Full width home advertisement

Featured Actors

Popular Biographies

Post Page Advertisement [Top]

পূর্ণ নাম ভ্লাদিমির ভ্লাদিমিরোভিচ পুতিন
জন্ম ৭ অক্টোবর ১৯৫২
জন্মস্থান লেনিনগ্রাদ, সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান সেন্ট পিটার্সবার্গ, রাশিয়া)
পেশা রাজনীতিবিদ, প্রাক্তন গোয়েন্দা কর্মকর্তা
পরিচিতি রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি
নাগরিকত্ব রুশ
স্ত্রী লিউডমিলা পুতিনা (বিবাহবিচ্ছেদ)
সন্তান মারিয়া ভোরোন্টসোভা, ইয়েকাতেরিনা টিখোনোভা

পরিচিতি

ভ্লাদিমির ভ্লাদিমিরোভিচ পুতিন একজন রাশিয়ান রাজনীতিবিদ এবং প্রাক্তন গোয়েন্দা কর্মকর্তা, যিনি ২০০০ সাল থেকে রাশিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অবিচ্ছেদ্য নাম। তিনি বর্তমানে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, এর আগে তিনি ২০০০ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এবং আবার ২০১২ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত এই পদে অধিষ্ঠিত আছেন। পুতিন ১৯৯৯ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত এবং ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন এবং রাশিয়ার উপর তার গভীর প্রভাবের কারণে তাকে প্রায়শই রাশিয়ার ডি ফ্যাক্টো নেতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। পুতিন রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, অর্থনীতি এবং পররাষ্ট্রনীতিতে এক নতুন দিশা দিয়েছেন, যা তাকে একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রভাবশালী বিশ্বনেতায় পরিণত করেছে। তার নেতৃত্বকালে রাশিয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার অবস্থান সুদৃঢ় করেছে, তবে এর পাশাপাশি তার শাসনকাল বিতর্ক এবং সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

Vladimir Putin

Photo: Wikimedia Commons
View Source

প্রারম্ভিক জীবন

ভ্লাদিমির পুতিন ১৯৫২ সালের ৭ অক্টোবর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের লেনিনগ্রাদ শহরে (বর্তমান সেন্ট পিটার্সবার্গ, রাশিয়া) জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা, ভ্লাদিমির স্পিরিদোনোভিচ পুতিন, একজন ফ্যাক্টরি ফোরম্যান ছিলেন এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নৌবাহিনীতে কাজ করেছিলেন। তার মা, মারিয়া ইভানোভনা পুতিনা, একজন ফ্যাক্টরি কর্মী ছিলেন। পুতিনের শৈশব কেটেছে লেনিনগ্রাদের একটি সাধারণ সাম্প্রদায়িক অ্যাপার্টমেন্টে, যা সোভিয়েত যুগের একটি সাধারণ চিত্র ছিল। তার দুই বড় ভাই শৈশবেই মারা যান, ফলে তিনি পরিবারের একমাত্র জীবিত সন্তান হিসেবে বেড়ে ওঠেন। ছোটবেলা থেকেই পুতিন খেলাধুলায় আগ্রহী ছিলেন। বিশেষ করে তিনি সাম্বো এবং জুডো মার্শাল আর্ট অনুশীলন করতেন এবং এই বিষয়ে যথেষ্ট দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। তার এই শৃঙ্খলাপরায়ণতা এবং শারীরিক সক্ষমতা পরবর্তী জীবনেও তার ব্যক্তিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়ায়।

শিক্ষাজীবন

পুতিনের শিক্ষাজীবন শুরু হয় লেনিনগ্রাদের একটি স্থানীয় স্কুলে। শৈশবে তিনি বেশ চঞ্চল প্রকৃতির হলেও পড়াশোনায় মনোযোগী ছিলেন। বিশেষ করে জার্মান ভাষার প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ ছিল। পরবর্তীতে তিনি লেনিনগ্রাদ স্টেট ইউনিভার্সিটির (বর্তমানে সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেট ইউনিভার্সিটি) আইন বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৭৫ সালে তিনি আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন তিনি তার তীক্ষ্ণ বুদ্ধি এবং বিশ্লেষণাত্মক ক্ষমতার জন্য পরিচিত ছিলেন। তার এই আইনগত এবং বিশ্লেষণাত্মক দক্ষতা তাকে পরবর্তীতে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবিতে যোগদানের পথ খুলে দেয়।

ক্যারিয়ার

পুতিনের ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবিতে।

কেজিবি কর্মকর্তা

১৯৭৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করার পরপরই ভ্লাদিমির পুতিন কেজিবিতে যোগদান করেন। কেজিবিতে তার ১৬ বছরের কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব জার্মানির ড্রেসডেনে কেজিবি কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন। এই সময়ে তিনি জার্মান ভাষা আয়ত্ত করেন এবং স্থানীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন। ড্রেসডেনে তার অভিজ্ঞতা তাকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং গোয়েন্দা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর তিনি কেজিবি থেকে পদত্যাগ করেন।

সেন্ট পিটার্সবার্গ পৌরসভা

কেজিবি থেকে পদত্যাগের পর পুতিন সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে ফিরে আসেন এবং স্থানীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তিনি তার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনাতোলি সোবচাকের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ শুরু করেন, যিনি সে সময় সেন্ট পিটার্সবার্গের মেয়র ছিলেন। পুতিন দ্রুতই পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে উন্নীত হন, যার মধ্যে প্রথম ডেপুটি চেয়ারম্যানের পদও ছিল। এই সময়ে তিনি শহরের অর্থনীতি, বৈদেশিক সম্পর্ক এবং বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এটি ছিল তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যেখানে তিনি প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

মস্কোতে আগমন ও প্রধানমন্ত্রীত্ব

১৯৯৬ সালে পুতিন মস্কোতে চলে আসেন এবং তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বরিস ইয়েলৎসিনের প্রশাসনে যোগদান করেন। মস্কোতে তিনি দ্রুত ক্ষমতাশীল হয়ে ওঠেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি)-এর পরিচালক এবং নিরাপত্তা পরিষদের সচিবের মতো উচ্চপদস্থ পদে অধিষ্ঠিত হন। ১৯৯৯ সালের আগস্ট মাসে রাষ্ট্রপতি ইয়েলৎসিন তাকে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেন। একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর ইয়েলৎসিনের আকস্মিক পদত্যাগের পর পুতিন রাশিয়ার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি

২০০০ সালের মার্চ মাসে ভ্লাদিমির পুতিন প্রথমবারের মতো রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তার প্রথম দুটি মেয়াদে (২০০০-২০০৪ এবং ২০০৪-২০০৮) তিনি রাশিয়ার অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে এবং কেন্দ্রীয় ক্ষমতাকে শক্তিশালী করতে মনোনিবেশ করেন। তিনি চেচেন যুদ্ধ শেষ করার ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নেন এবং দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনেন। ২০০৮ সালে সংবিধান অনুযায়ী তিনি তৃতীয়বারের মতো রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি, তাই তিনি দিমিত্রি মেদভেদেভের অধীনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সালে সংবিধান সংশোধনের পর তিনি আবারও রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং জয়লাভ করেন। এরপর থেকে তিনি রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন (২০১২-২০১৮ এবং ২০১৮-বর্তমান)। তার নেতৃত্বকালে রাশিয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করেছে, যার মধ্যে জর্জিয়া, ক্রিমিয়া এবং ইউক্রেনের ঘটনাবলী উল্লেখযোগ্য। তার শাসনকালে রাশিয়ার সামরিক শক্তি আধুনিকীকরণ করা হয়েছে এবং দেশের অবকাঠামো উন্নয়নেও জোর দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য অর্জন

  • অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বৃদ্ধি: ২০০০-এর দশকের প্রথম দিকে পুতিনের নেতৃত্বে রাশিয়া অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন করে এবং তেলের উচ্চ মূল্যের কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি লাভ করে। তিনি দেশের ঋণ কমিয়ে আনেন এবং জাতীয় তহবিল গড়ে তোলেন।
  • কেন্দ্রীয় ক্ষমতার সুদৃঢ়করণ: ১৯৯০-এর দশকের বিশৃঙ্খলার পর পুতিন রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ক্ষমতাকে সুদৃঢ় করেন, আঞ্চলিক গভর্নরের ক্ষমতা হ্রাস করেন এবং দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতা বজায় রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নেন।
  • আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাশিয়ার প্রভাব বৃদ্ধি: পুতিনের নেতৃত্বে রাশিয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার হারানো প্রভাব ফিরে পায়। তিনি পশ্চিমা বিশ্বের বিপরীতে রাশিয়ার নিজস্ব ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থকে জোরদার করেন এবং বহু-মেরু বিশ্ব ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নেন।
  • সামরিক আধুনিকীকরণ: তার শাসনকালে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীকে আধুনিকীকরণ করা হয়েছে এবং দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
  • বৃহৎ আয়োজনের সফল আয়োজন: ২০১৪ সালের সোচি শীতকালীন অলিম্পিক এবং ২০১৮ সালের ফিফা বিশ্বকাপ সফলভাবে আয়োজন করে রাশিয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার সক্ষমতা প্রমাণ করে।

ব্যক্তিগত জীবন

ভ্লাদিমির পুতিন তার ব্যক্তিগত জীবনকে জনসমক্ষে খুব কমই প্রকাশ করেন। ১৯৮৩ সালে তিনি লিউডমিলা শকরেবনেভাকে বিয়ে করেন। তাদের দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে – মারিয়া ভোরোন্টসোভা এবং ইয়েকাতেরিনা টিখোনোভা। ২০১৩ সালে পুতিন এবং লিউডমিলা প্রায় ৩০ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা দেন। পুতিন তার কন্যাদের জীবনকেও জনসমক্ষে দূরে রাখতে পছন্দ করেন এবং তাদের ব্যক্তিগত তথ্য খুব কমই প্রকাশিত হয়। তিনি তার সক্রিয় জীবনযাত্রার জন্য পরিচিত। জুডো, আইস হকি, ঘোড়ায় চড়া এবং মাছ ধরা তার পছন্দের শখ। তার এই শখগুলি প্রায়শই তাকে একটি শক্তিশালী এবং কর্মঠ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উপস্থাপন করতে সাহায্য করে।

মজার তথ্য

  • জুডো ব্ল্যাক বেল্ট: ভ্লাদিমির পুতিন জুডোতে একজন দক্ষ অনুশীলনকারী এবং তিনি ব্ল্যাক বেল্টধারী। তিনি এই মার্শাল আর্টের একজন সম্মানিত সদস্য।
  • জার্মান ভাষায় পারদর্শী: কেজিবিতে তার কর্মজীবনের সময় তিনি পূর্ব জার্মানিতে কাজ করার সুবাদে জার্মান ভাষায় সাবলীল।
  • পশুপ্রেমী: পুতিন একজন পরিচিত পশুপ্রেমী, বিশেষ করে কুকুর তার খুব প্রিয়। তিনি প্রায়শই তার কুকুরের সাথে ছবি তোলেন এবং একবার বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে একটি কুকুরছানা উপহার দিয়েছিলেন।
  • অর্থনীতিতে ডক্টরেট: ১৯৯৭ সালে পুতিন সেন্ট পিটার্সবার্গ মাইনিং ইনস্টিটিউট থেকে অর্থনীতিতে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। তার থিসিসের বিষয় ছিল "আঞ্চলিক সম্পদ ব্যবহারের কৌশলগত পরিকল্পনা"।
  • সাহসী চিত্র: পুতিনকে প্রায়শই গণমাধ্যমে সাহসী এবং অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় একজন নেতা হিসেবে চিত্রিত করা হয়, যেখানে তাকে বাঘের সাথে, সাবমেরিনে অথবা জেট বিমানে দেখা যায়।

উপসংহার

ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়ার একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং বিতর্কিত নেতা। তার দীর্ঘ শাসনকাল রাশিয়ার পুনরুত্থান এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার ভূমিকা সুদৃঢ় করেছে। তিনি দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করেছেন, সামরিক শক্তি বাড়িয়েছেন এবং জাতীয় গর্ব ফিরিয়ে এনেছেন। তবে তার শাসনকাল মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন এবং ইউক্রেন সংকটের মতো বেশ কিছু গুরুতর বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। পুতিনের উত্তরাধিকার জটিল এবং বহুস্তরীয়, যা তাকে আধুনিক রাশিয়ার ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করে। তিনি নিঃসন্দেহে একবিংশ শতাব্দীর ভূ-রাজনৈতিক ল্যান্ডস্কেপ গঠনে এক বিশাল ভূমিকা রেখেছেন এবং তার প্রভাব আগামী বহু বছর ধরে অনুভূত হবে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন: ভ্লাদিমির পুতিন কে?

উত্তর: ভ্লাদিমির পুতিন একজন রাশিয়ান রাজনীতিবিদ এবং প্রাক্তন গোয়েন্দা কর্মকর্তা, যিনি ২০০০ সাল থেকে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতিতে গভীর প্রভাব রাখেন এবং একজন প্রভাবশালী বিশ্বনেতা হিসেবে পরিচিত।

প্রশ্ন: তিনি কতদিন ধরে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি?

উত্তর: ভ্লাদিমির পুতিন ২০০০ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এবং আবার ২০১২ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর মাঝে তিনি ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

প্রশ্ন: পুতিনের শিক্ষাজীবন কেমন ছিল?

উত্তর: ভ্লাদিমির পুতিন লেনিনগ্রাদ স্টেট ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন ১৯৭৫ সালে। তার এই আইনগত শিক্ষা তাকে কেজিবিতে যোগদানের এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়তে সাহায্য করে।

প্রশ্ন: তিনি কি কেজিবিতে কাজ করেছেন?

উত্তর: হ্যাঁ, পুতিন ১৯৭৫ সালে স্নাতক হওয়ার পর সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবিতে যোগদান করেন এবং প্রায় ১৬ বছর ধরে সেখানে কাজ করেন। এর মধ্যে তিনি পূর্ব জার্মানির ড্রেসডেনেও দায়িত্ব পালন করেন।

প্রশ্ন: পুতিনের উল্লেখযোগ্য অর্জন কী কী?

উত্তর: পুতিনের উল্লেখযোগ্য অর্জনের মধ্যে রয়েছে রাশিয়ার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধি, কেন্দ্রীয় ক্ষমতার সুদৃঢ়করণ, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাশিয়ার প্রভাব বৃদ্ধি এবং সামরিক বাহিনীর আধুনিকীকরণ।

প্রশ্ন: তাঁর ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে কিছু বলুন।

উত্তর: ভ্লাদিমির পুতিন তার ব্যক্তিগত জীবনকে জনসমক্ষে খুব কমই প্রকাশ করেন। তিনি ১৯৮৩ সালে লিউডমিলা শকরেবনেভাকে বিয়ে করেন এবং তাদের দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। ২০১৩ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তিনি জুডো, আইস হকি এবং ঘোড়ায় চড়ার মতো সক্রিয় শখের জন্য পরিচিত।

প্রশ্ন: পুতিন কেন এত প্রভাবশালী?

উত্তর: পুতিনের দীর্ঘকালীন শাসন, রাশিয়ার অর্থনীতি ও সামরিক শক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করা, এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে রাশিয়ার স্বার্থকে দৃঢ়ভাবে তুলে ধরার ক্ষমতার কারণে তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী। তার শক্তিশালী নেতৃত্ব তাকে বিশ্ব রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ আসনে বসিয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Bottom Ad [Post Page]