| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| ব্যান্ডের নাম | EXO (এক্সো) |
| উৎপত্তি | সিউল, দক্ষিণ কোরিয়া |
| ধরণ | কে-পপ, আরএন্ডবি, ডান্স-পপ |
| সক্রিয় বছর | ২০১২ - বর্তমান |
| লেবেল | SM Entertainment |
| সদস্য সংখ্যা | ৯ জন |
| বর্তমান সদস্যগণ | সোহো, জিউমিন, লে, বেকহিউন, চেন, চানিয়ল, ডি.ও., কাই, সেহুন |
| ফ্যানডম নাম | EXO-L |
| উল্লেখযোগ্য অ্যালবাম | XOXO, Exodus, The War, Don't Mess Up My Tempo |
| জনপ্রিয় গান | Growl, Call Me Baby, Monster, Ko Ko Bop, Love Shot |
পরিচিতি
এক্সো (EXO) দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী এবং বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় একটি কে-পপ বয় ব্যান্ড। ২০১২ সালে এস.এম. এন্টারটেইনমেন্টের অধীনে আত্মপ্রকাশ করা এই দলটি তাদের অনন্য সঙ্গীত শৈলী, শক্তিশালী পারফরম্যান্স এবং সদস্যদের অসাধারণ প্রতিভার জন্য পরিচিত। সিউলভিত্তিক এই ব্যান্ডটি প্রাথমিকভাবে দুটি উপ-দলে বিভক্ত হয়ে কার্যক্রম শুরু করেছিল – EXO-K (কোরিয়ান ভাষায় প্রচারের জন্য) এবং EXO-M (ম্যান্ডারিন ভাষায় প্রচারের জন্য)। যদিও পরবর্তীতে তারা একক দল হিসেবেই কাজ করতে শুরু করে, তাদের এই দ্বৈত ভাষার কৌশল প্রথম থেকেই তাদের আন্তর্জাতিক পরিচিতি বাড়াতে সাহায্য করেছিল। বর্তমানে জিউমিন, সুহো, লে, বেকহিউন, চেন, চানিয়ল, ডি.ও., কাই এবং সেহুন – এই নয়জন সদস্য নিয়ে গঠিত এক্সো বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ ভক্তের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। তাদের সঙ্গীত কেবল কোরিয়া নয়, চীন, জাপান এবং অন্যান্য দেশেও ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে, যা 'হালিয়ু' বা কোরিয়ান ওয়েভের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
Photo: Wikimedia Commons
View Source
এক্সোর সঙ্গীত কেবল বিনোদন নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক ঘটনা। তাদের প্রতিটি অ্যালবাম, প্রতিটি মিউজিক ভিডিও এবং প্রতিটি পারফরম্যান্স বিশ্বজুড়ে ভক্তদের মধ্যে এক নতুন উন্মাদনা তৈরি করে। তাদের গানের কথা, সুর এবং কোরিওগ্রাফি সব কিছুতেই থাকে এক ভিন্ন মাত্রা, যা তাদের অন্যান্য কে-পপ ব্যান্ড থেকে আলাদা করে তোলে। এক্সো শুধু একটি ব্যান্ড নয়, এটি একটি ধারণা – যা সঙ্গীত, ফ্যাশন এবং পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা এবং আবেগ প্রকাশ করে।
প্রারম্ভিক জীবন ও গঠন
এক্সোর যাত্রা শুরু হয়েছিল এস.এম. এন্টারটেইনমেন্টের এক সুচিন্তিত পরিকল্পনার মাধ্যমে। ২০১১ সালে কোম্পানিটি তাদের নতুন বয় ব্যান্ড গঠনের ঘোষণা দেয়, যার লক্ষ্য ছিল কোরিয়া এবং চীনের বাজার একযোগে জয় করা। এই ব্যান্ড গঠনের প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত কঠোর এবং দীর্ঘ। বিভিন্ন অডিশনের মাধ্যমে সারা কোরিয়া এবং চীন থেকে প্রতিভাবান তরুণদের নির্বাচন করা হয়। নির্বাচিত সদস্যদের বছরের পর বছর ধরে নিবিড় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যার মধ্যে ছিল কণ্ঠ প্রশিক্ষণ, নৃত্য, অভিনয় এবং ভাষা শিক্ষা।
২০১১ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে এস.এম. এন্টারটেইনমেন্ট ধীরে ধীরে এক্সোর সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দিতে শুরু করে। প্রতিটি সদস্যের জন্য আলাদা টিজার ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যা তাদের 'এলিয়েন' বা 'অন্য গ্রহের প্রাণী' হিসেবে উপস্থাপন করে এবং তাদের কাল্পনিক 'সুপারপাওয়ার' বা অতিমানবীয় ক্ষমতা তুলে ধরে। এই অভিনব ধারণা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করে। ২০১২ সালের ৩০ জানুয়ারি তাদের প্রথম একক গান "What Is Love" প্রকাশ পায় এবং ৮ এপ্রিল তাদের প্রথম ইপি (Extended Play) "MAMA" এর মাধ্যমে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে। এই সময় থেকেই EXO-K এবং EXO-M তাদের নিজ নিজ ভাষায় প্রচার শুরু করে, যা তাদের বিশ্বব্যাপী পরিচিতির ভিত্তি স্থাপন করে।
ক্যারিয়ার
এক্সোর ক্যারিয়ার শুরু থেকেই ছিল সাফল্যের এক দীর্ঘ পথচলা। তাদের প্রথম ইপি "MAMA" ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল, তবে তাদের আসল ব্রেকথ্রু আসে ২০১৩ সালে।
ব্রেকথ্রু এবং প্রাথমিক সাফল্য (২০১৩-২০১৪)
- ২০১৩: "XOXO" এবং "Growl"
২০১৩ সালে তাদের প্রথম স্টুডিও অ্যালবাম "XOXO" এবং এর রিপ্যাকেজ অ্যালবাম "Growl" কে-পপ শিল্পে এক নতুন ইতিহাস তৈরি করে। "Growl" গানটি তাদের বিশ্বব্যাপী পরিচিতি এনে দেয় এবং এর ফিক্সড-ক্যামেরা শট মিউজিক ভিডিওটি ব্যাপক প্রশংসিত হয়। "XOXO" অ্যালবামটি ১২ বছরের মধ্যে প্রথম কোরিয়ান অ্যালবাম হিসেবে ১ মিলিয়ন কপি বিক্রি করার রেকর্ড গড়ে, যা তাদের 'মিলিয়ন-সেলার' খেতাব এনে দেয়।
- ২০১৪: "Overdose"
২০১৪ সালে তাদের তৃতীয় ইপি "Overdose" প্রকাশ পায়, যা কোরিয়া এবং চীনের চার্টগুলোতে শীর্ষস্থান দখল করে। এই সময়ে কিছু সদস্যের ব্যক্তিগত কারণে দল থেকে চলে যাওয়া এক্সোর জন্য একটি কঠিন সময় ছিল, তবে বাকি সদস্যরা দৃঢ়তার সাথে এগিয়ে যায়।
বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা এবং ধারাবাহিক সাফল্য (২০১৫-২০১৮)
- ২০১৫: "Exodus" এবং "Love Me Right"
"Exodus" অ্যালবামটি প্রকাশের সাথে সাথেই বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এর টাইটেল ট্র্যাক "Call Me Baby" এবং রিপ্যাকেজ অ্যালবাম "Love Me Right" তাদের সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখে। এই অ্যালবামটিও মিলিয়ন-সেলার ক্লাবে প্রবেশ করে।
- ২০১৬: "Ex'act" এবং "Monster"
২০১৬ সালে "Ex'act" অ্যালবাম এবং এর টাইটেল ট্র্যাক "Monster" এক্সোর ক্যারিয়ারের অন্যতম সফল অধ্যায় ছিল। "Monster" গানটি তাদের সবচেয়ে আইকনিক গানগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচিত হয়। এই সময়ে তারা তাদের প্রথম সাব-ইউনিট EXO-CBX গঠন করে।
- ২০১৭: "The War" এবং "Ko Ko Bop"
"The War" অ্যালবাম এবং এর টাইটেল ট্র্যাক "Ko Ko Bop" গ্রীষ্মকালীন হিট হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এই অ্যালবামটিও মিলিয়ন-সেলার হয় এবং তাদের বিশ্বব্যাপী ফ্যানবেস আরও বিস্তৃত হয়।
- ২০১৮: "Don't Mess Up My Tempo" এবং "Love Shot"
"Don't Mess Up My Tempo" অ্যালবামটি এক্সোর পঞ্চম অ্যালবাম হিসেবে মিলিয়ন কপি বিক্রি করে, যা তাদের কে-পপ ইতিহাসে এক অনন্য অবস্থানে নিয়ে যায়। এর রিপ্যাকেজ অ্যালবাম "Love Shot" এর টাইটেল ট্র্যাকটিও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
একক কার্যক্রম, সাব-ইউনিট এবং সামরিক সেবা (২০১৯-বর্তমান)
- ২০১৯: "Obsession"
২০১৯ সালে "Obsession" অ্যালবাম প্রকাশ পায়, যা এক্সোর ডার্ক এবং শক্তিশালী দিকটি তুলে ধরে। এই সময়ে সদস্যদের একক কার্যক্রম এবং দ্বিতীয় সাব-ইউনিট EXO-SC (সেহুন এবং চানিয়ল) এর আত্মপ্রকাশ হয়।
- সামরিক সেবা এবং বিরতি
২০১৯ সাল থেকে এক্সোর সদস্যরা পর্যায়ক্রমে তাদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার জন্য বিরতি নিতে শুরু করে। জিউমিন, ডি.ও., সুহো, চেন, বেকহিউন, চানিয়ল এবং কাই তাদের সামরিক সেবা সম্পন্ন করেছেন বা বর্তমানে করছেন। সামরিক সেবার সময় সদস্যরা সাময়িকভাবে ব্যান্ড কার্যক্রম থেকে বিরত থাকেন, যা তাদের ভক্তদের জন্য একটি অপেক্ষার সময়।
- ২০২১: "Don't Fight the Feeling"
২০২১ সালে সামরিক সেবা থেকে কিছু সদস্যের ফিরে আসার পর তারা "Don't Fight the Feeling" নামে একটি বিশেষ অ্যালবাম প্রকাশ করে, যা ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা সৃষ্টি করে।
এক্সো তাদের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য পুরস্কার এবং স্বীকৃতি অর্জন করেছে। তাদের সঙ্গীত কেবল চার্টগুলোতে আধিপত্য বিস্তার করেনি, বরং বিশ্বজুড়ে কে-পপকে ছড়িয়ে দিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাদের প্রতিটি প্রত্যাবর্তনই ছিল এক নতুন চমক এবং প্রতিটি পারফরম্যান্সই ছিল এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা।
উল্লেখযোগ্য অর্জন
এক্সো তাদের ক্যারিয়ারে অসংখ্য উল্লেখযোগ্য মাইলফলক স্থাপন করেছে, যা তাদের কে-পপ ইতিহাসের অন্যতম কিংবদন্তি ব্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে:
- মিলিয়ন-সেলার রেকর্ড: এক্সো প্রথম কে-পॉप গ্রুপ যারা পরপর পাঁচটি অ্যালবাম ("XOXO", "Exodus", "Ex'act", "The War", "Don't Mess Up My Tempo") ১ মিলিয়ন কপির বেশি বিক্রি করেছে। তারা কে-পপ ইতিহাসের প্রথম শিল্পী যারা এই কৃতিত্ব অর্জন করেছে।
- 'ট্রিপল মিলিয়ন-সেলার': "XOXO" (২০১৩), "Exodus" (২০১৫) এবং "Ex'act" (২০১৬) অ্যালবামগুলি পরপর মিলিয়ন-সেলার হয়ে 'ট্রিপল মিলিয়ন-সেলার' খেতাব অর্জন করে।
- 'পঞ্চম মিলিয়ন-সেলার': "Don't Mess Up My Tempo" (২০১৮) তাদের পঞ্চম মিলিয়ন-সেলার অ্যালবাম ছিল।
- রেকর্ড সংখ্যক ডেসং (Grand Prize): এক্সো এমনেট এশিয়ান মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস (MAMA) এ সর্বোচ্চ সংখ্যক ডেসং (Grand Prize) জয়ের রেকর্ড ধারণ করে, যা তাদের অবিসংবাদিত সাফল্যের প্রমাণ।
- গোকিওক স্কাই ডোম কনসার্ট: এক্সো প্রথম কে-পপ গ্রুপ যারা সিউলের গোকিওক স্কাই ডোমে একক কনসার্ট আয়োজন করে, যা তাদের বিশাল জনপ্রিয়তার প্রতীক।
- ফোর্বস কোরিয়া পাওয়ার সেলিব্রিটি: একাধিকবার ফোর্বস কোরিয়া পাওয়ার সেলিব্রিটি তালিকায় শীর্ষস্থানীয় স্থান অর্জন করেছে।
- বিশ্বব্যাপী ট্যুর: তারা একাধিক সফল বিশ্বব্যাপী কনসার্ট ট্যুর সম্পন্ন করেছে, যা তাদের আন্তর্জাতিক ফ্যানবেসের বিশালতা প্রমাণ করে।
- সাংস্কৃতিক প্রভাব: এক্সো কোরিয়ান ওয়েভ বা 'হালিয়ু' কে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং কে-পপকে আন্তর্জাতিক সঙ্গীত অঙ্গনে একটি প্রধান ধারা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করেছে।
ব্যক্তিগত জীবন
কে-পপ আইডল হিসেবে এক্সোর সদস্যদের ব্যক্তিগত জীবন প্রায়শই জনসমক্ষে থাকে। তবে, তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং দৈনন্দিন জীবন যতটা সম্ভব গোপনীয় রাখা হয়। ব্যান্ড সদস্যরা একে অপরের প্রতি গভীর বন্ধন এবং ভ্রাতৃত্ববোধ ভাগ করে নেয়, যা তাদের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের কঠিন সময়গুলোতে তাদের একসঙ্গে থাকতে সাহায্য করেছে।
তাদের ব্যক্তিগত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা। দক্ষিণ কোরিয়ার পুরুষ নাগরিকদের জন্য সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক, এবং এক্সোর সদস্যরাও এই দায়িত্ব পালন করেছেন। জিউমিন ছিলেন প্রথম সদস্য যিনি ২০১৯ সালে সামরিক সেবায় যোগদান করেন, এরপর ডি.ও., সুহো, চেন, বেকহিউন, চানিয়ল এবং কাই পর্যায়ক্রমে তাদের সেবা সম্পন্ন করেছেন বা বর্তমানে করছেন। সামরিক সেবার সময় সদস্যরা সাময়িকভাবে ব্যান্ড কার্যক্রম থেকে বিরত থাকেন, যা তাদের ভক্তদের জন্য একটি অপেক্ষার সময়।
ব্যান্ডের সদস্য লে (Lay) মূলত চীনে তার একক সঙ্গীত এবং অভিনয় ক্যারিয়ারে মনোনিবেশ করেছেন, তবে তিনি এক্সোর অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেই বিবেচিত হন। সদস্যদের ব্যক্তিগত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দেওয়া হয়, এবং অনেকেই সফলভাবে একক শিল্পী, অভিনেতা বা টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এই বহুমুখী প্রতিভা তাদের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের পাশাপাশি এক্সোর সামগ্রিক ব্র্যান্ড মূল্যকেও বাড়িয়ে তুলেছে।
জনপ্রিয়তার কারণে সদস্যদের ব্যক্তিগত জীবন প্রায়শই জনপরীক্ষার সম্মুখীন হয়, যা তাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। তবে, তারা তাদের পেশাদারিত্ব এবং ভক্তদের প্রতি ভালোবাসার মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে চলেছেন।
মজার তথ্য
- সুপারপাওয়ার ধারণা: এক্সোর আত্মপ্রকাশের সময় প্রতিটি সদস্যকে একটি করে কাল্পনিক সুপারপাওয়ার দেওয়া হয়েছিল, যেমন – সুহো'র জল, বেকহিউন'র আলো, চানিয়ল'র আগুন, ডি.ও.'র শক্তি, কাই'র টেলিপোর্টেশন, সেহুন'র বাতাস, জিউমিন'র বরফ, চেন'র বজ্রপাত এবং লে'র নিরাময়।
- ফ্যানডম নাম EXO-L: এক্সোর ফ্যানডমকে "EXO-L" বলা হয়। এখানে 'L' অক্ষরটি 'Love' (ভালোবাসা) বোঝায় এবং এটি EXO-K ও EXO-M এর মাঝে অবস্থিত, যা বোঝায় ভক্তরা দুটি উপ-দলের মাঝে থেকে তাদের সমর্থন করে।
- "We Are One! EXO Saranghaja!": এটি এক্সোর বিখ্যাত স্লোগান, যার অর্থ "আমরা এক! এক্সোকে ভালোবাসি!"। এই স্লোগানটি তাদের ঐক্য এবং ভক্তদের প্রতি ভালোবাসার প্রতীক।
- আর্টিস্টিক কোরিওগ্রাফি: এক্সো তাদের জটিল এবং শৈল্পিক কোরিওগ্রাফির জন্য পরিচিত। "Growl," "Monster," এবং "Tempo" এর মতো গানগুলোতে তাদের নৃত্যশৈলী বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
- রেকর্ড ব্রেকিং অ্যালবাম: এক্সো একমাত্র কে-পপ গ্রুপ যারা পরপর পাঁচটি স্টুডিও অ্যালবাম ১ মিলিয়ন কপির বেশি বিক্রি করেছে, যা কে-পপ ইতিহাসে এক অনন্য রেকর্ড।
- প্রথম গোকিওক স্কাই ডোম কনসার্ট: তারা প্রথম কে-পপ শিল্পী যারা সিউলের গোকিওক স্কাই ডোমে একক কনসার্ট করেছে।
- বিভিন্ন ভাষায় গান: এক্সো কোরিয়ান এবং ম্যান্ডারিন ভাষায় গান প্রকাশ করে থাকে। এছাড়াও তাদের জাপানিজ গানও রয়েছে, যা তাদের আন্তর্জাতিক আবেদনকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
উপসংহার
এক্সো কেবল একটি কে-পপ ব্যান্ড নয়; তারা একটি সাংস্কৃতিক আইকন যারা বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। তাদের সঙ্গীত, উদ্ভাবনী ধারণা, শক্তিশালী পারফরম্যান্স এবং সদস্যদের ব্যক্তিগত প্রতিভা তাদের কে-পপ শিল্পে এক অবিস্মরণীয় অবস্থানে নিয়ে গেছে। ২০১২ সালে আত্মপ্রকাশের পর থেকে তারা অসংখ্য রেকর্ড ভেঙেছে, অসংখ্য পুরস্কার জিতেছে এবং আন্তর্জাতিক সঙ্গীত অঙ্গনে কোরিয়ান সঙ্গীতের প্রভাব বিস্তারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।
ক্যারিয়ারের উত্থান-পতন, সদস্য পরিবর্তন এবং সামরিক সেবার মতো চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও, এক্সো তাদের ঐক্য এবং সঙ্গীত প্রতিভার মাধ্যমে দৃঢ়ভাবে টিকে আছে। তাদের ভক্ত, EXO-L, তাদের এই যাত্রায় অবিচল সমর্থন জুগিয়েছেন। এক্সো প্রমাণ করেছে যে সঙ্গীত ভাষার বাধা অতিক্রম করতে পারে এবং বিশ্বজুড়ে মানুষকে একত্রিত করতে পারে। তাদের প্রভাব কেবল চার্ট বা পুরস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তারা সঙ্গীতপ্রেমীদের মধ্যে একটি নতুন আবেগ এবং অনুপ্রেরণা তৈরি করেছে। ভবিষ্যতের দিনগুলোতেও এক্সো তাদের অনন্য সঙ্গীত এবং পারফরম্যান্স দিয়ে বিশ্বকে মুগ্ধ করে যাবে, এবং কে-পপ ইতিহাসে তাদের কিংবদন্তি স্থান অক্ষুণ্ণ রাখবে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন: এক্সো কত সালে আত্মপ্রকাশ করে?
উত্তর: এক্সো ২০১২ সালের ৮ এপ্রিল তাদের প্রথম ইপি "MAMA" এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে। তারা এস.এম. এন্টারটেইনমেন্টের অধীনে গঠিত হয়েছিল।
প্রশ্ন: এক্সোর বর্তমান সদস্য সংখ্যা কত?
উত্তর: এক্সোর বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৯ জন। তারা হলেন জিউমিন, সুহো, লে, বেকহিউন, চেন, চানিয়ল, ডি.ও., কাই এবং সেহুন।
প্রশ্ন: EXO-L মানে কি?
উত্তর: EXO-L হলো এক্সোর অফিসিয়াল ফ্যানডম নাম। এখানে 'L' অক্ষরটি 'Love' বোঝায় এবং এটি EXO-K ও EXO-M এর মাঝে অবস্থিত, যা বোঝায় ভক্তরা দুটি উপ-দলের মাঝে থেকে তাদের সমর্থন করে।
প্রশ্ন: এক্সোর সবচেয়ে জনপ্রিয় গানগুলো কী কী?
উত্তর: এক্সোর সবচেয়ে জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে "Growl", "Call Me Baby", "Monster", "Ko Ko Bop", "Love Shot", "Tempo" এবং "Obsession"। এই গানগুলো তাদের বিশ্বব্যাপী পরিচিতি এনে দিয়েছে।
প্রশ্ন: এক্সো কি এখনও সক্রিয়?
উত্তর: হ্যাঁ, এক্সো এখনও সক্রিয়। যদিও সদস্যরা বর্তমানে তাদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা এবং একক কার্যক্রমে ব্যস্ত, তারা নিয়মিতভাবে দলগতভাবে সঙ্গীত প্রকাশ করে এবং ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ প্রত্যাবর্তন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রশ্ন: এক্সো কেন এত জনপ্রিয়?
উত্তর: এক্সো তাদের শক্তিশালী কণ্ঠ, জটিল কোরিওগ্রাফি, অনন্য সঙ্গীত শৈলী, আকর্ষণীয় ভিজ্যুয়াল এবং সদস্যদের বহুমুখী প্রতিভার জন্য বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়। তাদের উদ্ভাবনী ধারণা এবং বিশ্বব্যাপী প্রচার কৌশলও তাদের সাফল্যে অবদান রেখেছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন