Full width home advertisement

Featured Actors

Popular Biographies

Post Page Advertisement [Top]

বিবরণতথ্য
পূর্ণ নামঅঞ্জন দত্ত
জন্ম১৯৫৩ সালের ২৫শে জানুয়ারি
জন্মস্থানকলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
জাতীয়তাভারতীয়
পেশাসঙ্গীতশিল্পী, গীতিকার, সুরকার, অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক
পরিচিতির কারণবাংলা সঙ্গীত ও চলচ্চিত্র জগতে তাঁর স্বতন্ত্র অবদান
উল্লেখযোগ্য কাজ'বেলা বোস', '২৪৪১১৩৯', 'রঞ্জনা আমি আর আসব না' (গান); 'দ্য বং কানেকশন', 'চলো লেটস গো' (চলচ্চিত্র)
স্ত্রীছন্দা দত্ত
পুত্রনীল দত্ত

পরিচিতি

অঞ্জন দত্ত, বাংলা সঙ্গীত ও চলচ্চিত্র জগতের এক কিংবদন্তী নাম, যিনি তাঁর বহুমুখী প্রতিভা দিয়ে একাধারে একজন সফল সঙ্গীতশিল্পী, গীতিকার, সুরকার, অভিনেতা এবং চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। নব্বইয়ের দশকে বাংলা ব্যান্ড সঙ্গীতের যে জোয়ার এসেছিল, তার অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন অঞ্জন দত্ত। তাঁর গানে উঠে এসেছে শহুরে জীবন, প্রেম, বিরহ, একাকীত্ব এবং সামাজিক অসঙ্গতির কথা, যা আপামর বাঙালি শ্রোতাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। তাঁর স্বতন্ত্র গায়কী, কথ্য ভাষার সহজ ব্যবহার এবং গভীর জীবনবোধ সমৃদ্ধ লিরিক্স তাঁকে বাংলা আধুনিক গানের ধারায় এক ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। অঞ্জন দত্তের সঙ্গীত কেবল সুর ও কথার সমষ্টি নয়, বরং তা এক প্রজন্মের আবেগ, হতাশা এবং স্বপ্নকে ধারণ করে। তিনি তাঁর গানের মাধ্যমে মধ্যবিত্ত বাঙালির দৈনন্দিন জীবন, তাদের ছোট ছোট আনন্দ, বড় বড় স্বপ্নভঙ্গ এবং অস্তিত্বের সংকটকে নিপুণভাবে তুলে ধরেছেন। শুধু গান নয়, চলচ্চিত্র জগতেও তিনি নিজের ছাপ রেখেছেন পরিচালক ও অভিনেতা হিসেবে, নির্মাণ করেছেন বহু প্রশংসিত ছবি যা সমসাময়িক সমাজের প্রতিচ্ছবি।

Anjan Dutta

Photo: Wikimedia Commons
View Source

প্রারম্ভিক জীবন

অঞ্জন দত্ত ১৯৫৩ সালের ২৫শে জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তবে তাঁর শৈশব এবং কৈশোরের একটি বড় অংশ কেটেছে মেঘালয়ের মনোরম শিলং শহরে। এই পাহাড়ি শহরের প্রকৃতি, তার শান্ত পরিবেশ, বিভিন্ন সংস্কৃতির সহাবস্থান এবং জনজীবন তাঁর মানস গঠনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। এই প্রভাব তাঁর পরবর্তীকালে রচিত গান এবং চলচ্চিত্রে স্পষ্ট দেখা যায়, যেখানে প্রায়শই শিলংয়ের স্মৃতিচারণ এবং সেখানকার চরিত্রগুলি উঠে আসে। শিলংয়ের বিভিন্ন পরিবেশে বেড়ে ওঠার কারণে তিনি পশ্চিমা সঙ্গীত ও সংস্কৃতির সাথে নিবিড়ভাবে পরিচিত হন, যা তাঁর সঙ্গীত শৈলীতে এক অনন্য ফিউশন তৈরি করতে সাহায্য করে। এই সময় থেকেই তাঁর মনে সঙ্গীতের প্রতি গভীর অনুরাগ জন্মায় এবং তিনি গিটার বাজানো ও গান লেখা শুরু করেন। তাঁর এই প্রারম্ভিক জীবনই তাঁকে একজন সংবেদনশীল শিল্পী হিসেবে গড়ে ওঠার ভিত তৈরি করে দিয়েছিল, যিনি জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তগুলিকে তাঁর শিল্পে ফুটিয়ে তুলতে পারদর্শী।

শিক্ষাজীবন

অঞ্জন দত্ত তাঁর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শিলংয়েই সম্পন্ন করেন, যা তাঁর শিল্পীসত্তাকে সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। পরবর্তীতে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতায় আসেন এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইংরেজি সাহিত্যে পড়াশোনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলিতে তিনি সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং বিভিন্ন শিল্পের প্রতি আরও গভীরভাবে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এই সময় তিনি কলকাতার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন এবং নাটকের সাথেও তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। নাটকের প্রতি তাঁর এই আগ্রহ পরবর্তীতে তাঁর অভিনয় এবং চলচ্চিত্র পরিচালনার ক্ষেত্রে অনেক সাহায্য করেছে। ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যয়ন তাঁকে ভাষার উপর দক্ষতা এবং গভীর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা দিয়েছে, যা তাঁর গীতিকবিতা এবং চিত্রনাট্য রচনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সহায়ক হয়েছে। তাঁর শিক্ষাজীবন তাঁকে শুধু জ্ঞানার্জনেই সাহায্য করেনি, বরং তাঁর শিল্পসত্তা বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, যা তাঁকে একজন সংবেদনশীল এবং চিন্তাশীল শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলেছে।

ক্যারিয়ার

সঙ্গীত জীবন

অঞ্জন দত্তের সঙ্গীত জীবন শুরু হয় আশির দশকের শেষ দিকে, তবে নব্বইয়ের দশকে তিনি বাংলা সঙ্গীতের জগতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন। তাঁর প্রথম অ্যালবাম 'শুনতে কি পাও' (১৯৯৪) বাংলা আধুনিক গানে এক নতুন ধারা নিয়ে আসে, যা 'জীবনমুখী গান' নামে পরিচিতি লাভ করে। তাঁর গানগুলি ছিল জীবনমুখী, যেখানে সাধারণ মানুষের গল্প, তাদের সুখ-দুঃখ, সংগ্রাম, স্বপ্ন এবং শহুরে জীবনের জটিলতা উঠে আসত। 'বেলা বোস', '২৪৪১১৩৯', 'রঞ্জনা আমি আর আসব না', 'মিস্টার হল', 'জেনিস', 'দার্জিলিং', 'একদিন বৃষ্টিতে বিকেলে' - এমন অসংখ্য গান তাঁকে বাংলা সঙ্গীতের আইকনে পরিণত করেছে। তাঁর গানে রক, ব্লুজ এবং ফোকের এক দারুণ মিশ্রণ দেখা যায়, যা তাঁকে সমসাময়িক অন্যান্য শিল্পীদের থেকে আলাদা করে তোলে। অঞ্জন দত্ত কেবল একজন গায়ক নন, তিনি একজন দক্ষ গল্পকারও বটে, যিনি তাঁর গানের মাধ্যমে শ্রোতাদের এক অন্য জগতে নিয়ে যান, যেখানে তারা নিজেদের খুঁজে পায়। তাঁর গানগুলি শুধু বিনোদনই দেয় না, বরং শ্রোতাদের ভাবায় এবং জীবনের গভীর অর্থ উপলব্ধি করতে সাহায্য করে। তিনি বাংলা গানে কথ্য ভাষার ব্যবহারকে জনপ্রিয় করে তুলেছেন, যা গানগুলিকে আরও বাস্তবসম্মত এবং শ্রোতাদের কাছে সহজবোধ্য করে তুলেছে। তাঁর সঙ্গীত এক প্রজন্মকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে এবং বাংলা গানের ধারাকে আধুনিকতার দিকে চালিত করেছে।

চলচ্চিত্র জীবন

সঙ্গীতের পাশাপাশি অঞ্জন দত্ত চলচ্চিত্র জগতেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। একজন অভিনেতা হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু হয় আশির দশকে কিংবদন্তী পরিচালক মৃণাল সেন পরিচালিত 'মৃগয়া' (১৯৮১) চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এরপর তিনি বহু বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল 'চক্রব্যূহ', 'এক দিন প্রতিদিন', 'বড়দিদি', 'আকালের সন্ধানে' ইত্যাদি। তাঁর অভিনয় ছিল সাবলীল, বাস্তবসম্মত এবং চরিত্রগুলির গভীরে প্রবেশ করার ক্ষমতা ছিল তাঁর।

পরিচালক হিসেবে অঞ্জন দত্তের আত্মপ্রকাশ ঘটে ২০০৫ সালে 'দ্য বং কানেকশন' চলচ্চিত্রের মাধ্যমে, যা বিদেশে বসবাসকারী বাঙালি যুবকদের জীবন এবং তাদের সাংস্কৃতিক টানাপোড়েন নিয়ে নির্মিত হয়েছিল। এই ছবিটি একদিকে যেমন সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে, তেমনি বক্স অফিসেও সাফল্য লাভ করেছে এবং এক নতুন ধারার বাংলা চলচ্চিত্রকে পরিচিতি দিয়েছে। তাঁর পরিচালিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলি হল 'চলো লেটস গো' (ভ্রমণভিত্তিক একটি রোমাঞ্চকর গল্প), 'রঞ্জনা আমি আর আসব না' (সঙ্গীতের উপর ভিত্তি করে একটি আবেগঘন ছবি), 'ব্যোমকেশ বক্সী' সিরিজ (শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র নিয়ে), 'গণেশ টকিজ', 'দত্ত ভার্সেস দত্ত' (তাঁর নিজের জীবনের আংশিক প্রতিফলন) ইত্যাদি। তাঁর চলচ্চিত্রগুলিতে প্রায়শই শহুরে মধ্যবিত্ত জীবনের জটিলতা, সম্পর্ক, স্বপ্ন এবং হতাশার চিত্র তুলে ধরা হয়। তিনি তাঁর চলচ্চিত্রে নিজস্ব একটি শৈলী তৈরি করেছেন, যা তাঁকে একজন স্বতন্ত্র চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে। তাঁর পরিচালিত ছবিগুলি কেবল গল্পই বলে না, বরং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলিও উন্মোচন করে। 'রঞ্জনা আমি আর আসব না' চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালনার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন, যা তাঁর সৃজনশীল প্রতিভার এক বড় স্বীকৃতি এবং বাংলা চলচ্চিত্র জগতে তাঁর অবদানকে আরও সুদৃঢ় করে।

উল্লেখযোগ্য অর্জন

  • বাংলা আধুনিক গানে শহুরে জীবনমুখী ধারার প্রবর্তন এবং তাকে জনপ্রিয় করে তোলা। তাঁর গানগুলি নব্বইয়ের দশকের বাঙালি যুবসমাজের মুখপত্র হয়ে উঠেছিল।
  • 'বেলা বোস', '২৪৪১১৩৯', 'রঞ্জনা আমি আর আসব না' সহ অসংখ্য জনপ্রিয় ও কালজয়ী গান উপহার দেওয়া, যা বাংলা সঙ্গীতের ইতিহাসে চিরস্থায়ী আসন লাভ করেছে।
  • 'দ্য বং কানেকশন', 'চলো লেটস গো', 'রঞ্জনা আমি আর আসব না' সহ বহু প্রশংসিত ও বাণিজ্যিকভাবে সফল চলচ্চিত্র পরিচালনা করা, যা বাংলা চলচ্চিত্রের ধারাকে সমৃদ্ধ করেছে।
  • 'রঞ্জনা আমি আর আসব না' চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালনার জন্য মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করা, যা তাঁর সঙ্গীত ও চলচ্চিত্র উভয় ক্ষেত্রেই দক্ষতার প্রমাণ।
  • অভিনেতা হিসেবে মৃণাল সেনের মতো কিংবদন্তী পরিচালকের ছবিতে এবং পরবর্তীতে বহু বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্রে সফল অভিনয় করা।
  • বাংলা সঙ্গীত ও চলচ্চিত্র জগতে এক স্বতন্ত্র শিল্পীর পরিচয় তৈরি করা, যিনি তাঁর নিজস্ব শৈলী, ভাবনা এবং জীবনদর্শন দিয়ে শ্রোতা ও দর্শকদের মন জয় করেছেন এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করেছেন।
  • তাঁর কাজের মাধ্যমে কলকাতা এবং শিলংয়ের মতো শহরগুলির সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রাকে আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরা।

ব্যক্তিগত জীবন

অঞ্জন দত্ত ব্যক্তিগত জীবনে ছন্দা দত্তের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ। তাঁদের একমাত্র পুত্র নীল দত্তও একজন প্রতিভাবান সঙ্গীতশিল্পী এবং সুরকার, যিনি তাঁর বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে শিল্প জগতে নিজের স্থান করে নিয়েছেন। নীল দত্ত প্রায়শই তাঁর বাবার সঙ্গীত ও চলচ্চিত্র প্রকল্পে সহযোগিতা করেন এবং নিজেরও একটি স্বতন্ত্র সঙ্গীত পরিচয় গড়ে তুলেছেন, যা তাঁদের পারিবারিক শিল্পচর্চার ঐতিহ্যকে বহন করে। অঞ্জন দত্তের পরিবার শিল্প ও সংস্কৃতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, যা তাঁদের পারিবারিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছে। অঞ্জন দত্ত একজন পরিবারমুখী মানুষ এবং তাঁর ব্যক্তিগত জীবন তাঁকে তাঁর শিল্পকর্মে আরও গভীরতা ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। তাঁর গানে এবং চলচ্চিত্রে প্রায়শই পারিবারিক সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত জীবনের ছোঁয়া দেখা যায়, যা তাঁর কাজকে আরও বাস্তবসম্মত করে তোলে।

মজার তথ্য

  • অঞ্জন দত্ত তাঁর গানের মাধ্যমে প্রথম বাংলা গানে টেলিফোন নম্বর ব্যবহার করেন ('২৪৪১১৩৯') যা একটি আইকনিক ট্রেন্ড তৈরি করেছিল এবং আজও এটি বাংলা পপ সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
  • শিলংয়ে তাঁর বেড়ে ওঠা তাঁর সঙ্গীত এবং চলচ্চিত্রের উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। তিনি প্রায়শই শিলংয়ের স্মৃতি এবং সেখানকার চরিত্রগুলিকে তাঁর কাজে তুলে ধরেন, যা তাঁর কাজকে এক বিশেষ মাত্রা দেয়।
  • তাঁর গানের চরিত্রগুলি প্রায়শই বাস্তব জীবনের মানুষদের উপর ভিত্তি করে তৈরি, যা তাঁর গানগুলিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য এবং শ্রোতাদের কাছে আপন করে তোলে।
  • তিনি একজন খাদ্যরসিক এবং তাঁর চলচ্চিত্রেও খাবারের প্রতি ভালোবাসা এবং বিভিন্ন স্থানীয় খাবারের উল্লেখ প্রায়শই দেখা যায়, যা তাঁর কাজকে আরও জীবন্ত করে তোলে।
  • অঞ্জন দত্ত একজন গিটারিস্ট হিসেবেও পরিচিত এবং তাঁর লাইভ পারফরম্যান্সে গিটারের ব্যবহার খুবই জনপ্রিয়। গিটারের মাধ্যমে তিনি তাঁর গানের অনুভূতিকে আরও ভালোভাবে প্রকাশ করেন।
  • তাঁর চলচ্চিত্র 'দত্ত ভার্সেস দত্ত' আংশিকভাবে তাঁর নিজের জীবনের উপর ভিত্তি করে নির্মিত, যেখানে তিনি তাঁর শৈশব, কৈশোর এবং শিল্পী হয়ে ওঠার যাত্রার কিছু অংশ তুলে ধরেছেন।

উপসংহার

অঞ্জন দত্ত বাংলা সঙ্গীত ও চলচ্চিত্র জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যিনি তাঁর স্বতন্ত্র প্রতিভা এবং সৃজনশীলতা দিয়ে বাঙালির মন জয় করেছেন। তাঁর গানগুলি শুধু সুর ও কথার সমষ্টি নয়, বরং জীবনের প্রতিচ্ছবি, যা এক প্রজন্মকে প্রভাবিত করেছে এবং আজও প্রাসঙ্গিক। একজন শিল্পী হিসেবে তিনি সর্বদা নতুন কিছু করার চেষ্টা করেছেন, প্রচলিত ধারাকে ভেঙে নিজের পথ তৈরি করেছেন এবং বাংলা শিল্পকে এক নতুন দিকে পরিচালিত করেছেন। তাঁর সঙ্গীত ও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি বাঙালির সংস্কৃতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছেন, যা শহুরে জীবনের জটিলতা, প্রেম, সম্পর্ক এবং অস্তিত্বের সংকটকে নিপুণভাবে তুলে ধরেছে। অঞ্জন দত্ত কেবল একজন শিল্পী নন, তিনি একজন স্বপ্নদ্রষ্টা, যিনি তাঁর শিল্পকর্মের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন এবং মানুষকে ভাবতে শিখিয়েছেন। তাঁর অবদান বাংলা শিল্প জগতে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং তিনি ভবিষ্যতেও অসংখ্য শিল্পী ও শ্রোতাকে অনুপ্রাণিত করে যাবেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন: অঞ্জন দত্ত কিসের জন্য পরিচিত?

উত্তর: অঞ্জন দত্ত মূলত একজন জনপ্রিয় বাঙালি সঙ্গীতশিল্পী, গীতিকার এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে পরিচিত। তাঁর জীবনমুখী গান এবং শহুরে প্রেক্ষাপটের চলচ্চিত্রগুলি তাঁকে বিশেষ পরিচিতি এনে দিয়েছে, যা নব্বইয়ের দশকে বাংলা সংস্কৃতিতে এক নতুন ধারা তৈরি করে।

প্রশ্ন: অঞ্জন দত্তের কিছু জনপ্রিয় গানের নাম কী?

উত্তর: অঞ্জন দত্তের জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে 'বেলা বোস', '২৪৪১১৩৯', 'রঞ্জনা আমি আর আসব না', 'মিস্টার হল', 'জেনিস', 'দার্জিলিং' এবং 'একদিন বৃষ্টিতে বিকেলে'। এই গানগুলি বাংলা আধুনিক সঙ্গীতের ইতিহাসে মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত এবং আজও সমানভাবে জনপ্রিয়।

প্রশ্ন: অঞ্জন দত্তের পরিচালিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের নাম কী?

উত্তর: অঞ্জন দত্ত পরিচালিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলির মধ্যে রয়েছে 'দ্য বং কানেকশন', 'চলো লেটস গো', 'রঞ্জনা আমি আর আসব না', 'ব্যোমকেশ বক্সী' সিরিজ এবং 'দত্ত ভার্সেস দত্ত'। তাঁর চলচ্চিত্রগুলি প্রায়শই শহুরে জীবনের গল্প এবং সম্পর্কের জটিলতা তুলে ধরে।

প্রশ্ন: অঞ্জন দত্ত কি কোনো পুরস্কার পেয়েছেন?

উত্তর: হ্যাঁ, অঞ্জন দত্ত 'রঞ্জনা আমি আর আসব না' চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালনার জন্য মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেছেন। এছাড়াও তিনি তাঁর সঙ্গীত ও চলচ্চিত্র উভয় ক্ষেত্রেই অবদানের জন্য বিভিন্ন সম্মাননা ও পুরস্কার পেয়েছেন।

প্রশ্ন: অঞ্জন দত্তের সঙ্গীত শৈলী কেমন?

উত্তর: অঞ্জন দত্তের সঙ্গীত শৈলীকে সাধারণত আরবান ফোক বা রক ফিউশন হিসেবে বর্ণনা করা হয়। তাঁর গানে কথ্য ভাষার ব্যবহার, গল্প বলার ঢং, জীবনের বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তোলার প্রবণতা এবং শহুরে মধ্যবিত্তের আবেগ তাঁর গানের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

প্রশ্ন: অঞ্জন দত্তের ছেলে কি করেন?

উত্তর: অঞ্জন দত্তের ছেলে নীল দত্তও একজন প্রতিভাবান সঙ্গীতশিল্পী এবং সুরকার। তিনি তাঁর বাবার অনেক সঙ্গীত ও চলচ্চিত্র প্রকল্পে কাজ করেছেন এবং নিজেরও একটি স্বতন্ত্র সঙ্গীত ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন, যা তাঁদের পারিবারিক শিল্পচর্চার ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

প্রশ্ন: অঞ্জন দত্তের জন্মস্থান কোথায়?

উত্তর: অঞ্জন দত্ত পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তাঁর শৈশবের একটি বড় অংশ কেটেছে মেঘালয়ের শিলং শহরে, যা তাঁর শিল্পসত্তায় গভীর প্রভাব ফেলেছিল এবং তাঁর অনেক কাজে এই শহরের স্মৃতিচারণ দেখা যায়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Bottom Ad [Post Page]