দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার জগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং বর্তমানে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক অঙ্গনে এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হলেন চন্দ্রেসেখর জোসেফ বিজয়, যিনি বিশ্বজুড়ে তাঁর ভক্তদের কাছে শুধুমাত্র বিজয় নামেই পরিচিত। তাঁর বহুমুখী প্রতিভা, অনবদ্য অভিনয়, অসাধারণ নৃত্যশৈলী এবং ক্যারিশম্যাটিক ব্যক্তিত্ব তাঁকে 'থালাপথি' উপাধিতে ভূষিত করেছে। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি তামিল চলচ্চিত্র শিল্পে রাজত্ব করেছেন এবং বক্স অফিসে অসংখ্য ব্লকবাস্টার উপহার দিয়েছেন। সম্প্রতি, তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, যা তাঁর জীবনের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

Photo: Wikimedia Commons
View Source
তথ্যসারণি
| পূর্ণ নাম | চন্দ্রেসেখর জোসেফ বিজয় |
|---|---|
| জন্ম | ২২ জুন ১৯৭৪ (বয়স: ৪৯ বছর) |
| জন্মস্থান | চেন্নাই, তামিলনাড়ু, ভারত |
| পেশা | অভিনেতা, রাজনীতিবিদ |
| জাতীয়তা | ভারতীয় |
| বৈবাহিক অবস্থা | বিবাহিত |
| স্ত্রী | সঙ্গীতা সোর্নালিঙ্গম |
| সন্তান | জেসন সঞ্জয় (পুত্র), দিব্যা সাশা (কন্যা) |
| রাজনৈতিক দল | তামিলগা ভেট্রি কাজাঘাম (টিভিকে) |
| উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র | ঘিলি, থুপাক্কি, কাথি, মার্সাল, সরকার, মাস্টার, লিও |
| বর্তমান পদ | তামিলনাড়ুর নবম মুখ্যমন্ত্রী (মে ২০২৬ থেকে) |
পরিচিতি
বিজয়, ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের এক কিংবদন্তী নাম, যিনি তাঁর অভিনয় প্রতিভা দিয়ে কোটি কোটি মানুষের হৃদয় জয় করেছেন। একাধারে তিনি একজন সফল অভিনেতা, প্রযোজক এবং প্লেব্যাক গায়ক। তাঁর চলচ্চিত্রগুলি কেবল বিনোদনই দেয় না, বরং প্রায়শই সামাজিক বার্তা বহন করে, যা তাঁকে জনসাধারণের কাছে আরও বেশি প্রিয় করে তুলেছে। 'থালাপথি' (কমান্ডার) নামে পরিচিত এই তারকা শুধুমাত্র তামিলনাড়ুতেই নয়, সারা ভারত এবং বিশ্বজুড়ে তামিলভাষী দর্শকদের কাছে এক আইকনিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর কর্মজীবনের শুরু হয়েছিল শিশুশিল্পী হিসেবে, পিতার পরিচালনায়। এরপর তিনি ধীরে ধীরে নিজেকে একজন শীর্ষস্থানীয় অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং ভারতীয় সিনেমার সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেতাদের একজন হয়ে ওঠেন। সম্প্রতি, তিনি তাঁর রাজনৈতিক দল 'তামিলগা ভেট্রি কাজাঘাম' (টিভিকে) প্রতিষ্ঠা করে রাজনীতিতে প্রবেশ করেছেন এবং তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন, যা তাঁর জীবন ও কর্মের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
প্রারম্ভিক জীবন
চন্দ্রেসেখর জোসেফ বিজয় ১৯৭৪ সালের ২২ জুন ভারতের তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা এস. এ. চন্দ্রেসেখর একজন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক, এবং মাতা শোভা চন্দ্রেসেখর একজন প্লেব্যাক গায়িকা ও প্রযোজক। শৈশব থেকেই বিজয়ের মধ্যে অভিনয়ের প্রতি এক সহজাত আকর্ষণ ছিল। তাঁর পিতা চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকায়, বিজয়ের পক্ষে খুব অল্প বয়স থেকেই সিনেমার জগতকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল। তাঁর পরিবার তাঁকে সব সময় সমর্থন জুগিয়েছে এবং তাঁর স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। বিজয়ের কৈশোর জীবন ছিল সাধারণ, কিন্তু তাঁর মধ্যে একজন বড় তারকা হওয়ার স্বপ্ন তখন থেকেই দানা বাঁধছিল।
শিক্ষাজীবন
বিজয় চেন্নাইয়ের লয়োলা কলেজে ভিজ্যুয়াল কমিউনিকেশন নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেছিলেন, কিন্তু অভিনয়ের প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ এবং সিনেমার প্রতি তাঁর টান তাঁকে পড়াশোনা শেষ করার আগেই চলচ্চিত্র জগতে নিয়ে আসে। যদিও তিনি তাঁর ডিগ্রি সম্পন্ন করতে পারেননি, সিনেমার সেট ছিল তাঁর আসল শিক্ষালয়। সেখানে তিনি অভিনয়, পরিচালনা এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে হাতে কলমে জ্ঞান অর্জন করেন, যা তাঁকে পরবর্তীকালে একজন সম্পূর্ণ অভিনেতা হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে।
ক্যারিয়ার
শিশুশিল্পী থেকে সুপারস্টার
বিজয় তাঁর অভিনয় জীবন শুরু করেন একজন শিশুশিল্পী হিসেবে ১৯৮৪ সালে তাঁর পিতার পরিচালিত চলচ্চিত্র 'ভেট্টি' (Vetri)-এর মাধ্যমে। এরপর তিনি আরও কয়েকটি চলচ্চিত্রে শিশু চরিত্রে অভিনয় করেন। প্রধান অভিনেতা হিসেবে তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৯৯২ সালে 'নালাইয়া থেরপু' (Naalaiya Theerpu) ছবির মাধ্যমে, যেটি তাঁর পিতা পরিচালনা করেছিলেন। শুরুর দিকে তাঁর কয়েকটি চলচ্চিত্র বক্স অফিসে তেমন সাফল্য না পেলেও, তিনি তাঁর অভিনয় দক্ষতা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করতে বদ্ধপরিশ্রমী ছিলেন।
সফলতার সিঁড়ি
১৯৯৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত 'পুভে উনাক্কাগা' (Poove Unakkaga) চলচ্চিত্রটি বিজয়ের ক্যারিয়ারে এক টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে প্রমাণিত হয়। এটি বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য লাভ করে এবং তাঁকে একজন রোমান্টিক হিরো হিসেবে পরিচিতি এনে দেয়। এরপর 'কাদালুক্কু মারিয়াদা' (Kadhalukku Mariyadhai, ১৯৯৭), 'থুল্লাধা মানামুম থুল্লুম' (Thulladha Manamum Thullum, ১৯৯৯), 'খুশি' (Kushi, ২০০০) এবং 'প্রিয়ামানাওয়ালে' (Priyamanaavale, ২০০১)-এর মতো চলচ্চিত্রগুলি তাঁকে তামিল সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এই সময়ে তিনি তাঁর নৃত্যশৈলী এবং অ্যাকশন দৃশ্যে পারদর্শিতার জন্য ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেন।
থালাপথি যুগের সূচনা
২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে বিজয় নিজেকে একজন অ্যাকশন হিরো এবং 'মাস হিরো' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০০৪ সালের 'ঘিলি' (Ghilli) চলচ্চিত্রটি তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম ব্লকবাস্টার হিট ছিল, যা তাঁকে 'থালাপথি' উপাধি অর্জনে সহায়তা করে। এই চলচ্চিত্রটি তাঁকে তামিলনাড়ু এবং বিশ্বজুড়ে এক বিশাল ফ্যানবেস তৈরি করে দেয়। এরপর 'তিরুপাচি' (Thirupaachi, ২০০৫), 'পোক্কিরি' (Pokkiri, ২০০৭) এবং 'ভেট্টাইকারান' (Vettaikaaran, ২০০৯)-এর মতো ছবিগুলি তাঁর তারকাখ্যাতিকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যায়। এই সময়ে তাঁর চলচ্চিত্রগুলি কেবল বিনোদনই দিত না, বরং প্রায়শই সামাজিক ও রাজনৈতিক বার্তা বহন করত, যা তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য করে তোলে।
আধুনিক যুগের বিজয়
২০১০-এর দশক থেকে বিজয় তাঁর ক্যারিয়ারে আরও শক্তিশালী এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন। এ আর মুরুগাদোস পরিচালিত 'থুপাক্কি' (Thuppakki, ২০১২) এবং 'কাথি' (Kaththi, ২০১৪) চলচ্চিত্র দুটি তাঁকে সমালোচকদের প্রশংসা এবং বাণিজ্যিক সাফল্য উভয়ই এনে দেয়। এই চলচ্চিত্রগুলিতে তিনি সামাজিক অবিচার এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করা একজন নায়কের চরিত্রে অভিনয় করেন, যা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। 'মার্সাল' (Mersal, ২০১৭), 'সরকার' (Sarkar, ২০১৮), 'মাস্টার' (Master, ২০২১) এবং 'লিও' (Leo, ২০২৩)-এর মতো চলচ্চিত্রগুলি তাঁকে বক্স অফিস কিং হিসেবে তাঁর অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করে। প্রতিটি ছবিই মুক্তির পর নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে এবং তাঁর জনপ্রিয়তাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
রাজনীতিতে প্রবেশ
দীর্ঘদিন ধরেই বিজয়ের রাজনীতিতে প্রবেশের জল্পনা চলছিল। তাঁর চলচ্চিত্রগুলিতে প্রায়শই রাজনৈতিক এবং সামাজিক বার্তা থাকত, এবং তাঁর ফ্যান ক্লাব 'বিজয় মক্কাল ইয়াক্কাম' (Vijay Makkal Iyakkam) বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজ করত। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর রাজনৈতিক দল 'তামিলগা ভেট্রি কাজাঘাম' (টিভিকে) প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। তিনি জানান যে ২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তাঁর এই ঘোষণা তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক নতুন মোড় নিয়ে আসে। তাঁর জনপ্রিয়তা এবং জনগণের মধ্যে তাঁর প্রভাব তাঁকে দ্রুত রাজনৈতিক অঙ্গনে এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত করে। মে ২০২৬ সাল থেকে তিনি তামিলনাড়ুর নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন, যা তাঁর জনসেবার প্রতি অঙ্গীকারের চূড়ান্ত প্রমাণ।
উল্লেখযোগ্য অর্জন
বিজয় তাঁর দীর্ঘ ও সফল ক্যারিয়ারে অসংখ্য পুরস্কার এবং সম্মাননা অর্জন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে:
- একাধিক তামিলনাড়ু স্টেট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস।
- একাধিক সাউথ ইন্ডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল মুভি অ্যাওয়ার্ডস (SIIMA)।
- একাধিক ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডস সাউথ।
- এডিসন অ্যাওয়ার্ডস এবং ভিজয় অ্যাওয়ার্ডস সহ আরও অনেক পুরস্কার।
এছাড়াও, তিনি ভারতীয় সিনেমার সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেতাদের মধ্যে একজন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। তাঁর চলচ্চিত্রগুলি নিয়মিতভাবে বক্স অফিসের রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড স্থাপন করে। তাঁর সামাজিক কাজের জন্য তিনি বহুবার প্রশংসিত হয়েছেন, বিশেষ করে তাঁর 'বিজয় মক্কাল ইয়াক্কাম'-এর মাধ্যমে পরিচালিত জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির জন্য।
ব্যক্তিগত জীবন
বিজয় ১৯৯৯ সালের ২৫ আগস্ট সঙ্গীতা সোর্নালিঙ্গমকে বিয়ে করেন। সঙ্গীতা একজন শ্রীলঙ্কান তামিল, যিনি যুক্তরাজ্যে বসবাস করতেন। তাঁদের প্রেম এবং বিয়ে ছিল এক রূপকথার মতো। এই দম্পতির দুটি সন্তান রয়েছে - পুত্র জেসন সঞ্জয় এবং কন্যা দিব্যা সাশা। বিজয় তাঁর পরিবারকে অত্যন্ত ভালোবাসেন এবং কাজের ফাঁকে তাদের সাথে সময় কাটাতে পছন্দ করেন। যদিও তিনি একজন জনপরিচিত ব্যক্তিত্ব, ব্যক্তিগত জীবনকে তিনি মিডিয়ার আড়ালে রাখতে পছন্দ করেন। তাঁর পুত্র জেসন সঞ্জয়ও চলচ্চিত্র নির্মাণে আগ্রহ দেখিয়েছেন এবং বিদেশে চলচ্চিত্র নিয়ে পড়াশোনা করেছেন।
মজার তথ্য
- বিজয় চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি একজন সফল প্লেব্যাক গায়কও। তিনি তাঁর নিজের চলচ্চিত্রে বেশ কয়েকটি গান গেয়েছেন, যা তাঁর ভক্তদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়।
- তাঁর ভক্তদের মধ্যে তিনি 'থালাপথি' (কমান্ডার) এবং 'ইলায়াত্থালাপথি' (তরুণ কমান্ডার) নামে পরিচিত।
- বিজয় তাঁর পিতার পরিচালিত প্রায় ১৫টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।
- তিনি একজন মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিল্পী এবং তাঁর চলচ্চিত্রগুলিতে প্রায়শই নিজেই অ্যাকশন দৃশ্যে অভিনয় করেন।
- তাঁর চলচ্চিত্র 'ঘিলি' (Ghilli) তামিল সিনেমার ইতিহাসে প্রথম চলচ্চিত্র যা চেন্নাইয়ের একটি প্রেক্ষাগৃহে ২০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলেছিল।
- বিজয় 'বিজয় মক্কাল ইয়াক্কাম' নামে একটি জনকল্যাণমূলক সংগঠন পরিচালনা করেন, যা বিভিন্ন সামাজিক কাজে জড়িত।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন: বিজয়ের আসল নাম কী?
উত্তর: বিজয়ের আসল নাম চন্দ্রেসেখর জোসেফ বিজয়। তবে তিনি চলচ্চিত্র জগতে এবং তাঁর ভক্তদের কাছে শুধুমাত্র 'বিজয়' নামেই পরিচিত, এবং 'থালাপথি' উপাধিতে ভূষিত।
প্রশ্ন: বিজয় কবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন?
উত্তর: বিজয় ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর রাজনৈতিক দল 'তামিলগা ভেট্রি কাজাঘাম' (টিভিকে) প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তিনি ২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা জানান।
প্রশ্ন: বিজয়ের প্রথম চলচ্চিত্র কোনটি?
উত্তর: প্রধান অভিনেতা হিসেবে বিজয়ের প্রথম চলচ্চিত্র হলো ১৯৯২ সালের 'নালাইয়া থেরপু', যেটি তাঁর পিতা এস. এ. চন্দ্রেসেখর পরিচালনা করেছিলেন। শিশুশিল্পী হিসেবে তিনি এর আগেও কিছু ছবিতে অভিনয় করেছেন।
প্রশ্ন: বিজয়ের স্ত্রীর নাম কী এবং তাঁদের কতজন সন্তান আছে?
উত্তর: বিজয়ের স্ত্রীর নাম সঙ্গীতা সোর্নালিঙ্গম। তাঁদের দুটি সন্তান রয়েছে – একজন পুত্র জেসন সঞ্জয় এবং একজন কন্যা দিব্যা সাশা।
প্রশ্ন: বিজয়কে কেন 'থালাপথি' বলা হয়?
উত্তর: বিজয়কে 'থালাপথি' বলা হয় কারণ তিনি তামিল চলচ্চিত্র শিল্পে একজন প্রভাবশালী নেতা এবং তাঁর বিশাল ফ্যানবেসের কাছে তিনি একজন কমান্ডার বা সেনাপতির মতো। তাঁর চলচ্চিত্র 'ঘিলি'-এর সাফল্যের পর এই উপাধিটি জনপ্রিয় হয়।
প্রশ্ন: বিজয় কি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী?
উত্তর: হ্যাঁ, বিজয় মে ২০২৬ সাল থেকে তামিলনাড়ুর নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। তিনি তাঁর রাজনৈতিক দল 'তামিলগা ভেট্রি কাজাঘাম' (টিভিকে)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি।
উপসংহার
বিজয় শুধুমাত্র একজন অভিনেতা নন, তিনি তামিলনাড়ুর সংস্কৃতি ও সমাজের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। শিশুশিল্পী হিসেবে শুরু করে একজন প্রভাবশালী সুপারস্টার এবং বর্তমানে একজন সফল রাজনীতিবিদ হিসেবে তাঁর যাত্রা অনুপ্রেরণামূলক। তাঁর অভিনয়, নৃত্য এবং জনসেবার প্রতি অঙ্গীকার তাঁকে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে দিয়েছে। 'থালাপথি' বিজয় তাঁর ক্যারিশমা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে স্বপ্ন থাকলে তা পূরণ করা সম্ভব, এবং একজন ব্যক্তি তাঁর কর্মের মাধ্যমে কীভাবে সমাজের উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর রাজনৈতিক জীবনও তাঁর অভিনয় জীবনের মতোই সফল হবে বলে অনেকেই আশা করেন, যা তামিলনাড়ুর ভবিষ্যৎ গঠনে এক নতুন ভূমিকা পালন করবে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন