯৭৫ সালে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বের এক বিতর্কিত অধ্যায়। অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও রাজনৈতিক বিরোধিতার মুখে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন, যা নাগরিক অধিকারের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। এই সময়ের জন্য তাঁকে সমালোচিত হতে হয়।

রাজনৈতিক বিপর্যয় ও প্রত্যাবর্তন

জরুরি অবস্থার পর ১৯৭৭ সালের নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধী পরাজিত হন এবং জনতা দল ক্ষমতায় আসে। তবে, জনতা দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং অকার্যকর শাসনের কারণে মাত্র তিন বছরের মধ্যেই জনগণ ইন্দিরা গান্ধীর প্রতি আস্থা ফিরে পায়। ১৯৮০ সালের নির্বাচনে তিনি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আবার ক্ষমতায় আসেন।

প্রধানমন্ত্রিত্বের দ্বিতীয় পর্ব (১৯৮০-১৯৮৪)

তাঁর দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রিত্বের সময়কালও ছিল ঘটনাবহুল। এই সময়ে তিনি দেশের নিরাপত্তা ও অখণ্ডতা রক্ষায় জোর দেন।

  • অপারেশন ব্লু স্টার (১৯ ১৯৮৪): ১৯৮৪ সালে পাঞ্জাবের অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরে লুকিয়ে থাকা শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান 'অপারেশন ব্লু স্টার' পরিচালনার নির্দেশ দেন। এই অভিযান সফল হলেও শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
  • হত্যা: ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর তাঁরই দুই শিখ দেহরক্ষীর গুলিতে ইন্দিরা গান্ধী নিহত হন। এই মর্মান্তিক ঘটনা ভারতীয় রাজনীতিতে এক কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত।

উল্লেখযোগ্য অর্জন

  • ভারতের প্রথম এবং একমাত্র মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের সর্বোচ্চ পদে আসীন হওয়া।
  • সবুজ বিপ্লবের মাধ্যমে ভারতকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলা।
  • ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের নেতৃত্ব দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম নিশ্চিত করা।
  • ব্যাংক জাতীয়করণ এবং প্রিভি পার্স বিলোপের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক সমতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা।
  • ১৯৭৪ সালের পারমাণবিক পরীক্ষার মাধ্যমে ভারতের সামরিক শক্তি ও বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা প্রদর্শন।
  • জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের সম্মান ও প্রভাব বৃদ্ধি করা।

ব্যক্তিগত জীবন

ইন্দিরা গান্ধীর ব্যক্তিগত জীবন ছিল তাঁর রাজনৈতিক জীবনের মতোই ঘটনাবহুল। ১৯৪২ সালে তিনি ফিরোজ গান্ধীকে বিবাহ করেন। এই বিবাহ নিয়ে তাঁর পিতা জওহরলাল নেহেরু প্রাথমিকভাবে আপত্তি করেছিলেন, কারণ ফিরোজ পার্সি সম্প্রদায়ের ছিলেন। তবে, মহাত্মা গান্ধীর হস্তক্ষেপে এই বিবাহ সম্পন্ন হয়। তাঁদের দুই পুত্র সন্তান ছিল – রাজীব গান্ধী এবং সঞ্জয় গান্ধী। ফিরোজ গান্ধীও একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন এবং লোকসভার সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন। ১৯৬০ সালে ফিরোজ গান্ধীর অকালমৃত্যু ইন্দিরা গান্ধীকে ব্যক্তিগতভাবে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। তিনি ছিলেন একজন দৃঢ়চেতা নারী, যিনি ব্যক্তিগত শোক ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দেশের প্রতি তাঁর দায়িত্ব পালনে অবিচল ছিলেন। তাঁর সন্তানদের প্রতিও তাঁর গভীর টান ছিল, বিশেষ করে সঞ্জয় গান্ধীর আকস্মিক মৃত্যু (বিমান দুর্ঘটনায়) তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল।

মজার তথ্য

  • ইন্দিরা গান্ধীর নামকরণ করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনিই তাঁকে 'প্রিয়দর্শিনী' উপাধি দিয়েছিলেন, যার অর্থ 'সুন্দর দেখতে'।
  • ছোটবেলায় তিনি মহাত্মা গান্ধীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজের প্রিয় পুতুলগুলো পুড়িয়ে ফেলেছিলেন, কারণ সেগুলো ছিল বিদেশি পণ্য।
  • তাঁর শৈশবের 'বানর সেনা' (Monkey Brigade) ব্রিটিশদের বার্তা আদান-প্রদানে বাধা দিত এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জন্য বিভিন্ন ছোটখাটো কাজ করত।
  • তিনি ছিলেন একজন নিপুণ মালী এবং বাগান পরিচর্যা তাঁর অন্যতম প্রিয় শখ ছিল।
  • 'ভারতের লৌহমানবী' উপাধিটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম তাঁকে দিয়েছিল তাঁর দৃঢ়তা ও অটল নেতৃত্বের জন্য।

উপসংহার

ইন্দিরা গান্ধী ছিলেন একজন অসাধারণ ব্যক্তিত্ব যিনি ভারতের ইতিহাস ও রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলে গেছেন। তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বের সময়কাল ছিল অর্জন এবং বিতর্কের এক মিশ্রণ। একদিকে তিনি দেশকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছিলেন এবং ১৯৭১ সালের যুদ্ধে অসামান্য নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, অন্যদিকে জরুরি অবস্থার মতো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত তাঁর গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তিকে কিছুটা ক্ষুণ্ণ করেছিল। তবে, তাঁর দৃঢ় সংকল্প, অদম্য সাহস এবং দেশের প্রতি তাঁর অঙ্গীকার প্রশ্নাতীত ছিল। ভারতের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি নারী নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এবং তাঁর উত্তরাধিকার আজও ভারতীয় রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক। তাঁর জীবন ছিল সাহস, ত্যাগ এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের এক অসাধারণ গল্প, যা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন: ইন্দিরা গান্ধী কে ছিলেন?

উত্তর: ইন্দিরা গান্ধী ছিলেন ভারতের প্রথম এবং একমাত্র মহিলা প্রধানমন্ত্রী। তিনি ১৯৬৬ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত এবং পুনরায় ১৯৮০ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জওহরলাল নেহেরুর কন্যা এবং রাজীব গান্ধীর জননী ছিলেন।

প্রশ্ন: ইন্দিরা গান্ধী কতবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন?

উত্তর: ইন্দিরা গান্ধী মোট দুইবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। প্রথমবার ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত এবং দ্বিতীয়বার ১৯৮০ সাল থেকে ১৯৮৪ সালে তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত। তাঁর মোট প্রধানমন্ত্রিত্বের সময়কাল ছিল প্রায় ১৫ বছরেরও বেশি।

প্রশ্ন: ইন্দিরা গান্ধীর প্রধান অর্জন কী ছিল?

উত্তর: ইন্দিরা গান্ধীর প্রধান অর্জনগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সবুজ বিপ্লবের মাধ্যমে ভারতকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা, ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের বিজয় নিশ্চিত করা, ব্যাংক জাতীয়করণ এবং ১৯৭৪ সালের পারমাণবিক পরীক্ষা।

প্রশ্ন: ইন্দিরা গান্ধী কেন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন?

উত্তর: ১৯৭৫ সালে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা, রাজনৈতিক বিরোধিতা এবং একটি আদালত রায়কে কেন্দ্র করে ইন্দিরা গান্ধী দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন। এই সময়ে মৌলিক অধিকার স্থগিত করা হয়েছিল এবং এটি তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বের এক বিতর্কিত অধ্যায় ছিল।

প্রশ্ন: ইন্দিরা গান্ধী কিভাবে মারা যান?

উত্তর: ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর তাঁরই দুই শিখ দেহরক্ষী দ্বারা ইন্দিরা গান্ধী নিহত হন। এটি ছিল 'অপারেশন ব্লু স্টার'-এর প্রতিক্রিয়ায় একটি প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ড, যা শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছিল।

প্রশ্ন: ইন্দিরা গান্ধীকে কেন "ভারতের লৌহমানবী" বলা হয়?

উত্তর: ইন্দিরা গান্ধীকে তাঁর দৃঢ় সংকল্প, অটল নেতৃত্ব এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও অবিচল থাকার ক্ষমতার জন্য "ভারতের লৌহমানবী" (Iron Lady of India) বলা হয়। তিনি আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় ক্ষেত্রেই অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকা পালন করেছিলেন।

প্রশ্ন: ইন্দিরা গান্ধীর পরিবারের সদস্যরা কে কে ছিলেন?

উত্তর: ইন্দিরা গান্ধীর পিতা ছিলেন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু এবং মাতা ছিলেন কমলা নেহেরু। তাঁর স্বামী ছিলেন ফিরোজ গান্ধী এবং তাঁদের দুই পুত্র সন্তান ছিল – রাজীব গান্ধী ও সঞ্জয় গান্ধী। রাজীব গান্ধীও পরবর্তীকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Bottom Ad [Post Page]