| তথ্যসারণি | |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | সাকিব আল হাসান |
| জন্ম | ২৪ মার্চ, ১৯৮৭ |
| জন্মস্থান | মাগুরা, বাংলাদেশ |
| জাতীয়তা | বাংলাদেশী |
| পেশা | ক্রিকেটার, রাজনীতিবিদ |
| ব্যাটিং স্টাইল | বাঁহাতি |
| বোলিং স্টাইল | বাঁহাতি অর্থোডক্স |
| ভূমিকা | অলরাউন্ডার |
| পরিচিতি | বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার, বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক, সংসদ সদস্য (মাগুরা-১) |
| আন্তর্জাতিক অভিষেক | ২০০৬ (ওয়ানডে) |
পরিচিতি
সাকিব আল হাসান, বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এক উজ্জ্বলতম নক্ষত্র এবং বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার। তার নাম কেবল বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছেই নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতেও এক শ্রদ্ধার সাথে উচ্চারিত হয়। আগ্রাসী বাঁহাতি ব্যাটিং এবং নিয়ন্ত্রিত বাঁহাতি অর্থোডক্স বোলিং তাকে এনে দিয়েছে অনন্য উচ্চতা, যেখানে তিনি তিন ফরম্যাটেই (টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি) বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে রাজত্ব করেছেন। মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে তিনি নিজেকে এমন এক জায়গায় নিয়ে গেছেন, যেখানে বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটার এর আগে পৌঁছাতে পারেননি। সাকিব কেবল একজন খেলোয়াড় নন, তিনি বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের এক প্রাণপুরুষ, যিনি দেশের কোটি কোটি মানুষকে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশকে পরিচিত করেছেন। সম্প্রতি তিনি মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছেন, যা তার বহুমুখী প্রতিভা ও নেতৃত্বের ক্ষমতারই পরিচায়ক। তার ক্যারিয়ার জুড়ে রয়েছে অগণিত রেকর্ড, অবিস্মরণীয় পারফরম্যান্স এবং বাংলাদেশের ক্রিকেটে এক যুগান্তকারী প্রভাব।
Photo: Wikimedia Commons
View Source
প্রারম্ভিক জীবন
১৯৮৭ সালের ২৪ মার্চ মাগুরা জেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন সাকিব আল হাসান। তার বাবা মাশরুর রেজা একজন ফুটবলার ছিলেন এবং মা শিরিন রেজা একজন গৃহিণী। ছোটবেলা থেকেই সাকিবের খেলাধুলার প্রতি ছিল প্রবল আগ্রহ। ফুটবলের প্রতি বাবার ঝোঁক থাকলেও, সাকিবের মন জুড়ে ছিল ক্রিকেট। স্থানীয় পর্যায়ে তিনি দ্রুতই তার প্রতিভা প্রমাণ করতে শুরু করেন। মাগুরার বিভিন্ন মাঠে ছোটবেলা থেকেই তার ক্রিকেটীয় দক্ষতা চোখে পড়তো। কিশোর বয়সে তিনি ক্রিকেটের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা এবং সহজাত দক্ষতা প্রদর্শন করেন, যা তাকে পরবর্তীতে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-এর মতো মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ করে দেয়। বিকেএসপিতে তার ক্রিকেটীয় প্রতিভার আরও বিকাশ ঘটে এবং সেখানেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার ভিত তৈরি হয়। এখানে তিনি দেশের সেরা কোচদের অধীনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং তার অলরাউন্ড ক্ষমতাকে শাণিত করেন, যা তাকে ভবিষ্যতের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার হিসেবে গড়ে তোলার প্রথম ধাপ ছিল।
শিক্ষাজীবন
সাকিব আল হাসানের শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে রয়েছে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)। দেশের সেরা ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে বিকেএসপি সাকিবকে শুধু ক্রিকেটের কৌশলই শেখায়নি, বরং একজন পেশাদার ক্রীড়াবিদ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করেছে। ২০০১ সালে তিনি বিকেএসপিতে ভর্তি হন এবং সেখানেই তার ক্রিকেটীয় জীবনের মোড় ঘুরে যায়। এখানে তিনি ক্রিকেটের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষায়ও মনোনিবেশ করেন, যা তাকে একজন সুশিক্ষিত ও পরিশীলিত ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তোলে। বিকেএসপির কঠোর শৃঙ্খলা এবং উন্নত প্রশিক্ষণ তাকে একজন পরিণত ক্রিকেটার হিসেবে গড়ে তুলতে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। তার শিক্ষাজীবন মূলত তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ভিত্তি স্থাপন করেছিল, যেখানে তিনি তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক উভয় জ্ঞান অর্জন করেন, যা তাকে পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলে।
ক্যারিয়ার
সাকিব আল হাসানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু হয় ২০০৬ সালের ৬ আগস্ট জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচের মাধ্যমে। এরপর খুব দ্রুতই তিনি টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও অভিষেক ঘটান। তার অসাধারণ অলরাউন্ড নৈপুণ্য তাকে বিশ্ব ক্রিকেটে দ্রুত পরিচিতি এনে দেয় এবং তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেটের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট
- ওয়ানডে ক্রিকেট: সাকিব ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন। তিনি দ্রুততম সময়ে ৫০০০ রান ও ২৫০ উইকেট শিকারী অলরাউন্ডারদের একজন। ওয়ানডেতে তার ব্যাট থেকে এসেছে ৯টি সেঞ্চুরি এবং ৫০টিরও বেশি হাফ সেঞ্চুরি। বল হাতেও তিনি প্রায় ৩০০টির বেশি উইকেট শিকার করেছেন। তার ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স বহুবার বাংলাদেশকে কঠিন পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করেছে। তার ধারাবাহিকতা তাকে আইসিসি ওয়ানডে অলরাউন্ডার র্যাঙ্কিংয়ে দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষে থাকতে সাহায্য করেছে।
- টেস্ট ক্রিকেট: টেস্ট ক্রিকেটেও সাকিব তার অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের ছাপ রেখেছেন। তিনি টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম ২০০ এবং ৩০০ উইকেট শিকারী বোলার। ব্যাট হাতে তার রয়েছে ৫টি সেঞ্চুরি এবং ২১টিরও বেশি হাফ সেঞ্চুরি। টেস্টে তিনি এক ইনিংসে ১০ উইকেট শিকারের কীর্তিও গড়েছেন। তার এই পারফরম্যান্সগুলো বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
- টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট: টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সাকিব একজন সত্যিকারের ম্যাচ উইনার। তিনি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী বোলার (৪৮ উইকেট, ২০২৪ সাল পর্যন্ত)। তার ইকোনমিক্যাল বোলিং এবং দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা তাকে এই ফরম্যাটের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে। টি-টোয়েন্টিতে তার ব্যাট থেকে ১২টিরও বেশি হাফ সেঞ্চুরি এবং বল হাতে ১৫০টিরও বেশি উইকেট এসেছে।
অধিনায়কত্ব
সাকিব আল হাসান বাংলাদেশের তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটেই অধিনায়কত্ব করেছেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দল বেশ কিছু ঐতিহাসিক জয় লাভ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বিদেশের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয় এবং ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়। তার কৌশলগত বিচক্ষণতা এবং মাঠে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা তাকে একজন সফল অধিনায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তার অধিনায়কত্বে দল আরও আক্রমণাত্মক এবং আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে, যা বাংলাদেশের ক্রিকেটকে নতুন গতি দিয়েছে।
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি সাকিব বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেও নিয়মিত খেলেন। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল), বিগ ব্যাশ লিগ, ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল), বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) সহ আরও অনেক লিগে তার অংশগ্রহণ রয়েছে। কলকাতা নাইট রাইডার্স (আইপিএল)-এর হয়ে তিনি দুবার শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এছাড়া ঢাকা ডায়নামাইটস (বিপিএল)-এর হয়েও তিনি শিরোপা জিতেছেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে তার অভিজ্ঞতা তাকে আরও পরিণত ক্রিকেটার হিসেবে গড়ে তুলেছে এবং বিশ্বজুড়ে তার ভক্ত তৈরি হয়েছে।
২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ
২০১৯ সালের আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ সাকিবের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অধ্যায়। ওই বিশ্বকাপে তিনি ব্যাট হাতে ৬০৬ রান করেন এবং বল হাতে ১১ উইকেট শিকার করেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে তিনি এক বিশ্বকাপে ৫০০+ রান এবং ১০+ উইকেট নেওয়ার বিরল রেকর্ড গড়েন। তার এই অসাধারণ পারফরম্যান্স তাকে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়দের একজন হিসেবে স্বীকৃতি এনে দেয়, যদিও বাংলাদেশ দল সেমিফাইনালে পৌঁছাতে পারেনি। এটি ছিল তার একার কাঁধে পুরো দলকে টেনে নিয়ে যাওয়ার এক অবিশ্বাস্য প্রদর্শনী।
রাজনৈতিক জীবন
২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাকিব আল হাসান মাগুরা-১ আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। এর মাধ্যমে তিনি তার দীর্ঘদিনের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রবেশ করেন। তার এই নতুন ভূমিকা দেশের মানুষের জন্য কাজ করার এক নতুন সুযোগ তৈরি করেছে এবং তিনি দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে বদ্ধপরিকর।
উল্লেখযোগ্য অর্জন
সাকিব আল হাসান তার ক্যারিয়ারে অসংখ্য রেকর্ড এবং পুরস্কার অর্জন করেছেন, যা তাকে বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে:
- আইসিসি ওয়ানডে, টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডার র্যাঙ্কিংয়ে দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষস্থান ধরে রাখা একমাত্র ক্রিকেটার।
- একমাত্র ক্রিকেটার যিনি টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি তিন ফরম্যাটেই ১০০০ রান ও ১০০ উইকেট শিকার করেছেন।
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী (৪৮ উইকেট, ২০২৪ সাল পর্যন্ত)।
- ২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে ৬০৬ রান এবং ১১ উইকেট নিয়ে অনন্য অলরাউন্ড পারফরম্যান্স, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় সেরা অলরাউন্ড পারফরম্যান্স।
- ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম ৬০০০ রান ও ৩০০ উইকেট শিকারী।
- টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম ২০০ ও ৩০০ উইকেট শিকারী।
- বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে (আইপিএল, বিপিএল) শিরোপা জয় এবং ম্যাচ উইনিং পারফরম্যান্স।
- বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক উইকেট শিকারী (তিন ফরম্যাট মিলিয়ে)।
- ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশের পরিচিতি ও সম্মান বৃদ্ধিতে অসামান্য অবদান।
- আইসিসি বর্ষসেরা ওয়ানডে দলে একাধিকবার নির্বাচিত।
ব্যক্তিগত জীবন
সাকিব আল হাসান ২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বর উম্মে আহমেদ শিশিরের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। শিশির একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এবং তাদের প্রেম ও বিয়ের গল্প বাংলাদেশের গণমাধ্যমে বেশ আলোচিত হয়েছিল। এই দম্পতির তিনটি সন্তান রয়েছে—দুটি কন্যা সন্তান, আলাইনা হাসান অব্রি এবং ইরাম হাসান, এবং একটি পুত্র সন্তান, আইজাহ আল হাসান। সাকিব তার পরিবারকে অত্যন্ত ভালোবাসেন এবং খেলার ব্যস্ততার মাঝেও তাদের সাথে সময় কাটানোর চেষ্টা করেন। তিনি প্রায়শই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার পরিবারের সাথে ছবি শেয়ার করেন, যা তার পারিবারিক জীবনের প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রতিফলন। সাকিব একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান এবং বিভিন্ন সময়ে তাকে ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে দেখা যায়। তার ব্যক্তিগত জীবন সবসময়ই ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।
মজার তথ্য
- সাকিবের ডাকনাম হলো 'ফয়সাল'। তার বাবা-মা এবং ঘনিষ্ঠজনরা এই নামে তাকে ডাকতেন।
- ক্রিকেট ছাড়াও সাকিব ফুটবল খেলতে ভালোবাসেন এবং ছোটবেলায় ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। তিনি একজন ভালো ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবেও পরিচিত।
- তিনি প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার যিনি বিশ্বের সব বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগে খেলেছেন, যার মধ্যে রয়েছে আইপিএল, বিগ ব্যাশ, সিপিএল, পিএসএল এবং বিপিএল।
- সাকিব তার ক্যারিয়ারে বেশ কয়েকবার আইসিসি নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হয়েছেন, কিন্তু প্রতিবারই দৃঢ়ভাবে ফিরে এসেছেন এবং তার পারফরম্যান্সের মাধ্যমে সমালোচকদের জবাব দিয়েছেন।
- মাঠে তার শান্ত এবং ঠান্ডা মাথার আচরণ প্রায়শই প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করে, যা তাকে 'কুল' সাকিব নামে পরিচিতি দিয়েছে।
- তিনি সামাজিক কাজেও জড়িত এবং তার নিজের একটি দাতব্য ফাউন্ডেশন রয়েছে, যা বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজ করে থাকে।
- সাকিব আল হাসান প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার যিনি টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি তিন ফরম্যাটেই ম্যান অফ দ্য ম্যাচ পুরস্কার জিতেছেন।
উপসংহার
সাকিব আল হাসান কেবল একজন ক্রিকেটার নন; তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রতিচ্ছবি, এক অনুপ্রেরণার নাম। তার উত্থান, তার সাফল্য, এবং তার দৃঢ়তা বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে এক নতুন দিগন্তে নিয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের পরিচিতি বৃদ্ধিতে তার অবদান অনস্বীকার্য। ব্যাট এবং বল হাতে তার অবিস্মরণীয় পারফরম্যান্স তাকে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারদের কাতারে স্থান দিয়েছে। তার ক্যারিয়ারে যেমন ছিল উজ্জ্বল সাফল্য, তেমনি ছিল কিছু বিতর্কিত মুহূর্ত, কিন্তু প্রতিটি বাধা পেরিয়ে তিনি আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে এসেছেন এবং নিজেকে একজন যোদ্ধা হিসেবে প্রমাণ করেছেন। সম্প্রতি রাজনীতিতে তার প্রবেশ তার জীবনের নতুন একটি অধ্যায় উন্মোচন করেছে, যেখানে তিনি দেশ ও দশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চান। সাকিব আল হাসান নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ক্রীড়াবিদদের একজন, যার প্রভাব আগামী প্রজন্মকেও অনুপ্রাণিত করবে এবং তার কিংবদন্তী হয়ে থাকবে চিরকাল।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন: সাকিব আল হাসান কবে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: সাকিব আল হাসান ১৯৮৭ সালের ২৪ মার্চ মাগুরা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম সফল এবং জনপ্রিয় ক্রীড়াবিদ, যিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করেছেন।
প্রশ্ন: সাকিব আল হাসানের স্ত্রীর নাম কি?
উত্তর: সাকিব আল হাসানের স্ত্রীর নাম উম্মে আহমেদ শিশির। ২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বর তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং তাদের দুটি কন্যা ও একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।
প্রশ্ন: সাকিব আল হাসান কি সংসদ সদস্য?
উত্তর: হ্যাঁ, সাকিব আল হাসান ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এটি তার ক্যারিয়ারের একটি নতুন দিক।
প্রশ্ন: সাকিব আল হাসান কোন ফরম্যাটে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার?
উত্তর: সাকিব আল হাসান টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি—ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার হিসেবে আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান অর্জন করেছেন। তার এই অর্জন বিশ্ব ক্রিকেটে বিরল এবং তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
প্রশ্ন: ২০১৯ বিশ্বকাপে সাকিবের পারফরম্যান্স কেমন ছিল?
উত্তর: ২০১৯ সালের আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপে সাকিব আল হাসান ব্যাট হাতে ৬০৬ রান এবং বল হাতে ১১ উইকেট শিকার করে অসাধারণ অলরাউন্ড পারফরম্যান্স দেখিয়েছিলেন। এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রশ্ন: সাকিব আল হাসান কতবার আইসিসি অলরাউন্ডার র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান অর্জন করেছেন?
উত্তর: সাকিব আল হাসান তার ক্যারিয়ারে অসংখ্যবার আইসিসি অলরাউন্ডার র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান অর্জন করেছেন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে তিন ফরম্যাটেই বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন, যা তার ধারাবাহিকতা ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ।
প্রশ্ন: সাকিব আল হাসানের আন্তর্জাতিক অভিষেক কবে হয়?
উত্তর: সাকিব আল হাসানের আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় ২০০৬ সালের ৬ আগস্ট জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটি ওয়ানডে ম্যাচের মাধ্যমে। এরপর তিনি দ্রুতই টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও আত্মপ্রকাশ করে বিশ্ব ক্রিকেটে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন