| তথ্যসারণি | |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | রাজীব হরি ওম ভাটিয়া |
| পেশা | অভিনেতা, প্রযোজক, মার্শাল আর্টিস্ট |
| জাতীয়তা | ভারতীয় |
| জন্ম | ৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৭ |
| জন্মস্থান | অমৃতসর, পাঞ্জাব, ভারত |
| স্ত্রী | টুইঙ্কল খান্না (বিবাহ: ২০০১) |
| সন্তান | আরভ ভাটিয়া, নিতারা ভাটিয়া |
| উল্লেখযোগ্য সম্মাননা | পদ্মশ্রী (২০০৯), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ফিল্মফেয়ার পুরস্কার |
| উপাধি | খিলাড়ি কুমার |
পরিচিতি
বলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী এবং জনপ্রিয় অভিনেতা অক্ষয় কুমার, যিনি 'খিলাড়ি কুমার' নামেও পরিচিত, তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে রাজত্ব করছেন। অ্যাকশন, কমেডি, রোম্যান্স থেকে শুরু করে সামাজিক বার্তা সমৃদ্ধ চলচ্চিত্রে তার বহুমুখী অভিনয় দক্ষতা তাকে দর্শক মহলে এক অনন্য স্থান করে দিয়েছে। ১৫০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি কেবল বক্স অফিস সাফল্যই অর্জন করেননি, বরং অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননাও লাভ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে দুটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং দুটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার। ২০০৯ সালে ভারত সরকার তাকে দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা 'পদ্মশ্রী' ভূষিত করে। অক্ষয় কুমার শুধু একজন অভিনেতা নন, একজন সফল প্রযোজক এবং একজন সমাজ সচেতন ব্যক্তি হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে। ফোর্বসের বিশ্বের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক প্রাপ্ত অভিনেতাদের তালিকায় তিনি নিয়মিত স্থান পেয়েছেন, যা তার বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা ও প্রভাবের প্রমাণ।

Photo: Wikimedia Commons
View Source
প্রারম্ভিক জীবন
অক্ষয় কুমার, যার প্রকৃত নাম রাজীব হরি ওম ভাটিয়া, ১৯৬৭ সালের ৯ সেপ্টেম্বর পাঞ্জাবের অমৃতসরে এক পাঞ্জাবী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা হরি ওম ভাটিয়া ছিলেন একজন সামরিক কর্মকর্তা এবং মা ছিলেন আরুণা ভাটিয়া। অক্ষয়ের শৈশব কেটেছে দিল্লি এবং পরে মুম্বাইয়ের কোলিওয়াড়ায়। ছোটবেলা থেকেই তিনি খেলাধুলা এবং মার্শাল আর্টের প্রতি গভীর আগ্রহী ছিলেন। তার বাবাও তাকে এই বিষয়ে উৎসাহিত করতেন। কৈশোরেই তিনি তাইকোয়ান্ডোতে ব্ল্যাক বেল্ট অর্জন করেন এবং মার্শাল আর্ট এর প্রতি তার এই ভালোবাসা তাকে পরবর্তী জীবনে ব্যাংককে মুয়াই থাই শিখতে নিয়ে যায়। এই সময় তিনি ব্যাংককে শেফ এবং ওয়েটার হিসেবেও কাজ করেছেন। তার এই প্রারম্ভিক জীবনের অভিজ্ঞতা তাকে কঠোর পরিশ্রম এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপনের গুরুত্ব শিখিয়েছে, যা তার পরবর্তী সফল ক্যারিয়ারের ভিত্তি স্থাপন করে।
শিক্ষাজীবন
অক্ষয় কুমারের শিক্ষাজীবন শুরু হয় মুম্বাইয়ের ডন বস্কো হাই স্কুলে। এরপর তিনি গুরু নানক খালসা কলেজে ভর্তি হন, তবে পড়াশোনা শেষ না করেই তিনি মার্শাল আর্টের প্রতি তার গভীর আগ্রহের কারণে কলেজ ছেড়ে দেন। তার লক্ষ্য ছিল মার্শাল আর্টে নিজেকে আরও দক্ষ করে তোলা। এই লক্ষ্যে তিনি ব্যাংককে চলে যান, যেখানে তিনি থাই বক্সিং, মুয়াই থাই এবং অন্যান্য মার্শাল আর্ট ফর্মের উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ব্যাংককে থাকাকালীন তিনি বিভিন্ন ছোটখাটো কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন, যেমন শেফ এবং ওয়েটার হিসেবে কাজ করা। ভারতে ফিরে আসার পর তিনি মুম্বাইয়ে মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেন। তার এক ছাত্রের পরামর্শে তিনি মডেলিংয়ে নাম লেখান, যা তাকে চলচ্চিত্রের জগতে প্রবেশে সহায়তা করে। তার শিক্ষাজীবন প্রচলিত ধারার না হলেও, তার শেখার আগ্রহ এবং স্ব-প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত দক্ষতা তাকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফল হতে সাহায্য করেছে।
ক্যারিয়ার
অক্ষয় কুমারের ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ১৯৯১ সালে 'সৌগন্ধ' চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। যদিও ছবিটি তেমন সাফল্য পায়নি, তবে তার অভিনয় নজরে আসে। ১৯৯২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আব্বাস-মস্তান পরিচালিত থ্রিলার চলচ্চিত্র 'খিলাড়ি' তার জীবনে মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ছবিটি ব্লকবাস্টার হিট হয় এবং অক্ষয় কুমার 'খিলাড়ি কুমার' নামে পরিচিতি লাভ করেন। এরপর তিনি 'ম্যায় খিলাড়ি তু আনাড়ি', 'সবসে বড়া খিলাড়ি', 'খিলাড়িয়োঁ কা খিলাড়ি' সহ একাধিক 'খিলাড়ি' সিরিজের চলচ্চিত্রে অভিনয় করে অ্যাকশন হিরো হিসেবে নিজের অবস্থান দৃঢ় করেন। নব্বইয়ের দশকে তিনি অ্যাকশন ঘরানার চলচ্চিত্রে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করেন।
২০০০ সালের পর অক্ষয় কুমার তার অভিনয় শৈলীতে পরিবর্তন আনেন এবং কমেডি চলচ্চিত্রেও সমানভাবে সফল হন। প্রিয়দর্শন পরিচালিত 'হেরা ফেরি' (২০০০) ছবিটি তাকে কমেডি অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। এরপর 'আওয়ারা পাগল দিওয়ানা', 'মুঝসে শাদি করোগি', 'গরম মশালা', 'ভাগম ভাগ', 'ওয়েলকাম', 'সিং ইজ কিং' এর মতো চলচ্চিত্রগুলো তাকে কমেডি কিং হিসেবে পরিচিতি দেয়। একই সাথে তিনি 'ধড়কান', 'এক রিশতা' এর মতো রোমান্টিক এবং পারিবারিক নাটকেও তার অভিনয় দক্ষতা প্রমাণ করেন।
২০১০ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে অক্ষয় কুমার সামাজিক বার্তা সমৃদ্ধ এবং দেশাত্মবোধক চলচ্চিত্রে মনোনিবেশ করেন। 'এয়ারলিফট', 'রুস্তম', 'টয়লেট: এক প্রেম কথা', 'প্যাড ম্যান', 'মিশন মঙ্গল' এর মতো চলচ্চিত্রগুলো শুধু বক্স অফিসে সাফল্যই পায়নি, বরং সমাজে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাও তৈরি করেছে। তার এই ধরনের চলচ্চিত্রগুলো তাকে একজন সচেতন অভিনেতা হিসেবে পরিচিতি এনে দিয়েছে। তিনি তার নিজের প্রযোজনা সংস্থা 'হরি ওম এন্টারটেইনমেন্ট' এর মাধ্যমেও সফলভাবে চলচ্চিত্র প্রযোজনা করছেন। অক্ষয় কুমারের ক্যারিয়ার তার বহুমুখী প্রতিভা এবং সময়ের সাথে সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
উল্লেখযোগ্য অর্জন
- পদ্মশ্রী সম্মাননা: ২০০৯ সালে ভারত সরকার কর্তৃক দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা 'পদ্মশ্রী' লাভ করেন, যা ভারতীয় চলচ্চিত্রে তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি।
- জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার: তিনি দুটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন। প্রথমটি 'রুস্তম' (২০১৬) চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে এবং দ্বিতীয়টি 'প্যাড ম্যান' (২০১৮) চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ সামাজিক সমস্যা বিষয়ক চলচ্চিত্র বিভাগে (প্রযোজক হিসেবে)।
- ফিল্মফেয়ার পুরস্কার: তিনি দুটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতেছেন। প্রথমটি 'আজনাভি' (২০০১) চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ খলনায়ক বিভাগে এবং দ্বিতীয়টি 'গরম মশালা' (২০০৫) চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ কমেডি অভিনেতা বিভাগে।
- সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক প্রাপ্ত অভিনেতা: ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ফোর্বসের বিশ্বের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক প্রাপ্ত সেলিব্রিটি এবং অভিনেতাদের তালিকায় তিনি নিয়মিত স্থান পেয়েছেন। ২০১৯-২০২০ সালে তিনি ছিলেন এই তালিকায় একমাত্র ভারতীয়।
- ১৫০+ চলচ্চিত্র: তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি ১৫০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন, যা তাকে বলিউডের অন্যতম ব্যস্ত এবং সফল অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
- খিলাড়ি কুমার উপাধি: 'খিলাড়ি' সিরিজের সফলতার পর তিনি 'খিলাড়ি কুমার' উপাধি লাভ করেন, যা তার অ্যাকশন হিরো ইমেজকে আরও শক্তিশালী করে।
- সামাজিক প্রভাব: তার 'টয়লেট: এক প্রেম কথা' এবং 'প্যাড ম্যান' এর মতো চলচ্চিত্রগুলো সমাজে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে এবং পরিবর্তন আনতে সাহায্য করেছে।
ব্যক্তিগত জীবন
অক্ষয় কুমারের ব্যক্তিগত জীবনও বেশ আলোচিত। তিনি ২০০০ সালে বলিউড অভিনেত্রী টুইঙ্কল খান্নার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। টুইঙ্কল খান্না হলেন কিংবদন্তী অভিনেতা রাজেশ খান্না এবং ডিম্পল কাপাডিয়ার কন্যা। তাদের বিবাহ ২০০১ সালের ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় এবং এই জুটি বলিউডের অন্যতম শক্তিশালী ও স্থিতিশীল দম্পতি হিসেবে পরিচিত। অক্ষয় এবং টুইঙ্কলের দুটি সন্তান রয়েছে – পুত্র আরভ ভাটিয়া (জন্ম ২০০২) এবং কন্যা নিতারা ভাটিয়া (জন্ম ২০১২)। অক্ষয় কুমার একজন পারিবারিক মানুষ এবং প্রায়শই তার সন্তানদের সাথে সময় কাটানোর ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন।
তার কানাডিয়ান নাগরিকত্ব নিয়ে একসময় বেশ বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল, যা নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে কথা বলেছেন এবং জানান যে তিনি ভারতের প্রতি তার ভালোবাসা ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন। পরবর্তীকালে তিনি ভারতীয় নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেন। অক্ষয় কুমার তার স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং কঠোর শৃঙ্খলার জন্য পরিচিত। তিনি ভোরে ঘুম থেকে ওঠেন, নিয়মিত ব্যায়াম করেন এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ করেন। তিনি ধূমপান ও মদ্যপান থেকে বিরত থাকেন। এছাড়াও, তিনি বিভিন্ন সামাজিক কারণ ও দাতব্য কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে জড়িত। ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং কৃষকদের কল্যাণে তার অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
মজার তথ্য
- প্রকৃত নাম: অক্ষয় কুমারের আসল নাম রাজীব হরি ওম ভাটিয়া। চলচ্চিত্রে আসার পর তিনি এই নামটি গ্রহণ করেন।
- ব্যাংককে শেফ: অভিনয়ে আসার আগে তিনি ব্যাংককে শেফ এবং ওয়েটার হিসেবে কাজ করেছেন।
- মার্শাল আর্ট গুরু: তিনি তাইকোয়ান্ডোতে ব্ল্যাক বেল্টধারী এবং মুয়াই থাই-তে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন দক্ষ মার্শাল আর্টিস্ট। বলিউডে আসার আগে তিনি মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষক হিসেবেও কাজ করেছেন।
- নিজের স্টান্ট: অক্ষয় কুমার তার বেশিরভাগ অ্যাকশন দৃশ্যে নিজেই স্টান্ট করেন, যা তার অ্যাকশন হিরো ইমেজকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।
- ভোরবেলার পাখি: তিনি খুব ভোরে, সাধারণত সকাল ৪-৫টার মধ্যে ঘুম থেকে ওঠেন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, সকালের সময়টি অত্যন্ত মূল্যবান।
- মদ্যপান ও ধূমপান বর্জন: অক্ষয় কুমার ধূমপান বা মদ্যপান করেন না। তিনি একটি শৃঙ্খলাপরায়ণ জীবনযাপন করেন এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার জন্য পরিচিত।
- প্রথম পারিশ্রমিক: তার প্রথম চলচ্চিত্রের জন্য তিনি মাত্র ৫,০০০ টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন।
- প্রযোজনা সংস্থার নাম: তার প্রযোজনা সংস্থা 'হরি ওম এন্টারটেইনমেন্ট' তার প্রয়াত বাবা হরি ওম ভাটিয়ার নামে নামকরণ করা হয়েছে।
উপসংহার
রাজীব হরি ওম ভাটিয়া থেকে অক্ষয় কুমার হয়ে ওঠার এই যাত্রা কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা এবং বহুমুখী প্রতিভার এক অসাধারণ গল্প। একজন সাধারণ মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষক থেকে বলিউডের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক প্রাপ্ত সুপারস্টার হিসেবে তার উত্থান অনুপ্রেরণামূলক। অ্যাকশন, কমেডি, রোম্যান্স এবং সামাজিক বার্তা সমৃদ্ধ চলচ্চিত্রে তার সাবলীল অভিনয় তাকে ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক কিংবদন্তী অভিনেতার আসনে বসিয়েছে। শুধুমাত্র বক্স অফিস সাফল্যই নয়, সমাজের প্রতি তার দায়বদ্ধতা এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে অংশগ্রহণ তাকে একজন আদর্শ নাগরিক হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে। অক্ষয় কুমার শুধু একজন অভিনেতা নন, তিনি একটি ব্র্যান্ড, একটি প্রতিষ্ঠান, যিনি আগামী প্রজন্মের অভিনেতাদের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার ক্যারিয়ার প্রমাণ করে যে, কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা এবং নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা থাকলে যেকোনো স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন: অক্ষয় কুমারের আসল নাম কী?
উত্তর: অক্ষয় কুমারের আসল নাম হলো রাজীব হরি ওম ভাটিয়া। চলচ্চিত্রে আসার পর তিনি এই নামটি গ্রহণ করেন, যা তার নতুন পরিচিতি হয়ে ওঠে।
প্রশ্ন: অক্ষয় কুমার কতগুলি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন?
উত্তর: অক্ষয় কুমার তার দীর্ঘ তিন দশকের অভিনয় জীবনে ১৫০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তিনি বলিউডের অন্যতম সফল এবং ব্যস্ত অভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
প্রশ্ন: অক্ষয় কুমার কি কোনো আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেয়েছেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি ২০০৯ সালে ভারত সরকার কর্তৃক দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা 'পদ্মশ্রী' লাভ করেন। এছাড়াও তিনি ফোর্বসের বিশ্বের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক প্রাপ্ত অভিনেতাদের তালিকায় নিয়মিত স্থান পেয়েছেন।
প্রশ্ন: অক্ষয় কুমারের স্ত্রীর নাম কী?
উত্তর: অক্ষয় কুমারের স্ত্রীর নাম হলো টুইঙ্কল খান্না। তিনি প্রখ্যাত অভিনেতা রাজেশ খান্না এবং ডিম্পল কাপাডিয়ার কন্যা এবং নিজেও একজন প্রাক্তন অভিনেত্রী ও লেখক।
প্রশ্ন: অক্ষয় কুমার কোন ধরনের চলচ্চিত্রের জন্য বেশি পরিচিত?
উত্তর: অক্ষয় কুমার মূলত অ্যাকশন এবং কমেডি চলচ্চিত্রের জন্য পরিচিত। তবে, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি সামাজিক বার্তা সমৃদ্ধ চলচ্চিত্রেও অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন এবং তার বহুমুখী অভিনয় দক্ষতা প্রমাণ করেছেন।
প্রশ্ন: অক্ষয় কুমারের মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ আছে কি?
উত্তর: হ্যাঁ, অক্ষয় কুমার মার্শাল আর্টে অত্যন্ত দক্ষ। তিনি তাইকোয়ান্ডোতে ব্ল্যাক বেল্টধারী এবং মুয়াই থাই-তে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। চলচ্চিত্রে তার অ্যাকশন দৃশ্যে এই দক্ষতা প্রায়শই দেখা যায়।
প্রশ্ন: অক্ষয় কুমার কেন 'খিলাড়ি কুমার' নামে পরিচিত?
উত্তর: ১৯৯২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তার ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্র 'খিলাড়ি' এর বিশাল সফলতার পর তিনি 'খিলাড়ি কুমার' নামে পরিচিতি লাভ করেন। এরপর তিনি 'খিলাড়ি' সিরিজের আরও বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন, যা এই উপাধিটিকে আরও জনপ্রিয় করে তোলে।
No comments:
Post a Comment