Full width home advertisement

Featured Actors

Popular Biographies

Post Page Advertisement [Top]

তথ্যসারণি
পুরো নামসনু নিগম
পেশাসঙ্গীতশিল্পী, প্লেব্যাক গায়ক, সঙ্গীত পরিচালক, অভিনেতা
জাতীয়তাভারতীয়
জন্ম৩০ জুলাই ১৯৭৩
জন্মস্থানফরিদাবাদ, হরিয়ানা, ভারত
উল্লেখযোগ্য পুরস্কারপদ্মশ্রী (২০২২), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ফিল্মফেয়ার পুরস্কার
পরিচিতিভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় এবং বহুমুখী গায়ক

পরিচিতি

সনু নিগম, ভারতীয় সঙ্গীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, তার বহুমুখী গায়কী এবং আবেগঘন পরিবেশনার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। তাকে ভারতীয় প্লেব্যাক সঙ্গীতের অন্যতম সেরা এবং সবচেয়ে বহুমুখী গায়কদের মধ্যে গণ্য করা হয়। তার কণ্ঠের মাধুর্য, গায়কী শৈলীর বৈচিত্র্য এবং যেকোনো ধরনের গানে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা তাকে অগণিত শ্রোতার হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে দিয়েছে। ধ্রুপদী থেকে শুরু করে ভক্তিগীতি, গজল, কাওয়ালি, রক এবং পপ — সঙ্গীতের প্রায় প্রতিটি ধারায় তার বিচরণ এক কিংবদন্তীতুল্য। হিন্দি এবং কন্নড় চলচ্চিত্রে তিনি সবচেয়ে বেশি গান গেয়েছেন, তবে তার কণ্ঠস্বর ৩২টিরও বেশি ভাষায় প্রায় ৬,০০০ এরও বেশি গানে শোনা গেছে।

Sonu Nigam

Photo: Wikimedia Commons
View Source

প্রারম্ভিক জীবন

১৯৭৩ সালের ৩০ জুলাই ভারতের হরিয়ানার ফরিদাবাদে সনু নিগমের জন্ম। তার বাবা আগম কুমার নিগম এবং মা শোভা নিগম। সঙ্গীতের প্রতি তার আগ্রহ এবং প্রতিভা খুব অল্প বয়স থেকেই প্রকাশ পায়। মাত্র চার বছর বয়সে তিনি প্রথমবার তার বাবার সাথে মঞ্চে গান গেয়েছিলেন। সেই সময় তিনি তার বাবার সাথে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করতেন, যা তাকে ছোটবেলা থেকেই মঞ্চের সাথে পরিচিত করে তোলে। তার বাবা নিজেও একজন প্রতিভাবান গায়ক ছিলেন এবং সনুর প্রাথমিক সঙ্গীত শিক্ষার ভিত্তি তার বাবার হাত ধরেই গড়ে ওঠে। কিশোর বয়সে সনু বিভিন্ন সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন এবং প্রায়শই বিজয়ী হতেন, যা তার আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে।

শিক্ষাজীবন

সনু নিগম তার বাবার কাছ থেকে হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। তার বাবা আগম কুমার নিগম ছিলেন একজন অভিজ্ঞ সঙ্গীতজ্ঞ এবং সনুর প্রতিভা বিকাশে তার ভূমিকা ছিল অপরিসীম। আনুষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি তিনি প্রতিনিয়ত সঙ্গীতের বিভিন্ন দিক নিয়ে গবেষণা করতেন এবং নিজের গায়কী শৈলীকে আরও সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করতেন। মুম্বাইয়ে আসার পর তিনি উস্তাদ গোলাম মোস্তফা খানের কাছেও সঙ্গীতের তালিম নেন, যা তার শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ভিত্তিকে আরও মজবুত করে তোলে। এই কঠোর প্রশিক্ষণ এবং নিরলস সাধনা তাকে একজন সম্পূর্ণ শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিল।

ক্যারিয়ার

১৯৯০ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে সনু নিগম তার সঙ্গীত স্বপ্ন পূরণের জন্য মুম্বাই চলে আসেন। মুম্বাইয়ে তার প্রথম দিকের দিনগুলো ছিল সংগ্রামের। তিনি ছোটখাটো অনুষ্ঠানে গান গেয়ে এবং বিভিন্ন স্টুডিওতে ডেমো রেকর্ডিং করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ১৯৯২ সালে তিনি টি-সিরিজের ব্যানারে তার প্রথম অ্যালবাম ‘বেওয়াফা সনম’ প্রকাশ করেন, যা তাকে পরিচিতি এনে দেয়। এই অ্যালবামের ‘আচ্ছা সিলা দিয়া তুনে মেরে পেয়ার কা’ গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং সনুর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

১৯৯৫ সালে তিনি জনপ্রিয় টেলিভিশন সঙ্গীত প্রতিযোগিতা ‘সা রে গা মা পা’ এর উপস্থাপক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এই অনুষ্ঠানটি তাকে ঘরে ঘরে পরিচিত করে তোলে এবং তার কণ্ঠস্বর লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। এরপর থেকে তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। নব্বইয়ের দশকের শেষ ভাগ এবং দুই হাজার সালের প্রথম দিকে সনু নিগম ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম ব্যস্ত এবং সফল প্লেব্যাক গায়ক হয়ে ওঠেন। তিনি শাহরুখ খান, সালমান খান, আমির খান, হৃতিক রোশন সহ বলিউডের প্রায় সব শীর্ষ অভিনেতার জন্য গান গেয়েছেন।

তার ক্যারিয়ারে অসংখ্য হিট গান রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ‘কাল হো না হো’, ‘সন্দেশে আতে হ্যায়’, ‘তুঝমে রব দিখতা হ্যায়’, ‘বোলে চুড়িয়াঁ’, ‘সুরজ হুয়া মাধ্যম’, ‘ইয়ে দিল দিওয়ানা’ এবং আরও অনেক। হিন্দি ছাড়াও তিনি কন্নড়, বাংলা, তামিল, তেলেগু, মালয়ালম, মারাঠি, ওড়িয়া, গুজরাটি, অসমীয়া, নেপালি এবং পাঞ্জাবি সহ বহু ভাষায় গান গেয়েছেন। তার অ-চলচ্চিত্র অ্যালবাম যেমন ‘দিওয়ানা’, ‘জান’, ‘চান্দা কি ডোলি’ ইত্যাদিও ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।

সঙ্গীতের পাশাপাশি সনু নিগম কয়েকটি হিন্দি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন, যার মধ্যে ‘জানি দুশমন: এক আনোখি কাহানি’, ‘কাশ আপ হামারে হোতে’ এবং ‘লাভ ইন নেপাল’ উল্লেখযোগ্য। তিনি ‘সিং সাব দ্য গ্রেট’ ছবিতে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন। আন্তর্জাতিকভাবেও তিনি বিভিন্ন শিল্পীর সাথে কাজ করেছেন এবং বিশ্বজুড়ে অসংখ্য কনসার্টে অংশ নিয়েছেন।

উল্লেখযোগ্য অর্জন

সনু নিগম তার দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন। তার কিছু উল্লেখযোগ্য অর্জন নিচে উল্লেখ করা হলো:

  • পদ্মশ্রী (২০২২): ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান।
  • জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার: ‘কাল হো না হো’ (২০০৩) চলচ্চিত্রের ‘কাল হো না হো’ গানের জন্য সেরা পুরুষ প্লেব্যাক গায়ক।
  • ফিল্মফেয়ার পুরস্কার: একাধিকবার সেরা পুরুষ প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে এই পুরস্কার জিতেছেন, যার মধ্যে ‘সাথিয়া’ (২০০২) চলচ্চিত্রের ‘সাথিয়া’ এবং ‘কাল হো না হো’ (২০০৩) চলচ্চিত্রের ‘কাল হো না হো’ উল্লেখযোগ্য।
  • ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডস সাউথ: কন্নড় চলচ্চিত্রের জন্য দুটি পুরস্কার।
  • আইফা পুরস্কার: একাধিকবার সেরা পুরুষ প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে এই পুরস্কার লাভ করেছেন।
  • জি সিনে অ্যাওয়ার্ডস, স্টার স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডস: এই দুটি পুরস্কারও তিনি একাধিকবার পেয়েছেন।
  • বিলবোর্ড আনচার্টেড চার্টস: ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে বিলবোর্ড আনচার্টেড চার্টে শীর্ষ শিল্পী হিসেবে দুবার স্থান পেয়েছিলেন।

তার বহুমুখী প্রতিভা এবং ভারতীয় সঙ্গীতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি সর্বমহলে প্রশংসিত। তাকে প্রায়শই "আধুনিক রফি" বলে আখ্যায়িত করা হয়, যা মোহাম্মদ রফির প্রতি তার গায়কী শৈলীর সাদৃশ্য এবং তার প্রভাবের প্রতি ইঙ্গিত করে।

ব্যক্তিগত জীবন

সনু নিগম ২০০২ সালে মধুরিমা নিগমকে বিয়ে করেন। তাদের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে, যার নাম নেভান নিগম। নেভানও তার বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে সঙ্গীতের প্রতি আগ্রহী এবং কিছু গানও গেয়েছে। সনু নিগম ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং আধ্যাত্মিকতার প্রতি তার গভীর টান রয়েছে। তিনি সাধারণত তার ব্যক্তিগত জীবনকে জনসমক্ষে খুব বেশি আনেন না, তবে মাঝে মাঝে বিভিন্ন সামাজিক ও দাতব্য কাজে তাকে সক্রিয় দেখা যায়। বিভিন্ন সময় কিছু বিতর্ক (যেমন আজান বিতর্ক) তার জীবনে এলেও, তিনি সবসময় তার পেশাদারিত্ব বজায় রেখেছেন এবং সঙ্গীতের প্রতি তার নিষ্ঠা অবিচল রেখেছেন।

মজার তথ্য

  • সনু নিগম মাত্র ৪ বছর বয়সে তার বাবার সাথে মঞ্চে প্রথম গান গেয়েছিলেন।
  • তিনি তার বাবার সাথে কিশোর বয়সে বিভিন্ন বিয়ে এবং অনুষ্ঠানে গান গেয়ে উপার্জন করতেন।
  • তিনি একজন প্রশিক্ষিত শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী এবং উস্তাদ গোলাম মোস্তফা খানের ছাত্র।
  • সনু নিগম বিভিন্ন শিল্পীর কণ্ঠস্বর নকল করতে পারদর্শী এবং তার এই ক্ষমতা অনেক সময় মঞ্চে দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
  • তার ছেলে নেভান নিগমও অল্প বয়সে সঙ্গীত জগতে প্রবেশ করেছে এবং জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
  • তিনি কেবল হিন্দিই নয়, কন্নড়, বাংলা, তামিল, তেলেগু সহ ৩২টিরও বেশি ভাষায় গান গেয়েছেন।
  • সনু নিগম একজন সঙ্গীত পরিচালক এবং অভিনেতা হিসেবেও কাজ করেছেন।

উপসংহার

সনু নিগম ভারতীয় সঙ্গীত জগতের এক জীবন্ত কিংবদন্তী। তার কণ্ঠস্বর কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে এবং তার গানগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শ্রোতাদের মুগ্ধ করে চলেছে। তার বহুমুখী প্রতিভা, সঙ্গীতের প্রতি অদম্য আবেগ এবং নিরলস সাধনা তাকে ভারতীয় সঙ্গীতের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় স্থানে অধিষ্ঠিত করেছে। একজন প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে তার অবদান অনস্বীকার্য। তিনি শুধু একজন গায়ক নন, একজন শিল্পী যিনি তার সুর ও কণ্ঠের মাধ্যমে মানুষের আত্মাকে স্পর্শ করতে পারেন। সনু নিগম আগামী প্রজন্মের সঙ্গীতশিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণার এক উৎস হয়ে থাকবেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন: সনু নিগমের জন্ম কবে এবং কোথায়?

উত্তর: সনু নিগম ১৯৭৩ সালের ৩০ জুলাই ভারতের হরিয়ানার ফরিদাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তার বাবা আগম কুমার নিগম এবং মা শোভা নিগমের সন্তান।

প্রশ্ন: সনু নিগম কতগুলি ভাষায় গান গেয়েছেন?

উত্তর: সনু নিগম হিন্দি এবং কন্নড় সহ ৩২টিরও বেশি ভারতীয় ভাষায় প্রায় ৬,০০০ এরও বেশি গান রেকর্ড করেছেন। তার কণ্ঠস্বর বিভিন্ন আঞ্চলিক চলচ্চিত্রেও শোনা যায়।

প্রশ্ন: সনু নিগম কি কোনো বড় পুরস্কার পেয়েছেন?

উত্তর: হ্যাঁ, তিনি ২০২২ সালে ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান 'পদ্মশ্রী' লাভ করেন। এছাড়াও তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ফিল্মফেয়ার পুরস্কার এবং আইফা পুরস্কার সহ অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন।

প্রশ্ন: সনু নিগমের কিছু জনপ্রিয় গান কি কি?

উত্তর: তার জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে “কাল হো না হো”, “সন্দেশে আতে হ্যায়”, “বোলে চুড়িয়াঁ”, “সুরজ হুয়া মাধ্যম”, “তুঝমে রব দিখতা হ্যায়” এবং “ইয়ে দিল দিওয়ানা”। এই গানগুলো তাকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দিয়েছে।

প্রশ্ন: সনু নিগম কি অভিনয় করেছেন?

উত্তর: হ্যাঁ, সনু নিগম সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি কিছু হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে “জানি দুশমন: এক আনোখি কাহানি”, “কাশ আপ হামারে হোতে” এবং “লাভ ইন নেপাল” উল্লেখযোগ্য।

প্রশ্ন: সনু নিগমের সঙ্গীত গুরু কে ছিলেন?

উত্তর: সনু নিগমের প্রথম এবং প্রধান সঙ্গীত গুরু ছিলেন তার বাবা শ্রী আগম কুমার নিগম। তিনি তার বাবার কাছ থেকেই শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন এবং পরবর্তীতে উস্তাদ গোলাম মোস্তফা খানের কাছেও তালিম নেন।

প্রশ্ন: সনু নিগম কি শুধু প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবেই পরিচিত?

উত্তর: না, তিনি কেবল একজন সফল প্লেব্যাক শিল্পী নন, বরং একজন সঙ্গীত পরিচালক, ডাবিং শিল্পী এবং অভিনেতা হিসেবেও কাজ করেছেন। তার বেশ কয়েকটি নন-ফিল্ম অ্যালবামও ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Bottom Ad [Post Page]